#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৫৬
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
“ পঁচা বাবু কাঁদে।গোসল করতে চায় না!"
নাজিফাকে বোলের মধ্যে কুসুম কুসুম গরম পানি নিয়ে গোসল করাচ্ছে তার মামী।তাইফ পাশেই বসে আছে।তাকেও একটু আগে গোস করিয়েছে তার ভাইয়া।এখন তার পড়নে তোয়ালে প্যাঁচানো। চুলগুলো মুছে দিয়েছে ফুফু। নাইফ ভাইকে গোসল করিয়ে দিয়ে নিজেও গোসল করতে গিয়েছে।
আজ শুক্রবার; জুম্মা বার।বেলা এখন বারোটা বাজে।বাড়ির সব পুরুষ এক সাথে নামাজে যাবে।
তাই তারা সবাই তাড়াতাড়ি গোসল সেরে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করে নিলো।
এদিকে নাজিফাকেও এই সময়ে প্রতিদিন গোসল করাতে হয়।আর এখানে আসার পর থেকে তাকে তার মামী'মাই গোসল করিয়ে দেয়।
মামীই তার সব প্রয়োজনের সমাধান।নাফিসাও এখানে এসে ভাইয়ের বউয়ের কাঁধে নিজের সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে গা ছাড়া দিয়েছে।সে ব্যস্ত তার ভাইয়ের তিনজনকে নিয়ে।ভাতিজা ভাতিজীদের নিয়ে তার তো বরাবরই আহ্লাদ একটু বেশি। হুটহাট বেরিয়ে যায় আসে একগাদা ব্যাগ হাতে নিয়ে। সেগুলো খুললেই দেখা যায় ভাইপো ভাইজীর জন্য কেনা একগাদা হাবিজাবি।
নাসিফ এর জন্য কড়া করে বকা দিলেও সে তা কানে তোলে না।এর মধ্যে তাইফ হচ্ছে তার কলিজার অর্ধেক।যদিও তাইফের কারণে রোজ নিয়ম করে এক বেলা তার মেয়েকে কাঁদতে হচ্ছে, তাতে কি!ভাইপোর দোষ তার চোখে একদমই নাই।
আজ বাসায় হাজীর বিরিয়ানি আনা হবে।নাসিফ গিয়েছে আনতে।এসেই গোসল করবে।তাই নাইফকেই দায়িত্ব নিয়ে ভাইকে গোসল করিয়ে দিতে হলো।নাইফ কোনমতে গা মুছিয়ে দিয়ে তোয়ালে পড়িয়ে ভাইয়ের ইজ্জত ঢেকে দিয়েছে।তাকে বলেছে ঘরেই থাকতে।সে বেরিয়ে কাপড় পড়িয়ে দিবে।না হলে বুবুনকে বলতে। কিন্তু তাইফ তো তাইফ'ই! তার কানে যখন নাজিফার চিৎকার গেলো সে ইজ্জতের মূল্য নিলামে তুলে দৌড়ে বেরিয়ে এলো বসার ঘরে। কিন্তু বসার করে কেউই নাই। বুদ্ধিমান তাইফ ফুফুর ঘরে গেলো।
তার পায়ে এক জোড়া লাল পান্ডার স্পঞ্জের স্যান্ডেল,পড়নে নরম লাল তোয়ালে।মাথাটা ভালো করে মুছতে পারেনি তার ভাইয়া।তাই এখনো কানের গোঁড়া দিয়ে, কাঁধ দিয়ে পানি চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে।
তাইফ ঘরে ঘরে ঢুকে বারান্দায় ঐ কান্নার শব্দ পেয়ে দৌড়ে সেদিকে গেলো।
নাজিফাকে পানির উপর দাঁড় করিয়ে হাত দিয়ে ঘষে ঘষে সাবান দিচ্ছে তার মা। কিন্তু নাজিফা কাঁদছে।তাকে দেখেই তার ফুফু নিজের কাছে টেনে নিলো। কিন্তু সে থাকলো না ফুফুর কাছে।ফুফুর থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কোমর বেঁকিয়ে নাফিজাকে দেখতে থাকলো তখনই উপরের কথাটা বললো সে।
এখন আর সে নাজিফাকে হিংসা করে না বরং বড় ভাইয়ের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে।সে কাঁদলে বুবুন, ভাইয়া যেভাবে থাকে থামায় সেভাবেই চেষ্টা করে।
কিন্তু নাজিফা কি তার এগুলো বুঝে! তাও সে চেষ্টা করে। যা দেখে বাড়ির সবাই হাসি দেয় গড়াগড়ি খেয়ে।
“ হুম, পঁচা বাবু। তোমার মতোই!"
আফিয়া বললো।তাইফ স্বপক্ষে জোর দিয়ে কথা বললো,
“ আমি পঁচা না!"
“ হ্যা তুমি পঁচা না।তুমি আমার ভালো বাবা!"
বলেই নাফিসা গালে ঠোঁট ছুঁতেই তাইফ নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে কপালে ভাঁজ ফেলে,চোখ মুখ কুঁচকে নিজের গালে হাতের তালু দিয়ে ঘষতে থাকলো জোরে। নাফিসা এটা দেখার জন্যই এমন করেছিলো। এখন এটা দেখার পর তার হাসি দেখে কে?
নাজিফাকে গোসল করানোর শেষ অবধি তাইফ
সেখানে হাঁটু ভেঙ্গে বসে ছিলো।যার কারণে একপর্যায়ে তোয়ালে খুলে তার ইজ্জতের ফালুদা হয়ে গিয়েছিল।সে উঠে কোনমতে সেটাকে আবার হাতে পেঁচিয়ে রেখে মা আর ফুফুকে দেখছিলো।আফিয়া তার ছেলের সম্পর্কে ভালো করেই অবগত তাই সে বিশেষ কোন প্রতিক্রিয়া দেখালো না। কিন্তু নাফিসার আবারও হাসি পেলো।সে পেট ফাটা হাসিতে মেতে উঠলো।
“ আল্লাহ আব্বা মাইনসে ইজ্জত দেখি ফেললো!"
“ আম্মু!"
লজ্জা পেয়ে মায়ের ঘাড়ে মুখ লুকিয়ে অভিযোগ দিলো ফুফুর নামে।আফিয়া ভাগ্নিকে কোলে রেখে ডান হাতে ছেলেকে শান্তনা দিলো।বললো,
“ এই জন্যই বলি গোসল করে প্যান্ট না পড়ে ঘর থেকে বের হতে হয় না।দেখেছো কি হলো? গেলো না ইজ্জত পানিতে!"
“প্যান্ত পড়ায় দাও!"
“ ঘরে যাও। ঘরে গিয়ে বুবুনকে বলো!"
মায়ের কথায় তাইফ জেদ করে বললো,
“ না তুমি পড়ায় দাও!"
“ আচ্ছা দিবো একটু অপেক্ষা করো।"
আফিয়া ভাগ্নিকে তার মায়ের কোলে তুলে দিয়ে বললো,
“ ভালো করে মুছায় দাও গা।আমি আসতেছি।"
“ হুম!"
সাজুগুজু করে নতুন পাঞ্জাবী পাজামা পড়ে তাইফ বাবার কোলে চড়ে বড় ভাই,দাদা ,ফুফার সাথে সালাত আদায় করতে গেলো।
নামাজ আদায় করে সবাই এক সাথেই দুপুরের খাওয়া শেষ করলো।কাল আবার নাফিসা তার শ্বশুরের পৈতৃক বাড়ি গ্রামে যাবে।তাই আজ একটু হেব্বি আয়োজন করেই খেলো সবাই।
খাবার টেবিলেই নাসিফ একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা তুললো,
“ আমি বলছিলাম কি আব্বা নাফিসারা যেহেতু আছে তাহলে এ বছরই বাবুর সুন্নতে খাৎনার কাজটা সেড়ে ফেলতে।এবার চলে গেলে আবার কবে না কবে আসে।তখনও তো আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবে না!"
“ উত্তম সিদ্ধান্ত। ব্যবস্থা করো!"
“ সবই ঠিক আছে কিন্তু ও তো এখনও অনেক ছোট! এতটুকু মানুষ!"
আফিয়া ইতস্তত করতে করতেই কথাটা বললো।
নাসিফ আফিয়ার দিকে চেয়ে বললো,
“ সেটাই পজেটিভ বিষয়।এখন ওকে সামলাতে পারবে আরেকটু বড় হয়ে গেলে ছেলের চামড়ার মোটা হয়ে যাবে, ব্যথাও বাড়বে আর তাছাড়াও তখন ওকে তুমি চাইলেই ঘরে বসিয়ে রাখতে পারবে না।এখন তো ব্যথা পেলে চুপচাপ থাকে।"
“ যেই ছোটাছুটি করে সারাদিন তাকে কিভাবে আমি সামলাবো আল্লাহ জানে!"
“ ভালো কাজ যত তাড়াতাড়ি হয় ততই উত্তম। তাছাড়াও সুন্নতে খাৎনার পর অনেক চঞ্চল বাচ্চাই শান্ত হয়ে যায়।
আমার মনে করিয়ে ফেললেই ভালো।"
আফিয়ার দুশ্চিন্তায় উক্ত কথাটি বললেন সালমা ফাওযিয়া।উনার কথা শেষ হতেই নাসিফ বললো,
“ তাছাড়াও মাদ্রাসায় একেবারে পাঠিয়ে দেওয়ার পর ছুটির অভাবে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। সুতরাং এই সুন্নত কাজটা হাসিল করেই ছেলেকে ঘর থেকে বাইরে পাঠানো উত্তম নয় কি?"
বলেই আফিয়ার দিকে তাকালো।আফিয়া নাসিফের পাতে আরেকটু বিরিয়ানি দিয়ে ছেলেদের দিকে চাইলো।তারা দুই ভাই আপন মনে সোফায় বসে খাচ্ছে। তাইফ অবশ্য খাচ্ছে কম ফেলছে বেশি।আফিয়া চেষ্টা করে মাঝে মাঝে ছেলেকে একাই খেতে দিতে।যদিও ঘরের অন্যান্য সদস্যদের অতিরিক্ত আদরে তা হয় না।
তাইফ নিজের ছোট হাতে মুঠো করে যতটুকু খাবার পারছে গালে পুরছে। কিন্তু তার অর্ধেক খাবারই পড়ে যাচ্ছে প্লেটে,নিচে।নাইফ আবার সেই পড়ে যাওয়া খাবার তুলে নিজের পাতে নিচ্ছে,ভাইয়ের পাতে দিচ্ছে। তুলতুল তার বাবার পাশেই বসেছে।
আফিয়া ছেলেদের বাপের দিকে চেয়ে সম্মতি সূচক ভাবে বললো,
“ আপনাদের যা উত্তম মনে হয় তাই করেন।"
“ তুমি এক কাজ করো, হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে কাল পরশুই কাজটা সেড়ে ফেলো।এর মধ্যে অতিথিদের দাওয়াত করা হয়ে যাবে।নাফিসা,জামাই,বেয়াই বেয়াইনের গ্রামের কাজও শেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এরপর সবাই মিলে একসাথে একটা বড় খাওয়া দাওয়ার আয়োজন করলাম না হয়! কি বলেন বেয়াই?"
নাযীর আহমাদ কথাটা বলেই জিয়ান সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেন সম্মতির জন্য।
“ এটা উত্তম পরিকল্পনা। এভাবে করলে তোমার প্রোগ্রামের জন্যও যথেষ্ট সময় পাবে!"
“ ওখে তাহলে এভাবেই হোক সব।
সকালে তৈরি থেকো, ছেলেকে নিয়ে!"
নাসিফ আফিয়ার দিকে চেয়ে কথাটা বললো।খাবার টেবিলে খুব একটা কথা বলে না এই ঘরের কেউ। কিন্তু এমন আলোচনায় একসাথে সবাইকে পেতে হলে খাবার টেবিলেই সারতে হলো। অতঃপর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হলো কালই তাইফের ইজ্জতের পদোন্নতি করা হবে।
সারা বিকেল এই আয়োজনের জন্য কি কি করবে? কাকে কাকে দাওয়াত করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চললো। অতঃপর রাতের খাবারের পর আরো কিছু সময় আড্ডা দিয়ে যে যার ঘরে গিয়ে ঢুকলো।
মেয়ের চুল বেঁধে আফিয়া খেয়াল করলো নাবীহার শারীরিক কিছু পরিবর্তন ভীষণভাবে নজরে পড়ে।যা মা হিসেবে সে আগে খেয়াল করেনি। মুহূর্তে মনে হলো তাকে মেয়েকে নিয়ে আরো সাবধানী হতে হবে।বড় হচ্ছে, শুধু বয়সেই না দৈহিক গঠনেও।দশে পড়বে কিছুদিন পরেই।এই সময়ে নানা দৈহিক, মানসিক পরিবর্তন লক্ষনীয়।
ইদানিং সে খেয়াল করেছে মেয়ে রান্না ঘরে উঁকিঝুঁকি বেশি দেয়,তার রান্নার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এতে তাই বোঝায়।তার সাথে ল্যাপটপেও মেয়েলি বিষয়ে তার খোঁজাখুঁজি বেশি চলে।আচার আচরণেও অনেক পরিবর্তন হচ্ছে।আগে মা সাজালে সাজতো। এখন সে হুটহাট নিজেই মায়ের প্রসাধনী নিয়ে ব্যবহার করতে বসে।কথাও বলে কেমন খিটখিটে হয়ে। তাছাড়াও সে এখন একা থাকতেই পছন্দ করে বেশি।ছোট ভাইকে ছাড়া তার চলে না কিন্তু এখন ছোট ভাইকেও দূরে দূরে রাখে। খাবারের তালিকায় তার অনেক পরিবর্তন এসেছে।
পোশাক পরিচ্ছদের বিষয়েও ইদানিং সে পছন্দ করতে শিখেছে।সাধারনত নাবীহাকে ছোট হাতার ফ্রক বেশি পড়ায়।সাথে ঢিলা সালোয়ার সহজে বললে ডিভাইডার সালোয়ার যেটাকে বলে। যদিও ঘরের বাইরে যাওয়ার জন্য লম্বা হিজাব বানিয়ে দিয়েছে।যেখানেই যাক ঐ হিজাব পড়েই যেতে হবে। কিন্তু আফিয়ার মনে হচ্ছে ঘরেও পর্দার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মেয়েকে সবক দিতে হবে। তাছাড়াও তাকে আরো সচেতন হতে হবে।দশ থেকে এগারোর মধ্যে মেয়েদের রজঃচক্র কিংবা ঋতুচক্র শুরু হয়ে থাকে। অনেকের নয় বছরেই হয়ে যায়।যার কিছুটা নাবীহার মাঝে দেখা যাচ্ছে।সে মেয়েকে বললো,
“ তুলতুল!"
“ হুম আম্মু!"
হাতে তার একটা গল্পের বই।মা চুল বাঁধছে আর সে সেই বই পড়ছে।আফিয়া মেয়েকে চুল বাঁধা শেষ করে কপালের কোনে একটা চুমু দিলো।বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ রাতে কোন সমস্যা হয় আম্মা?"
ছোট নাবীহা মায়ের কথা ঠিক বুঝলো না! সে বই ভাঁজ করে মায়ের দিকে প্রশ্নাত্মক চোখে তাকিয়ে বললো,
“ কিসের জন্য সমস্যা হবে আম্মু!"
আফিয়া বুঝতে পারছে না সে কিভাবে নিজের মেয়ের সাথে এইসব বিষয় নিয়ে কথা বলবে।এখন সে বুঝতে পারছে কেন নাসিফ ইদানিং বড় ছেলের খোলাখুলি কথা বলতে লজ্জা পায়! কেন নাসিফ বড় ছেলেকে বোঝানোর,শিখানোর দায়িত্ব তার মামার কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছে।আসলে যতই বাবা মা বন্ধু হতে চায় না কেন, দিনশেষে তারা তো বাবা মা'র থাকে। তাদের পক্ষে আসলেই সম্ভব নয় এমন খোলামেলা কথা বলা!
কিন্তু? নাসিফ তো বেঁচে গিয়েছে তার ভাইয়ের উপর চাপিয়ে আফিয়া কি করবে? আর মেয়েকে সে কারো হাতে ছাড়তেও চায় না।পাছে কোন ভুলভাল শিক্ষা দিয়ে বসে।
“ আম্মু কি ভাবছো?"
নাবীহা মায়ের মুখের দিকে চেয়ে দরদ ভরা গলায় জিজ্ঞেস করলো। আফিয়া নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে মেয়েকে পরখ করলো,কেমন কৈশোরে ছাপ পড়ছে চেহারায়! এখন আর শিশুর মতো লাগছে না।মেয়েটা গ্রোথে বেশ ভালো হয়েছে।এটা ওর নিজের মায়ের থেকে পেয়েছে।ওর মাও তো ওর বাবার মতোই লম্বা ছিলো।নাইফ, নাবীহা স্বাস্থ্যের দিকে একদম নিজের মা'কে পাচ্ছে।এমনকি গায়ের রঙও! যদিও নাইফের চেহারায় কিছুটা তার বাবার ছাপও আসে। কিন্তু তাইফ হুবহু বাপের কপি হচ্ছে।
আফিয়া মেয়েকে জিজ্ঞেস করার জন্য প্রশ্ন গুছিয়ে নিলো।শুধালো,
“ কখনো কখনো পেট খুব ব্যথা হয় মা?"
নাবীহা অবুঝের মতো চেয়ে রইলো। কিছুক্ষণ মনে মনে ভাবলো,সে তো লুকিয়ে লুকিয়ে স্কুলের বাইরে গিয়ে ফুচকা খেয়েছিলো তা মা জানলো কিভাবে? না জানলে বুঝলোই কিভাবে তার কাল ভীষন পেট ব্যথা হয়েছিলো! কিন্তু সে তো মা'কে বলেনি।তাহলে!
মেয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে আফিয়া কিছু বোঝার চেষ্টা করলো, অতঃপর বললো!
“ কাল তুমি কিছু খেয়েছিলে বাইরে? "
ধরা খেয়ে নাবীহা চোখ নামিয়ে নিলো। মায়ের কাছে সে বরাবরই ধরা খায়। ঠোঁট চেপে চুপ করে বসে রইলো।আফিয়া বকলো না , চিৎকার চেঁচামেচিও করলো না।সে বুঝেই নিলো বয়ঃসন্ধির সময় চলছে
মেয়ের এখন মর্জি হচ্ছে।এই সময়ে বকাঝকা না।আদর করেই বোঝাতে হবে।তাই সে আবার বুকে টেনে নিয়ে জিজ্ঞেস বললো,
“ বকা দিচ্ছি না। সুন্দর করে বুঝিয়ে বলছি মন দিয়ে শুনবে!"
এরপর একে একে সুষম করে বললো,
“ এখন বড় হচ্ছো! মায়ের কথার বাইরে যাবে না।যে বাচ্চারা মা বাবার কথার বাইরে যায় তারা দেখবে নিশ্চিত কোন না কোন বিপদে পড়ে।তাই বলছি এমন কিছু করবে না যা তোমাকে বিপদে ফেলে দিবে,যার জন্য তোমাকে বাবা মায়ের সামনে নজর ঝুঁকিয়ে চলতে হবে!
তোমাদের মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখাচ্ছি, সঠিক বোঝার জন্য যথেষ্ট শিক্ষা দিচ্ছি তারপরেও কোন ভুল করে মাকে মানুষের কথার মাঝে ফেলো না বাচ্চা!"
“ আমি আর খাবো না আম্মু!"
“ খাবে না কেন? অবশ্যই খাবে! কিন্তু সেটা মা সাথে থাকলে। মায়ের কিংবা বাবা,অথবা ভাইয়া,নাহলে মামা ! যেই থাকুক তাকেই বলবে এনে দিতে।এনে দিবে, খাবে! না হয় তাকে বলবে সঙ্গে নিয়ে যেতে।আমিও চাই তুমি পৃথিবীর সব হালাল খাবারের স্বাদ পাও,দেখো কোনটা তোমার মুখে ভালো লাগে,কোনটা তোমার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।না খেলে এগুলো বুঝবে কি করে? কিন্তু কথা হচ্ছে একা একা বন্ধুদের সাথে কোথাও গিয়ে না।যখন অনেক বড় হবে,মা বাবা বুঝবো তুমি নিজের খেয়াল রাখতে শিখছো তখন তোমাকে কোন বাঁধা দিবো না।তখন তুমি একা একা গিয়েই সব করতে পারবে। কিন্তু এখন না।"
“ সরি আম্মু!"
“ হুম।
_আচ্ছা মাকে বলো তো, তোমার প্রসাবের রাস্তায় কোন সমস্যা হচ্ছে? কখনো কখনো চুলকানি হয়? আর কোথায়ও কোন ব্যথা হয়?
বিরক্ত লাগে কিছুতে?"
নাবীহা মায়ের কথায় অনেক সময় চুপ থেকে কিছু একটা ভাবলো। অতঃপর বললো,
“ একটা কথা কিন্তু কানে কানে বলবো!"
“ আচ্ছা বলো!"
আফিয়া মেয়ের দিকে কান বাড়িয়ে ধরলো।নাবীহা মায়ের কানে কানে নিজের একটা গোপন স্থানের কিছু পরিবর্তনের কথা বলল,সে তো না বুঝেই বলছে। কিন্তু তার মা তো সব বুঝেই নিলো।
আফিয়া মেয়েকে আরো শক্ত নিজের সাথে চেপে নিয়ে আস্তে ধীরে বলতে থাকলো,
“ শোন এখন মা কিছু বলছে,মন দিয়ে শুনবে এবং এভাবেই চলবে! ওখে?"
“ ওখে আম্মু!"
আফিয়া একে একে অনেক কিছু বললো,নাবীহাও মায়ের কথা মন দিয়ে শুনলো।
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ