সুখ_ফড়িং_সিজন_২ | পর্বসংখ্যা_০৭

 #সুখ_ফড়িং_সিজন_২ 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_০৭



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


চারদিকে লাশের বহর। তরল রক্ত মাংসের মানুষগুলো ঠাণ্ডায় জমে শক্ত শ্বেত বরফ খন্ডে পরিণত হয়েছে।একের পর এক লাশ লাইন করে শুইয়ে রাখা হয়েছে নদীর দুই ধারে।

লাল টসটসে ঠোঁটটাও কেমন ফ্যাকাশে দেখা যাচ্ছে।ঐ তো মেয়েটার ঠোঁটের কোণে দেখা যাচ্ছে লাল চিহ্ন,এক নিষ্ঠুর রাতের নিষ্ঠুরতাও ঐ সুন্দর কোমল মুখের সজ্জিত আভাকে মুছে ফেলতে পারেনি ঠিক‌ই কিন্তু আজীবনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কন্ঠনালী।


শত-শত লাশের মাঝেই হন্নি হয়ে খুঁজে চলেছে নিজের অতি আপনজনদের।কিশোরীর বুকের উত্তাল বেগ জানিয়ে দিচ্ছে সে কতটা ব্যাকুল হয়ে খুঁজছে তাদের যাদের ছাড়া মানব জীবন শূন্য!


“ পাপা ! মাম্মা! ভাই!"


বুক ফাটা আর্তনাদ আর হাহাকারে ছেয়ে থাকা সম্পূর্ণ নদীর কুলে মানুষের স্রোত বয়ে যাচ্ছে । তার মাঝেই খালি পায়ে হাঁটু অবধি ফ্রক আর চুড়িদারে 

দিকবিদিক জ্ঞান হারিয়ে দৌড়াচ্ছে এগারোর এক কিশোরী। জন্ম দেওয়া দুজন মানুষ আর রক্তের একটি চিহ্ন।তার পিছনে ছুটছে তার মামা। বারবার চিৎকার করে বলছে,


“ পারীজাত থামো! পরে যাবা!

_ আমরা দেখছি।"


কিন্তু কারো ডাকেই আজ পারীর কদম থামলো না।সে চিৎকার করে ডাকছে আর লাশের বহর পার করছে একের পর এক মুখ দেখে।শত লাশ পেরিয়েও নিজের বাবা মায়ের আর ছোট ভাইয়ের দেখা পেলো না।


একদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও পায়নি। নৌপুলিশ, নৌবাহিনী,ডুবুরিরা ঘোষনা দিয়ে দিলো আর কোন লাশ নেই।অথচ লঞ্চ যাত্রীর হিসাব অনুযায়ী এখন‌ও প্রায় ত্রিশের অধিক যাত্রী নিখোঁজ!


সুন্দরী এগারো,ঢাকা টু বরিশাল গামী অন্যতম বড় লঞ্চ। বিলাসবহুল এই লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা হাজারের‌ও অধিক।

ছোট ভাইয়ের ছোট পুত্রের সুন্নাত খাৎনার নিমন্ত্রন উপলক্ষে নিজ গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা পরশ আবরার চৌধুরীর সম্পূর্ণ পরিবারের।সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই পরশ আবরার চৌধুরী নিজ সহধর্মিণী মিসেস প্রিয়ন্তি খন্দকার এবং একমাত্র পুত্র চার বছরের প্রাণ আবরার চৌধুরীকে নিয়ে অনুষ্ঠানের একদিন আগেই র‌ওনা দেন।মিসেস প্রিয়ন্তি খন্দকারের যাত্রা বাহনের মধ্যে অন্যতম পছন্দের বাহন লঞ্চ।তাই উনারা সেটাই পছন্দ করলেন নিজেদের জন্য।

ঢাকায় ছোট শ্যালক আর শ্যালক পত্নীর তত্বাবধায়নে রেখে গেলেন এগারো বছরের একমাত্র কন্যা সন্তান পারীজাত আবরার চৌধুরীকে। কারণ তার স্কুলে তখন ক্লাস পরীক্ষা চলছিলো।সে চাইলেই যেতে পারতো না।


তাই তাকে রেখেই উনারা যেতে বাধ্য হয়।কথা ছিলো অনুষ্ঠান শেষ করেই সেদিন সন্ধ্যার লঞ্চেই ফিরে আসব। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা তো ছিলো অন্যরকম।চাইলেই কি সব হয় আমাদের, মতানুযায়ী!

সেদিন‌ও ঠিক তাই ঘটেছিল।রাত পৌঁনে তিনটায় পাশাপাশি দুই লঞ্চের প্রতিযোগিতার শিকার হয় দুই লঞ্চে যাত্রা-রত হাজার দুইয়ের অধিক যাত্রী।

প্রতিযোগিতা করে চালাতে গিয়েই ধাক্কা লাগে একে অপরের সাথে অতঃপর যা ঘটার তাই ঘটলো!


বাবা মা'কে লঞ্চে তুলে দিয়ে এসেছিলো পারীজাত।মামা সাথে ছিলো।তাই সে জানতো বাবা মা সুন্দরী এগারোর যাত্রী। লঞ্চ ছাড়ার আগ অবধি সে ছিলো লঞ্চে,ছোট ভাইয়ের সাথে খুনসুটি করেছিলো,মায়ের কড়া আদেশ গলাধঃকরণ করেছিলো, বাবার আদর আর স্নেহে মাখামাখি করেছিলো অতঃপর লঞ্চ ছাড়ার পাঁচ মিনিট আগে সেখান থেকে চলে এসেছিলো।


লঞ্চে যখন ধাক্কা লাগে এবং লঞ্চ এক দিকে কাত হয়ে যায় তখন‌ই তার বাবা তার মামার নাম্বার ফোন করে,গভীর ঘুমে মগ্ন পারভেজ খন্দকার বোন জামাইয়ের ডাক শুনেনি। পরপর তিনটা কল দেয় পরশ আবরার চৌধুরী।তাও কল শুনেনি কেউ!

 ফজরের সালাত আদায় করতে উঠে পারভেজ খন্দকার ও উনার সহধর্মিণী আলিসা মনি।ভোর চারটার পর লঞ্চ বরিশাল সদর ঘাটে ভিড়তে পারে বলেই সবসময় নিশ্চিত থাকা যায়।যদি না নাব্য সঙ্কটে পড়ে অথবা মেঘের জন্য কোন সমস্যা হয় অথবা লঞ্চের কোন ঝামেলা হয়।

এই বিষয়টা মাথায় থাকাতেই ওযু করে এসে নামাজে দাঁড়ানোর আগেই একবার বোন আর বোন জামাইয়ের খোঁজ নেওয়ার জন্য ফোনটা হাতে নিতেই দুঃশ্চিন্তায় কপালে কয়েকটি ভাঁজ পড়ে। পরপর তিনটা কল, এবং অবশেষে একটা ভয়েস বার্তা!


দুশ্চিন্তায় কাঁপা কাঁপা হাতে কল ঢুকায় পরশ আবরার চৌধুরীর নাম্বারে কিন্তু! বন্ধ! বন্ধ! বন্ধ! 

পরপর কয়েকবার কল দিলো ঐ নাম্বারে,সোজা বন্ধ বলছে! কেন? 

অজানা ভয়ে হাত পা কাঁপতে শুরু করলো পারভেজ খন্দকারের। উনার স্ত্রী উনার এহেন অবস্থা দেখে নির্ভয় দিয়ে বললেন ভয়েস শুনতে।।তিনি তাই করলেন। ভয়েস মেসেজ অপশনে গিয়ে চাপ দিতেই ভারী কাঁপা আর্তনাদের স্বরে ভেসে আসলো এক নিষ্ঠুর বার্তা,


“ আর বোধহয় দেখা হবে না রে পারভেজ,আমার আমানতের খেয়াল রাখিস ভাই! আল্লাহ যদি রোজ হাশরের ময়দানে দেখা করায় আমি আমার আমানত বুঝে নিবো! 

_ ওরা লঞ্চটা ডুবাইছে রে.."


 

শেষ! এতটুকুই ছিলো! পারভেজ খন্দকার মোবাইল রেখে কাঁপা কাঁপা দেহ নিয়ে টেলিভিশন চালু করে ।প্রতিটি চ্যানেলের একটাই মুখ্য সংবাদ!


“ বরিশাল গামী দুই বিলাসবহুল লঞ্চের ভয়ানক প্রতিযোগিতার শিকার হলো হাজার হাজার অসহায় যাত্রী।এখন অবধি শোনা মতে নিহতের সংখ্যা শতকের ঘর পেরিয়ে গিয়েছে।কুয়াশার কারণে চারদিক দেখা যায় না তার মাঝেই চলছে উদ্ধার অভিযান। অনেক যাত্রীর আত্মীয়রা ইতিমধ্যেই নদীর তীরে এসে অবস্থান করছে নিজের স্বজনদের সন্ধানে।

আমাদের সাথেই থাকুন,সবার আগে সব রকমের আপডেট পেয়ে যাবেন।"


এরপর  শোনা গেলো কেবল এক আকাশ সমান আহাজারি আর আহাজারি।

যেই আহাজারির শব্দে আজ‌ও পারীর ঘুম ভেঙ্গে যায়। যেমন করে এখনও ভেঙে গেলো। 


“ পাপা! মাম্মা!"


চিৎকার করে উঠে বসলো পারীজাত। সর্বাঙ্গ ঘেমে একাকার হয়ে গিয়েছে। থরথরিয়ে কাঁপছে তার হাত পা।চোখ দিয়ে অবিরত অশ্রু ঝড়ছে তার সঙ্গে 

চোখের সামনে ভেসে উঠে লাশের বহর; তিন দিন পর পাওয়া মায়ের গলে যাওয়া মুখটা আর মায়ের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা ছোট সেই চাঁদ মুখো ছোট ভাই প্রাণের নিথর দেহ!

রাক্ষুসী নদীর ঐ অতল গহ্বরের থাবাও মায়ের থেকে আলাদ করতে পারেনি প্রাণকে কিন্তু পৃথিবীর নিষ্ঠুর মানুষগুলো ঠিক‌ই আলাদা করে দিয়েছিল পারীজাত আর প্রেয়শ্রীর থেকে তার বাবা মা আর আদরের ছোট্ট ভাইকে।

মায়ের সেই অর্ধগলিত ফুলে ফেঁপে উঠা দেহ খানি আর মায়ের পেটের মাঝে মাথা ঢুকে থাকা ছোট ভাই প্রাণের ফ্যাকাসে রক্তশূন্য দেহ খানা পারীজাতের অনেক রাতের ঘুম কেড়ে নেয়।


বাঁচার প্রয়াস সবাই করেছিল যার প্রমাণ দেয় ছোট্ট প্রাণের হাতের আঙ্গুলের খাঁজে আঁটকে থাকা বাবার শার্টের ছেঁড়া অংশ।হয়তো বাবাও তাকে বাঁচানোর প্রয়াসে জড়িয়ে রেখেছিল বুকের মাঝে আর ছোট প্রাণ‌ও নিজের ভয়কে জয়কে করতে বাবার শার্ট আঁকড়ে ধরেছিলো। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিল সবাই আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে বাঁচতে। নিষ্ঠুর মানুষের খামখেয়ালিপনা থেকে বাঁচতে।


তবে পারীজাত তখনও জানতো না তাদের বাবা কোথায়? বেঁচে আছে নাকি মরেই গেছে। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো আবারও পারীজাত তার সাথে মনে করলো মা ভাই'কে দাফন দেওয়ার দুই দিন পরের ঘটনা।

 পাঁচ দিন পর গলে পচে যাওয়া, মাছে খাওয়া একটা মরদেহ পাওয়া যায় হিজলার মিয়ারচর তীরে।গায়ের শার্ট ছিঁড়ে ফালাফালা হয়ে গিয়েছিলো।প্যান্ট কোমরের সাথে চেপে লেগে আছে পেটে কেটে গিয়েছিলো,পানি পেটে যাওয়ায় এবং ভিজতে ভিজতে ফুলে যাওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। এছাড়াও সারা শরীরে অসংখ্য অসংখ্য কামড়ের দাগ। যাতে স্পষ্ট হয় নদীর মাঝে বসবাস রত কোন প্রাণী‌ই খাদ্য সংকটে এহেন ভয়ানক কাজ করেছিলো। বাবার এমন মৃত্যু পারীর জীবনের স্বাভাবিকতা কেড়ে নিয়েছিলো অনেকগুলো মাস সে একদম পাথর হয়ে গিয়েছিল।

যার প্রভাব এখনও মাঝে মাঝেই হয়!


আজ‌ও একটা লঞ্চ ডুবে ছিলো। চাঁদপুর গামী ছোট লঞ্চের যাত্রী সংখ্যা প্রায় দেড়শো ছিলো। তার মধ্যে 

থেকেই প্রায় চল্লিশটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।যেই খবর পড়ার পর থেকেই পারী অস্থির হয়ে উঠেছিলো। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিল কিন্তু তাতেও লাভ হলো না। স্বপ্নের মাঝেই ধরা দিলো মা বাবা আর ভাইয়ের করুন মৃত্যু দৃশ্য।


“ আসসালামু আলাইকুম,জ্বী বলুন!"


****


“ দুই পাউন্ডের?"


****


“হ্যা হবে।এটার প্রাইজটা একটু বাড়বে আপু।এটাতো আমার গত বছরের কেক,আর এখন তো জানেন‌ই জিনিসের কত দাম! সত্তর টাকার চিনি এখন একশো চল্লিশ টাকা.. মানে বুঝতেই পারছেন...


পারীকে থামিয়ে ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি কিছু একটা বললেন যাতে পারীর দুশ্চিন্তায় ভাঁজ খাওয়া কপালটা টানটান হয়ে গেলো তার সঙ্গে ঠোঁটে বিস্তার করলো এই উজ্জ্বল প্রাণবন্ত হাসি। হাসি হাসি মুখে পারী প্রত্যুত্তরে বললো,


“ জ্বী আপু অনেক ধন্যবাদ বোঝার জন্য। আপনাদের মতো কিছু চমৎকার ক্লাইন্ট আছে বলেই বোধহয় আমার মতো নব্য উদ্যোক্তাদের পথটা এত মসৃণ হয়।

এটাই অনেক আপু।আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো আপনাকে বেস্ট সার্ভিস দেওয়ার। ইনশাআল্লাহ আপনি অভিযোগ করার সুযোগ পাবেন না!"


কাস্টমারের সাথে কথোপকথন শেষ করে অর্ডার কনফার্ম করলো পারীজাত। মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করলো,শুকরিয়া আদায় করলো অতঃপর আল্লাহর এক বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট প্রকাশ করে তাকেও ধন্যবাদ দিলো।


রাতের স্বপ্ন তাকে আর ঘুমাতে দেয়নি।তখন বিছানা ছেড়েই দ্রুত পরিষ্কার হয়ে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে, কোরআন তেলাওয়াত করে অতঃপর নিজের পেইজের কিছু কাজ করে।তখন‌ই ভালো করে খেয়াল করলো, সম্রাটের সেই কেকের রিভিউতে বেশ কমেন্ট, লাইক, লাভ রিএ্যাক্ট পড়ছে। সবচেয়ে বড় কথা সম্রাটের রিভিয়ের পর থেকেই গত দুই মাসে বেশ বড় বড় কয়েকটি অর্ডার পেয়েছে অথচ পেইজের বয়স দুই বছরে পেরিয়ে যাচ্ছে।এই দুই বছরে সে কি না করেছে পেইজের রিচের জন্য, দিনরাত মেহনত করেও সে এতটা ভালো অর্ডার পায়নি। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যেই তার পেইজের রিচ হুরহুর করে বাড়ছে তার সাথে অর্ডার হচ্ছে এবং আলহামদুলিল্লাহ সব কাস্টমার‌ই বেশ ভালো রিভিউ দিচ্ছে কেকের।


পারী মনে প্রাণে বিশ্বাস করছে এটা সম্রাটের ক্রেডিট কারণ অর্ডার করা অধিকাংশ কাস্টমারের আইডি সম্রাট এবং তার বন্ধু মহলের সাথে যুক্ত।

পারীর মনে হচ্ছে সম্রাটকে আবারও একটা ধন্যবাদ কেক দিতে হবে কিন্তু সেটা কি ভালো দেখায়? বারবার ক্লাবে যাওয়াটা কি তারা ভালো চোখে দেখবে? তাছাড়াও সম্রাটের চোখে কিছু একটা আছে যা পারীর চিত্তে কাঁপন ধরিয়ে ছাড়ে।

তবে কিভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে? বিশেষ কিছু রান্না করলে কেমন হয়? ভাবনাটা মাথায় আসতেই তার মাথায় হাত উঠে গেলো।জিহ্ব কেটে বিরবির করে বললো,


“ ইস্ পারী তুই আজ‌ও ভুলে গিয়েছিস? কিভাবে ভুলতে পারলি? যেই মানুষটা তোর সামান্য কথাও মনে গেঁথে রাখে তার জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ কথাটা কিভাবে ভুলতে পারলি? তোর কি আসলেই কোনদিন কান্ড জ্ঞান কিছু হবে না? তুই কি সত্যিই কোনদিন মানুষ হবি না?"


নিজেকে বকতে বকতেই রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো।পড়নে তার হাঁটুর নিচ অবধি লম্বা গোলাপী প্রিন্টের টি শার্ট আর প্ল্যাজো।কোমর ছাপিয়ে নিচে নেমে যাওয়া ঘন কালো লম্বা চুলগুলো বিনুনির গাথুনিতে আটকা পড়ে আছে। ছোট ছোট চুলগুলো সব কপালের আশেপাশে আঁছড়ে পড়ে আছে।শ্যাম অঙ্গের রমনীটিকে দেখতে বড়‌ই অদ্ভুত লাগছে; তাতে তার কি! সে এভাবেই থাকতে আরাম বোধ করছে।


দুই মাসের তৃষ্ণার্ত ব্যাকুল এক পুরুষের মন লাজ- লজ্জার মাথা চিবিয়ে নিজের তৈরি আইনের শিকল ভেঙ্গে অবশেষে এসে দাঁড়িয়েছে মহিলা কলেজের সামনে। উদ্দেশ্য চোখের তৃষ্ণা নিবারণ।প্রাণ ভরে শ্বাস নেওয়া।

বারবার মিঠু মামার দোকানের সামনে যাচ্ছে তো আবার গেটের সামনে আসছে। যেখানে সে নিজেই আইন করে দিয়েছে মহিলা কলেজের সামনে কোন পুরুষ দাঁড়াতে পারবে না সেখানে সেই আজ এই কাজ করছে। বিষয়টি ঠিক কোনদিকে যাচ্ছে তা যেন তার ভাবনার‌ই দায় নেই।তা দায় শুধুমাত্র ঐ নারীকে এক পলক দেখায়।


সম্রাট আশ্চর্য হয়ে ভাবছে,দুই মাস সে পারীর দর্শন পাচ্ছে না।বেশ কয়েকবার চায়ের দোকানে বসে অপেক্ষা করেছিলো এক নজর দেখার জন্য কিন্তু পারীর ছায়াও সেখানে পড়েনি। অতঃপর হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে বারবারই।

কিন্তু আজ সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত, এবং সে খোঁজ নিয়ে জেনেছে আজ পারী ঠিক দশটার মধ্যেই ক্লাসে থাকবে অর্থাৎ পারী সাড়ে নয়টার মধ্যেই ক্যাম্পাসে উপস্থিত হবে।তাই সে সোয়া নয়টা থেকে এখানে এসে উপস্থিত হয়েছে।


সম্রাট অবিরত পায়চারি করছে, ঐদিকে আশেপাশের অনেক মানুষ তাকে আড়চোখে দেখছে। মোটামুটি পরিচিত মুখ সম্রাট।তার করা নিয়মের খবর‌ও সবার জানা।তাই সবাই অদ্ভুত চোখেই দেখছে যা তাকে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে বাধ্য করছে কিন্তু তাও সে এখান থেকে নড়বে না । একদম নড়বে না বলেই মনোঃস্থির করেছে।


হুট করেই সম্রাটের মুঠোফোন একটা কল আসলো,সে ফোনটা পকেট থেকে বের করে নাম্বার দেখলো। মায়ের কল।এই সময়ে মায়ের কল! ভাবছে কি করবে? ভাবতেই সিদ্ধান্ত এলো, মায়ের সাথে কথা বলবে ঠোঁট দিয়ে আর কাঙ্খিত নারীকে দেখবে নয়ন দিয়ে।কি আশ্চর্য! দুজন‌ই প্রিয় নারী। দুজনকেই একসাথে এক‌ই সময়ে পাবে!

ভাবতেই তার ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো।সে ফোনটা রিসিভ করতেই পাশ থেকে বাইকের শব্দ কানে এলো।সে একটু সরে দাঁড়িয়ে কাঁনে ধরে আদবের সহিত সালাম দিলো এবং বললো,


“ আসসালামু আলাইকুম আম্মাজান, কে..


আর বলতে পারলো না।তার দৃষ্টি গিয়ে আটকালো বাইক থেকে নামতে থাকা হাস্যোজ্জ্বল রমনীর বদনে আর বাইকে বসে থাকা সুদর্শন পুরুষের সুশ্রী মুখশ্রীর উপর।


চলমান.....


বি:দ্র:- আল্লাহ হাফেজ,আবার কবে দেখা হবে জানিনা।তবে যদি বেঁচে থাকি ইনশাআল্লাহ্ দেখা হবে।


পরীক্ষার জন্য পড়তে হবে। নয়তো কোন কুল থাকবে না জীবনে। এমনিতেও লেখালিখিতে আমার কোন ভবিষ্যৎ নাই।😯

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ