#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১১
‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️
খেজুর খুরমা আর তিন চার পদের মিষ্টি দেওয়া হলো মসজিদে যা নামাজের পর মুসল্লিদের মাঝে বিতরণ করা হবে বিয়ে উপলক্ষে। পুরুষ সদস্যরা মসজিদে তারাবীহ নামাজের জন্য রয়ে গেল আর মহিলারা বউ নিয়ে মোল্লা বাড়ি ফিরলো।বাকী অনুষ্ঠান নামাজের পর।
মোল্লা বাড়ির বসার ঘরে জামাই বাড়ির মধ্যে থেকে বসেছে নাসিফ,তার বাবা,বড় চাচা,ইমাম সাহেব ঘটক আর আরিফ জুবায়ের সহ একজন উকিল এবং সকল নারী সদস্যরা আর মোল্লা পরিবারের থেকে আফিয়ার মামা,বড় চাচা,এক দুলাভাই,সালাহ্ সহ সব নারী সদস্যগণ। পাশাপাশি এনে বসানো হলো আফিয়াকে।তার মাথায় এখন
ঠোঁট অবধি টানা লম্বা ঘোমটা যার নিচ দিয়ে কেবল থুতনির অল্প একটু দেখা যাচ্ছে। মসজিদে ধর্মীয় অনুসারে বিয়ে সম্পন্ন হলেও এখন আইনি ভাবে সম্পন্ন করতে এই বসা। কাগজে কলমে সব শর্ত পূরণে বিশ্বাসী নাসিফ নিজেরটা কাল বুঝে নিয়েছে তাই আজ নিজের জবানে শক্ত থাকতে আফিয়ার শর্ত পূরণ করতে সবরকমের ব্যবস্থা করে এসেছে।
উকিল সাহেব সব রকমের নিয়ম পড়ে সবাইকে শুনিয়ে আগে নাসিফকে দিলো স্বাক্ষর করতে।নাসিফ কোনরকম ভাবনা চিন্তা ছাড়াই স্বাক্ষর দিয়ে দিলো। এরপর আফিয়াকে দিলে সে একটু থেমে পরে করে দেয়। বৈবাহিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষের দিকে একটা কাগজ বের করে আফিয়াকে সই করতে বললে আফিয়া কিছু জিজ্ঞেস করতে যাওয়ার আগেই আফিয়ার চাচা সাইদ মোল্লা জিজ্ঞেস করে,
“এইটা আবার কিসের কাগজ?"
উকিল সাহেব সাইদ মোল্লার দিকে একবার তাকিয়ে
নাসিফের দিকে তাকালো।নাসিফ চোখের ইশারায় উনাকে অনুমতি দিলো পড়ে শোনাতে,
” এটা হচ্ছে দলিল তাতো নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন?"
জিজ্ঞেস করলো উকিল সাহেব সবার উদ্দেশ্যে, অনেকেই মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিয়েছে আবার অনেকেই চুপ আছে।উকিল সাহেব বললেন,
“ কেরানিগঞ্জ কলাতিয়া ইউনিয়ন বাজারের পাশে নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজীর ব্যক্তিগত আয়ের অর্থে কেনা পাঁচ কাটার একটি জমি আছে যার তিনদিকে দেওয়াল টেনে এক দিকে দোকান তুলে ভাড়া দিয়ে রাখা আছে। আপনাদের জামাতা সেই জমি তার নববধূকে বিয়ের উপহার হিসেবে দিতে চাইছে।তাই এই কাগজ তৈরি করা হয়েছে। আশাকরি আপনারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তবে এখানেও ছোট একটা শর্ত আছে। শর্তটা হলো ,ঐ সম্পতির মালিকানা বৈবাহিক সূত্রে সামিহা তাসনিম আফিয়া হলেও কোনভাবেই যদি এই বিয়েটা না টিকে তবে তৎক্ষণাৎ তিনি ঐ সম্পত্তির মালিকানা হারাবেন।মানে বিয়ের মূল শর্ত যদি বরখেলাপ হয় তাহলে অবশ্যই বিয়ে টিকবে না আর বিয়ে না টিকলে সে নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজীর কোন সম্পত্তির অধিকারী হবেন না।এই মর্মে আমার হাতের এই কাগজটা আর এই দলিলটি।"
“ কিসের শর্ত,কিসের মূল উদ্দেশ্য? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!"
উত্তেজিত হয়ে উঠলেন সাইদ মোল্লা। শুধু তিনিই নয়। উপস্থিত সব মানুষই কেবল গাজী পরিবারের একান্ত কিছু সদস্য আর মোল্লা পরিবারের আফিয়া আর সাফিয়া বাদে।গত কালকের কথা সাফিয়া হালকা কিছুটা শুনেছিলো এরপর যখন নাসিফ চলে গেল তখন আফিয়া ঘরে আসলে সে আফিয়াকে জেরা করতে থাকলো,
ফ্ল্যাশব্যাক...
নাসিফ কাগজে সই করিয়ে আর কোন কথা বলেনি। দ্রুত চলে যায়। এদিকে আফিয়া নাসিফের এহেন ব্যবহারে ভীষণ খারাপ ভাবে আহত হয়, মানসিক আহত।যার পরিমাণ কাউকে দেখানো যায় না।আর না বোঝানো যায়।কেমন যেন অস্থির আর ছটফটানি শুরু হয়েছিল ভেতরে।হাপড় উঠছিলো বড় বড় ।সে আর ঘরে যায় নি । ওখানেই একটা গাছের পুরানো মোটা গুড়ির উপর বসে পড়ে।সে নিজেকে বাজিতে তুলেছে।
বাচ্চা হবে না বলেই তো কত মানুষের কত কথার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। একটা মানুষ যাকে সে ভীষন ভালোবাসতো। কতগুলো বছর এক সাথে পথ চলার স্বপ্ন দেখিয়েছিল,কত কত রঙ্গিন স্বপ্ন!সেই মানুষটিও মুহুর্তেই হাত ছেড়ে দিয়েছিল তার মায়ের এক কথায় আর কখনোই পিছনে ফিরে দেখেনি,সে যে আফিয়া নামক এক নারীর স্বপ্নকে পায়ে পিষে,সদ্য জীবনের সবচেয়ে চুড়ান্ত খারাপ সংবাদ পাওয়া নারীকে ফেলে যাচ্ছে তাও সে একবারও ফিরে দেখেনি। জানতে চায়নি তার আফিয়া কেমন আছে? আদৌও বেঁচে আছে না কি মরে গেছে। অবশ্য নিবেই বা কেন? সে তো এখন অন্য কাউকে নিয়ে ভীষন ব্যস্ত।শুনেছে আফিয়া; সে তার মায়ের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করে নিয়েছে।আর এখন তাদের তিন বছরের এক ছেলে সন্তান আছে, আবারও আল্লাহ তাদের ঘরে খুশি দিচ্ছে।এটা কি আফিয়া নামক বাজা নারীকে বিয়ে করলে পেতো! অবশ্যই পেতো না তাই তো সে তার মায়ের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে।আর কোন সন্তান জন্ম দানে অপরিপক্ক নারীকে নিয়ে অযথাই জীবনের ওজন বাড়ায়নি।আফিয়া তাকে দোষ দিচ্ছে না আর আল্লাহর কাছে কোন অভিযোগ করছে। বরং আফিয়া মনে করে আল্লাহ ভালোর জন্যই সব করেছে নচেৎ মানুষ চিনতো কি করে? আফিয়া নির্বাক হয়ে এসবই ভাবছিলো তখনই শোনা গেল সাফিয়ার গলা,
“ সত্যি করে একটা কথা বলো তো; সেই তো তুমি বউ মরা বিবাহিত দুই বাচ্চার বাপকেই বিয়ে করতাছো, তাইলে উনার দুলাভাইয়ের কি সমস্যা আছিলো? নাকি এই লোকের টাকা বেশি দেইখাই পইটা গ্যাছো? কি মনে করতাছো টাকা থাকলেই সুখি হবা! তাও তো হ্যার দুলাভাই কইছিলো বিয়ার পরেও তোমারে চাকরি করতে দিবো যাতে তুমি মা বাবার দায়িত্ব পালন করতে পারো কিন্তু এই লোক কি বলতাছে? হ্যায় তো দেখতাছি নিজের পোলাপাইন ছাড়া কিছুই বুঝে না।মানে কি পরিমানের চালাক; তুমি যাতে তার পোলাপাইনরে কষ্ট না দাও তাই আগেই কাগজে সই নিয়ে নিছে অথচ!আসল ঘটনা কি? তুমি কি বলবা? না কি উনি বেশি সুদর্শন দেইখা রাজী অইছো!আসলে এই বিয়াতে তোমার রাজী অওয়ার আসল কারণটা কি?"
“ এখান থেকে যা, নয়তো আমি যাচ্ছি!"
বলেই আফিয়া উঠে চলে গেল।সাফিয়ার অহেতুক কথায় তর্ক করার ইচ্ছা নাই।সে আর একদিন আছে এই বাড়িতে,তাও সাফিয়ার মতো বেয়াদবের সাথে ঝগড়া করে নষ্ট করতে চায় না।তাই নিজেই স্থান পরিত্যাগ করলো।
বর্তমান....
“ কেউ কিছু বলছো না কেন? কিসের শর্তের কথা হচ্ছে এখানে?"
সাইদ জিজ্ঞেস করছেন নিজের পরিবারের কাছে।তারাও সবাই হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে গাজী পরিবারের সবার দিকে।তারাও নিজেরা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।নাসিফ চেয়ে আছে আফিয়ার দিকে,আর আফিয়া নিথর হয়ে চেয়ে আছে নিজের কোলের উপর রাখা মেহেদী রাঙা হাতের মুঠোর উপর যার উপর টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু।নাসিফ বুঝে নিলো তার দেওয়া শর্তগুলো তাদের মাঝেই রয়েছে তার উন্মোচন আফিয়া আর কারো সামনে করেনি।তার দিকে তার মা সহ বন্ধু আর উকিল জানে।বাবাও হয়তো অনুমান করছে কিন্তু নিশ্চিত হয়ে জানে না।নাসিফ চায় আফিয়া বলুক সবাইকে।কারণ সে আগেই বলে নিয়েছে,সে তো লুকোচুরি করেনি। সুতরাং তার কোন দোষ নেই, উচিত ছিলো আফিয়ার নিজের পরিবারের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করা।করেনি কেন? তবে কি আফিয়া চায় না সবাই সবটা জানুক।
সেলিম নিজের বসার স্থান ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে নাযির আহমাদকে জিজ্ঞেস করলেন,
“ বেয়াদবি নিবেন না ভাইজান,আমি আসলেই বুঝতে পারছি না আপনারা কিসের মুল শর্তের কথা বলছেন! আমাদের মাঝে তো কোন শর্ত রাখা হয়নি। আমাদের মেয়ের একটা সমস্যা আছে তাই আমরা আপনার ছেলে দুই বাচ্চার বাপ হওয়া সত্ত্বেও রাজী হয়েছি এর বাইরে আমাদের কোন চাওয়া ছিলো না আর না আপনেরা কিছু চাইছিলেন
তাহলে এখন এইসব কি বলতাছে উকিল সাহেব?"
“ আমার মনে হয় আপনারা আপনার মেয়ের সাথেই কথা বললে বেশি ভালো হয়!"
সালমা ফাওযিয়া বললেন, সেলিম সালমা ফাওযিয়ার কথায় কোন কথা বলার আগেই
সুলতানা আযিযাহ মেয়ের দিকে এগিয়ে এসে বললেন,
“ আম্মা উনারা কিসের শর্তের কথা বলছে,তুমি কি কিছু আমাদের থেকে লুকিয়েছো?"
আফিয়া জানে তার পরিবারের সদস্যরা এই সত্য কথা শুনলে এই বিয়ে এখানেই খারিজ করে দিবে।কোন মতেই এমন শর্ত তারা মানবে না।তাই সে নিজেকে সামলে কঠোর গলায় বললো,
“ আম্মা এত উদগ্রীব হয়ো না তেমন কোন শর্ত নয়।উনার সাথে আমার কথা হয়েছিলো আর আমি সব বুঝেই তাতে সম্মতি দিয়েছি।তোমরা অস্থির হয়ো না।উকিল সাহেব দিন আমি কাগজে সই করে দিচ্ছি।"
নিজের মাকে বলেই উকিলকে উক্ত কথাটা বললো, উকিল কাগজ বাড়িয়ে দেওয়ার আগেই নাসিফ তাকে থামিয়ে দিয়ে আফিয়ার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর মুখে বললো,
“ তুমি তোমার অভিভাবকদের সাথে আগে এই বিষয়ে আলোচনা করো।আমি চাই না ভবিষ্যতে তারা আমাকে অথবা আমার পরিবারের কাউকে দোষারোপ করুক।"
“ হ্যা তাই,তুমি আগে আমাদের সাথে কথা বলো!"
মুন্নি আফিয়ার হাত ধরে টেনে উঠালো।আফিয়া আর কি বলবে! যেখানে নাসিফ'ই বলছে সবটা আগে খোলাসা করতে।আফিয়াকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো।সাফিয়া জেনেও না জানার ভান ধরে বসে আছে।
“ এবার বল কি লুকাচ্ছিস আমাদের থেকে!"
জিজ্ঞেস করলো মুন্নি, আফিয়ার চাচী আকলিমা আফিয়া কে নিজের দিকে ঘুরিয়ে সোজাসুজি চোখে চোখ রেখে বললো,
“ দ্যাখ এমন কোন কথা লুকাবি না যা তোর জন্য ভবিষ্যতে খারাপ হবে!"
সবাই ঘুরি ফিরে একই কথা বলছে।আফিয়া না চাইতেও বলতে বাধ্য হচ্ছে তবে খানিকটা লুকিয়ে,
“ তেমন কিছু নয় আম্মু। তোমরা অযথাই এত চিন্তা করছো!"
“ তাহলে তুমি আমার চিন্তা কমাও।বললেই তো হয় সত্যটা কি!"
আফিয়া সবার দিকে একবার নজর বুলিয়ে বললো,
“ আমার তো এমনিতেই বাচ্চা হবে না। তারপরও উনারা উনাদের বাচ্চাদের জন্য চিন্তিত হয়ে আমাকে শুধু অনুরোধ করে বলছে আমি যেন কখনোই সৎ সন্তান মনে না করি।আর আমার বাচ্চা হবে না তাতো নিশ্চিত এরপরেও যেন আমি বাচ্চা না নেই। জাস্ট এতটুকুই বলছে।এখন দেখো উনারা কেমন মানুষ, আমার তো এমনিতেই বাচ্চা হবে না সেখানে আবার শর্ত ফর্ত দিয়ে রাখার মানে হয়,তাও।আমিও হাসতে হাসতে রাজী হয়েছি কারণ এটা তো হওয়ার নয়।আর ..
“ থামলি ক্যান বল!"
“ আমি বলেছি আমি আমার পরিবারের দায়িত্ব নিতে চাই,তাই বিয়ের পরেও চাকরি করবো।উনি বলেছিলো চাকরি করা যাবে না।তার চেয়েও ভালো ব্যবস্থা উনি আমাকে করে দিবেন।এই জন্যই হয়তো এই জমির ব্যবস্থা করেছেন!"
আফিয়ার কথা শেষ হতেই সুলতানা আযিযাহ ধপ করে বসে পড়লো।তিনি বুঝতে পারলেন উনার মেয়ে এখানেও নিজে জীবনটাকে বাজীতে তুলছে।উনি নিরবে বুক চাপড়ে কাঁদতে বসলেন।আফিয়া মায়ের পায়ের সামনে বসে বললো,
“ তুমিই তো বলছো বাচ্চা গুলোর মা হতে,তাহলে এখন এমন কেন করছো আম্মু! আমি সত্যি বলছি আমি ঐ বাচ্চাগুলোকে ভালোবেসেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আর আমার এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র দ্বিধা কাজ করছে না আম্মু!"
“ কাজ করবে কিভাবে! এখন তো টাকা দেখে চোখে লাল নীল বাত্তি জ্বলতাছে তোমার!"
পেছন থেকে সাফিয়ার আবারও তিরষ্কার করা।মুন্নি মামী সাফিয়ার দিকে তাকিয়ে রক্ত চক্ষু দেখিয়ে বললো,
“ তো তোমার মতো কি বাপ মাকে রাস্তায় ফালাইয়া যাইবো?তার নিজের ঘর গড়ার আগেও বাপ মায়ের চিন্তা করতে হইতাছে আর তুমি পারো খালি কথা শুনাইতে!"
“ কিন্তু তাই বলে এমন একটি শর্ত!"
আকলিমা চাচীর কথায় মুন্নি মামী বললেন,
“ বিয়ে হইয়া গ্যাছে এহোন এত ভাইবা আর কি অইবো? তাছাড়াও এতেই যদি মাইয়াডার কপালে এক দন্ড সুখ আসে তাইলে, তাইলে তাই হোক। অন্তত এমন দুই চারটা নিমকহারামের মুখ থেইকা বাইচা থাকবো!"
“ তা মন্দ বলেননি মামী।"
সিনথিয়া সাফিয়াকে দেখে তারপর মামীর দিকে তাকিয়ে বললো,মামী সুলতানা আযিযাহকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“ এত আহাজারির কিছু অয় নাই।চলেন মাইয়া বিদায় দিবেন।ঘরে রাইখা কি খুঁটি দেওয়ার ইচ্ছা আছে নাকি! না সারাজীবন খালি আপনেগো কামাই কইরাই খাওয়াইবো। অসুস্থ মাইয়া নিবো ব্যাডার শর্ত দিবো না তা ক্যামনে ভাবেন।তারা আপনেগো অসুস্থ মাইয়া নিতাছে তাও আবার মোটা অংকের দেনমোহর দিয়া সুতরাং মুখ বুইজা সব মাইন্না ন্যান।"
মামী কথাগুলো অবশ্যই সাফিয়াকে শুনিয়ে বলেছেন এবং আফিয়ার হাত ধরে নিজেই ঘর থেকে বের করে নিয়ে গেলো। সুলতানা আযিযাহ আর গেলেন না।
বসার ঘরে সবাই উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে।আফিয়াকে আসতে দেখে সেদিকে তাকালো।আফিয়া গিয়ে পূনরায় নিজের জায়গায় বসলো,নাসিফ আফিয়ার পানে গভীর চাহনিতে বোঝার চেষ্টা করছে কিছু একটা,মামী সবার সামনে এসে বললেন,
“ আপনারা কাজ সারুন। আমাদের কথা হয়েছে। সমস্যা নাই কোন!"
নাসিফ অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে দেখলো কেবল উপস্থিত মানুষের আচরণ। অতঃপর আইনি কাজও সম্পন্ন হলো। এরপর খাওয়া দাওয়ার পর্ব চুকিয়ে বউ নিয়ে রওনা দিলো।
চলমান......
আজ কদরের রাত্রী বলেই অনেকেই ধারনা করি,সে যাই হোক আমার আম্মা আব্বার জন্য অবশ্যই একটু দোয়া করবেন সকলে!
আল্লাহ সবার আম্মা আব্বাকে দীর্ঘজীবী করুক ও সুস্থ রাখুক।আমীন।যারা ইদ করত গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তাদের জন্য শুভকামনা, আল্লাহ আপনাদের যাত্রা শুভ করুক। সাবধানে থাকবেন সবাই।
কেমন হচ্ছে জানাতে ভুলবেন না অবশ্যই।🌸
হ্যাপি রিডিং ডিয়ার রিডার্স।😚







0 মন্তব্যসমূহ