সুখ_ফড়িং_সিজন_২ | পর্বসংখ্যা_০৩

 #সুখ_ফড়িং_সিজন_২

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_০৩



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


" আমি জানি আমি নায়িকা শাবনূর না।আর আমি নিজেকে নায়িকা ভাবিও না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে গায়ের রঙ সাদা দেখে আপনি নিজেকে শাকিব খান ভাবা শুরু করেছে দিয়েছেন। ভাবতেই পারেন তাতে আমার কিছু না। কিন্তু কি বলেন তো আল্লাহর ইচ্ছা হলেই যেকোন সময় হিরো আলম ও হয়েছে যেতে পারেন; না না হিরো আলম না! ঐ যে গলির মোড়ে এক পাগল মামা আছে না যে মেয়েদের কাপড় পড়ে ঘুরে বেড়ায় তার মতো হয়ে যেতে পারেন। তখন দেখবো আমি এই রূপের অহংকার কোথায় থাকে। অবশ্য চিন্তা নিয়েন না মাঝে মধ্যে আমি খাবার কিনে দিয়ে যাবোনি!"


“ কিহ আমাকে কি ফকির মনে হয় যে আপনি আমাকে ভিক্ষা দেওয়ার কথা বলছেন আর হ্যা আপনি আপনার...


“ কি হচ্ছে এখানে? কি নিয়ে এমন লাগছে দুজনের

মাঝে?"


রাব্বীর পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে সম্রাট আর তেহজীব।তেহজীব এই ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে আছে।সম্রাটের সমবয়সী,অত্র এলাকায় তার পৈত্রিক আবাসস্থল, পারিবারিক ব্যাবসা সামলায় এবং স্থানীয় এলাকার কল্যানের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছে নিজেকে। খুব‌ই ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুজনের মধ্যে।সম্রাটের পাশেই দাঁড়ানো। দুজনের চোখেই কৌতুহল।দুর হতেই তারা খেয়াল করেছে এই দুজনের মাঝে কথা বলার ধরন যাতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ঝগড়া করছে।

সম্রাট রাব্বীর থেকে একটু সামনে এগিয়ে দাঁড়ালো এবং পারীজাতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“ সমস্যা কি? 

_ আর তোর কি সমস্যা? মেয়েদের সাথে কথা বলার এটা কোন ধরন?"


“ ভাই আমি.."


“ কি বলেন তো ভাইয়া পৃথিবীতে কিছু ছেলে আসেই অযথা মেয়েদের সাথে ঝগড়া করতে! এরা নিজেদের ট্রম ক্রুজ ভাবে আর সবাইকে হেয় করে কথা বলে!"


রাব্বীর আগেই মুখ খুললো পারীজাত।তার চোখে আগুন জ্বলছে।রাব্বী‌ও রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে বললো,


“ ভাই এই বেয়াদদপ মহিলার কোন কাজ করতে আমারে বলবেন না! আস্তো শাকচুন্নী একটা!"


“ হোপ; এইটা কোন ধরণের শব্দ! আর এগুলো কি আচরণ মেয়েদের সাথে!

উনারা আমাদের কাছে হেল্প নিতে এসেছে, এদের সাথে এমন ব্যবহারের মানে কি রাব্বী? আর মুখের ভাষার এমন অবনতি কেন হচ্ছে!"


সম্রাট ধমকে বললো রাব্বীকে।পারীজাত এক চোখ উপরে তুলে আরেক চোখ ছোট করে তাকিয়ে আছে রাব্বীর দিকে। মেহরিন,নিশি পারীজাতের পিছনে ভীত চোখে তাকিয়ে আছে।সম্রাট রাব্বীর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে পারীজাতের দিকে এক পলক তাকালো অতঃপর মেহরিন আর নিশিকে দেখলো। নিশির ভীত চাহনি আর ঘর্মাক্ত মুখ , হাত কচলানোয় অনেক কিছু বুঝে নিলো।

রাব্বী ভাইয়ের ধমকে মাথা নুইয়ে নিয়ে অপরাধীর মতো কোনরকম শব্দ উচ্চারণ করে বললো,


“ সরি ভাই!"


“ সরি আমাকে না উনাদের বল।"


সরি বলতে হবে! ভাইকে বলছে তাতে তার একটুও সমস্যা নাই। কিন্তু ঐ মহিলা ও শাকচুন্নীকে বলবে সরি! এটা তো তাকে জুতা মারার মতো অপমান করা হলো। ভাইয়ের জুতা মারলেও সমস্যা নাই কিন্তু এটা তো!


“ I said say sorry her.."


“সরি !"


বলেই রাব্বী গটগট পায়ে হেঁটে বাগান বিলাসের দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে গেলো।রাব্বীর এই কাজে তেহজীব চোখ কপালে তুলে সম্রাটের দিকে তাকালো।সম্রাট রাব্বীর যাওয়ার পথে চেয়ে পারীজাতদের দিকে তাকালো। বললো,


“ I think I am late, sorry for waited you..and also sorry for my junior brothers ruff behavior..."


“ it's okay.."


“ I think she is Victim, am I right?"


সম্রাটের কথায় নিশি নিজের ভীত নয়ন তুলে সম্রাটের দিকে তাকালো।তার ছলছল চাহনি সম্রাটের ভাই সত্ত্বায় ধাক্কা দিলো। মুহুর্তে কল্পনা করলো নিজের বোনের মুখটা। সঙ্গে সঙ্গে শক্ত হয়ে গেলো চোয়াল।তেহজীব সম্রাটের বরাবর দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,


 “ আপুদের সমস্যা কি?"


“ one Scoundrel মহিলা কলেজের ভেতরে ঢুকে threatened her!"


“ what? আমাদের মহিলা কলেজে? এই উইমেন্স কলেজে?"


“ হুম!"


“ কি বলিস কি! এত দুঃসাহস কার? কার কলিজা এত বড় যে আমার এলাকায় ঢুকে আমার এলাকারই মহিলা কলেজের ভেতরে ঢুকে! আবার মেয়েদের‌ও হুমকি দেয়!

কে সে আপু?"


নিশিকে জিজ্ঞেস করলো।নিশি উত্তর দিবে কি? সে এখন‌ই কান্না জুড়ে দিবে এমন ভাবে ঠোঁট মেলে রাখছে! পারীজাত নিজের বান্ধবীর কান্ডে বিরক্ত হয়ে নিজেই বললো,


“ আসলে ভাইয়া সে আমাদের ক্যাম্পাস এসে আমার ভীষন উত্যক্ত করে। আমাদের বলতে আমার এই ফ্রেন্ডকে,আমি একদিন প্রতিবাদ করায় আমাকে সেদিন.."


এতটুকু বলে পারীজাত থামলো‌।সম্রাটের কপালে ভাঁজ পড়লো।হাতের মুঠ শক্ত করে দাঁত আঁকড়ে থমথমে ভাব নিয়ে তাকিয়ে র‌ইলো।সে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত কথা শুনতে চাইছে না। কিন্তু তেহজীবের তাড়ায় তাই শুনলো,


“ গায়ে হা/ত তুলেছিলো?"


“ ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বলেছিল বেশি ফটর ফটর করলে নাকি আমাকেই আগে.. ট্রাই করবে!"


কথাটা বলেই পারীজাত নিজের মাথা নিচু করে ফেললো।সে যে লজ্জা পাচ্ছে তা তার মাথা নত করাতেই জাহির হলো।তেহজীব ভরাট কন্ঠে শুধালো,


“ আপনি কেন লজ্জা পাচ্ছেন। লজ্জা তো পাবে ঐ শু** বাচ্চা! ওর সাহস কি করে হয় এই এলাকায় এসে মেয়েদের সাথে নোংরামো করার।


“ ওর পরিচয় কি?"


“ তাতো আমরা ওভাবে জানি না।তবে সে সবসময় বলে সে নাকি যুব সংসদের সদস্য,সম্রাট ভাইয়ের লোক।তাকে কেউ কিছু বলতে পারবে না।"


তেহজীব ভ্রু কুঁচকে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে সম্রাটের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,


“ আমাদের ছেলেরা? অসম্ভব! এটা প্লিজ যেন সত্যি না হয়। এটা সত্যি হলে আই সয়ার ইউ একেকটাকে এমন পে/টা/ন পে/টা/বো যে জীবনে আর পা দিয়ে দাঁড় হতে পারবে না!"


“ কুল; আগে দেখি কে বা কারা।

_আপনারা দেখলে চিনবেন না?"


“ জ্বী ভাইয়া চিনবো!"


সম্রাট পারীজাতের থেকে উত্তর পেয়ে নিশির দিকে তাকালো।মেয়েটা এখনও ভয়ে জমে আছে।সে গলায় দরদ ঢেলে স্নেহপূর্ণ চোখে চেয়ে আদ্র ভাবে বললো,


“ আপু তুমি ভয় পেয়ো না।স্কাউন্ডেলটাকে পেলে এমন শিক্ষা দিবো যে তোমার পায়ে পড়ে মাফ চাইবে!"


নিশি নিজের চোখ নামিয়ে নিলো।মেহরিন একটু সাহস করে বললো,


“ ভাইয়া ও আমাদের পারীজাতকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিল।পারীর হাত মানে কনুই ছিলে গিয়েছিল। শুধুমাত্র নিশিকে সেইফ করতে গিয়েছিলো বলে!"


পারী এই কথাটা বলেনি।সম্রাট প্রশ্নাত্মক চোখে পারীর দিকে তাকালে দেখলো পারী নিজের ডান কনুইয়ে হাত রেখে মাথা ঝুঁকিয়ে রেখেছে।সম্রাট গমগমে কন্ঠে বললো,


“ কবে করেছিলো,আর বললে না কেন?"


সম্রাটের কন্ঠে কি ছিলো পারীর জানা নেই।তবে পারীর মনে হলো,তাকে খুবই অধিকার নিয়ে প্রশ্নটা করা হয়েছে।সম্রাট কঠোর চাহনিতে পারীর দিকে তাকিয়ে রইল ।পারী ছোট্ট করে উত্তর করলো,


“ এটা তো এমন কিছু না।নিশির বিষয়টি বেশি সিরিয়াস। তাছাড়াও ওর জন্য শাস্তি পেলেই তো আমার জন্য‌ও পাওয়া হলো।"


“ আসো আমার সাথে!"


🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺


‘চিয়ার্স-ওয়ান্স মোর’ বার এন্ড জুস কর্ণার নামের এই বিশাল ভিআইপি বার এবং রেস্টুরেন্টের 

 ড্রিংকস কর্ণারে বসে আছে এক অতীব সুদর্শন কিন্তু অগোছালো পুরুষ।গাল ভর্তি ঘন লম্বা দাঁড়ি আর বড় বড় গোঁফের আড়ালে ঢাকা পড়েছে তার আকর্ষণীয় কামুক ঠোঁট জোড়া।ভরাট গাল ভেঙে সেই কোন কালেই চাপার সাথে মিশে গিয়েছে তা হয়তো সে নিজেও জানে না।গায়ে চাপানো ছাই রঙা শার্টের উপর কালো ব্লেজার।পড়নের ডেনিম প্যান্ট আর হাতের দামী ঘড়িতে সে নিজের আভিজাত্য ঠিক‌ই জাহির করছে।

একটা রুবি পাথরের আংটি তার বাম হাতের মধ্যমা অঙ্গুলিতে বসানো।যার দাম তার কাছে তার জীবনের চেয়েও বেশি।তিন আঙ্গুলের চাপে লাল আঙ্গুরের জুসের গ্লাসটা চেপে ধরে রেখেছে ঠোঁটের সাথে। দৃষ্টি নিবদ্ধ আঙ্গুলের সেই আংটির দিকে।হালকা চুমুকে অল্প একটু গলাধঃকরণ করতেই পেছনে এসে কেউ আঁছড়ে পড়লো।যার দরুন গ্লাস গিয়ে আঘাত করলো তার ঐ লম্বা সুঠালো নাসিকার উপর। বিরক্তিতে মুখ তেতো হয়ে গেলো।

মেজাজ চড়লো আসমানে।বিরবির করে উচ্চারণ করলো কিছু খাস বাংলা শব্দ।প্রয়োগ করলো ভদ্রতা বজায় রেখে অতি সাধারণ তবে ভদ্রলোকের গালি যাকে বলে।


“ who is the Scoundrel? didn't you see.."


আর এগোতে পারলো না।থেমে গেলো সামনে দাঁড়ানো নারীর পানে দৃষ্টি পড়তেই। বোরকা হিজাবে আবদ্ধ বিধ্বস্ত এক অসহায় বদন,অশ্রু সিক্ত আখি জোড়া তার দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি আহত করলো তার ঠোঁটের কোনে জ্বলজ্বল করা কুচকুচে কালো এক তিল।

এই পুরুষের সমস্ত ইন্ধন অচল হয়ে পড়লো। ঝাঁপসা দাঁড়ালো দৃষ্টি।তার সামনে উপস্থিত হলো সেই স্মৃতি যার তাড়নায় সে নির্ঘুম কাটায় প্রতিটি রাত।

পেছন থেকে ঐ নারীর উপর কারো প্রহারের আওয়াজে নিজের ভ্রম থেকে বেরিয়ে আসলো।নারীটি অসহায়ের মতো আর্তনাদ করছে আর কিছুর জন্য অনুরোধ করছে। নিজের টালমাটাল অবস্থা সামাল দিয়ে কঠোর চোখে তাকালো সেই পাষন্ড নরপিশাচের দিকে। কাকুতিমিনতি করেও নিজের ইজ্জত রক্ষার্থে ব্যর্থ নারীর চুড়ান্ত ইজ্জতহানী হ‌ওয়ার আগেই এগিয়ে গিয়ে নিজের খসখসা গলায় ধারালো জোর আওয়াজ তুলে বললো,


“ উনার হাত ছাড়ুন।নয়তো হাত ধরার জন্য আপনার হাতটাই থাকবে না!"


কথাটা ঐ নরপিচাশের ভালো লাগলো না।খ্যাটখ্যাটে মেজাজে তীব্র আওয়াজ তুলে প্রত্যুত্তরে বললো,


“ আমি পয়সা দিয়া কিন্না আনছি।ক্যামনে ছুমু তাকি আপনেরে বলতে অইবো? যান নিজের চরকায় ত্যাল দ্যান!"


“ পয়সা দিয়ে মানে?"


“ পয়সা চিনেন না? পয়সা মানে অর্থ যারে সহজ বাংলায় বলে টেকা টেকা! আমি নগদ কড়কড়া তিন লাখ দিয়া এই মালটারে কিনছি!"


“ উনি একজন নারী, মানুষ; কোন পণ্য নয়।তাই মাল বলা বন্ধ করেন!"


“ মা/গি মানুষ আবার মানুষ কিসের?এগুলা হ‌ইতেছে একেকটা মা/ল, খাসা মা/ল! টেকা বানানোর মাল! রাস্তায় নামাইয়া মেশিন ভাড়া দিলেই খালি টেকা আর টেকা!"


“ আপনাকে আমি বারণ করছি। এখনও সময় আছে!"


“ আমি কমুই।মা/লরে মা/ল কমু, পারলে বা/ল ছিড়া দিয়েন!"


“ আপনি নিজেকে সংযত করুন ,নয়তো আমি ভুলে যাবো আপনি বয়সে আমার সিনিয়র!"


“ ঐ যান তো গিয়ান দিয়েন না।মেজাজ গরম হ‌ইতাছে! এমনিতেই মা/গি চু/দু/র- বু/দু/র করতাছে।ক‌ইছি হুইয়া পড়তে, তুই চুপচাপ হুইয়া পড়বি, তাই না ! নাটক মা/রা/ই/তা/ছে!

_ ঐ তোরে ক‌ইছি না আমার কথার বাইরে এক পাও লড়বি না।তাইলে এইহানে আইছোস ক্যা! মা/গি তোরে আমি!"


কথাটা বলেই ঐ নারীকে প্রহার করতে হাত উঁচিয়ে তুলতেই হাতটা শক্ত করে আটকে দিলো।লোকটা নিজের হাতকে অন্য লোমশ লোহার মতো শক্ত হাতের মুঠোয় দেখে রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলো। বিচ্ছিরি ভাবে মুখভঙ্গি করে জঘন্য গালি দিয়ে বললো,


“ ঐ মা/দা/র চো* হাত ধরলি ক্যান?"


“ আমি বারবার ওয়ার্ন করেছিলাম মেয়েটিকে ছাড়তে,শুনলি না।!"


“ এত দরদ উতলাইয়া উঠছে ক্যা?

_ নাকি মালটাকে মনে ধরছে?ধরলে সমস্যা নাই।নগদ পাইলে নগদি দিমু!তয় ওয়েটিং কাস্টমারের চাইতে বেশি দেওন লাগবো!"


নোংরা মস্তিষ্কের মানুষের চিন্তাও নোংরা থাকে।তারা সবাইকে নিজের কাতারেই রাখে।লোকটাও তাই করলো।সে নিজের মতোই ভাবলো বিপরীতে থাকা ঐ তেজী কন্ঠের মানুষটাকে।

অথচ সে বুঝতেই পারলো না তার এই কথায় ঐ ব্যক্তি রাগের সর্বোচ্চ চুড়ায় উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। মুখ বরাবর শক্ত জোরালো মুঠের ঘু/ষি মেরে মেয়েটার থেকে অন্তত পাঁচ কদম দূরে ফেলেছে।ঐ পাষন্ড লোকটা গিয়ে পড়লো টেবিলের উপর থাকা ওয়াইনের বোতলের উপর। মুহুর্তের মধ্যে পুরো বার জুড়ে হ‌ইচ‌ই শুরু হয়ে গেলো। ড্যান্স ফ্লোরে অশ্লীল ভঙ্গিতে নাচে ব্যস্ত থাকা তরুণ তরুণীরা সব ছোটাছুটি শুরু করলো।এক ঘুষি‌ই যথেষ্ট ছিলো। নাক দিয়ে গলগল করে রক্তের ধারা ব‌ইতে শুরু করলো। ঠোঁট কেটে ঝুঁলে পড়েছে।লোকটা আতংকিত হয়ে পড়েছে।ভীত চোখে তাকালো ঐ লোহার মতো দেহধারী দানবীয় মানবের পানে।চোয়াল শক্ত করে রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে গর্জিয়ে বললো,


“ বারবার বলেছি ছাড়তে, ছাড়তে,ছাড়লি‌ই না।তোর

কাছে মেয়ে মানুষ মানেই মা/ল।টাকা কামানোর মেশিন তাই না!

এমন হাল করবো যে জীবনে কোনদিন মেয়েদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস‌ই পাবি না।"


কথাটা শেষ করেই উড়াধুরা লাথি মারতে থাকলো

লোকটার নিম্নাঙ্গে।এমন দানবীয় দেহের একেকটা লাথির ভার সহ্য হলো না। লোকটা কিছু করতেও পারছে না নাক মুখের ব্যথায়। বারবার কঁকিয়ে উঠছে।

নারীটি অশ্রু সিক্ত চোখে তাকিয়ে দেখলো কেবল। মিনিট বিশের মধ্যেই পুলিশ এসে হাজির হয়।ঐ নারীকে সহ দুজনকেই পুলিশ ভ্যানে করে তুলে নিয়ে থানায় যায়।


বারের ভেতর এমন হাতাহাতি সাধারণ ব্যাপার কিন্তু অসাধারণ হচ্ছে এহেন রক্তাক্ত ঘটনা। ঐ লোকটার মুখ দিয়ে এখনও রক্ত ঝড়ছে, এদিকে সে সুদর্শন পুরুষের রক্ত চক্ষু এখনো ঐ নরপিচাশের উপর।নারীটি একপাশে আঁটসাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে নিরবে কাঁদছে। ওসি সবাইকে দেখার পর জিজ্ঞেস করলো,


“ কি নিয়ে লেগেছে দুজনের মাঝে?"


কেউ উত্তর দিলো না।ওসি সুদর্শন পুরুষকে ইঙ্গিত করে বললো,


“ পোশাকে দেখতে তো আপনাকে ভদ্র লোক ভদ্র লোক লাগে যদিও চেহারায় তার লেশমাত্র নেই। কিন্তু কথা হচ্ছে এই একজন নারীকে নিয়ে এমন মারাত্মক হাতাহাতির কারণ কি? 

এরে তো দেখলেই বোঝা যায় দালাল; পয়সা বেশি চাইছে নাকি?"


উক্ত মানুষরূপী পিচাশকে বঞ্চনা করে কথাটা বলেছিলো। নিজের চোয়াল আগের মতোই শক্ত রেখেই অফিসারকে উত্তর দিলো,


“ ঐখানে দাঁড়িয়ে আছে ওনাকে জিজ্ঞেস করুন।"


বোরকা এবড়োখেবড়ো হয়ে গিয়েছে, হিজাবটা এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।তাও সেটা দিয়েই নিজেকে বেশ ভালো মতো ঢাকতে সক্ষম হয়েছে নারীটি। কিন্তু পুলিশের কাজ‌ই সন্দেহ করা। অহেতুক কথায় বিভ্রান্ত করে, জটিলতায় ফেলে, ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসল সত্য আসামীর মুখ থেকেই বের করাই হলো পুলিশের কাজ। রিমান্ডের প্রথম ধাপ এটা,এটায় কাজ না হলেই চলে রোলারের ঢলা।


ওসি সাহেব একজন নারী কনস্টেবলকে আদেশ করলেন নারীটির থেকে কথা হাসিল করতে,নারী কনস্টেবল তাই করতে আরম্ভ করলেন।তিনি পাশেই পেতে রাখা বেঞ্চে বসিয়ে নিজের কর্কশ কন্ঠে শুধালেন,


“ এমন বোরকা হিজাব প‌ইড়া পর্দানশীন সা‌ইজা খামোখা ক্যান আসল পর্দাওয়ালীগো অসম্মান করোস বুঝি না বাপু!"


মহিলাটা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে,চোখের জল ফুরিয়ে গিয়েছে মনে হয়। পুলিশের মনে দয়া মায়া কম।তাই হয়তো খুব সহজেই নারী কনস্টেবল ঐ নারীকে জব্দ করতে পারলেন। একদম সোজাসুজি জিজ্ঞেস করলেন,


“ এই লাইনে ক‌য়দিন ধ‌ইরা আইছোস? আগে ক‌ই করতি? এই এলাকায় নতুন নাকি?"


এতক্ষণ নিরাশ্রু থাকা চোখ ফেটে ঝর্ণার মতো ব‌ইতে শুরু করলো জলের ধারা। কিন্তু তাতে আই পুলিশের মন গলে? সে চেঁচিয়ে বললো,


“ ঐ নাটক কমা! বহু দেখছি এই নাটক! বিগত দশ বছর ধ‌ইরা দেখতেই আছি তোগো মতো মা/গিদের এইসব ড্রামা তাই এই সস্তা চোখের পানি যার দাম ড্রেনের পানির মতোও নাই তা দেখাইয়া আমার মন গলানো যাইবো না।

সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করছি কোন টালবাহানা ছাড়াই উত্তর দে!

কি নিয়া লাগাইছোস! এই বুইড়া কি দালাল হয়,দেখতে তো বাপের মতো! অবশ্য এগো কাছে মা 

মাইয়া সব‌ই সমান! কিন্তু এই ভদ্রলোকের লগে কি নিয়া লাগাইছে!বেশি চাইছিলো টেকা?"


একাধারে করা প্রশ্নে পুলিশ না হাপালেও হাঁপিয়ে গেলো নারীটি, বিরক্ত হয়ে গেলো সেই সুদর্শন। চেঁচিয়ে উঠলো।বললো,


“ থামুন! কি সব বলছেন এগুলো? উনাকে দেখলে মনে হয় উনি প্রস্টিটিউট? চেহারা দেখে বুঝেন না!"


ওসি সাহেব নিজের জুনিয়রকে হালকা ধমকে বললেন,


“ আগে উনার কান্না থামান। পানি দেন খেতে!"


নারী কনস্টেবল তাই করলেন। ওসি সাহেব সেই পুরুষের দিকে একবার চাইলেন অতঃপর চাইলেন ঐ লোকের দিকে। তারপর সেই পুরুষের দিকে নিজের দৃষ্টি স্থির করে জিজ্ঞেস করলেন,


“ আপনি ঘটনার বিস্তারিত বলুন।"

 আগা থেকে গোড়া সবটা বলা হলো।ওসি সাহেব কিছু ঠাওর করে নারীটিকে নিজের দিকে ইশারা করে বললেন,


“ আপনি এখানে আসুন!"


ভীত এবং নিচু মস্তকে এগিয়ে এসে একটু দুরত্ব বজায় রেখে বললেন,


“ উনার সাথে কি সম্পর্ক!"


এত সময় এত ঘটনার পর মুখ খুলে নারীটা যা বললো তাতে সবার চোখ বিস্ময়ে বিহ্বল হয়ে গেলো।বলা চলে প্রায়‌ই বাবার বয়সী এই পুরুষকে ঐ নারী নিজের স্বামী বলে পরিচয় দিলো। এবং সঙ্গে এ‌ও জানালো যে তিন লাখ টাকার দেনমোহর শোধ বাবদ আজ তাকে তার বাবার ঘর থেকে স্বামীর ঘরে নিযে যাওয়ার কথা বলে এই ক্লাবে এনে সরাসরি এক অচেনা পুরুষ ঘরে ঢুকিয়ে রেখে চলে আসছিলো।মহিলাটা প্রথমে না বুঝলেও পরে যখন কিছু সন্দেহ হয় তখন‌ই সে আত্মরক্ষার জন্য বাইরে বেরিয়ে আসে এবং অনুনয় করে বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে,তাকে তার স্বামীর সংসার করতে দিতে। কিন্তু স্বামী নামক জা/নো/য়া/রের বাচ্চাটা তো মানুষ‌ই না । মানুষের দরদ বুঝবে কি করে? তাই সে ভরা ক্লাবেই গায়ে আঘাত করতে থাকে যার দরুন ছিটকে গিয়ে ঐ লোকের উপরে পড়ে এবং পরের ঘটনা তো সবার‌ই জানা।


পুলিশ সব কিছু শোনার পর সেই স্বামী নামক নরপশুকে চৌদ্দ শিকের মাঝে ঢুকিয়ে নারীটির থেকে স্টেটমেন্ট রেখে তাকে নিরাপদে তার পিত্রালয়ে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করে এবং সেই সুদর্শনকে মুচলেকা দিয়ে সতর্ক করে দেয় যেন ভবিষ্যতে কারো ভালো করতে গিয়েও এমন মারপিট না করে।তার সাথে উপদেশ দেয় ব

ভদ্র বাড়ির ছেলে হয়ে এমন অভদ্র আর অশ্লীল জায়গায় যেন না যায়।


থানার ঝামেলা থেকে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসে প্রশাসনের এই নরক থেকে। মুক্ত আকাশের দিকে চেয়ে চাপা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো, বিরবির করে বলে উঠলো,


“ কেন যে যাই তা কেবল আমার এই শূন্য অন্তর আর ঐ অন্তরের কারিগর জানে!"


কথাটা বলেই কল্পনা করলো সেই পূর্ণতাকে যার বিরহে এত শূন্যতা,


ফ্ল্যাশব্যাক...


ক্লাবে ঢুকেই পারীজাত, মেহরিন,নিশি দেখলো প্রায় শ খানেক ছেলে বলা যায় ১৮/১৯ - ৪০/৪৫ এর অনেক পুরুষ প্রায় শ প্লাস সবাই সিরিয়াল ধরে দাঁড়িয়ে আছে।


চলমান....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ