#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্ব_সূচনার_দ্বিতীয়_খন্ডাংশ
‼️ কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
আমার রব, আমার প্রতি আপনি যেই অনুগ্রহই দান করবেন,আমি তারই মুখাপেক্ষী!- কাসাস ২৮/২৪
আছরের সালাত শেষে হালকা কিছু দোয়া পড়ে আমল করে আল্লাহর কাছে সর্বশেষ দোয়ায় উক্ত
আয়াতটি পাঠ করলো নাসিফ ওয়াসীত্ব।
“ বাবা!"
পেছন থেকে বাচ্চা কন্ঠে নিজের মোনাজাতে শেষ করে পিছু ফিরলো। পা অবধি লম্বা সাদা ফ্রক আর হাঁটু অবধি সুতোর কাজ করা সাদা হিজাবে আবৃত ছোট্ট একটি পুতুল। দৌড়ে সে নিজের বাবার কাছে আসছে।মসজিদ ভর্তি মুসুল্লিদের আনাগোনা।আছরের সালাত শেষ হলেও ইফতারের দাওয়াতে অংশ নিতে ধীরে ধীরে সবার আগমন ঘটছে।যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র তিন তাই তাকেও আনার জন্য নিজ পিতাকে বলে দিয়েছিলো।
“ বাবা!"
বলেই বাবার গলা জড়িয়ে হিলে পড়লো ছোট্ট নাবিহা উসরাত গাজী। বাবার পরী,পুরো পরিবারের কলিজা সে।তার খিলখিল হাসিতে পুরো গাজী ম্যানশন মাতিয়ে রাখে।আজকে মায়ের বাৎসরিক উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মসজিদে এসেছে দাদা আর বড় ভাইয়ের আঙ্গুল ধরে।
“ ইমাম সাহেব আপনি দোয়া পাঠ শুরু করে দেন।"
বললেন নাযির আহমাদ গাজী।
দোয়া,দরুদে আছর পেরিয়ে মাগরিব এলো।আযান দিলো, মুসল্লি থেকে পথচারী সবাইকে ইফতারি দেওয়া হলো। সালাতের পর মসজিদের দোরে দাঁড়িয়ে এতিম এবং অসহায় কিছু মানুষকে বস্ত্র বিতরণ করলো। একজন পঙ্গু লোককে একটা মটর চালিত রিক্সা দিলো,এক নারীকে একটা সেলাই মেশিন কিনে দিলো।তিনজন এতিম ছেলেকে ছোট খাঁটো চা দোকানের ব্যাবসা করার মতো অর্থ দিয়ে তাদের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিলো।
“ আব্বা আমি বলছিলাম আপনি সেদিন বিচারে যেই মহিলাকে বলেছিলেন তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবেন তার সাথে যোগাযোগ করলে একটু ভালো হয়।"
“ হঠাৎ তার কথা কেন বলছো?"
“ আমার চকবাজারের শাখায় একটা ম্যানেজার দরকার,আমি ভাবছিলাম মহিলা নিয়োগ দিবো।যেহেতু উনি বর্তমানে খুবই খারাপ পরিস্থিতির মাঝ দিয়ে দিনাতিপাত করছে,তাই আর কি! শিক্ষিত ছিলো,দেখতেও তো শালীন ভদ্র মনে হলো।তাই ভাবছি আজকের দিনে তাকেও যদি একটা ভালো বন্দোবস্ত করে দেওয়া যায় নিজের কাছেও কিছুটা ভালো লাগবে তাই আর কি?"
“ উত্তম ভাবনা।আমি তোমার জলিল চাচাকে বলবো তার খোঁজ নিতে।"
“ জ্বী চলুন,বাড়ি যাই।ওরা খেয়ে দেয়ে ঘুমাক।"
“ হ্যা যাবো তার আগে তোমার সাথে আমার কিছু জরুরী কথা আছে,তা সারতে চাই।তুমি ওদের একটু এখানে রেখে আমার সাথে ঐপাশে এসে বসো।"
বাবার কথা কি হতে পারে তা কিছুটা হলেও আন্দাজ করে নিয়েছে নাসিফ,তবুও বাবাকে তো আর মুখের উপরে কিছু বলা যায় না তাই কোলের উপর বসা মেয়েকে বললো,
“ আম্মা তুমি ভাইয়ের কাছে যাও, ভাইয়ের তেলাওয়াত শোন, ওখে!"
“ উকে!"
নাবিহা বাবার আদেশ অনুযায়ী বড় ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসলো।এক হাঁটু বিছিয়ে অন্য হাঁটু অর্ধ ভেঙে বসে মাথা দুলিয়ে উচ্চ শব্দ অবিরত কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত নাইফ নিজের ছোট বোনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাম হাত বাড়িয়ে তাকে নিজের দিকে টেনে নিলো।
“ আমি তোমার বাবা,এ পৃথিবীতে তোমাকে আল্লাহ রাসুলের পর সবচেয়ে বেশি যদি কেউ ভালোবাসে সেটা হচ্ছ তোমার বাবা মা,এটা কি তুমি মন থেকে বিশ্বাস করো?"
জিজ্ঞেস করলেন নাযির আহমাদ।নাসিফ নিজের বাবাকে একবার দেখে মাথ নুইয়ে রেখে মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো। নিচু আওয়াজে প্রত্যুত্তর করলো,
“ জ্বী আব্বা!"
“ আমাদের চিন্তা ভাবনায় সবসময় তোমাদের দুই ভাইবোনের কল্যান।আমি, তোমার আম্মা; প্রতি নামাজে যত না নিজেদের গুনাহের জন্য কাঁদি,যতবার না নিজেদের জন্য ক্ষমা চাই তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি তোমাদের উত্তম জীবন,কল্যানকর ভবিষ্যতের জন্য কান্নাকাটি করি,দোয়া করি।"
এ কথায় কোন উত্তর দিলো না নাসিফ। এটায় দেওয়ার মতো কোন কথাও নাই। চিরন্তন সত্য! সব বাবা মাই করে এটা।
“ তোমার আম্মা তোমার কাছে একটা জিনিস চাইছে,এটা কি অযৌক্তিক! তার কি অধিকার নেই নিজের একমাত্র পুত্রকে সুখী দেখার?নাকি আমি চাইবো না আমার এই তাগড়া,রুষ্টপুষ্ট, সুদর্শন, সুপুরুষ ছেলেটা নিজের জীবনের সব শখ আহ্লাদ
উপভোগ করুক!"
“ আব্বা..
“ শেষ করতে দাও আমাকে!"
ডান হাত উঁচিয়ে থামতে বললেন,নাসিফ থেমে গেল।তার দৃষ্টি নিচে। হাঁটুর ভাঁজে থাকা শুভ্র পাঞ্জাবির কুঁচকে যাওয়া পরদে। আঙ্গুল দিয়ে উক্ত স্থানে টানটান করার প্রচেষ্টা করছে,তার সাথে গভীর মনোযোগ দিয়ে বাবার কথা শুনছে।নাযির আহমাদ আবার বলতে শুরু করলেন,
“ শোন,তুমি যেই চিন্তা করছো তাও যথোচিত।আমি সেটাকে অগ্রাহ্য করছি না কিন্তু তোমাকে এটাও বুঝতে হবে তোমারও জীবন অনেক পড়ে আছে।এখানেই সব শেষ নয় বাবা।এভাবে কেউ চলতেও পারে না। আমার দাদা ভাই,দাদুমনির জন্য আমরা আছি।যতদিন থাকবো নিজেদের সবটুকু দিয়ে তাদের দেখভাল করবো। তাছাড়াও তোমার কি অর্থ বিত্ত কম আছে? রেখো দিবো দুই চারজন আয়া।তারাও থাকবে...
“ কিন্তু আব্বা তারা কি আমাদের মতো ভালোবেসে খেয়াল রাখবে?"
“ তুমি কি আসলেই খেয়াল রাখতে পারছো?"
বাবার কথায় আবারও নিজের নজর ঝুঁকিয়ে ফেললো।কথা সত্য! সেতো সারাদিন ব্যাবসায়িক কাজেই ব্যস্ত থাকে।দুই একদিন পরপরই খুলনা,সিলেট, চট্টগ্রাম, রাজশাহী কখনো কখনো তো আউট অফ কান্ট্রি হয়ে যায়। বাচ্চা দুটো সম্পূর্ণ রূপে দাদা দাদী আর আয়ার উপর নির্ভরশীল।
তাও তো দিনশেষে ভাবা যায় ভালো আছে কিন্তু যদি জীবনে অন্য কোন আগমন হয় যেখানে থাকবে অধিকার নিয়ে লড়াই সেখানে কি বাচ্চা দুটো সুস্থ স্বাভাবিক জীবন নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে? নাসিফ ওয়াসীত্ব নিজের বাচ্চাদের কোন পারিবারিক কলহের মাঝ দিয়ে বড় হতে দিতে চায় না।তারা দৈনন্দিন জীবনের অসহনীয়তা সহ্য করে বড় হোক তা সে চায় না। কিন্তু দিনশেষে...
“ শোন পৃথিবীর সব মানুষই তো খারাপ হয় না।আমরা নিশ্চয়ই এমন কাউকে খুঁজে বের করতে পারবো যে নাইফ,নাবিহাকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসবে।তার কাছে পেটের পিঠের বলে কোন ভেদাভেদ থাকবে না।"
“ এটা কি আদৌও পসিবল আব্বা? কেউ এতটাও মহৎ হয় যে স্বামীর আগের ঘরের সন্তানকে নিজের মতো করে ভালোবাসবে!"
“ অবশ্যই আছে,দুনিয়ার সবাই তো খারাপ হয় না! তাছাড়াও আমরা সেরকম ভাবেই ব্যাবস্থা করে নিয়ে আসবো।"
“ আব্বা কেন বুঝতে পারছেন না আমি কোনভাবেই এই বিষয়ে সম্মতি দিতে পারছি না। যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক না সব!"
“ মানে কি? তুমি এখনো ইয়াং, সারাদিনের পরিশ্রমের শেষে রাতে অবশ্যই তোমার একজন মানুষ দরকার যার কাছে নিজের সব ক্লান্তি উগলে দেওয়া যায়। একটা মানুষ,যে তোমার সুখে দুঃখে তোমার পাশে থাকবে। তোমার অসুখে বিসুখে সেবা করবে। তোমার সব ভালো মন্দ নিয়ে তার মাঝে অস্থিরতা থাকবে।একটা জীবন কাটাতে গেলে অবশ্যই একজন মানুষ, সঙ্গির দরকার হয়। শুধু যুবক বয়সে নয়, বৃদ্ধ বয়সেও সঙ্গির দরকার হয়। সঙ্গি কেবল শরীরের ক্ষুধা মেটায় এমন নয়,সঙ্গির প্রকৃত প্রয়োজন হয় মনের ক্ষুধা মেটাতে।
আল্লাহ তোমাকে একবার সঙ্গি হারা করেছে তার মানে এই নয় জীবন এখানেই সমাপ্ত,এখনো অনেক পড়ে আছে।কখন কিভাবে বিছানায় পড় যাবে তার ঠিক নেই,তখন কে তোমার সেবা করবে? আমরা কতদিন আছি? তোমার আম্মা কতদিন বাঁচবে তার কোন নিশ্চয়তা আছে? আমরা চলে যাওয়ার পর তোমার দেখভাল কে করবে? তুমি না হয় তোমার সন্তানের জন্য থাকবে কিন্তু আমার সন্তানকে আমি কার হাতে অর্পণ করবো? তোমার যেমন নিজের সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে আমাদেরও তেমনি হচ্ছে। আমাদেরকে চিন্তা মুক্ত করো, দায়মুক্ত করো!এত দুশ্চিন্তা নিয়ে মরেও শান্তি পাবো না আমরা বুড়ো বুড়ি।"
“ আপনার যুক্তি মানছি, কিন্তু আমার সন্তানদের জীবন আমি অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারি না আব্বা। আমার কোন সঙ্গির দরকার নাই,আমি এভাবেই ঠিক আছি।শখ আহ্লাদ যা ছিলো সব আমিরার সাথেই দাফন দিয়েছি।এখন শুধু বাচ্চা দুটোর জন্য বেঁচে থাকতে চাই,দয়া করে আমাকে এভাবে ঠেলবেন না ।আমি কোন অনিশ্চিত জীবন,কলহের মাঝে আমার নাবালক দুটো শিশুকে ভাসাতে চাই না আব্বা!"
“ তার মানে আমাদের চাওয়ার কোন দামই নাই তোমার কাছে? আমাদের উপরে ভরসা নাই? তোমার বাচ্চা শুধু তোমার বাচ্চা তাদের প্রতি আমাদের কোন দাবী দাওয়া নাই? তাদের কল্যানের চিন্তা আমাদের নেই?"
“ আব্বা আপনি ভুল বুঝছেন,আমি এভাবে বলতে চাই...”
“ সে তুমি কিভাবে কি বলতে চাইছো আমি বুঝতে পারছি,তুমি নিজের বুঝ ঠিকই বুঝলে,বুঝলে না কেবল এই বৃদ্ধা বৃদ্ধের কথা! তোমার. ”
“ আব্বা দয়া করে এমন কথা বলবেন না। আপনার আর আম্মার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নাই। কিন্তু আমি...”
“ যদি মনে হয় নূন্যতম দামও আছে তবে তোমার আম্মার কথায় সায় দাও।আর হ্যা আল্লাহর উপরে সব ছেড়ে দাও,তিনিই দেখবেন সবটা!"
“ অনুমতি দিলে আমি একটা কথা বলতে চাই গাজী সাহেব!"
বাবা ছেলের তর্ক বিতর্কের মাঝে ঢুকে পড়ে উক্ত বাক্যটি উচ্চারণ করলেন ইমাম সাহেব।তিনি অদূরে বসেই সবটা অবলোকন করছিলেন,এক পর্যায়ে কি মনে করে উঠে এসে ঐ কথাগুলো বললেন,
“ ইমাম সাহেব,আপনি কি বলবেন বলেন।অনুমতি কেন চাইছেন?"
“ হ্যা আমি আসলে আপনাদের কিছু কথা শুনেছি,শুনেছি বলতে কানে ঢুকেছে।যদিও এটা অনুচিত কাজ তবুও ।যাই হোক আমি অনাধিকার চর্চা করলে দুঃখিত মাফ চাইবো, কিন্তু কথা হচ্ছে, না বলেও পারছিলাম না।"
“ আরেহ এত দোনামোনা করছেন কেন? বলেন কি বলবেন!"
ইমাম সাহেব নাসিফের দিকে ঘুরে বসলো। বললেন,
“ শোন বাবা ইয়াং বয়স তোমার।এই বয়সে অনেক চাহিদা থাকে একজন পুরুষের।যতই বলো দিন শেষে তোমারও ইচ্ছা হয় সঙ্গিনীর সাথে নিজেকে ভাগ করতে।সুখ দুঃখের আলাপ করতে।তাকে নিয়ে কল্পনায় ভাসতে। তাছাড়াও শরীরেরও কিছু চাহিদা আছে।কখনো কখনো আড়ালে আবড়ালে তার অনুভূতিও সুড়সুড়ি দেয়। কল্পনার জগতে হলেও নিজের মৃত্যু স্ত্রীকে নিয়ে সেসব ভাবো।এটা তোমার দোষ না।দোষটা বয়সের। সময়ের।তাই বলছি নিজের বাবা মায়ের কথা মেনে নেও।হ্যা আমি মানছি তুমি তোমার মৃত স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসো,তার রেখে যাওয়া আমানতের দেখভালে ত্রুটি রাখতে চাও না তাই বিয়ে করতে ইচ্ছুক হচ্ছো না কিন্তু এটা কি আসলেই সঠিক সিদ্ধান্ত! সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। জীবনের ক্ষেত্রেও তাই বাবা। তোমার নিজের কথাও ভাবতে হবে। তোমার বাবা মায়েরও অধিকার আছে বৃদ্ধ বয়সে পুত্র বধূর সেবা নেওয়ার, তাছাড়াও একটা সময়ে গিয়ে দেখা যাবে এই যে বাচ্চাদের জন্য নিজের যৌবন জীবন ত্যাগ করছো তারাই তোমাকে সময় দিতে পারছে না।তারা তাদের জীবন নিয়েই ব্যস্ত,তখন? তখন তুমি কি করবে? কি করবে জানো? বাচ্চাদের দোষ দিবে। বলবে তাদের জন্য তুমি তোমার সব ত্যাগ করেছো তার বদলে তারা কি দিচ্ছে?তারা বলবে,কে বলেছিলো আপনাকে ত্যাগ করতে? এখানে কিন্তু দোষ কারো না ।
সবটাই সময় আর পরিস্থিতির জটিলতায় সৃষ্টি হচ্ছে এই সমস্যা ।তারাও তোমাকে বলছে না নিজের সব ত্যাগ করে তাদের নিয়ে পড়ে থাকতে,আর তুমিও পারছো না তাদের উপেক্ষা করে নিজেকে নিয়ে ভাবতে! সুতরাং একটি মাঝামাঝি সমাধানে আসো।
যাতে ভবিষ্যতে কখনোই কারো পস্তাতে না হয়!"
“ মানে?"
কৌতুহলী চাহনি পিতা পুত্রের!ইমাম সাহেব দূরে বসে কোরআন তেলাওয়াত ব্যস্ত ঐ বালক আর তার ছোট বোনের দিকে এক পলক তাকিয়ে বললেন,
“ ঐ যে তোমার মেয়েটা দেখছো! এ একসময় বড় হবে, তার জীবনের অনেক কিছু এমন থাকবে যা সে চাইলেই তোমাকে বলতে পারবে না। মেয়েদের এমন অনেক গোপনীয়তাই থাকে যা কেবল তারা নিজেদের মায়ের কাছেই বলতে পারে। তোমার মেয়ের তো নিজের মা নেই।তাই বলে কি তার কখনো সেই বলার মতো সময় আসবে না? অবশ্যই থাকবে,তখন সে নিজের মা'কে খুঁজবে। নিজের মা না পেলেও মায়ের মতো যাকে পাবে তাকেই বলবে। সেক্ষেত্রে সেই মানুষটি হতে পারে কেবল তোমার স্ত্রী, ওদের আসল মা না হলেও তোমার স্ত্রী হলে সেই নারী হবে এদের মায়ের মতো।হোক সৎ মা; সব সৎ মাই কি খারাপ হয়! কেউ না কেউ তো অবশ্যই ভালো হয়। ওদের জন্যেও তো ভালো সৎ মাই থাকতে পারে।"
“ থাকতে পারে, কিন্তু যদি না থাকে?"
“ নেতিবাচক ভাবছো কেন বাবা, একটু ইতিবাচকও তো ভাবতে পারো! তোমার কপালে তো আল্লাহ অগাধ সুখও লিখতে পারে।"
“ চারদিকে এত এত কেচ্ছা দেখি ইমাম সাহেব,ভালো ভাবনা আসে না।"
“ আচ্ছা মানছি তোমার কথা,তুমি এখন একবার সবটা ভেবে দেখো তো কেউ কি তোমার বাচ্চাদের খারাপ চাইছে? না! সবাই তোমাদের তিনজনের কল্যানই চাইছে।যদি তুমি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে সবটা পর্যবেক্ষণ করো তবেই দেখবে সব স্বাভাবিক এবং সহজ!"
“ ইমাম সাহেব আপনার নিকট কোন ভালো পাত্রীর সন্ধান থাকলে বলিয়েন তো।আমরা এগুতো চাই!"
নাযির আহমাদের কথাটা বললেন।ইমাম সাহেব একটু ভাবুক হয়ে আবারও নাসিফ ওয়াসীত্বের দিকে চেয়ে বললেন,
“ শোন এমন কোন নারীকে বিয়ে করো যে সন্তান দানে অক্ষম, তালাকপ্রাপ্তা, হতদরিদ্র পরিবারের!"
“ কি বলছেন?"
“
হ্যা ,আমি ঠিকই বলছি।যেই নারী সন্তান জন্ম দিতে না পারায় স্বামীর সংসার থেকে বিতাড়িত হয়েছে সেই নারী অবশ্যই বাচ্চার মায়া বুঝবে। বুঝবে বাচ্চা না থাকলে কি যন্ত্রনা হয়। এক্ষেত্রে এক সাথে দুটো লাভ হবে, তোমাদের জীবনেও একজন দায়িত্বশীল রমনীর আগমন ঘটবে, তোমাদের ভালোবেসে, যতনে আগলে রাখবে আর সেই নারীরও স্বামীর সংসার, সন্তানের সুখ জুটবে। তোমার বিয়ের মতো ফরজ কাজও আদায় করা হবে এবং একজন অসহায় নারীর জীবনও গুছিয়ে যাবে!তোমারও সঙ্গি হবে, তোমার বাচ্চাদেরও মা জুটবে।"
“ ইমাম সাহেব আপনার কথায় আমি একমত।"
“ আমার একটু ভাবতে হবে।আমি ভাবতে চাই এরপর সিদ্ধান্ত জানাবো।"
“ ভাবো, ভাবতে সমস্যা নাই তবে আমি কিন্তু তোমাকে ঝামেলামুক্ত উপদেশ দিয়েছি।"
“ জ্বী চেষ্টা করব আপনার উপদেশের সম্মান রাখতে।"
নাযির আহমাদ,নাসিফ ওয়াসীত্ব ইমামের সাথে কথা শেষ করতেই,আরো একজনের আগমন ঘটলো, লুঙ্গি পড়ুয়া,কালো পাঞ্জাবীতে আড়ম্বর ভাবে দাড়িয়ে উসখুস করতে থাকলো এক মাঝ বয়সী পুরুষ। এদিকের তিনজনই নিজেদের চোখ উপরে তুলে সেই লোকের পানে নিক্ষিপ্ত করলো, লোকটা হাত কচলে থেমে থেমে বলতে চাইলো,
“ আপনাদের কথা শুনছি,যতটা বুঝলাম পাত্রী খুঁজতেছেন।"
“ না,এ..."
“ হ্যা, ঠিক শুনেছেন। কিন্তু আপনি কে?"
চলবে?
যারা যারা পড়বেন দয়া করে রিএ্যাক্ট , কমেন্ট করবেন।হ্যা কপি করবেন না,পারলে শেয়ার করে নিজেদের গল্প উপন্যাস প্রেমী বন্ধু মহলে আমার লেখনিগুলো ছড়িয়ে দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন!
হ্যাপি রিডিং 🌸🤗







0 মন্তব্যসমূহ