#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৫৯
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
বেলা প্রায় সাড়ে পাঁচটা ছাড়িয়ে গিয়েছে। হসপিটাল থেকে ফিরতে ফিরতেই চারটার বেশি বেজে গিয়েছিল তারপর বাসায় এসে তাইফকে নিয়ে ব্যস্ততা।সবাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হলো এরপর খেতে বসলো।
খাবার টেবিলে পাশাপাশি বসেছে নাসিফ তার ডান পাশে নাইফ তার পাশে তার চাচাতো ভাই।নাসিফের বামে সালাহ্, সামনের চেয়ারে নাযীর আহমাদ। তার ডান পাশে তার একমাত্র নাতনি ও বাম পাশে সালমা ফাওযিয়া।আফিয়া সবাইকে খাবার পরিবেশন করছে।তাইফকে খাইয়ে দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে আফিয়া।তাই তো সবাই শান্তি ভাবে খেতে পারছে।
আফিয়ার দিকে নাসিফ তাকালেও কথা বলছে না। সালাহ্ বোন আর বোন জামাইয়ের নিরব দ্বন্দ্ব অনুধাবন করতে পারছে।তবে কারণ অনুধাবন করা তার পক্ষে আদৌও সম্ভব নয়। চুপচাপ খাচ্ছিলো সবাই,সেই নিরবতাকে বিচ্ছিন্ন করে প্রথম শব্দ বের করলো নাসিফই,
“ সালাহ্ খাওয়া শেষে বাইরের বারান্দায় বসবে।কথা আছে আমার!"
সালাহ্ কথাটা শুনে এক নজর বড় বোনকে দেখলো অতঃপর দুলাভাইয়ের দিকে চেয়ে সম্মতি সূচক মাথা নাড়িয়ে ছোট্ট করে বললো,
“ আচ্ছা!"
আফিয়া নাসিফের দিকে চেয়ে চেয়ে ভাবছে কি এমন বলবে? তাদের কথা বলবে! আল্লাহ এই লোক কি পাগল হয়ে গিয়েছে নাকি; এখন এই সব বিষয়েও ছোট ভাইয়ের সাথে আলোচনা করবে!
এমন কিছু হলো না। সালাহ্ বসে আছে নাসিফের সামনে।খাবার খাওয়ার পর সে কিছু সময় নিজেদের ঘরে বিশ্রাম বললে ভুল হবে।ছোট ছেলের পাশেই বসে ছিলো।দুই পা দুই দিকে ছড়িয়ে ঘুমাচ্ছে ছেলেটা।হয়তো ব্যথা করছে।যদিও আফিয়া খাবারের সাথেই ওষুধ মিশিয়ে খাইয়েছে।নয়তো ওষুধ খাওয়ানো সহজ নয় এই ছেলেকে। যতক্ষণ সজাগ ছিলো একই কথা বলে গিয়েছে,
“ বাবা পঁচা ডাত্তার'কে বকা দেয়নি।নু/নু কেতে দিয়েছে।আমাকে বকা দিয়েছে।চকোলেট খেতে দেয়নি।"
কতশত অভিযোগ এই ছেলের তার বিরুদ্ধে। অথচ সারাদিন পরে ঘরে এলে সবার আগে তার দর্শনই নাসিফ পায়।দরজা খোলার জন্য বড় ভাই বোনদের সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে ছাড়ে।তাকে ছাড়া খায় না।তার কোল ছাড়া ঘুমাতে চায় না।গোসল করতে গেলেও সে বাবার সাথে করবে।
বাকী দুজন মা ভক্ত হয়েছে বলে নাসিফ অভিযোগ করে অথচ এই অবহেলায় পাওয়া সন্তানটা তার অসম্ভব ভক্ত হয়ে যাচ্ছে।
অবহেলিত! কথাটা মনে পড়তেই নাসিফের অন্তর কেঁপে উঠলো।তখন নাসিফ এই বাচ্চাটার দুনিয়াতে না আসার জন্য কত কি করেছে। আফিয়ার সাথে কত জঘন্য আচরণ করেছিলো।পুরোটা গর্ভকালীন সময়ে যখন তাকে সবচেয়ে বেশি আফিয়ার প্রয়োজন ছিলো তখন সে পাশে থাকা তো দূরের কথা দুর দুরান্তেও ছিলো না। বাচ্চাটাকে দুনিয়ায় আনতে আফিয়া কত কষ্ট সহ্য করেছে।একা একাই জীবন নিয়ে যুদ্ধ করেছিলো।
আচ্ছা আফিয়া যদি তার কথায় রাজী হয়ে সেদিন গর্ভপাত করে ফেলতো! তবে! কোথায় পেতো এই মানিক সে! এই যে সারাদিন এত এত পাকা পাকা কথা বলে মাথা এলোমেলো করে দেয়,শত-শত আবদারের ঝুলি খুলে বসে। সারাদিনের পরিশ্রমের পর রাতের বিশ্রামের সময় দৌড়ে এসে বুকের উপর বসে এর ওর নামে নালিশ করে! অল্প একটু আদরেই গলে গিয়ে বাবা বাবা ডাকে পাগল বানিয়ে তোলে।
এত মধুর করে বাবা ডাকে,একটু বকুনিতেই ঠোঁট উল্টে কাঁদার অভিনয় করে।খেতে বসলেও তার আবদারের অন্ত নেই। কোথায় পেতো সে এগুলো! কি ভুলটাই না সে করেতে যাচ্ছিলো সেদিন। ইস্,আফিয়া রাজী হয়নি বলেই।নয়তো! আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে এই সুখটা দিতে চেয়েছিলো তাই বোধহয় সেদিন বাধ্য স্ত্রীকেও অবাধ্য করে তুলেছিলো। আল্লাহর পরিকল্পনা কত মহান।অথচ আমরা কত কিছু ভেবে কত কত ভুল করে বসি।তখন দোষ দেই কিসমতের অথচ দোষ আমাদের কর্মের,খামতি আমাদের আকীদায়। তাকদির তো কর্ম দ্বারা প্রকাশ হবে,তাইতো আকীদায় জোর থাকতে হবে।
মরনের সাথে লড়াই করে একজন নারীই পারে আরেকজন মানুষকে জন্ম দিতে। এটা পুরুষদের কম্ম নয়। অথচ তারা সবচেয়ে শক্তিমান কঠোর জীব, আল্লাহর তৈরি মনুষ্যকুলের মাঝে পুরুষ হিসেবে তাদেরকে পরিচয় করানো হয়েছে অত্যাধিক ক্ষমতা আর শক্তির অধিকারী বলে।তাও তারা এই ব্যাপারে নাজুক।তারা অল্পতেই দমে যায়।ভয়ে, হারানোর ভয়ে।যেমনি দমে গিয়েছিল নাসিফ,এখনও দমে যাচ্ছে। সঙ্গিনীর বিরহ ভীষন পীড়া দেয়।একবার হারিয়ে অনেকটা সময় একাকী জীবনে ছিলো।তখন অনুভব করেছে পলকে পলকে, একজন পুরুষের জীবনে কতটা গুরুত্ব একজন হালাল এবং সৎ সঙ্গিনীর।
তাই তো নাসিফ এবারও ভয় পাচ্ছে পাছে পাওয়ার চেয়ে হারানোর যন্ত্রনা বেশি না হয় কিন্তু তা যদি ঐ বোকা নারী বুঝতো!
বাইরের বারান্দায় বসে আছে সালাহ্ এবং তার দুই ভাগ্নে( নাইফের কাজিন)।নাইফ মামুর সাথে তার পড়াশোনার চাপ নিয়ে কথা বলছে। সালাহ্ও ভাগ্নের কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা বুঝে নিচ্ছে।মনে মনে ভাবলো এখন থেকেই সে প্রতিদিন অন্তত দুই ঘণ্টা করে ভাগ্নেকে পড়াবে।যদিও এতে তার একটা ভালো সম্মানীর টিউশনি ছাড়তে হবে, তাও!ভাগ্নেটার তার বিষয় নিয়ে পড়ার আগ্রহ বেশি।এত মনোযোগ দিয়ে এই বয়সের বাচ্চারা খুব কমই পড়ে। সারাক্ষণ বই নিয়েই বাচ্চাটার কাটে। উদ্দেশ্য বুয়েট। যেখানে এতটুকু মানুষের মাঝে এত প্রচেষ্টা সেখানে সে মামা হয়ে সামান্য কয়টা টাকার মায়া ত্যাগ করে ভাগ্নের পিছনে সময় দিতে পারবে না?
তাছাড়াও তার নিজেরই গর্ব লাগবে যখন তার পরবর্তী প্রজন্মের হয়ে তার ভাগ্নে তারই ক্যাম্পাস দাপিয়ে বেড়াবে।এটা ঠিক কতটা গর্বের আর ভালো লাগার তা শুধু তারাই বুঝে যারা নিজেদের অবস্থানে নিজেদের ঘরের বাচ্চাদেরকেই দেখে।
আর এমন বোন, যে নিজের জীবনের সব শখ আহ্লাদ বিনাশ করে তাদেরকে নিয়েই ব্যস্ত থেকেছে, বিলিয়ে দিয়েছে নিজের সর্বস্ব।তার বাচ্চাদের জন্য কিছু করতে না পারলে আজীবন তো নিজের সাথেই নিজে চোখ মেলাতে পারবে না। দুলাভাইয়ের ঋণও তো কম নয় তার প্রতি। সবকিছু বিবেচনা করলে সালাহ্ আজীবনের জন্য কৃতজ্ঞ ঋণী এই বোন আর বোন জামাইয়ের প্রতি।
“ মামু; আমার পিথাগোরাসের উপপাদ্যটা বুঝতে বেশ ঝামেলা হচ্ছে। মুখস্থ করতে চাইছি হচ্ছেই না।"
“ তুমি সুত্র না বুঝে পড়লে কোনোভাবেই হবে না বাবা। ত্রিকোণমিতি,পরিমিতি কিংবা বীজ গনিত যাই বলো,সবগুলোই সূত্রের উপর নির্ভরশীল।So, You have to understood the point of all patterns law's, understand what I mean?"
“ yeah!"
বলেই নাইফ একটু ছোট শ্বাস ফেললো। যার মধ্যে
ছিলো হতাশার ছাপ। সালাহ্ ভাগ্নের কাঁধে হালকা চাপড় মেরে বললো,
“ এত তাড়াতাড়ি হোপ লস্ট করলে চলবে বাপ! মাত্র তো জার্ণি শুরু! এখনো পথ অনেক বাকী।অনেক দূর হাঁটতে হবে।সো হোপ হারানো চলবে না। ইচ্ছা অটুট, প্রচেষ্টা সচল এবং পরিশ্রম অক্লান্ত That's the keys of success.."
“ I will do it In shah allah."
“ In shah allah."
“ কি নিয়ে পরিকল্পনা হচ্ছে মামা ভাগ্নের মাঝে?"
“ তেমন কিছু না ভাইয়া।এই পড়াশোনা নিয়ে একটু আধটু!"
“ ওহ আচ্ছা গুড!
_ তো কেমন দেখছো তোমার ভাগ্নের পড়াশোনার দৌড়!"
“ আলহামদুলিল্লাহ, এগুচ্ছে তবে এক্সপেক্টেশন কম রাখেন। বাচ্চাদের প্রতি চাহিদা যত কম চাপাবেন ততই ওদের জন্য মঙ্গল!
_ দোয়া করেন যেন ভালো মতো জায়গায় টিকে যায়।টিকতে পারলে ইনশাআল্লাহ সফলতা একদিন আসবেই!"
“ ইনশাআল্লাহ,হ্যা আমাদের কোন চাহিদা নেই তাদের উপর। চাহিদা তো তোমার ভাগ্নের নিজেরই।সেই তো বুয়েট নিয়ে অস্থির হয়ে উঠেছে।তাকে ওখানেই পড়তে হবে!
__ আমাদের আর কি? আমি তো কোনভাবে যদি মাস্টার্সও সম্পন্ন করে তাহলেই ব্যাবসায় জড়িয়ে নিবো বলে ভাবছিলাম কিন্তু তার ইচ্ছাতো মামার মতো সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং যদিও তোমার আমিরা আপার ইচ্ছা ছিলো আর্মি কিন্তু সে তো তাও করবে না।"
সালাহ্ এগুলো সবই জানে।তাও দুলাভাইয়ের থেকে শুনে ভাগ্নের দিকে চেয়ে প্রশ্ন করলো,
“ আচ্ছা বলো তো তোমার কেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই পড়তে হবে? এই ফিল্ডে কি এমন স্পেশাল পেয়েছো?"
“ আমার ওদের কাজের ফিল্ড পছন্দ মামু! তুমি তো জানো সবই। আমি ওদের কাজের প্যাটার্ন,ফ্রিডম-নেস,স্ট্যাটাজি সবই পছন্দ করি।বিশেষত্ব ওরা গভার্নমেন্ট ফিল্ডে স্কোপ পেলে দেশের চৌষট্টি জেলায়ই ঘোরার সুযোগ পায়; আমিও ঐ স্কোপটা নিতে চাই মামু!"
“ তুমি তো তোমার মা'কে ছেড়ে একটা রাতই আমাদের বাড়িতে গিয়ে থাকো না। তাহলে? তখন মা'কে ছেড়ে কিভাবে থাকবে?"
মামার কথায় একটু চিন্তিত হয়ে পড়লো নাইফ,তার চিন্তাকে আরও চাপ দিয়ে ধরলো বাবার কথা,
“ তোমার মা নিজের কোল ছাড়া করবে না দেখে আর্মিতে দিলো না,তুমিও গেলে না।তো? চৌষট্টি জেলা ঘুরবে,সেটা কিভাবে সম্ভব?"
নাসিফ ছেলের দিকে চেয়ে আছে।সে হেলান দিয়ে বসে,এক পায়ের উপর আরেকপা তুলে সেই পায়ের উপর হাতের কনুই ঠেকিয়ে নিজের এক আঙ্গুল ঠোঁটের উপর চেপে রেখেছে।নাসিফ বাবার কথার প্রেক্ষিতে তীব্র আত্নবিশ্বাস নিয়ে বললো,
“ আশ্চর্য আমি একা যাবো নাকি? আমার সাথে তো আম্মুও যাবে!
_ আমি যেখানেই যাবো সেখানেই আম্মু থাকবে। আমার সাথেই থাকবে।"
“তোমার সাথে তোমার আম্মুকে নিয়ে গেলে তোমার ছোট ভাই_বোন'কে কে দেখবে? আমার খেয়াল কে রাখবে?"
এই কথা তো নাইফের কৈশোর মাথায় আসেনি।সে শুধু ভেবেছে তার স্বপ্ন আর তার মায়ের সঙ্গ!তাই চুপ হয়ে গেলো।মাথা নুইয়ে পায়ের বুড়ো আঙুলের উপর রাখলো নজর।ঐ আঙ্গুল দিয়ে পায়ের নিচে থাকা সবুজ খয়েরি কার্পেটটাকে খুচাতে থাকলো।
নাসিফ ছেলের দিক থেকে নজর সরিয়ে শ্যালকের দিকে ফেললো, এবং মুচকি হাসলো। সালাহ্ ভাগ্নের কাঁধে হাত রেখে সাহস দেওয়ার জন্য বললো,
“ আরে দূর বাবা তো তোমার আই কিউ চেইক করছিলো।এত আপসেট হওয়ার কিছু নেই।যখন হবে তখন দেখা যাবে। তাছাড়াও ঐ সময় অবধি আমরা সবাই বেঁচে থাকি তো।"
নাইফ বাবার দিকে উদাস চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ আমি আই কিউতে ফেইল করেছি?"
ছেলেটার মন খারাপ হয়ে গিয়েছে বুঝতেই নাসিফের খারাপ লাগলো।সে শুধু দেখতে চেয়েছিলো ছেলে তার স্বপ্নের উড়ান কতদূর ভাবছে? তাই তো এমন প্রশ্ন করেছিলো
কিন্তু উল্টো বাচ্চাটার মন খারাপ হয়ে গেল।
নাসিফ ছেলের মন ভালো করতে বললো,
“ না।আমি যা জানতে চেয়েছি তাতে তুমি যথার্থ উত্তর দিয়েছো।
_সো তুমি ফেইল করোনি!"
“ সত্যি?"
“ হুম!"
“ থ্যাংকু বাবা!"
“ আল্লাহ তোমাকে সব সময় বিজয়ী করুক।বাবা মায়ের দোয়া আর সহযোগিতা সবসময় তোমাকে ঘিরে থাকবে! যা হতে চাও,হও। যতদূর যেতে চাও,যাও।কোন বাঁধা নেই। কথা শুধু একটাই মানুষ হও, মানুষের তরে নিজেকে বিলাও। কোনদিন যেন কোন মানুষ বলতে না পারে আমরা তোমাদের মানুষ করতে পারিনি। কোনদিন যেন কেউ তোমাদের অগোচরেও তোমাদের নিয়ে কটু কথা বলার সুযোগ না পায়।এতটাই উদার আর মানবিক হও যতটা হলে তোমাকে দেখলেই মানুষের অন্তর শীতল হয়ে যায় ভালো লাগায়।আমি আর তোর আম্মু সবসময় শুধু তোমাদের ভালো থাকাটাই চাই।বুঝেছো?"
“ হুম!"
“ I love you Baba, Thank you, Thank you so much!"
নাইফ নিজের বাবার গলা জড়িয়ে কথাটা বললো,শেষে খুবই গভীরভাবে বাবার গালে একটা চুমু দিলো।
উপস্থিত দু'জনেই সেই সুন্দর মুহূর্তটা দেখলো ।
নাসিফ ছেলের পিঠে হালকা চাপড় মেরে আদর করে দিলো। অতঃপর বললো,
“ এখন নিজের রুমে যাও।বাবার মামার সাথে কাজের কথা আছে!"
“ ওখে!"
“ মামু আমি আসি!
_ ভাইয়া আসো!"
বলেই নাইফ চলে গেলো। নাসিফ ছেলের আর সালাহ্ ভাগ্নের যাওয়ার পথে চেয়ে হালকা হাসি দিলো। অতঃপর সালাহর দিকে ঘুরে বসলো নাসিফ এবং বললো,
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ