সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৫৮

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_৫৭



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


“ ও আমার নু/নু কেন কাতছে?

_ বাবা তুমি ডাত্তারের নু/নু কেতে দাও!"


বাবা পাজা কোলে করে লুঙ্গি পরিহিত তাইফকে নিয়ে নামছে আর তাইফ এভাবেই ডাক্তারের নামে নালিশ দিচ্ছে।যদিও তার ব্যথা হচ্ছে না কিন্তু চোখ মেলেই নিজের নু/নুর মাথা ব্যান্ডেজ দেখেই তার তার ছিঁড়ে গিয়েছে।হাত দিয়েও নাড়া চাড়া করে বোঝার চেষ্টা করেছে কয়েকবার আসলে ঘটলো টা কি তার সঙ্গে!আফিয়া ছেলেকে ধমকেছেও এর জন্য। সালাহ্ বোনের পাশাপাশি হাঁটছে আর ভাগ্নের কান্ড দেখে হাসতে হাসতে বসে পড়ছে ফ্লোরে।আফিয়া ভাইকেও একটি ধমক দিয়ে বললো,


“ এভাবে হাসছিস কেন? এমনিতেই জ্বালাচ্ছে তার মধ্যে আবার হাসছিস?"


সালাহ্ নিজের পেটের উপর হাত রেখে হাসি থামিয়ে বোনকে বললো,


“ তোমার ছেলে ডাক্তারকে কি বলছে জানো?"


“ আবার কি বলছে?"


আফিয়ার চোখেমুখে বিভ্রান্তি,সে ভাইয়ের দিকে চেয়ে আছে। সালাহ্ বোনের চাহনিতেও আরো হাসিতে ফেটে পড়লো।সে নিজের মতো হাসতেই থাকলো। আফিয়া বিরক্ত হয়ে বললো,


“ দূরে গিয়ে আগে হাসা শেষ করে আয়। তারপর কথা বল।"


“ আরে শোন না,ডাক্তারকে বলছে; তুই আমার নু/নু কেতে দিছিস,আমি তোর নু/ নু কেতে দিবো!দাড়া আমার বাবাকে ডাকি!"


বলেই সালাহ্ আবারও হাসতে থাকলো।আফিয়া হতাশ গলায় বললো,


“ ডাক্তারকে তুই তামারি করছে? ইস্ কি ভাবলো উনি? নিশ্চয়ই বাবা মা ভালো শিক্ষা দেয়নি।"


“ এতেই আশ্চর্য হচ্ছো? তোমার ছেলে সবার নু/নু কাটার ভয় দেখিয়ে এসেছে যারা যারা ঐখানে উপস্থিত ছিলো!"


হাসতে হাসতেই বললো।


“ মামু কেন হাছো? আমাকে বলো!"


বাবার কোলে বসেও সে মামার হাসিতে আবার তার কৌতুহল এবং সে যথারীতি প্রশ্ন করেই বসলো।নাসিফ নিচের সিঁড়িতে পা রেখে বললো,


“ একটু চুপ থাকো না।এত কথা কেউ বলে? অপারেশন রুমে এক সেকেন্ড চুপ ছিলে না। ডাক্তারের সাথে কিরকম ব্যবহার করেছো ! বাসায় গিয়ে আজ তোমার পিঠে যদি গজারির ভারী না দেই!দেখো তুমি!"


বাবার কথায় ভয় কি পাবে! উল্টো হাত দিয়ে মুখে চাপড় মেরে বললো,


“ ডাক্তার নু/নু কেতে দিছে! বকো না কেন তুমি?"


“ আমি কেন বকবো? তুমি‌ই তো আছো সবাইকে বকার জন্য।কথায় কথায় বড়দের গায়ে হাত তুলো। দিনদিনই বেয়াদব হচ্ছো।"


এখন আর কোন কথা নেই। শুধু জল থ‌ইথ‌ই চোখে বাবার দিকে চেয়ে র‌ইলো।যেন কোন সময়ে তা গড়িয়ে পড়তে পারে। নাসিফ সেদিকে ধ্যান না দিয়ে সালাহ্ কে বললো,


“ দরজা খুলে আগে তোমার আপাকে বসতে বলো।"


আফিয়া ভাইয়ের বলার আগেই গিয়ে বসলো।নাসিফ মায়ের কোলে ছেলেকে বসিয়ে সেও বসে পড়লো পাশে। আগের মতোই সবাই বসলো। অতঃপর তাইফ সোনার সুন্নত কাজ আদায় হয়ে গেলো।


বাড়িতে ঢুকেই তাইফের কান্নার রোল পড়ে গেলো।তাকে ধমক দেওয়া হয়েছে,সারা গাড়িতে তাকে কারো সাথে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।ডাক্তার তার নু/নু কে/টে দিয়েছে।সব মিলিয়ে অনেক দুঃখ পুষে ছিলো এত সময় তার মনে।সে রাস্তায় চকোলেট খেতে চেয়েছিল বাবা তাও গাড়ি থামাতে বলেনি। ভীষণ ধমকে ধমকে কথা বলেছে তার সাথে।সব কিছু মিলিয়ে তার কষ্টের কারণ অনেক গুলো। বাড়িতে ঢুকেই তাকে তাল আসনে বসাতেই সে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো। নাসিফ ছেলেকে বসার ঘরের সোফায় বসিয়েই নিজেদের ঘরে চলে গেল।আফিয়া ছেলেকে দুই পা ছড়িয়ে সাবধানে বসালো।লুঙ্গিটা একটু ঢিলে করে হাঁটুর ওপর তুলে দিলো। বারবার সাবধান করে বলছে,


“নড়াচড়া করবা না।তাহলে ব্যথাও পাবে। রক্ত‌ও বের হবে!"


“ নক্ত!"


বলেই আবারও চিৎকার শুরু করল।সাদা ব্যান্ডেজটা একটু একটু লাল হয়ে ভিজে উঠেছে।নাযীর আহমাদ নাতীর মাথায় হাত রেখে আদ্য দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করছে,সালমা ফাওযিয়া নাতীর কান্নায় তাল মিলিয়ে সেও যেন কেঁদে দিবে দিবে এমন ভাব।


“ ডাক্তার পঁচা দাভাই।বাবা বকে নাই। আমার নু/নু কেতে দিছে!"


তাইফকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লো সবাই।আফিয়া গেলো নিজেদের ঘরে।বোরকা খুলে তাকে এখন ছেলেকে রেখে ছেলের বাপকে সামলাতে হবে।


আফিয়া ঘরে ঢোকার ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কিছু ভাঙ্গার শব্দ বাইরে এলো।সবাই নিজেদের কাজ থামিয়ে সেদিকে তাকালো।তাইফের কান্নাও থেমে গিয়েছে।নাইফ বসা থেকে দাঁড়িয়ে পড়লো। সালাহ ভ্রু কুঁচকে বোনের দরজার দিকে দৃষ্টি ফেললো।নাযীর আহমাদ,সালমা ফাওযিয়াও এক‌ইভাবে তাকিয়ে আছে।সালাহর মনে খচখচ করে উঠলো, হসপিটাল থেকেই সে খেয়াল করেছে নাসিফ আফিয়ার সাথে কথা বলছে না। এমনকি আফিয়া কিছু জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দেয়নি।কিছু কি হয়েছে? 

বড় বোন আর বোন জামাইয়ের মাঝে কিছু হলে সে কি‌ইবা করতে পারবে যদি না সমস্যাটা সবার জানা হয়।


নাযীর আহমাদ বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সালমা ফাওযিয়ার দিকে চেয়ে বললো,


“ কি হলো গিয়ে দেখো তো! কি ভাঙ্গলো!


“ হ্যা যাই।"


বলেই তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন।উনার পিছু পিছু গেলো নাইফ,নাবীহা।তাইফ যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই ব্যথা পেলো। ওষুধের প্রকোপ শেষ হয়ে গিয়েছে।এখন তার ব্যথা অনুভব হচ্ছে। চিৎকার করে উঠলো বাচ্চাটা।সালাহ সব চিন্তাকে ঠেলে দিয়ে ভাগ্নের সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো,নাযীর আহমাদ,উনার ভাইপোর পুত্র‌ও তাই হলো।


“ এত বড় একটা সিদ্ধান্ত; মানে কি করে তুমি এভাবে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত একাই নিতে পারো? আমার সিদ্ধান্ত জানা তো দূরের কথা, একবার জানানোর প্রয়োজনও বোধ করলে না! সিরিয়াসলি?"


“ মাথা ঠান্ডা করুন।বাইরে সবাই শুনবে!"


“ আমাকে বাধ্য করো না আফিয়া এই‌ বয়সে এসে তোমার গায়ে হাত তুলতে!

_ আমার ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গছে!


“ তাতো বাচ্চামো ব্যবহারেই দেখিয়ে দিলেন।আমার গায়ে হাত তুলতে না পারার দুঃখে আমার এত পছন্দের টবটাকে ভেঙে ফেললেন।

_ বুক কাপলো না একবার‌ও আপনার?"


আফিয়া কথাগুলো বলে ছলছল চোখে মাটিতে কয়েক খন্ডে পরিণত হ‌ওয়া টবটার খন্ডাংশ গুলো তুলে একত্রে করতে থাকলো।


নাসিফ আফিয়ার কাজে আরো তেতে উঠলো,সে কিছু বলতে যাবে তখনই দরজায় টোকা পড়লো‌।বাইরে থেকে আম্মার গলার স্বর ভেসে আসলো,


“ আফিয়া,কি ভাঙ্গলো?

_ নাসিফ দরজা খোলো? কি হচ্ছে কি? কিসের চিৎকার চেঁচামেচি ঘরের মধ্যে? চার চারটা বাচ্চা ঘরের মধ্যে তাদের সামনে এগুলো কোন ধরনের আচরণ হচ্ছে!"


সালমা ফাওযিয়া দরজার বাইরে থেকেই নিজ পুত্রের গলার কর্কশ শব্দে খানিকটা আন্দাজ করে নিলো ছেলে আর ছেলের ব‌উয়ের মাঝে কোন কিছু নিয়ে মন কষাকষি চলছে।ছেলে ব‌উয়ের মাঝে কথা বলাটাকে উনি শোভনীয় মনে করে না।উনার কাছে মনে হয় এটা একধরনের জ্ঞানের অভাব।যা উচিত নয়।ওদের আলাদা জীবন,আলাদাই রাখা উচিত।স্বামী স্ত্রীর মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি হ‌ওয়ার কোন মানেই হয় না।তাও আবার মা হয়ে। কিন্তু কিছু কিছু সময় অন্তত শাসনের জন্য হলেও কথা বলতে হয়।

নাইফ,নাবীহা ভীতু চোখে বা মায়ের দরজার দিকে চেয়ে আছে।তারা দাদীর পিছে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে দরজা খোলার।


দরজা খুললো আফিয়া।চেহারা স্বাভাবিক করে দরজা খুলে শ্বাশুড়ি আর সন্তানদের দেখে খানিকটা বিব্রত হলো।নাইফ এগিয়ে গিয়ে বললো,


“ আম্মু কি ভেঙ্গেছে?"


বলেই সে দরজা ঠেলে মা'কে পাশ কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো।সালমা ফাওযিয়া কন্ঠে গম্ভীরতা বজায় রেখে বললো,


“ কি হয়েছে? এত শোরগোল কিসের?"


আফিয়া একবার বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসা কঠোর চেহারার মানুষটার দিকে চাইলো অতঃপর বিনয়ের সাথে শ্বাশুড়িকে বললো,


“ কিছু হয়নি আম্মা। এমনিতেই একটু মেজাজ বিগড়ে আছে তার জন্য এমন করছে!

_ ঠিক হয়ে যাবে একটু পর!"


“ ঠিক হলেই ভালো। তোমাদের স্বামী স্ত্রীর সমস্যা যেন ঘরের বাইরে না যায়।বয়স হচ্ছে তোমাদের!

আল্লাহর রহমতে তিন তিনটা বাচ্চার বাবা মা তোমরা। নিজেদের মাঝে যাই হোক তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে অবশ্যই মাথায় রাখবে তোমার ঘরে উঠতি বয়সের তিনটা বাচ্চা আছে।তোমরা যাই করবে তোমাদের বাচ্চার উপরেই তার প্রভাব পড়বে!

_ ওদের শৈশব, কৈশোর যেন তোমাদের সমস্যায় পড়ে নষ্ট না হয়!তাহলে জীবনে কেঁদেও কুলাতে পারবে না।মরার পর তো লোকের গালি খেতেই হবে!"


কথাটা বলেই তিনি চলে গেলেন।নাবীহাও বাবা মায়ের ঘরে ঢুকে ভাঙ্গা টবের দিকে চেয়ে খাটের উপর বসে পা ঝুলিয়ে দুই হাটুর উপর হাত রেখে তার উপর মাথা ভর দিয়ে  নত হয়ে বসে থাকা বাবাকে দেখলো।তার পর আবারও ঘুরে মায়ের দিকে চাইলো।


আফিয়া দরজা থেকে ভেতরে ঢুকে ছেলে মেয়ের উদ্দেশ্য বললো,


“ তোমরা দুই ভাই-বোন ভাইকে ছেড়ে এখানে কি করছো?"


“ যাচ্ছি আম্মু!"


বলেই নাইফ উঠে দাঁড়িয়ে বেরিয়ে যেতেই আবারও ফিরে মায়ের হাত ধরে বললো,


“ তুমি কষ্ট পেয়ো না আম্মু,আমি বড় হয়ে রোজগার করে তোমাকে সেইম এমন একটা টব কিনে দিবো!"


ছেলের কথায় আফিয়া হেসে দিলো।সব দুঃখ কষ্ট এখানেই লাগব হয়ে যায় তার। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো,


“ আল্লাহ তোমাকে অনেক বড় করুক,আম্মু কষ্ট পাচ্ছি না। তুমি চিন্তা করো না।"


বলেই নাসিফের দিকে তাকালো।নাবীহা মায়ের কাছে এগিয়ে এসে বললো,


“ আমি এগুলো তুলে বারান্দায় নিয়ে রাখি। তুমি ছোট টব বানিয়ো আম্মু!"


“ কিছু করতে হবে না।

_ তোমরা নিজেদের কাজে যাও।"


“ ওখে!"


নাবীহা নাইফ বেরিয়ে গেলো।নাসিফ এখনো সেভাবেই বসে আছে।আফিয়া নাসিফের দিকে চেয়ে বিছানায় পড়ে থাকা বোরকাটা হাতে তুলে নিয়ে বললো,


“ কাপড়চোপড় বদলান।

_বাচ্চারা না খেয়ে বসে আছে!"


নাসিফ কথা বললো না।মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো।আফিয়াও আর কথা বাড়ালো না। লুঙ্গি বের করে নাসিফের পাশে রাখলো। এরপর সে নিজের বোরকা নিয়ে রুমের দরজার পিছনে লাগানো হ্যাংগারে ঝুলিয়ে রাখলো। বাথরুমে ঢুকে গোসল করে বের হলো।বাইরে বেরিয়ে দেখলো বিছানায় নাসিফের শার্ট,প্যান্ট পড়ে আছে।সে সেগুলো নিয়ে ময়লা কাপড়ের ঝুড়িতে রাখলো।


নাসিফ বারান্দায় দোলনায় বসে আছে। সে ভীষণ লজ্জা পাচ্ছে বাইরে যেতে।তার দ্বারা এমন আচরণ ভীষণ অশোভনীয় লাগে। কিশোর বয়সী ছেলে মেয়ের উপস্থিতিতে সে এমন কান্ড ঘটিয়ে ফেললো কিভাবে! কিভাবে ছেলের চোখে চোখ রাখবে! মেয়েটাই বা কি‌ ভাবছে বাবাকে নিয়ে! উফ্! তাল মতো মানুষের দ্বারা এমন কান্ড ঘটা একদম‌ই উচিত নয়! সে কিভাবে এতটা ধৈর্য্য হারা,এতটা বদমেজাজি হয়ে উঠলো!একটু তো ধৈর্য্য দরকার!

নাসিফের মনে হচ্ছে তার বয়স বাড়ার সাথে সাথে ভেতরের ভালো গুনাবলীর‌ও বয়স হচ্ছে তাই এতো এতো অবনতি ঘটছে!


“ বাবা আম্মু খেতে ডাকে!"


মেয়ের কন্ঠে মাথা তুললো নাসিফ।নাবীহা তার থেকে হাত কয়েক দূরে বারান্দার দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। আবারও অপরাধ বোধ আর লজ্জায় নাসিফের মাথা ঝুঁকে আসছে।সে মেয়েকে দেখলো অপলক চোখে।কি সুন্দর ডাগর ডাগর আখিদ্বয় মেলেই তার দিকে চেয়ে আছে। কিন্তু নাসিফ পারলো না বেশিক্ষণ দেখতে। চোখ বুজে মাথা নিচু করে ফেললো।নাবীহা বাবার করুন মুখটা দেখে এগিয়ে এলো। এক হাত কাঁধে রেখে,অন্য হাতে কপাল দেখে আদুরে আর মায়াময় গলায় শুধালো,


“ বাবা তোমার শরীর অসুস্থ লাগছে! তোমার কি প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে!"


মেয়ের এমন আদুরে আর স্নেহ ভরা চিন্তায় নাসিফের সব খারাপ লাগা, লজ্জা পাওয়া উবে গেলো।সে মাথা তুলে চোখ মেলে মেয়েকে দেখলো পরান ভরে, অতঃপর বললো,


“ না আম্মা! বাবা ঠিক আছে!

_ চলেন খেতে যাই।নয়তো আপনার আম্মা আবার ক্ষেপে যাবে।"


“ হুম!"


চলমান....!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ