#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৬০
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
“পড়াশোনার কি অবস্থা?"
“ আলহামদুলিল্লাহ।"
“ কেমন চলছে বাকী সব? পড়াশোনার জন্য সময় হচ্ছে নাকি কেবল টিউশনি আর কন্টেন্ট নিয়ে পড়ে থাকা হয়?"
“ আলহামদুলিল্লাহ সবই চলছে একসাথে। চেষ্টা করি সব কিছুই গুছিয়ে চলার।"
“বললাম স্কলারশীপটা যখন পেয়েছো চলে যাও,
গেলে না।স্কলারশীপ কি বারবার আসে?
গার্ডিয়ানের ফাইনান্সিয়াল রেকর্ড দরকার তা তো আমি ছিলামই!"
“ উহুম,হ্যান্ডেড পার্সেন্ট না হলে যাবো না।আমি হান্ডেড পার্সেন্টই পাবো ইনশাআল্লাহ। তাছাড়াও আপনি তো জানেনই আমি মাস্টার্স করেই যাওয়ার চেষ্টা করবো।ডাবল মাস্টার্সের একটি হেব্বি রেকর্ড করতে চাই!"
“ দ্যাটস গুড।
_যেকোন বিষয়ে আছি আমি পাশে।
“ থ্যাংক ইয়্যু!"
“ আচ্ছা এখন যেটা বলার জন্য অপেক্ষা করিয়েছিলাম তা হচ্ছে,মেয়েটা কে।
_উহুম মিথ্যা বলার দরকার নাই। শুধু মেয়ের পরিচয় জানতে চেয়েছি!"
মেয়েটা কে? প্রশ্নটা শুনেই সালাহ্ নাসিফের দিকে তাকায়।পরের কথা তাকিয়েই শুনলো।নাসিফ শালার চোখে রেখে বললো শেষ বাক্যটা। সালাহ্ বুঝতে চেষ্টা করছে ঠিক কোন মেয়ের কথা তার দুলাভাই জিজ্ঞেস করছে,নাসিফ আবারও প্রশ্ন করলো,
“ কি হলো বলো!"
“ কোন মেয়েটা ভাইয়া?"
“ কয়টা মেয়েকে তুমি হাত ধরে রাস্তা পার করিয়ে দাও?"
“ মানে?
__ আমি ঠিক বুঝতে পারছি না!"
“বসুন্ধরার সামনে খুব যতনে যাকে রাস্তা পার করিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো তার পরিচয় জানতে চাইছিলাম!"
“ বসুন্ধরার সামনে! কবে ভাইয়া?
“ যেদিন আমি ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম আপনি এখন ঠিক কোথায়? আর আপনি বললেন আপনি বন্ধুদের সাথে আছেন, একটু কাজে ব্যস্ত আছেন!"
কথাটা শুনে সালাহ্ একটু বিভ্রান্ত হলো।নাসিফ কিভাবে! সে বললো,
“ ইয়ে মানে এমন কিছু না যেমন আপনি ভাবছেন?"
“ আমি কেমন ভাবছি! আমি তো জাস্ট জানতে চাইছিলাম মেয়েটা কে? কিন্তু তোমার হাবভাবে তো মনে হচ্ছে যেকোন সময় আমি ফুফা ডাক শুনতে পারি!"
নাসিফের এই কথায় সালাহর কাঁশি উঠে গেলো।নাসিফ সালাহর মাথায় হালকা চাপড় মেরে বললো,
“ রিল্যাক্স; এত নার্ভাস হওয়ার কি আছে! ঐটা তো একদিন হবোই!
_ আজ কিংবা কাল!"
“ ইয়ে মানে ভাইয়া আসলে.."
“ আসলে নকলে বাদ দাও।সত্য এবং স্পষ্ট কথা বলো!
_কত দিন ধরে চলছে এসব? মেয়েটা কি করছে এখন? তোমার ডিপার্টমেন্টের? জুনিয়র?"
এক নাগাড়ে এতগুলো প্রশ্ন করে থামলো নাসিফ। সালাহ্ এখনও মাথা নত করে চুপ হয়ে আছে। নিরবতাকে সত্যতার আভাস ধরে নিলো নাসিফ। মুচকি হেসে বললো,
“ তোমার আপাকে বলবো?
_ প্রয়োজন হলে মেয়ের পরিবারের সাথে কথা বলে একটা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখি।"
“ না!"
হালকা মৃদু চিৎকার করে চেঁচিয়ে উঠলো সালাহ।নাসিফ শ্যালকের এহেন প্রতিক্রিয়া দেখে খানিকটা নড়েবড়ে গেলো নিজের ভাবনা থেকে।সোজা হয়ে বসে সোজাসুজি প্রশ্ন করলো,
“ কেন?"
“ না মানে ভাইয়া আসলে!"
“ সেই কখন থেকেই আসলে মানে বলছো, কিন্তু সত্যিটা বলছো! কেন?"
“ আসলে ভাইয়া আপনি যতটা ভাবছেন ততটা না!
_ আমরা জাস্ট!"
হাতের ইশারায় থামতে নির্দেশ করলো নাসিফ এবং নিজেই বললো,
“ শোন তোমার বয়স পেরিয়ে এসেছি।কোন সময়ে কোন অনুভূতি জাগে তা খুব ভালো করেই জানি।
তুমি তো এখন মাত্র.. আর আমি! তোমার আমিরা আপা আমার জীবনে এসেছিল ইন্টারে।সেখান থেকে দুই বাচ্চার মা বানাবো অবধি একটি সম্পর্ক বয়ে আনতে নিশ্চয়ই আমাদের কম কাঠখড় পুড়াতে হয়নি!
_ আমরা যত যাই করেছি আমাদের লক্ষ্য ছিলো স্থির।এই সম্পর্কের চুড়ান্ত ফলাফল।আমি স্থির ছিলাম বিয়ে করলে আমি এই মেয়েকেই করবো,আর তোমার আমিরা আপাও তেমনি।বিয়ে কারো কাছে বসলে সে আমিই হবো।এই যে আমাদের দৃঢ় মনোবল তা কখনোই কোন ঝড়ে ভাঙ্গতে পারেনি।
যখন দুই পরিবারের সবাই জানলো তখন অনেক ঝামেলার মুখোমুখি হই, স্বাভাবিক হবেই।তবে তার যথার্থ কারণ ছিলো না কিন্তু হয়েছিলো।তার অন্যতম কারণ হিসেবে তখন ধরা হয়েছিল তোমার আমিরা আপার বাবা মা।তারা তাদের বড় মেয়ের মতোই ছোট মেয়েকেও কোন ইউরোপীয়ানের গলায় ঝুলিয়ে পুরোপুরি ইউরোপ সেটেল হবেন এখন যেমন আছেন। কিন্তু আমি তো আমার বাবা মায়ের একমাত্র পুত্র সন্তান, ছোট একটি মাত্র বোনের ভরসার কেন্দ্রস্থল সুতরাং আমি তো তাদের রেখে কোনভাবেই বিদেশে সেটেল হবো না।
এটা তো কোনদিন কল্পনায়ও ভাবি নাই। সুতরাং এই সম্পর্ক সম্ভব নয়।
_ আমরাও ছিলাম জেদী,কোন বাঁধাই আমাদের দমিয়ে রাখতে পারলো না।আমরা বিয়েও করলাম, বাইরেও গেলাম,স্ট্যাডিও কমপ্লিট করলাম।যা করেছি একসাথে থেকেই করেছি।"
কথাগুলো বলতে বলতেই নাসিফের মুখটা কেমন গম্ভীর হয়ে উঠলো।উদাস নয়নে কিছু একটা খুঁজে বেড়াতে থাকলো মনে হয়। সালাহ্ নাসিফের হঠাৎ মেঘে ডাকা মুখের দিকে চেয়ে বুঝতে পারলো নাসিফের মনের ঝড়টা।
এমন পরিস্থিতিতে কি করা উচিত বুঝতে পারছে না ও,তাও জিজ্ঞেস করলো,
“ আমিরা আপাকে অনেক মিস করেন এখনো?"
“ মিস তো তখন করবো যখন আমি তাকে ভুলতে পারবো।
তাছাড়াও আমার নাইফ নাবীহার মুখের দিকে তাকালেই ওদের মায়ের চেহারাটা ভেসে উঠে।তাহলে কিভাবে আমি তাকে ভুলবো বলো? যাকেই ভুলতেই পারবো না ,আমি তাও চাইও না,তাকে মিস কেন করবো!"
“ আজ আমিরা আপা থাকলে সময়গুলো অন্যরকম হতো,তাই না!"
“ উমম তা জানিনা।তবে এখন যে খারাপ আছি তা'তো নয়।
সত্যি বলতে মানুষ দুইবার প্রেমে পড়ে কি-না আমি জানি না, কিন্তু আমি পড়েছি।আমি শতবার তোমার আপার প্রেমে পড়েছি,রোজ পড়ছি।
এই মানুষটা নিজের সবটুকু দিয়ে আমাকে আগলে রেখেছে, আমার মা হারা বাচ্চা দুটোকে আগলে রাখছে,আমি নিজের জীবনটা দিয়েও তোমার আপার ঋণ শোধ করতে পারবো না কোনদিন।সত্যি বলতে করতেও চাই না আমি ঋণী হয়েই তোমার আপাকে দায়বদ্ধ করে রাখবো আমার কাছে বারবার আসতে।"
“ আপা ওদের ভালোবাসে, ওদেরকে কখনোই তাইফের থেকে আলাদা করে দেখেই না।তার কাছে তাইফের চেয়েও ওদের গুরুত্ব বেশি।"
“ আমি জানি।
কিন্তু আমি এটা চাই না।কারণ নাইফ নাবীহা যেমন
আমার সন্তান,তেমনি আমার তাইফও আমার। আমার কাছূ সবই এক।"
“ হুম।তবে মায়েরা বড় বাচ্চাদের প্রতি একটু বেশিই দূর্বল থাকে সেটা হোক নিজের পেটের কিংবা অন্যের!"
“ হয়তো।
_ যাই হোক এতগুলো কথা বললাম কারণ আমি যতটা বুঝেছি তুমি মেয়েটাকে নিয়ে সিরিয়াস কিন্তু আমার কথা হচ্ছে মেয়েটাও কি ততটাই সিরিয়াস?"
“ আমি আসলে ভাইয়া, এমন করে ভাবিনি। জাস্ট ভালো লাগায় আছি। জানিনা,আর ওদের ফিনান্সিয়াল পজিশন ঠু হাই!তাই সাহস পাচ্ছি না।"
“ প্রপোজ কে করেছিলো? মেয়েটা?
_ এনি ওয়ে নাম কি?"
“ দোয়া।"
“ দোয়া!
মাশাআল্লাহ নামটা তো সুন্দর, অবশ্য দেখতেও সুন্দরী বোধহয়?"
“আপনি ওর মুখ দেখেন নি?"
“ না, সম্ভব হয়নি।"
“ আপনি ঠিক কোথায় দেখেছিলেন আমাদের?"
আপনি মেইন রোড পার হওয়া চেষ্টা করছিলেন আমি তখন জ্যামে আটকা পড়ে একটু সময়ের জন্য গাড়ী থেকে বের হয়েছিলাম।জ্যাম ছাড়ার পর গাড়ীতে উঠতেই আপনাদের চোখে পড়লো।"
“ ওহ!"
বলেই সালাহ্ আবারও মাথা নিচু করে নিলো।এখন তার ভীষণ লজ্জা লাগছে।বড় দুলাভাইয়ের সামনে ওভাবে হা ধরা অবস্থায় ইস্!
“ শোন, তুমি বরাবরই ক্যারিয়ার নিয়ে সিরিয়াস তাই তোমাকে কখনো কিছু বোঝানোর প্রয়োজন আমরা কেউ দেখিনি। আমি জানি তুমি এখনো সিরিয়াস তাই বলছি,যদি সম্পর্কটাকে সিরিয়াসলি না নিয়ে থাকো,টাইম পাস করবে ভেবে থাকো তাহলে বলবো এখনই পিছু হটো। সুন্দর ঝকঝকে ক্যারিয়ারে অযথা একটা দাগ লাগিয়ো না।
আর যদি সিরিয়াস হও তবে বলো আমরা যেকোন দিন গিয়ে মেয়ের পরিবারের সাথে আলাপ করে বিষয়টি এগিয়ে রাখি।এতে অন্তত তোমরা সামাজিক এবং ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ কোন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে পারবে।"
“ এমন কিছু হবে না ভাইয়া। নিশ্চিত থাকেন।আমার জন্য আপনাদের কারো হেড নত হবে না ইনশাআল্লাহ!"
“ কথা বললে সমস্যা কোথায়?"
“ সমস্যা নাই। কিন্তু?"
“ কিন্তু কি?"
“ ও এখন মাত্র সেকেন্ড ইয়ারে আছে,আমি নিজেও ছাত্র অবস্থায় আছি।ফিক্সড স্যালারীর কোন জব করছি না,টিউশনি দিয়ে নিজের পেট চললেও ওর খরচ তো চলবে না। তাছাড়াও ও যেই পরিবারের সন্তান তারা নিশ্চয়ই আমার মতো একটা বেকারের হাতে একমাত্র মেয়েকে তুলে দিবে না।"
“ তোমার ব্রাইট ফিউচার অপেক্ষা করছে। আল্লাহ ভরসা। ইনশাল্লাহ তুমি দেশের টপ ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে অন্যতম হবে।এটাই তাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট।এমন ছেলেকে হাত ছাড়া করবে কোন বোকাই।
আমি তো নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি উনারা এই প্রস্তাব হামলে পড়ে নিবে।
আর বলছো তুমি এখন বেকার? এটা কিভাবে বললে?"
“ ছাত্র অবস্থায় তুমি ভালো দুটো টিউশনি করাচ্ছো, নিজের একটা কোচিং সেন্টার আছে, সেখানেও তোমার হ্যান্ডসাম এমাউন্টের ইনকাম হচ্ছে, কন্টেন্ট তৈরির মাধ্যমে অনলাইনেও ভালো রোজগার করছো তাহলে? উনারা কি অন্ধ? উনাদের মেয়ে পালতে যতটা লাগবে তা এই ছেলে এখনই আয় করে তা খুব ভালো করেই উনারা আন্দাজ করে নিবে এবং নাচতে নাচতে মেয়েকে হাতে তুলে দিবে!"
“ কিন্তু ভাইয়া?"
“শোন আগে নিজের মনকে শুধাও সে কতটা সঠিক
তারপর আমাদের জানাও।এহেন সম্পর্কে সময় না দিয়ে বিয়ে করে বউকে সময় দাও। মাস্টার্স অবস্থায় অনেকেই বিয়ে করে। আমিও করেছি। আলহামদুলিল্লাহ দু সন্তানের জনকও তাড়াতাড়ি হয়েছি। সুতরাং এটা কোন ব্যাপারই না।
_আমি তোমার উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো এরপর সিদ্ধান্ত নিয়ে তোমার আপাদেরকে, আম্মুকে নিয়ে একদিন যাবো শ্যালকের গিন্নি তুলে আনতে।আমার শ্বাশুড়ি এই বয়সেও ঘরের কাজ করে,বিয়ে করে ঘরে বউ এনে মা'কে ছুটি দাও।বয়স এখন সেবা যত্নে কাটানোর।তোমাকে রান্না করে খাওয়ানোর
না।
সালাহ্ এই কথার পিঠে আর কথা বললো না।নাসিফ উঠে গেলো মাগরিবের আজান পড়ছে,সে চেয়ার ছাড়তে ছাড়তে বললো,
“ রাতের খাবার না খেয়ে যাবে না।"
“ জ্বী!"
দুলাভাইয়ের বাধ্য শ্যালক সালাহ্ নিচু শব্দ জ্বী বললো।নাসিফ চলে গেলো ভেতরে ওযু করতে।
“ ব্যতা করে?
উহুহুমমম! এ্যাঁ এ্যাঁ এ্যাঁ।
বাবা কুতায়; ব্যতা করে!"
নিজের পক্ষীর উপর হাত রেখে উদাম তাইফ এভাবেই কাঁদছে।আফিয়া ছেলেকে দেখছে অসহায় চোখে।কি করবে! ওষুধ খাইয়ে দিয়েছে তারপরও ব্যথা করছে কেন? লুঙ্গিটাও খুলে ফেলছে। জ্বলছে হয়তো।আফিয়া এগিয়ে গিয়ে বায়োডিন পাউডার দিয়ে দিলো কাঁচা ঘায়ের উপর।তাইফ নিজের নু/নুর দিকে চেয়ে বললো,
“ পাউদার দিছো কেন? এতা কি ঘামচি?"
কান্না থামিয়ে সে মা'কে শুধাচ্ছে কেন মা তার ঐখানে পাইডার দিচ্ছে,এটা কি ঘামাচি? ঘামাচি হলে মানুষ পাইডার দেয়। তার তো নু/নু কেটে দিয়েছে।আফিয়ার মনে হচ্ছে এই ছেলেটা মোটেই তার না।এত বদ আর পাকা তার ছেলে কিভাবে হয়?
“ কে কাকে পাইডার দিচ্ছে।আর তাইফ সাহেব কাঁদছে কেন এখন?"
নাসিফ ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো কথাগুলো!
আফিয়া নাসিফকে দেখে উঠে দাঁড়ালো।আজান পড়েছে। নাসিফ এখন মসজিদে যাবে তার পাজামা পাঞ্জাবী দিতে হবে।নাসিফ ছেলের পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে আদর দিলো। শুয়ে থাকা তাইফ বাবাকে দেখে নিজের গলার আওয়াজ আরও বাড়িয়ে দিলো। চিৎকার করে বললো,
“ পঁচা ডাত্তার নু/নু কেতে দিছে।
ব্যতা করে! বাবা ব্যতা করে!"
নাসিফ ছেলের দিকে একটু এগিয়ে হালকা উবু হয়ে শুয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে আদর করে বললো,
“ এভাবে বলতে নেই বাবা।ডাক্তার আংকেল বলতে হয়।আর ডাক্তার পঁচা না।
_ ডাক্তার তো তোমাকে বড় হতে হেল্প করেছে!"
“ বড় হবো?"
“ হুম, তুমি বাবার মতো বড় হবে না?"
“ হুম, অনেক বড়। এত্ত বড়!"
নিজের ছোট্ট দু হাত দুদিকে প্রসারিত করে দেখালো।নাসিফ ছেলের হাতের দিকে চেয়ে হেসে দিলো।বললো,
“ আল্লাহ তোমাকে এর চেয়েও অনেক বড় করবে ইনশাআল্লাহ। আর তাই তো ডাক্তার আংকেল তোমাকে হেল্প করেছে নু/নু কেটে দিয়ে।"
“ নু/নু কাতলে বড় হয়?"
“ হুম হয়!"
“ তুমিও কাতছো?"
নাসিফ পুরো আহাম্মক হয়ে গেলো। ছেলেকে সে কি বুঝাতে গিয়েছে আর ছেলে তার কি প্রশ্ন করছে।তার আহাম্মকি মুখটাকে লজ্জায় রাঙিয়ে দিলো আফিয়ার অট্টহাসি।
আফিয়া ড্রয়ার থেকে পাঞ্জাবি বের করছিলো। ছেলের প্রশ্ন শুনে হাসতে হাসতে ফ্লোরে বসে পড়লো।
ছেলের দিক থেকে চোখ সরিয়ে ছেলের মায়ের দিকে ফেললো, কটমট করে চেয়ে বললো,
“ খুব হাসি আসছে তাই না আমাকে অস্বস্তিতে পড়তে দেখে !"
“ বাবা আমি রেডি তুমি যাবে না?"
আফিয়ার হাসি বন্ধ হলো না।নাসিফের ধমকে ঐদিকে নাসিফ আর বেশি কিছু বলতেও পারলো না বড় ছেলের আগমনে।
চলমান....







0 মন্তব্যসমূহ