#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্ব_সূচনা
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
“ আসসালামু আলাইকুম উপস্থিত সম্মানিত মুসল্লিরা , আমার ছোট একটি ঘোষণা আছে,দয়া করে একটু মন দিয়ে শুনুন সবাই।
আল্লাহর রহমতে ও ইচ্ছায় আল্লাহর এক বান্দার তরফ থেকে আপনাদের সকলকে আমি ইফতারের দাওয়াত দিতে চাচ্ছি। আপনারা এই ছোট্ট দাওয়াত কবুল করে আল্লাহর বান্দাকে কৃতার্থ করবেন।
আর হ্যা আজ আল্লাহর সেই বান্দার স্ত্রীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী, বছর দুই আগে এই তারিখেই উনি এই নশ্বর দুনিয়ার মোহমায়া ত্যাগ করে নিজের স্বামীকে সঙ্গি বিহীন করে, দুটো অবুঝ শিশুকে মাতৃস্নেহ হারা করে রবের ডাকে সাড়া দিয়ে কবরবাসীদের তালিকায় নিজের নাম লিপি করিয়েছেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।আমরা মরহুমার আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি,আপনারা নিজেদের মোনাজাতে মরহুমার জন্য অবশ্যই এক টুকরো দোয়া রাখবেন তার সাথে দুটো নাবালকের জন্যও যাতে তাদের বাবা যথার্থ মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিতে পারে এবং একজন প্রকৃত মুমিন হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
আপনারা ইফতারের দাওয়াত কবুল করেছেন তো?”
নিজের ঘোষনা শেষে প্রশ্ন করলেন ইমাম আবু ইউসুফ বরকতুল্লাহ ফাতেহ!তার উত্তরে সম্বস্বরে এক তালে বলে উঠলো উপস্থিত মুসল্লিরা,
“ আলহামদুলিল্লাহ!"
“ তাহলে চলুন সবাই সালাত আদায় করে নিজেদের মোনাজাতে এক খন্ড দোয়া তার( মরহুমা) এবং তার পরিবারের জন্য করি।
ফজরের আযানের পরপরই এই ঘোষনা দিলেন ইমাম সাহেব আল্লাহর সেই বান্দা নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজীর তরফ থেকে।৩৮ বছর বয়সী নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী,অত্র স্থানীয় এলাকার সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।পেশায় ব্যাবসায়ী। তার পিতা জনাব মোঃ নাযির আহমাদ গাজী এই এলাকার সম্মানিত একজন প্রবীন ব্যাবসায়ী।তিনি অত্র অঞ্চলের ব্যাবসায়ী সমিতির এবং সুশীল সমাজ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা নীতিনির্ধারণ কাজে জড়িত আছেন।সুবিবেচক এবং জ্ঞানী মানুষ হিসেবেই সবার কাছে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহনীয়।
তিনি একমাত্র পুত্র নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী, একমাত্র কন্যা উম্মে নাফিসা তাহসিন গাজী,স্ত্রী উম্মে সালমা ফাওযিয়া,নাতী নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী এবং নাতনি উম্মে নাবিহা উসরাত গাজীর সহিত কামরাঙ্গীরচর থানার অধীনস্থ ৫৬ নং ওয়ার্ড,কুড়ারঘাট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
তার পূর্ব পুরুষদের আমল থেকেই তারা এই এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের তালিকায় নিজেদের অতি পরিচিত হিসেবে গড়ে তুলেছে।
বছর দুই আগে ব্লাড ক্যান্সার নামক মরনব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তার একমাত্র পুত্র নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজীর সহধর্মিণী আমিরা ইসরাত সওদাগর দুনিয়ার মায়া এবং পরিবার পরিজন ছেড়ে পারি জমায় চিরস্থায়ী দেশে।যাওয়ার সময় মরহুমা রেখে যান স্বামী এবং ১৫ মাসের এক কন্যা সন্তান এবং ৫ বছর ৫ মাসের এক পুত্র সন্তান। বছর ঘুরে আজ সেইদিন।যাওয়ার সময় রমজানের মাস না থাকলেও পর্যায়ক্রমে এখন রমজানের চতুর্থ দিন।
ইমামের ঘোষনা শেষেই সবাই কাতার সাজিয়ে সালাতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়ে।সাত বছর বয়সী একটা বাচ্চাকে নিজের মাঝে দাড় করিয়ে নিজে এবং তার পিতা নাযির আহমাদ গাজীও দাঁড়িয়ে পড়ে ইমামের পরবর্তী কাতারে।
প্রতি বছর রমজান মাসে এই মসজিদে ইফতারের সরবরাহ গাজী পরিবার থেকেই করা হয়।তবুও বিশেষ দিন হিসেবে গত দুটি বছর উল্লেখযোগ্য অংশ।এই একটা দিনের দাওয়াত শুরু থেকেই সবাইকে দেওয়া হয়।এই দিন বিশেষ আয়োজন করা হয়।সকাল থেকে কোরআন তেলাওয়াত থেকে এতিম, অসহায় শিশু এবং বৃদ্ধদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এবং নির্দিষ্ট কয়েকজনকে আর্থিকভাবে স্থায়ী সহায়তা করার আয়োজনও করে থাকেন গাজী পরিবারের এই দুই পুরুষ সদস্য।সেই রীতি অনুসারে আজ বাদ ফজরে দাওয়াতের কাজ সারলো নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী।
দাদা, বাবার সাথে ফজরের সালাত আদায় করতে আসা ৭ বছর তিন ২ মাস বয়সী নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী ইমামের থেকে খানিকটা দূরে সালাতের আদবে বসে থাকা দাদার কোলে বসে ঢুলছে।ঢুলু ঢুলু চোখে সে ইমামের সাথে বিশেষ আলাপরত বাবাকে দেখছে।তার দাদা তাকে শক্ত বাঁধনে আঁকড়ে ধরে সেদিকে মন দিয়ে সবটা শুনছে।সে প্রতিদিনই দাদা, বাবার সাথে সালাত আদায় করতে মসজিদে আসে। সুন্দর এবং পরিপূর্ণ নিয়মানুযায়ী সে সালাত আদায় করবে কিন্তু কি আশ্চর্য সালাত আদায়ের একটু পরেই তার দুচোখ ঘুমে ঢলে পড়তে চায়। কোনমতেই খুলে রাখতে পারে না সে।
আবার ঘুমেরও দরকার আছে নয়তো পরে আর ক্লাস করতে পারবে না , মাদ্রাসা,স্কুলে গিয়ে ঢুলতে হবে। সে এই মসজিদেই সকাল সাতটায় আরবী অধ্যায়ন করে এবং একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে।
এখান থেকে গিয়ে সে ঘুমাবে এরপর ঘন্টা দুই পর তার দাদী অথবা ফুফুজান তাকে ডেকে তুলবে এবং মসজিদের জন্য তৈরি করে স্কুলে দিবে। দাদা অথবা দাদী এসে তাকে মসজিদে বসিয়ে দিয়ে যায়।তখন মন দিয়ে পড়তে হয় নইলে ওস্তাদের ঐ চিকন বেতের বারি পা/ছার ছা/ল তুলে দিতে একটুও ভাববে না।সে শুনেছে তার বাবাকে বলতে, ” মাংস আপনার, হাড্ডি আমার!আমি শুধু চাই শুদ্ধ করে কোরআন শরীফ আত্বস্থ করুক। একটুও ছাড় দিবেন না। এরপর থেকেই সে একদম সোজা হয়ে মনযোগ দিয়ে পড়তে আসে।
“ চলেন আব্বা!"
নিজ বাবা আর ছেলেকে এভাবে ঢুলতে দেখে হালকা সুক্ষ্ম শ্বাস ছাড়লো নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী। ছেলেটাকে বোধহয় একটু বেশিই চাপ দিয়ে ফেলছে। সারাদিন পড়া আর দৌড়ের উপরে থাকে এই সাত বছর বয়সী বাচ্চাটা।সকাল সাতটা থেকে আটটা মাদ্রাসা,দশটা থেকে একটা স্কুল,চারটা থেকে পাঁচটা ক্যারাটে ক্লাস। এরপর আবার রাত আটটা থেকে দশটা টানা প্রাইভেট পড়তে হয়।খেলা তো ভালো দুদন্ড দম ছেড়ে বসার সময়ও বাচ্চাটা পায়না। সারাদিন শুধু ছুটছে কেবল ছুটছে!
“ আব্বা উঠেন,ওকে আমার কাছে দেন।"
নাসিফ অনেক কষ্ট করে টেনে ছেলেকে নিজের কোলে তুলে নিলো।সাত বছর বয়সী ছেলেকে কোলে নিতে বেশ বেগ পোহাতে হয়।তবুও কিছু করার নাই।নিয়মিত সালাতের অভ্যাস তৈরি করতেই রোজ ফজরের ওয়াক্তে সে নিজের সাথে নিয়ে আসে। এমনিতেই বাচ্চাদের দেওয়ার মতো সময় তার হয় না।এর মধ্যে বাচ্চা দুটোর মা নেই। সারাদিন একজন প্রকৃত এতিমের মতো পরে থাকে।যতই দাদী, ফুপু, দাদা দেখভাল করুক,দিন শেষে এটাই সত্য মা বাবার মতো দরদি কিছু নাই এই পৃথিবীতে। তারা যতটুকু করতে পারবে এই বয়সে এসে বয়স্ক দুজন মানুষ তা করতে পারবে না।
৬৫ বছর বয়সী নাযির আহমাদ আর ৫৮ বছর বয়সী সালমা ফাওযিয়ার পক্ষে এই বয়সে কিভাবে সম্ভব দুটো নাতী নাতনির দেখভাল করা।তবুও করতে হয় কিছু করার নেই।এই বয়সেই বাচ্চা দুটো মা হারা হলো,ছেলেটা কেমন ছন্নছাড়া জীবনে সয়ে নিলো তাই বাধ্য হয়ে তাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
“ সবকিছু বুঝিয়ে বলছো?"
ছেলেকে প্রশ্ন করলেন নাযির আহমাদ গাজী। নাফিস বাম হাত দিয়ে ছেলের কোমর পেঁচিয়ে ডান হাতে ছেলেকে নিজের কাঁধে আলতোভাবে শুইয়ে পিঠটা আঁকড়ে ধরে বললো,
“ জ্বী আব্বা; ওরা ছয়টার মধ্যেই বাসায় যাবে।"
“ সাবধানে ধরো,পড়ে যাবে!"
"পড়বেনা ইনশাআল্লাহ!"
সাত বছর বয়সী একটা সুস্বাস্থ্যবান বাচ্চাকে কোলে নেওয়া আসলেই কঠিন কাজ।তাও যদি হয় ঘুমন্ত।
বেশ সাবধানী হয়ে মসজিদে আপাতত রয়ে যাওয়া মুসল্লিদের উদ্দেশে বললো,
“ আসসালামু আলাইকুম সবাইকে।দোয়ায় রাখবেন আমার বাচ্চা আর মরহুমা স্ত্রীকে।আসি।সবাই ভালো থাকবেন!"
এক একে প্রত্যুত্তর করলো অনেকেই।নাযির আহমাদ, নাসিফ ওয়াসীত্ব নাইফ ওয়াসীত্বকে নিয়ে চলে গেল নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে।
“ আসসালামু আলাইকুম আম্মা।"
“ ওয়ালাইকুম আসসালাম, ঘুমিয়ে পড়েছে?"
“ জ্বী আম্মা।"
“ আচ্ছা যাও, ভেতরে গিয়ে একটু ঘুমাও বাপা বেটা মিলে।"
“ না আম্মা এখন আর ঘুমাবো না।আমি তালিব বাবুর্চির সাথে একটু বাজারে যাবো।"
“এখন কেন?"
“ খিরের জন্য খিরসা কিনতে যাবো। আবার একটু ময়রার দোকানেও যেতে হবে, মিষ্টি কিভাবে কি করছে একবার দেখা উচিত না?"
“ হ্যা তা তো উচিত কিন্তু তুমি তো সারারাতেও একটু ঘুমালে না।এভাবে না ঘুমিয়ে থাকলে তো তোমার প্রেসার ফল করবে আব্বা!"
“ আল্লাহ ভরসা আম্মা,কিছু হবে না।"
ছেলেকে শুইয়ে দিলো বিছানার এক পাশে।বিশাল এই ঘরে দুটো ছোট খাট।মাঝে চার হাত সমান দুরত্ব রেখে দুই পাশে দুটো খাট ফেলা হয়েছে।খাটের চারিদিকে কাঠ দিয়ে নকশা করে উঁচু করে দেওয়া যাতে বাচ্চারা গড়িয়ে পড়ে যে না যায়।মেয়েকে শুইয়ে রেখেছে এক পাশে, অন্য পাশে ছেলেকে।ঘরটা তাদের সুস্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিন্তে, উপযোগী করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ আলো বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।দুই পাশে দুটো দেওয়াল ফিক্সড আলমিরাহ,তার পাশে রাখা দুজনের জন্য খেলনার সেল্ফ, তাদের থেকে একটু দূরত্বে পড়ার টেবিল অতঃপর ফ্লোর মেট বিছিয়ে নানারকম খেলনা দিয়ে সাজানো।এক পাশে ছোট্ট একটি ড্রেসি টেবিলও আছে।দুই বিছানার মাঝে একটা সুন্দর টেবিল রাখা যেটাতে পানির পট এবং একটি টেবিল এলার্ম ঘড়ি রাখা।
অপর পাশের দেওয়াল কেটে দরজা বানিয়ে নিজের ঘরের সাথে মিশিয়ে নিয়েছে যাতে মাঝ রাতে বাচ্চাদের ভয় করলে তারা দ্রুত নিজ পিতার কাছে পৌঁছাতে পারে।
ছেলেকে কাত করে শুইয়ে দিয়ে তার গায়ে পাতলা কাঁথা টেনে দিলো।মাথায় হাত বুলিয়ে কপালে চুমু দিলো। কিছু সময় বিরবির করে কিছু দোয়া পড়ে ছেলের সারা শরীরে ফুঁ দিলো। এরপর গেল মেয়ের কাছে।
মেয়ের মুখের দিকে তাকালেই পরম শান্তিতে অন্তর সিক্ত হয়ে যায়। ফর্সা মুখটা রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার ন্যায় উজ্জলতা ছড়ায়। গোলগাল মুখে বড় বড় ডাগর আঁখি, ঘন কৃষ্ণ পল্লবে ঘেরা পত্র দুখান, ছোট্ট কমলার ন্যায় একজোড়া পাতলা ঠোঁট। কাঁধ সমান লম্বা চুলগুলো সবসময় পুতুলওয়ালা রাবার ব্যান্ড
দিয়ে দুটো জুটি করা থাকে।হালকা গলুমলু এই পুতুল কন্যাকে দেখলে যেকেউ'ই প্রথম দর্শনেই বলবে সে তার মায়ের শৈশব!
আমিরা ইসরাত সওদাগর; নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজীর পাঁচ বছরের প্রেমিকা,সাত বছর পাঁচ মাসের সহধর্মিণী, স্ত্রী, অর্ধাঙ্গিনী। একদিন হুট করেই কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে গেল সবাইকে ছেড়ে।রেখে গেল নিঃসঙ্গ করে স্বার্থপরের মতো একজন মানুষের উপরে দুটো নাবালককে মানুষ করার দায়িত্ব দিয়ে। অথচ ভাবলোই না বাবা কখনোই মা হতে পারে না।পারাই সম্ভব নয়।
স্ত্রীর আদলে গড়ে উঠা মেয়ের সর্ব মুখে ছোট ছোট চুমু দিয়ে গলুমলু বাচ্চা মেয়েটার ছোট্ট ছোট্ট গলুমলু আঙ্গুলগুলোকে নিজের বড় বড় শক্ত তালুর ভাঁজে নিয়ে একটা একটা করে চুমু দিতে থাকলো। অগোচরেই গাল গড়িয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো।নাক টেনে নিজেকে সামলে নিয়ে বললো,
“ আল্লাহ আমাদের একমাত্র প্রতিপালক,তিনিই আমাদের সবাইকে হেফাজত করবেন,তিনি আমাদের জন্য যা উত্তম ও কল্যানকর তাই করবেন।আমি শুধু উনার অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করবো আম্মা। তোমাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং সুখের জন্য যদি আমার যৌবন জীবন সব ত্যাগ করতে হয় তবে আমি তাই করবো তবুও তোমাদের জীবনকে অন্ধকারে ডুবতে দিবো না ইনশাআল্লাহ।তোমরা বাবার প্রতি ভরসা রেখো।"
〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️
চলবে?
বড় বড় পর্ব দিবো তাই একটু সময় নিয়ে পড়বেন সবাই। কেমন লাগলো তাও জানাবেন!







0 মন্তব্যসমূহ