সুখ_ফড়িং_সিজন_২ | পর্বসংখ্যা_০২

#সুখ_ফড়িং_সিজন_২

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_০২



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


“ ঐ শাবাগ,শাবাগ, শাবাগ!

ড্রাইভার পিজির সামনে থামান,ঐ পিজি,পিজি,পিজি।পিজির কে আছেন তাড়াতাড়ি নামেন!ঐ আপা নামবেন না?"


গলা ফাটিয়ে হাঁকানো শব্দে তড়িৎ গতিতে চমকে লাফিয়ে উঠলো পারীজাত। পিজি শব্দটা তার কানে বারবার পারী হয়ে বাজছে।কোনমতে নিজেকে ধাতস্থ করে সোজা হয়ে বসলো।

মিরপুর বেনারসী পল্লী থেকে বাসে উঠেছে,পিজির সামনে নামবে।কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল বুঝতেই পারেনি। ইস্ কি হতো যদি ঘুম না ভাঙ্গতো।অবশ্য চোখের‌ই কি দোষ;সে ও ক্লান্ত হয়।তাকে তো অবিরত সজাগ থাকা আর অশ্রু ঝড়ানো ছাড়া আর কোন বিরতিও দেওয়া হচ্ছে না।সবাই ক্লান্ত হয় শুধু ক্লান্তি আসে না পারীজাতের।পারীজাতদের ক্লান্ত হতে নেই।তারা ক্লান্ত হলে জীবন খেলবে কাদের নিয়ে!


“ পিজি,পিজি,ঐ আপা আপনি না পিজির সামনে নামবেন!"


“ জ্বী নামছি।

_ আসো মা!"


বলেই নিজের ডান পাশের সিটে বসানো তিন বছর নয় মাসের এক বাচ্চাকে শেষ লাইনটা বললো। বাচ্চাটা তার মায়া মায়া ডাগর চোখে ক্লান্ত মেখে মমতাময়ী মায়ের দিকে তাকালো।মেয়ের চাহনিতে এক‌ই ভাবে নিজের ক্লান্ত আর ভারী অক্ষুদ্বয়ের ইশারায় কিছু একটা বললো যা মুহূর্তেই ঐ প্রায় চার বছরের বাচ্চাটা বুঝে নিলো। মায়ের জামা আঁকড়ে সিট থেকে নামলো।

তাড়াতাড়ি করে নামতে গিয়ে মাথায় আঘাত পেলো। তারপরও কাঁধে চাপানো ব্যাগটা বাম হাতের তিন আঙ্গুলের জোরে শক্ত করে ধরে,ডান হাতে মেয়েকে আগলে আস্তে করে বাসের সিট ছাড়লো।


হেল্পারের হাঁক, 

“ আপা তাড়াতাড়ি নামেন,ঐ আর কে আছেন,পিজি শাবাগ শাবাগ!

_ ড্রাইভার মহিলা, বাচ্চা আছে লগে!"


বলতে বলতেই পারীজাত লাফিয়ে নামলো বাস থেকে। এরপর মেয়েকে আধ কোলে নিয়ে নামালো। একদম মাঝ পথে নামিয়েছে।ঐ পাশে আরেকটা বাস থেমেছে।পারীজাত ফোঁস করে একটা শব্দ ছাড়লো।এই শহরে কোন নিয়ম‌ই আর টেকস‌ই হয় না।কেউ কোন আইনের ধার ধারে না।নয়তো এখানে যাত্রী নামায় কেউ? এটা কি যাত্রী ছাউনি?

এখান থেকেই তুলছে আবার এখান থেকেই নামাচ্ছে।অথচ যেকোন একটি বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে যেকোন মুহূর্তে।


“ আম্মু!"


দূরে থাকা শরবতের ভ্যান দেখেই নিচু আওয়াজে মা'কে ডাক দিলো সুখ! তার অত ছোট্ট আওয়াজে এই আওয়াজের শহরে দাঁড়িয়ে তার মা শুনলোই না কিছু। চারদিকে গাড়ীর হর্ন,ধুলা,মাথার তালু গলিয়ে দেওয়া রোদের তাপ,আর মানুষের কোলাহল সব মিলিয়ে বহুদিন পর পারীর কানে এক অন্যরকম তবলা বাজতে শুরু করলো।যা তার মস্তিষ্কের নিউরনের প্রতিটি কোষে সুড়সুড়ি জাগিয়ে তুলল। বারবার মনে করাচ্ছে বহু বছর আগের ছেড়ে যাওয়া সেই প্রহর যা সে স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়ে চলে গেছে এক অজানা শহরে। কিন্তু সে চলে গেলেই কি সব তাকে ছেড়ে দিয়েছে? স্মৃতি তো তাকে হেথা‌ও হাতড়িয়ে বেড়িয়েছে। আর এখন তো সে সেই স্মৃতির শহরে যেথায় রয়েছে তার সকল কিছু! 

মরুভূমিতে রোদের কারণে অনেক সময়‌ই পথিকের চোখে ভ্রম হয়,সে এমন কিছু অনুভব করে,দেখতে পায় যা আদৌতে বাস্তবে নেই।বলা যায় মরীচিকার আবির্ভাব ঘটে।

পারীজাতের মনে হচ্ছে তার সাথেও ঠিক তাই হচ্ছে। এই তো সে দেখছে তার থেকে খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে তার সেই কাঙ্খিত পুরুষ যাকে এক নজর ছোয়ার ইচ্ছে সে বিগত চার বছর তিন মাস ধরে লালন করে পাথরের হৃদয়ে,ছটফট করছে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ার।যার কাছে তার এক পৃথিবীর নামে অভিযোগ করা বাকী আছে।যার কাছে তার আমানত সঁপে দেওয়া বাকী আছে।যার বাহুতে মাথা রেখে সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করার প্রবল ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু! ভাবতেই পারলো না। এর বেশি ভাবা যে তার জন্য নিষিদ্ধ। ধাপ করে পড়ে গেলো জমিনে।তার পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে বোধহয় জ্ঞান হারালো,আর জ্ঞান হারানোর মুহূর্তে কানে বাজলো,


“ আম্মু!"


তার সন্তান,তার অংশ,তার ভালোবাসার চিহৃ,তার সেই পুরুষের আমানত যাকে সে কথা দিয়েছিলো জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবে। কিন্তু... ভেসে উঠলো জীবনের সেই মুহুর্ত যা তাকে নিয়ে গিয়েছিল এক অন্য পৃথিবীতে।


ফ্ল্যাশব্যাক...


“ এই রাব্বী! "


পারিজাত আর তার বান্ধবী মেহরিন বেরিয়ে যেতেই গর্জিয়ে ডাক দিলো , তার সিংহি গর্জনে বাইরে বারান্দায় ক্যারাম খেলায় মত্ত শীর্ণকায় দেহের এক যুবক দৌড়ে আসলো।হাতের তালুতে তার এখনো ময়দা লেগে আছে যা সে ক্যারাম কোটে মাখার জন্য মাত্র‌ই মুঠোবন্দী করেছিলো।ভাইয়ের ডাক কানে যেতেই সব ফেলে দৌড়ে চলে আসে পেছনে রেখে আসে উৎসুক আর জিজ্ঞাসু পাচ জোড়া চোখ।


“ ভাই!"


“ উইমেন্স কলেজের ভেতরে ছেলেরা ঢুকে কবে থেকে?"


“ জানি না তো ভাই!"


“ কি জানিস তাহলে? 

_ তোদের এলাকায়, তোদের পাড়ায় একটি মহিলা কলেজ! যেখানে সব তোর আমার বোনেরাই পড়ে! সেখানে গিয়ে কিছু বদ উৎপাত করে, আমার ওয়ার্নি সত্ত্বেও এত বড় কলিজার কাজ করে আর তোরা; তোরা আমার ছেলে হয়ে এতটুকু খবর রাখতে পারিস না?"


ছেলেটা মাথা নত করে অপরাধী ভঙ্গিতে বললো,


“ ভাই আপনি‌ই তো নিষেধ করছেন যাতে আমাদের কোন ছেলে মহিলা কলেজের সামনে না যায়! তাই আমরা ওদিকটায় কেউ যাই না।তাই খবর‌ও পাই না।

কিন্তু ভাই কিছু কি হয়েছে?"


কথাটা শেষ করেই নিজের নত মাথা উঁচু করে ভাইয়ের দিকে তাকালো।সম্রাট নিজের অধীনস্ত এই যুবকের দিকে বেশ কিছুক্ষণ গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো,


“ কাল  সকাল কলেজ বন্ধ হ‌ওয়ার আগ অবধি একটানা দাঁড়িয়ে থাকবি।কে কে মহিলা কলেজের সামনে ঘোরাফেরা করে তার লিস্ট করবি। এবং অবশ্যই খেয়াল করবি মেয়েরা কাকে দেখে ভয় পায়! চোখে তাকাবি!তাহলেই বুঝবি। কিন্তু খবরদার তোদের কোন ব্যবহার দ্বারা যেন কোন মেয়ে ভয় না পায়।" 


“ জ্বী ভাই!

_ ভাই!"


রাব্বীর সাথে কথা সম্পূর্ণ করে নিজের পা মাত্রই 

বাড়িয়েছে তখনই পেছন থেকে ডাক পড়লো,


“ হুম!"


“ ভাই,কাল যে বাচ্চাদের মাঠে গাছ লাগানোর জন্য চারা গুলো আনতে বলছিলেন সেগুলো বিকেলে ডেলিভারি দিয়ে যাবে! পেমেন্ট!"


“ ক্যাশে রাখা থাকবে,নিয়ে দিয়ে দিবি।আর হ্যা নার্সারিওয়ালকে বলবি সারে যেন সব মিক্সড থাকে।"


“ হ্যা ভাই বলছি ভাই!"


“ আচ্ছা যা।

ওহ ভালো কথা! লাঞ্চের জন্য ছয় প্যাকেট বিরিয়ানি আনতে বল।"


“ লাঞ্চ বাসায় গিয়ে করবি!সো..."


“ বাপ্পী ভাই দিলেন তো রিজিক নষ্ট করে!"


রাব্বী হাত ঝাড়তে ঝাড়তে বের হচ্ছিলো। সম্রাটের বিরিয়ানি অর্ডারে বাগড়া দেওয়ায় রাব্বী মুখটা কালো করে ঐ কথাটা বললো।বাপ্পী রাব্বীর দিকে চেয়ে বললো,


“ রিজিক যে দেয় সেই নেয়।অযথা আমাকে কেন ব্লেইম করছিস! তোর রিজিকে থাকলে কোথা থেকে হাজির হবে তা তুই টের‌ও পাবি না।"


যুক্তি সঠিক,তাই আর কোন কথা বের হলো না।মুখটা কাচুমাচু করে এক ভাবেই দাঁড়িয়ে র‌ইলো।সম্রাট রাব্বীর মুখশ্রী দেখে হালকা হাসলো। অতঃপর ওয়ালেট বের করে একটা কচকচা হাজারের নোট বাড়িয়ে দিয়ে বললো,


“ মাহাদকে নিয়ে যাবি।একা খাবি না। দু'জনে শেয়ার করবি রা খবরদার পুরো ক্লাব ছড়িয়েছিস তো!"


“ ঢোলে বারি দিয়ে বন্ধু তুমি বলো নেচো না!

এই যে পেট পাতলা পুরুষ এর পেটে কথা টিকে? মেয়েদের চেয়েও পেট লুজ!"


“ মোটেই আমি এমন না।আমি যথেষ্ট কথা লুকাতে পারি।তাই না ভাই বলেন!"


“ হয়েছে এখন যা। আমিও বের হবো!"


“ কে এসেছিলো রে?"


“ এই একটা মেয়ে।মহিলা কলেজের!"


“ ওরা যে বললো বাচ্চা!"


বাপ্পীর কথায় হটাৎ করেই হেসে দিলো। একদম ধম ফাটা হাসি যাকে বলে। বাপ্পী হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকলো বন্ধুর পানে। অতঃপর জিজ্ঞেস করলো,


“ আশ্চর্য হাসছিস কেন এভাবে?

হাসির কি বললাম?"


“ বাচ্চা মেয়ে? 

_ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়ে বাচ্চা!"


“ এ্যা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট? বাচ্চা কেন বললো গর্দভ গুলো?"


“ কারণ দেখতে বাচ্চা‌ই! এই যে এতটুকু সাইজ কিন্তু কথা মাইরি.. কথার সাইজ তোকে আমাকে মিলিয়ে!"


সম্রাট হাতের ইশারার সাহায্যে পারীজাতের আকার বুঝিয়ে আবারও হাসলো। বাপ্পীর ঠোটেও হাসি ফুটেছে কিন্তু স্পষ্ট কিছু না বোঝায় তার প্রতিক্রিয়া বন্ধুর মতো চড়াও হলো না।তাই সে বললো,


“ খুলে বলতো সব!"


সম্রাট সব বললো। অতঃপর বাপ্পী‌ও হতবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সেও এক‌ই রকম হাসিতে ফেটে পড়লো।


যুব সংসদ ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন রমনী।পারীজাত আবরার চৌধুরী,মেহরিন আজীম, নিশি ফারিহা!পারীজাত বোরকা পরিহিত,বাকী দুজন সাধারণ সালোয়ার কামিজ।

খুবই সাহস আর আত্নবিশ্বাস নিয়ে পা রাখলো দ্বিতীয়বারের মতো এই ক্লাবে।পারীজাত আগেই বাগান বিলাসে সজ্জিত দরজা পেরিয়ে রডের সীমানা ক্রশ করেও পিছনে ফিরতে বাধ্য হলো কারণ! তার দুই বান্ধবী যাদের সে সাদা কাদা বলেই সম্বোধন করে,তারা ভয়ে ক্লাবের দরজায় পা রাখছে না।মেহরিন তাও বাগান বিলাসের নিচে দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু যার জন্য আগমন সেই নিশি ফারিহাই আটকে আছে দরজার ওপারে।

মেজাজ বিগড়ালো পারীর।সে নিজের পেটে লাথি দিয়ে এদের জন্য দৌড়ে আসছে আর এরা এখন কি-না শেষ মুহূর্তে এসে এমন নটাংকি শুরু করেছে। দ্রুত কদমে দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে চট করে নিশির বাহুতে দিলো এক চড়।নিশি আতংকিত চোখে বান্ধবীর পানে তাকালো।তার দুচোখে ছল থ‌ইথ‌ই।যা যেকোন মুহূর্তে গড়িয়ে পড়বে পড়বে ভাব! মুহুর্তে পারীর কঠোর মন নরম হয়ে গেলো। বান্ধবীর ছলছল চোখে তাকিয়ে নিজের প্রতি ধিক্কার করলো।তার বান্ধবী দুটো ভীষণ‌ই নরম স্বভাবের।তারা এত হট্টগোল,গ্যাঞ্জাম, লড়াই পছন্দ করে না।ভয় পায় এগুলোতে।সবাই কি আর পারীজাত নাকি যে সব কিছুতেই অভ্যস্ত থাকতে হবে! সবার জীবন কি পারীর মতো! 

নরম স্বভাবের ভীতু মেয়ে দুটোর দিকে চেয়ে একটু নরম গলায় বললো,


“ দেখ, আজকে ভয় পেলে আজীবন ভুগতে হবে।এখন তুই ভয়ে পিছিয়ে গেলে ঐ লোক কি তোকে ছেড়ে দিবে? সে নিশ্চয়ই তোর বাসায় গিয়ে তোর বাবা মায়ের মাথায় গুলি ধরে তোকে তুলে নিয়ে আসবে!তখন... তার চেয়ে ভালো আজ ওদের লিডারকে ওদের কর্মকান্ডের কথা বলে যাই।আমি শুনেছি উনি ন্যায় বিচার করে, নিশ্চয়ই আমাদেরটাও করবে।আর যদি না করে তবে পুলিশের যাবো। দরকার পড়লে এই লোককে পাবলিক প্লেসে ঝামা ঘষা দিবো!"


“ কাকে ঝামা ঘষা দিবেন আপা?"


পারীর ঠিক একটু পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলো রাব্বী।তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল পারীদের তদন্ত করা।সে নিজ কাজ সম্পন্ন করে মাত্র‌ই ক্লাবে পা রাখলো। এবং এসেই শুনতে পেলো শেষের লাইনগুলো।তার চোয়াল ঝুলে গেছে এই কথা শুনে। এই মেয়ে বলে কি! তার ভাইকে নাকি ঝামা ঘষা দিবে!


পারী হকচকিয়ে পিছনে ফিরলো‌। এবং অচেনা এই ছেলেকে দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,


“ তা শুনে আপনি কি করবেন? আশ্চর্য গায়ে পড়ে কথা বলেন কেন?"


রাব্বীর মেজাজ চটছে।এই মেয়ে তো ভীষণ বেয়াদব। কিভাবে কথা বলে! তার ভাইকে কি-না ঝামা ঘষা দিবে! আবার তাকে বলছে যেচে কেন কথা বলছে! উফ্; এই বেয়াদব মেয়ের জন্য‌ই তাকে সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে ঐ মহিলা কলেজের দজ্জাল আয়ার সাথে ভাব করতে হয়েছে। এই মেয়ের জন্য সে তার বহু দিনের বালিকা প্রেমিকার স্কুলের সামনে গিয়ে অপেক্ষা না করার শাস্তি স্বরূপ আজ সারাদিন কথা বলা থেকে বিরত থাকার শাস্তি পাচ্ছে।একে তো একটা শিক্ষা দিবেই।


“ শুনেন আপনি কি নিজেকে নায়িকা শাবনূর ভাবছেন,যে আপনার গায়ে পড়ে কথা বলতে যাবো!"


কথাটায় অপমান ছিলো।বেশ অপমান ! ঘোর অপমান! পারী, পারীজাত মানবে কেন?সে জানে সে সুন্দরী না।তাকে দেখতে মোটেই নায়িকা লাগে নি। বরং তাকে এভারেজ সুন্দরীর তালিকায়‌ও রাখা যায় না।তাই বলে এভাবে অপমান করবে! অসম্ভব! সৌন্দর্য তো আল্লাহর দান।তাকে নিয়ে মানুষের অহংকার কেন থাকবে? আল্লাহ যাকে যেভাবে খুশি বানাবে, বানিয়েছে। তার জন্য অন্য কেউ কেন খোঁচা দিয়ে কথা বলবে! এটা মানার মতো নয়!

পারীও মানবে না।সে কোন অন্যায় কাজ অথবা কথার সাথে সমঝোতা করবে না। অবশ্যই এই লোককে উচিত কথায় জব্দ করতে হবে এবং পারী করবেও!


চলমান.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ