#সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_৫৭



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


এক পার্টির সাথে মিটিং ছিলো সোনারগাঁও হোটেলে।সেখান থেকেই ফিরছে নাসিফ। পথিমধ্যে জ্যামে পড়ে আটকে আছে বসুন্ধরার এড়িয়ায়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ীতে বসেও মেজাজ একশো বিয়াল্লিশ হয়ে আছে জ্যামের কারনে। ড্রাইভারটা নতুন।নাম সাদিক।বয়স হবে হয়তো পঁচিশ ছাব্বিশ।


নিম্নবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান। একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভালো একটা সাবজেক্টে আছে।তবে অর্থের কারণে পড়াশোনার খরচ চালাতে কষ্ট হয়।টিউশনি দিয়ে হয়তো নিজের খরচ চলতো কিন্তু পরিবারের দায়িত্ব কিভাবে পালন করতো! তাই চাকরির সন্ধানে যোগাযোগ হয় নাসিফের সাথে।মূলত নাসিফের এক কর্মচারীর‌ই প্রতিবেশী।তার মাধ্যমেই নাসিফের সাথে যোগাযোগ।শখের বসে গাড়ী চালানো শিখেছিলো যেটা এখন তার প্রয়োজনে কাজে লেগে গেল।

ছেলেটার ধর্মভীরু স্বভাব আর অতি মনোযোগী দায়িত্ববোধ নাযীর আহমেদের মনেও ছাপ ফেলেছে।তিনি নাসিফকে উপদেশ দেয় নাসিফের ব্যক্তিগত চালক হিসেবে এই ছেলেটাকে নিয়োগ দেওয়ার।মাস দুই থেকেই ছেলেটা তাদের এখানে আছে।নাসিফের‌ও বেশ লেগেছে।


“ এসিটা বন্ধ করো। জানালার গ্লাসগুলো নামিয়ে দাও।"


সাদিককে বললো নাসিফ।গলার টাইটা ঢিলে করে তার জানালার গ্লাস নামিয়ে বাইরে তাকালো।বিশাল লম্বা জ্যাম।এটা ছাড়তে কম করে হলেও ঘন্টা দেড়েক পেরিয়ে যাবে ঐদিকে অফিসে নতুন একজন ক্লাইন্ট বসে আছে।বসে থাকতেও বিরক্ত লাগছে।গায়ের কোটটা খুলে রাখলো।ঢিলে টাইকে আর ঢিলে করে গাড়ীর বাইরে পা রাখলো।সাদিক সাবধান করতে বললো,


“ স্যার এই মাঝ রাস্তায় নামছেন? যেকোন সময় জ্যাম ছুটে যাবে!"


“ ইটস্ ওখে,এই জ্যাম ছুটতে কম করে হলেও দুই ঘন্টা পেরিয়ে যাবে।"


কোমর ধরে গিয়েছে।একটানা প্রায় দুই ঘণ্টা বসে ছিলো এখন আবার।এই কোমর ধরাটাও বুঝিয়ে দেয় তার বয়স হচ্ছে।বয়সের কথা মনে হতেই মনে পড়লো আফিয়ার কথা।সে যখন সোজাসুজি আফিয়াকে জানালো আফিয়া সর্বপ্রথম যেটা তাকে বলেছিলো,


“ কি সব বলছেন মাথা ঠিক আছে আপনার? এই বয়সে বাচ্চা! বড় ছেলের বয়স চৌদ্দ ছাড়িয়ে কয়দিন পরেই পনেরোতে পড়বে। মেয়ের দশে পড়বে।আর আপনি এখন?

মানুষ হাসবে; বলবে বুড়ো বয়সে ভীমরতিতে ধরছে!"


“ বুড়ো কে বুড়ো!"


“ ওমা আপনি কি নিজেকে কচি খোকা ভাবছেন নাকি? দেখেন তো মাথায় কতগুলো পাকা চুল দেখা যাচ্ছে?"


আফিয়া নাসিফের মাথার কানের উপরে সদ্য পাকা একটা চুল ধরে দেখালো।নাসিফ আফিয়ার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে চোখ,কপাল কুঁচকে নিয়ে বললো,


“ শোন চুল শুধু বয়সে না কখনো সখনো হরমোনাল সমস্যার কারণেও পাকে সুতরাং তুমি এভাবে আমাকে বয়সের খোঁটা দিতে পারো না!"


“ ওরে আল্লাহ,আপনি বলতে চাইছেন আপনার চুল হরমোনাল কারণে পাকছে!ও তাহলে তো...


আফিয়া কথা শেষ করতে পারেনি।তার দম বন্ধ করা হাসি আসছে।সে হাসতেও থাকলো।নাসিফ ঐ নারীর হাসি নিশ্চুপ হয়ে কেবল দেখলো। এবং হাসি থামানোর জন্য অনুরোধ‌ও করলো না। আফিয়া নিজেকে সামলিয়ে একটু নরম হয়ে শুধালো,


“ আপনি কি সিরিয়াস? নাকি মজা করছেন? করলে বলবো অসম্ভব সুন্দর একটা মজা ছিলো এটা!"


“ আমি সিরিয়াস এবং এটা অবশ্যই করবো!"


“ মানে?"


“ মানে আমার আরো একটি সন্তান চাই।আমি চাই আমাদের ঘরে আরো একজন রাজকন্যা আসুক।তার ছোট ছোট পায়ে এসে আমার এই ঘরটাকে আরো পূর্ণতায় ভরিয়ে দিক।"


“ কি সব বলছেন আপনি? আল্লাহ আমাদের তিনজন দিয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ বলেন।সব সময় মানুষকে বলেন সব কিছুতেই সন্তুষ্ট থাকার আর এখন নিজেই .."


“ আলহামদুলিল্লাহ আমি খুবই খুশি আমার তিন সন্তানের জন্য তার মানে এই নয়তো যে আমি আর সন্তান চাইতে পারবো না!"


“ চাইতে পারবেন না তা বলিনি।আমি বলছি দরকার নেই তো। দুই ছেলে এক মেয়ে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের সুখী পরিবার। তাহলে আর কেন?"


“ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন।চারটা সন্তান ইনশাআল্লাহ তিনি‌ই মানুষ করার ক্ষমতা দিবেন এবং সামর্থ্য দিয়েছেন তাহলে?"


“ কিন্তু!"


নাসিফ মাথার বালিশ ঠিক করে শুতে শুতে বললো,


“ আর কোন কিন্তু নয়।তিনজন পালছো আরেকজন পালার জন্য প্রস্তুতি নাও।আমি চাই আমাদের ঘরে একটা রাজকন্যা আসুক।দুই ভাইকে শায়েস্তা করার জন্য দুই বোন থাকা ভীষণ জরুরী।আর আমিও আমার দুই রাজকন্যার রাজ্যের ইচ্ছা পূরণের জন্য ভীষণ উৎসুক। 

_আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনি আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন তার শুকরিয়া আদায় করে এই জীবনে শেষ হবে না। কিন্তু আমি আপনার কাছে আরো বড় নেয়ামত হিসেবে আরো একজন রাজকন্যা চাই,আপনি আমার মনের বাসনা পূরণ করার তৌফিক দান করে আমাকে অনেকগুলো কন্যার পিতা হ‌ওয়ার সৌভাগ্য দিন!

_আমীন!

আমীন বলো!"


নিজেই দোয়া করলো, আমীন বললো আফিয়াকেও পড়তে বললো।আফিয়া হতবাক বিহ্বল হয়ে তাকিয়ে আছে স্বামীর পানে।নাসিফ বললো,


“ শুয়ে পড়ো।আজ বিরক্ত করবো না।সারা রাত জাগার দরকার নাই সারাদিন জেগে থেকো।"


কথাটা বলেই শুয়ে পড়লো কিন্তু ঘুমালো না

আফিয়া বিছানা থেকে নেমে বারান্দায় গেলো।এটা তার রোজকার কাজ।রাতে ঘুমানোর আগে নিজের গাছের পরিচর্যা করা।তাই করলো এরপর তেল নিয়ে বসলো মাথা বিছানার উপর,নাসিফ ঘুমায়নি তখন‌ও।তা হাতে মোবাইল,সে সেটাই গুতাচ্ছে।আফিয়া বারবার তার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে।নাসিফ যদিও বলেছে বিরক্ত করবে না তবুও! তার মন তো রাতে আফিয়াকে খুব করেই চায়।সে কিভাবে নিজেকে সামলাবে।পারেনি সামলাতে। তারপর যা হলো তাতো আপনেরা জানেনই।


চারদিকে গাড়ীর হর্ন থাকলে পিছনের গাড়ীর হর্নের শব্দ সবাইকে ছাড়িয়ে গেলো।জ্যাম ছেড়েছে।সব গাড়ী আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামলো।সাদিক মাথা বের করে চিৎকার করে বলছে,


“ স্যার উঠে পড়েন, পিছনের গাড়ী সব ছুটছে!"


নাসিফ দ্রুত কদমে গাড়ীতে উঠে দরজা বন্ধ করার জন্য হাত দিয়ে টান দিলো দরজায় সঙ্গে সঙ্গে এমনিতেই সামনের দিকে তাকাতেই তার দৃষ্টি খানিকটা সময় থমকালো।এত সময় ঐদিকে ছিলো বড় একটা রডবাহী লরি যার কারণে রাস্তার ওপাশে থাকা কিছুই দেখা যায়নি। কিন্তু এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তার একমাত্র শ্যালক সালাহ্ আরশাদ মোল্লা বিন নিয়াজ মোর্শেদ মোল্লার হাতের মুঠোয় একজন অতীব সুন্দরী নারীর হাত বন্দি।ছ ফুটের ঐ অতি সুদর্শন আর আকর্ষণীয়, সদ্য মাস্টার্স দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী হ‌ওয়া সুপুরুষটি অতি যত্নে ডানে বামে বারবার চেয়ে নিজের হাতের মুঠোয় থাকা নারীর হাতটা আলগোছে ধরে রাস্তা পার হচ্ছে।

দেখতে দেখতেই নাসিফের গাড়ী অনেক দূরে চলে আসছে। অনেক সময় পিছন ফিরে দেখার চেষ্টা করলো নারীর মুখটা কিন্তু ব্যর্থ হলো। কাঁচ ভেদ করে তার দৃষ্টি অতটাও প্রখর হতে পারলো না। সামনে ঘুরে মুখে বাম হাতের মুঠো ধরে অনেক সময় কিছু একটা ভাবলো অতঃপর আপন মনেই মুচকি হাসলো। পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে ফোন দিলো নিজের শ্যালক সালাহ্কে।


***

“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম, কোথায় আছো?"


****


“ ওহ, ওখানে কি করছো?"


***


“ বন্ধুদের সাথে? ওহ্!"


****


“ না এমনিতেই,ভাবলাম কোথায় আছো কি করছো তাই আর কি ফোন দেওয়া!"


***


“ আচ্ছা আমি বসুন্ধরা মাত্র ক্রস করলাম। তুমি কি ফ্রি এখন?  না মানে আমি বলছি তোমার কাজ শেষ? তাহলে চলো আমার সাথে।আমি তো আজিমপুর শাহবাগ হয়েই যাবো। তোমাকে নামিয়ে দিলাম!"


***


“ আচ্ছা তবে করো!"


***


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম!"


নাসিফ সালাহর সাথে কথা শেষ করে ফোনটা কেটে হাতের মুঠোয় রেখে মুচকি মুচকি হাসতে থাকলো। পরক্ষনেই কিছু এখন মনে হতেই আবারও ফোন তুলে কারো নাম্বারে কল দিলো।


🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸


নাফিসা শ্বশুরের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে আজ তিনদিন হলো।আসবে অন্তত দশদিন পর।এর মধ্যেই নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী ওরফে তাইফের সুন্নত কাজ সম্পন্ন হয়ে সে সুস্থ হয়ে যাবে বলেই সবার ধারণা।তাই আজ সিডিউল নিয়ে তার পক্ষী কর্তনের কাজ সারতে যাবে তার বাবা, মা, মামা আর তার বাবার বড় চাচার বড় ছেলের ঘরে ছেলে। মানে তার চাচাতো ভাই।সে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার্থী।অতি উৎসাহী হয়েই যাচ্ছে ভাইয়ের এই বিশেষ দিনে তাকে সাহস জুগাতে।


নাইফ ভাইয়ের পক্ষী কাটার কথায় অনেক ভয় পাচ্ছে তাই যাবে না।ছোট ভাইয়ের নু/নু ক/র্ত/নের কথা শুনতেই তার বারবার নিজের কথা মনে পড়ছে। অজান্তেই বারবার ঐখানে হাত চলে যায়।যা দেখে তার বাড়ির সবাই হেসে লুটোপুটি খায়।

তার সুন্নত কাজের সময় সে বেশ ব্যথা পেয়েছিলো। তাছাড়াও তার ঐখানে ঘা হয়ে গিয়েছিল।যে কারণে তাকে অনেক দিন ভুগতে হয়েছিল।তাই সে যাবে না।তবে ছোট ভাইকে ভুজুং ভাজুং কিছু 

বলার সাহস করেনি। কারণ মা বাবার ঘোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।


“ মামু কুতায় যাই আমরা?"


তাইফ তার মামার কোলে চড়ে জিজ্ঞেস করলো। সালাহ্ ভাগ্নের সহজ সরল মুখের দিকে চেয়ে মনে মনে বললো,


“ তুই যদি জানতি আজ তোর অর্ধেক কেটে ফেলা হবে তাহলে কি করতি বাপ, নিশ্চিত বলতি, ‘ তুলা কেনো আমার নু/নু কেতে দিবি? তুলা সব পঁচা!"


মনে মনে ভাবছে আর মুচকি মুচকি হাসছে।তাইফ ভ্রু কুঁচকে কপালে ভাঁজ ফেলে মামাকে জিজ্ঞেস করলো,


“ কেন হাসো তুমি? আমাকে বলো!"


“ সবাই কেন সব তোমাকে বলতেই যাবে? তুমি কি সবার বস?"


হাফ প্যান্ট পড়ুয়া, গেঞ্জি গায়ে।পায়ে একজোড়া সুন্দর সফেদা রঙের কেইডস, হাতে সবসময়ের মতো একটা রঙ্গিন ঘড়ি। বারবার টিস্যুর ঘষায় নাকটা এমন লাল হয়ে আছে যেন রক্ত জমে রয়েছে।লাল টুকটুকে ফর্সা, টমেটোর মতো লাল ফুলো গালটা আরো ফুলিয়ে বড় চাচাতো ভাইয়ের দিকে চাইলো চোখ কুঁচকে।বললো,


“ আমি বছ,আমাকে বল!"


“ তুমি কোথাকার বস? কি কোম্পানি তোমার?"


এত কিছু না বুঝলেও গায়ের জোরে মামলা জেতা 

তা তাইফ ঠিক‌ই বুঝে তাই বোধহয় মামার কোল থেকে ঝুঁকে বড় ভাইয়ের চুল টেনে ধরলো খামচি মেরে,জেদ দেখিয়ে বললো,


“ আমি বছ,আমাকে বলো!"


“ তাইফ ছাড় বলছি।নয়তো তোর নু/নু এখানেই কে/টে দিবো!"


“ তোমাল নু/নু  কাতবো!"


“ আমারটা তো আগেই কা/ট/ছে!আজকে তো তোমারটা কা/ট/বে!"


“ না আমার তা না তোমাল তা কাতবে!"


“ তোরটা কাটবে!

_ এই জন্যই তো তোকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে!"


ব্যস হয়ে গেল কাম তামাম! তাইফ এত কঠোর সত্য কিভাবে হজম করবে! আজ তার অর্ধেক সম্পত্তি কে/টে ফেলবে! সে ভাইয়ের চুল আরো শক্ত করে টেনে ধরে মামাকে বললো,


“ আমারতা কাতবে না। মামু, বলো ভাইয়ার তা কাতবে! তুমি কাতবে!"


সালাহ্ এখন ভীষণ রেগে গেলো ঐ গর্দভ ছেলেটার উপর। দাঁত কিড়মিড় করে বললো,


“ কি করলা এটা?এখন থামাবো কি করে?"


“সরি মামা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল।"


“তোমার মুখটাকে ইচ্ছে করছে এখন.."


“ সরি!"


বলেই সে কেটে পড়লো। সালাহ্ ভাগ্নেকে বোঝানোর দায়িত্ব পালনে লেগে পড়লো।


“ শোন এটা কি করে কাটবে? এটা কি কাটার মতো কিছু? তুমি বলো? ঐটা ভাইয়া মিথ্যা বলছে!"


“ ছত্যি!"


“ হুম!"


“ ছত্যি ছত্যি বলছো?"


“ হুম।"


সালাহ্ ডাহা মিথ্যা মুখে বললো, মনে মনে ত‌ওবা পড়লো। তাইফ মামুর গলা জড়িয়ে ধরে রেখে দূরে থাকা মিথ্যুক ভাইয়ের দিকে চেয়ে বললো,


“ তুমি মিত্যা বলো। তুমি মিতুক।"


তার ভাইয়া দূরে দাঁড়িয়ে থেকেই ঠোঁট বাকালো। তারপর সে গাড়ীতে উঠলো।

সালাহ্‌ও ভাগ্নেকে নিয়ে গাড়ীতে উঠে পড়েছে। সামনে বসবে চালক সাদিক, তাইফ আর তার মামু। পিছনে বসে নাসিফ,আফিয়া আর তার ভাসুর পুত।


ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সবরকম নিয়ম মেনে তাইফের মেডিক্যাল চেইক আপ করালো।সব ঠিকঠাক আছে আলহামদুলিল্লাহ। এখন শুধু তাইফকে এনেস্থেশিয়া দিয়ে অবশ করাই বাকী।তবে 

তাইফের সিরিয়াল এখনও প্রায় দুই ঘন্টা পর।তাই তাকে এক ঘন্টা পরেই বেহুঁশ করা হবে। কিন্তু তাইফ কি বসে থাকার মানুষ? সে মামার কোল থেকে বাবার কোল, মায়ের কোল করছে। মায়ের কোল থেকে নেমে হসপিটাল ভরে ছোটাছুটি করছে। অবশেষে নাসিফ ধমক দিতেই গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ আরম্ভ করে দিলো।আফিয়া ভাইকে বললো,তুই ওকে নিয়ে বারান্দায় যা।আমি আর তোর ভাইয়া একটু আসছি।বলেই আফিয়া নাসিফের হাত ধরে টান দিলো।নাসিফ ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নাত্মক চোখে তাকালে আফিয়া বললো,


“ আসুন আমার সাথে একটু!"


“ এই সময়ে আবার কোথাও যাবা?"


“ আসুন গেলেই দেখবেন!"


আফিয়া গাইনি বিভাগে গেলো।তার সবসময়ের ডাক্তার যিনি তিনি এখন দেশের বাইরে আছে।তার পরামর্শেই অন্য ডাক্তারের কাছে গেলো।


“ আসসালামু আলাইকুম,আমরা কি আসবো?"


দরজার সামনে কোন পিয়ন নাই।তাই আফিয়া নিজেই দরজা ঠেলে ডাক্তারের উদ্দেশ্য প্রশ্নটা করলো। মাঝারী বয়সের ভদ্র মহিলা চশমাটা ঠেলে আরো একটি উপরে লাগিয়ে গম্ভীর মুখে শুধালেন,


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম।জ্বী, আপনি?

_ ভেতরে এসে বলেন!"


আফিয়া ভেতরে ঢুকলো, এবং সুন্দর হাসির সহিত বললো,


“ আমি স্বামীহা তাসনিম আফিয়া ,আমি .."


“ আপনি বিলকিস আপার পেশেন্ট তাই না?"


“ জ্বী জ্বী!"


“ প্লিজ বসুন!"


ধন্যবাদ, বলেই আফিয়া দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নাসিফকে বললো,


“ আসেন!"


নাসিফ এলো এবং দুজনেই ডাক্তারের সামনের চেয়ারের বসলো।


“ আমরা আসলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাপ করতে এসেছি।"


“ হ্যা আমি জানি। আপনার সম্পর্কে সমস্ত কিছুই আপা আমাকে বলেছে।আমিও আপনার বিষয় নিয়ে বেশ ঘাঁটাঘাঁটি করেছি। এখন বলেন আপনার সিদ্ধান্তে কি আপনি নিশ্চিত!আর আপনার স্বামী কি .. আই থিংক আপনিই মিস্টার?"


“ নাসিফ..নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী।"


“ হ্যা আপনি উনার হাজবেন্ড তো আপনি‌ই বলুন আপনার স্ত্রীর আবারও কনসিভ করার সিদ্ধান্ত আপনার মতামত কি?"


“ হুয়াট! কনসিভ? মানে!"


বলেই আফিয়ার দিকে তাকালো।আফিয়া নাসিফের দিকে চেয়ে নাসিফের বাহুতে হাত বুলিয়ে বললো,


“ শান্ত হোন! 

আমি সব ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"


“ কি ভেবেছো না ভেবেছো সেটা বড় কথা নয়।বড় কথা হলো আমাকে জানাও নি।কেন?"


“ আমরা এখান থেকে গিয়ে কথা বলি!"


ডাক্তারের সামনে, বাইরের কারো সামনে নাসিফ উত্তেজিত হতে চাইছে না কিন্তু তার মাথা সত্যি‌ই গরম হয়ে যাচ্ছে।এমন একটি সিদ্ধান্ত আবারও একা নিয়ে নিয়েছে! অথচ..


ডাক্তারের সাথে সমস্ত আলোচনা শেষে আফিয়া নিজের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিলো।সে আবারও কনসিভ করবে। এবং তা সম্পূর্ণ সুস্থ মস্তিষ্কে ভেবেই নিয়েছে।নাসিফ কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো তীব্র রাগ জিইয়ে।এখন হাসপাতালে কোন খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাইছে না। তাছাড়াও আজ ছেলের জীবনের একটা বড় দিন। নিজেদের স্বামী স্ত্রীর বিষয় টেনে সন্তানদের ভালো মুহূর্তগুলো আর নষ্ট করতে চায় না সে।আফিয়াকে বাড়ি গিয়ে দেখে নিবে।আফিয়াও এখন একদম চুপ হয়ে আছে।জানে তার কপালে শনি আছে তবুও‌। মানুষটাকে সে একটা বাচ্চা উপহারটা দিবে।সে থাকতে তার স্বামী তার অসুস্থতার জন্য বাচ্চা দত্তক নিবে এটা তার পক্ষে মানা সম্ভব নয়।


চলমান...