সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_১০

 #সুখ_প্রান্তর

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_১০



‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️


লাল নীল হলুদ মরিচ বাতির আলোয় ঝলমলে হয়ে উঠেছে মোল্লা বাড়ির চারদিক।ছোট ছোট বাতিগুলো দিয়ে গাছের ডালপালা জড়িয়ে সাজিয়েছে উঠানের সব গাছগুলো।একপাশে পরপর চারটা টেবিল পেতে সেটাকেও আর্টিফেসিয়াল ফুল আর পাতা,মরিচ বাতি দিয়ে সাজিয়েছে। মোটামুটি পরিবারের সব সদস্য দিয়ে বাড়ি এখন গমগমে হয়ে আছে। তারাবীহর আগেই বিয়ে পড়ানো হবে।ইফতার বর পক্ষ এখানেই করবে। অর্থাৎ বিয়ের প্রাথমিক পর্ব ইফতার দিয়েই শুরু হবে। যেহেতু রোজার মধ্যেই বিয়ে তাই এই আয়োজন করা হয়েছে অবশ্য গাজী পরিবারের সবাই নিষেধ করেছিলো এবং তাদের পক্ষ থেকে লোক সংখ্যা খুবই কম আসবে বলে জানিয়েছেন।তবুও যেহেতু বাড়ির বড় মেয়ের বিয়ে তাই সবাই মিলে চেষ্টা করেছে মোটামুটি একটা আয়োজনের ব্যবস্থা করতে।

আগ মাগরিব একে একে উপস্থিত হলো বরের পরিবারের মোটা চারখানা গাড়ী।কোড়া সাদা  সের‌ওয়ানীতে আর মাথায় থাকা পাপড়িতে আজ দ্বিতীয় বারের মতো বর সেজেছে নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী।তার হাতের মুঠোয় হাত রেখে পায়ে পা মিলিয়ে চলছে সাদা পাজামা পাঞ্জাবীর উপর মেরুন রঙের কোটি পড়া নাইফ ওয়াসীত্ব গাজীর।তার পাশে আরিফ জুবায়ের,তার সাথে তার সহধর্মিণী সানজিদাহ আনতারা। 

“ আসসালামু আলাইকুম,আসেন, আসেন।"

আফিয়ার বড় চাচা সাইদ মোল্লা সদর দরজায় বর পক্ষের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।তিনি সম্ভ্রাধন জানিয়ে ভেতর নিয়ে গেলেন। পুরুষ সদস্যরা সব সামনের বাইরেই সেই সজ্জিত আসরে বসলেন।আর মহিলারা সব পেছনের উঠানে সজ্জিত বসার জায়গায় গিয়ে বসলেন।সব রকম ফর্মালিটিজ সম্পূর্ণ করে একে একে আলাপে আলাপে ব্যস্ত হয়ে গেলেন সকলে। এদিকে ঘরে...

নিজের ঘরে আয়নার সামনে চেয়ারে বসে আছে আফিয়া। গায়ে তার একটা মেরুন জামদানি শাড়ি।ভারি জারদৌসির কাজ করা মেরুন ব্লাউজের সাথে হালকা কাজ করা জামদানি শাড়িটা নাকি নাসিফের পছন্দ করা। অদ্ভুত সুন্দর শাড়িটা।আর আফিয়ার গায়ে মানিয়েছেও বেশ।হাত ভর্তি সোনার চিকন চুড়ি,দুই হাতে দুটো রুলি দেওয়া।গলায় একটা সিতা হারের সাথে লম্বা মতি দানার চেইন পড়া।মাথায় হিজাবের ওপর ভারী সিল্ক ওড়না দেওয়া। নাম অবধি লম্বা ঘোমটা দিয়ে তাকে এখানে বসিয়ে সবাই গেছে বরকে স্বাগতম জানাতে।এখন অবশ্য সে ঘোমটা তুলে নিজেকে নিজে আয়নায় দেখছে।গায়ের রঙের চাপা হলেও অজানা কারণেই সে ছিলো বরাবরই পুরুষ মানুষের বেশ আকর্ষণের কারণ।স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি ছাড়িয়ে কর্মস্থলে‌ও সে নিজেকে দেখেছে অনেক পুরুষের কাঙ্খিত নারী রুপে কিন্তু.. 

“ আসসালামু আলাইকুম ভাবী!"

মিহি মিষ্টি কন্ঠে আফিয়ার চেতনে লাগব আসলো।আয়নায় দেখা যাচ্ছে এক অতিব সুন্দরী,অপ্সরীকে।লাল গাউন আর হিজাবে তাকে আকাশ থেকে নেমে আসা পরী বললেই হয়তো ঠিকঠাক উপমা দেওয়া হবে।পরীর মতোই সুন্দর নারীটি পূনরায় নিজের মিষ্টি কন্ঠে ডেকে উঠলো,

“ আসসালামু আলাইকুম ভাবী,আমি নাফিসা, তোমার একমাত্র ননদ!"

নিজের পরিচয় সংক্ষেপেই দিয়ে দিলো সে।আফিয়া নিজেকে স্বাভাবিক করে হালকা হাসি দিয়ে উত্তর করলো,

“ ওয়া আলাইকুম কেমন আসসালাম। আসুন আপু!"

মেয়েটা যেন এই আশায়‌ই ছিলো। সে একরকম দৌড়েই আসলো,তার সাথে ঘরে ঢুকলো আর তিনজন রমনী।সবাই লালে রাঙা।সবাই সুন্দর।আফিয়া দৃষ্টি নামিয়ে নিলো।মাথা ঝুঁকাতেই ঘোমটা নেমে গেলো।

“ আহাগো ঘোমটা নেমে গেলো কেন গো! আমরাও একটু দেখি নাসিফ ভাইয়ের শ্যামপরীকে।"

বলেই হেসে দিলো সেই নারীদের কয়েকজন।

নাফিসা এগিয়ে গিয়ে আফিয়ার পায়ের সামনে ঝুঁকে বসে ঘোমটা তুলে দিয়ে বললো,

“ মাশাআল্লাহ, আমার ভাইয়ের চয়েস বরাবরই সুন্দর; আমিরা ভাবিও সুন্দরী ছিলো আর তুমি‌ও।কারো নজর না লাগে আমার ভাইয়ের এই খুশিতে।"

বলেই নাফিসা আফিয়ার থুতনিতে আঙ্গুল ছুঁইয়ে নিয়ে নিজের ঠোঁটের উপর রেখে চুমু  খেলো। আফিয়া লজ্জায় দৃষ্টি নামালো তো নামালোই আর তুলতে পারলো না। মিনিট দুইয়ের মধ্যেই ঘরে ঢুকলো আঞ্জুমারা পাখি এবং নুরজাহান নুর। তাদের আঙ্গুল ধরে আসলো ছোট্ট নাবিহা।লাল একটা গাউনে সে আজ সত্যিকারের পুতুল সেজেছে।

গুটি গুটি পায়ে হেঁটে দাদীদের হাত ছেড়ে এগিয়ে 

আসলো। ফুফুর কাছে গিয়ে তার কোল ঘেঁষে দাড়াতেই আফিয়া চোখ তুলে একবার দেখলো এই পুতুলকে। নাফিসা ভাতিজীকে জড়িয়ে রেখেই আফিয়ার দিকে আঙ্গুল তাক করে বলল,

“ দেখো তোমার মা। মা'কে ভালো লাগছে।"

বাচ্চা নাবীহা ঢ্যাবঢ্যাব করে তাকিয়ে আছে সামনের এই বধূর দিকে।আফিয়ার এই মুহূর্তে বেশ লজ্জা লাগছে।ছোট ছোট বাচ্চাদের সামনে তাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। বাচ্চাদের পছন্দ হচ্ছে কি-না সেই পরীক্ষা।

“ আপনারা কি এই ঘরেই ইফতারি করবেন? এখানেই ব্যবস্থা করে দিবো?"

জিজ্ঞেস করলো সিনথিয়া।ঘরে উপস্থিত সবাই দরজায় তাকিয়ে ফিরোজা শাড়ীতে মোড়ানো নারী সিনথিয়াকে দেখে প্রথমে ভাবলো কি বলবে এরপর উত্তর দিলো।

“ আপনাদের খুশি।"

সিনথিয়া হাসি দিয়ে আর কোন কথা না বলেই চলে গেল। আফিয়া আবারও চোখ তুলে তাকালো,তার সামনে দাঁড়ানো একটি লাল পুতুল।একদম গলুমলু তুলতুলে পুতুলের বাচ্চা লাগছে। বড় বড় চোখ মেলিয়া অতি আগ্রহের সাথে সে ড্যাবড্যাব করে দেখছে তাকে।আফিয়া একটা হাসি দিলো।নাবীহা কোনরকম প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সে তার ফুফুর গলায় মুখ লুকালো‌। নাফিসা ভাতিজির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

“ তুমি না মা নিতে এসেছো।তাহলে এখন নিচ্ছো না কেন মা। তোমার সামনে দাঁড়ানো এই লাল টুকটুকে ব‌উটাই তো মা!"

ফুফুর কথায় নিজের ইচ্ছে গুলো মনে পড়লো‌।গভীর চাহনিতে সেই নিজের ফুফুকে দেখলো কয়কে পলক। এরপর বড় বড় চোখের ঘন ঘন পাপড়ির গুলো কয়েকবার ঝাপ্টে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ফুফুদাদীকে বললো,

“ মা!"

নুরজাহান নুর নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

“ হ্যা মা তো আপামনি।যাও মায়ের কাছে যাও।"

আঞ্জুমারা পাখি আরো কয়েক ধাপ বাড়িয়ে নাবীহাকে নিয়ে আফিয়ার কোলে বসিয়ে দিলো।আফিয়া খানিকটা অস্বস্তি বোধ করলেও পর মুহূর্তেই ঠিক হয়ে গেল।তার কাছে কেমন জানি মনে হচ্ছে একটা তুলোর বস্তা তার কোলে চড়েছে।আবার নাবীহার আদুরে মুখে চোখ বুলিয়ে হঠাৎ করেই মায়া হতে লাগলো।আহারে এই বাচ্চাটাকে দুগ্ধপান অবস্থায় রেখেই তো ওর মা চলে গেল না ফেরার দেশে।নাবীহা এখন‌‌ও আগের মতো করেই তাকিয়ে আছে।তার একটা আঙ্গুল মুখে পুড়ে রেখেছে। তার চোখে মুখে অজস্র কৌতুহল। 

এর মধ্যেই সিনথিয়া আর মিষ্টি মিলে ইফতারির জন্য সব নিয়ে আসলো।খাটের মাঝে দস্তরখানা বিছিয়ে তার উপর একে একে সব প্লেট রেখে সাজিয়ে বললো,

“ আপনারা এখানেই ইফতার সেরে নিন।একটু পরেই আজান দিবে।কিছু লাগলে বা কোন সমস্যা হলে অবশ্যই বলবেন!"

“ ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবে না মা।তুমিও আমাদের সাথেই বসো।"

“ বসবো আন্টি তবে এখন না।বাইরে অনেক কাজ আছে বুঝেন‌ই তো সব আমাদের‌ই করতে হবে।"

“ হ্যা,তাতো অবশ্যই।বিয়ে বাড়িতে কাজের শেষ নেই।আজ তোমাদের কয়দিন পর আমাদের!"

“ আফি ইফতারি করে নিবি। লজ্জার কিছু নেই।পেটে খিদে রেখে লজ্জা পেলে পেট ভড়বে না।"

সিনথিয়া কথাটা আফিয়ার উদ্দেশ্যে বললো।নাবীহা সিনথিয়াকে উদ্দেশ্যে করে বললো,

“ আপু চিন্তা করবেন না আমরা আছি ভাবির খেয়াল রাখার জন্য।"

যদিও নাবীহা কথাটা বলতেই ঘরে ঢুকলেন সুলতানা আযিযাহ।তিনি ঘরে ঢুকেই সবার উদ্দেশ্যে সালাম দিয়ে বললেন,

“আসসালামু আলাইকুম,আপনারা সবাই হাতে খেজুর পানি নিয়ে এক জায়গায় বসে পড়েন।বাইরে ইমাম সাহেব মোনাজাত ধরছে।এখন‌ই হয়তো আজান পড়বো।”

বলতেই আজান দিয়ে দিলো।সবাই ধীরে ধীরে নিজেদের জন্য স্থান দখল করে হাতে খেজুর তুলে নিলো।সুলতানা আযিযাড় নিজের মুখে খেজুর ঢুকিয়েই মেয়ের মুখের সামনে খেজুর দিলো।আফিয়ার হঠাৎ করেই খুব কান্না আসছে। মা'কে দেখে হয়তো এত সময়ের চেপে রাখা আবেগ উথালপাতাল করে বেরিয়ে আসছে। খেজুর মুখে দিতেই গড়িয়ে পড়লো উষ্ণ নোনা জলআফিয়ার চোখে পানি দেখে নাবীহার‌‌ও কান্না চলে আসলো।সে দিলো গগনবিদারী চিৎকার।গলা ফাটিয়ে কাঁদতে বসলো।ব্যস হয়ে গেল সবার ইফতার সাড়া! 

“ আসসালামু আলাইকুম উপস্থিত মুসল্লিগন।আমি এখন একটা বিশেষ ঘোষণা দিতে চলছি,সবাই  ধীরে সুস্থে বসে আমার কথাটা মন দিয়ে শুনুন।আর মিনিট দশেকের মধ্যেই আমাদের আজকের তারাবীহর জামায়াত শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।তার আগেই আমরা আরো‌ও একটু স‌ওয়াবের কাজ করতে সৌভাগ্য লাভ করেছি।আপনারাও তাতে সামিল হবেন ইনশাআল্লাহ্।আজ এক নবদম্পতি তাদের নতুন জীবনের শুরু করতে চলেছে এবং তার জন্য তারা আল্লাহর ঘর থেকেই সেই পথচলার আগমন ঘটাতে ইচ্ছা পোষন করেছে আল্লাহর দরবারে।আমরা সকলে নিজেদের মোনাজাতে তাদের জন্য দোয়া করবো যাতে রাব্বে কারীম,সৌভাগ্যের মালিক,জুটি লিখনেওয়ালা তাদের এই জুটিকে আমৃত্যু এক অমর প্রেমের সম্পর্কে বেঁধে রাখে। তাদের সংসারের আবাদ শষ্যদানার মতোই ঝরঝরে আর সফলতায় ভরে দেয়। আল্লাহর দরবারে তাদের নতুন জীবনের সবরকমের সুখ শান্তি আর সমৃদ্ধির জন্য আমরা সবাই দোয়া করবো।সবাই এই সময়ে মন দিয়ে সবটা শুনবেন এবং জীবনে আরও একটি ফরজ বিধানের সাক্ষী হিসেবে হাজির র‌ইবেন। নামাজের পর মুসুল্লিদের জন্য থাকবে মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা তাই কেউ নিজেদের আসন ছেড়ে উঠবেন না দয়া করে।"

এই ইমাম সাহেবের বক্তব্য শেষ হতেই ইমাম আবু ইউসুফ ফাতেহ এগিয়ে এসে বললেন,

“ ইমাম সাহেব কন্যাকে পর্দার আড়ালে রেখেছি,আপনি কাজীকে নিয়ে আপনার মিম্বারের সামনে গিয়ে বসান।সবাই যেন শুনতে পায়।"

“ জ্বী তাই হবে।"

এই নতুন ইমাম তাই করলো।পাশের রুমে পর্দার আড়ালে বসে আছে আফিয়া। নুরজাহান নুর, মুন্নি আর আকলিমা নামের এক মধ্যবয়সী নারী যে সম্পর্কে আফিয়ার বড় চাচী হয় তিনি আছেন আফিয়ার কাছে। সিনথিয়া‌ও আসছে।

ঐদিকে সব মুসুল্লিদের মধ্য মনি হয়ে বসা নাসিফের সাথে তাদের পরিবারের সকল পুরুষ সদস্য আর আফিয়ার বাড়ির সব পুরুষ সদস্যরা।নাসিফের পাশেই বসেছে নাইফ।সে ভীষণ উপভোগ করছে সবটা।

“কামরাঙ্গীরচর বড় গ্রাম নিবাসী নাযির আহমাদ গাজীর একমাত্র পুত্র মোহাম্মদ নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজীর সহিত দশ লক্ষ এক হাজার একশো এক টাকা নগদ পরিশোধ যোগ্য মোহরানা ধার্য করিয়া আপনি খোলামোড়া নয়াবাজার নিবাসী মোহাম্মদ নিয়াজ মোর্শেদ মোল্লার বড় কন্যা মোসাম্মত সামিহা তাসনিম আফিয়া বিবাহ বসিতে রাজী আছেন।যদি রাজী থাকেন তবে বলেন আলহামদুলিল্লাহ কবুল! মা বলেন কবুল?"

কাজী সাহেব পর্দার আড়ালে থেকেই আফিয়াকে পুরোটা পড়ে বলতে বললেন।আফিয়া ডুকরে কেঁদে উঠলো।হাতে থাকা টিস্যুকে মুড়িয়ে মুখের সামনে চেপে ধরে নিজের কান্নার শব্দ বাইরে শোনা থেকে বিরত করতে চাইলেও পারছে না।মুন্নি মামী আফিয়ার পিঠে হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বললো,

“ বলো মা ।কাইদো না।"

উনার‌ও কন্ঠস্বর ভারী হয়ে উঠেছে।আকলিমা চাচী আফিয়াকে বুকের মাঝে চেপে ধরে বললেন,

“ বল মা,কাজী সাহেব অপেক্ষা করছে।আবার তারাবীহ শুরু করতে দেরি হয়ে যাবে।"

আফিয়া তাও কাঁদছে।সুলতানা আযিযাহ বোরকা পড়ে রাস্তায়‌ই দাঁড়িয়ে ছিলেন। সিনথিয়া গিয়ে উনাকে আসার জন্য অনুরোধ করে বললো,

“ চাচী আপনে চলেন। আপনি ছাড়া ওরে কেউ সামলাতে পারবো না।আবার আপনি নিজেই গিয়া কান্নাকাটি শুরু ক‌ইরা দিয়েন না।সময় নাই হুজুরদের। তাড়াতাড়ি করতে অইবো।"

“ মা বলেন কবুল?"

কাজী আবার‌ও বললেন, আকলিমা চাচী আগের মতোই বুঝাচ্ছে,আফিয়ার কান্না কমার নাম গন্ধ নাই উল্টো বাড়ছে। সুলতানা আযিযাহ ভেতরে ঢুকলে সবাই একটু সরে দাঁড়ালো, তিনি জায়ের থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বললো,

“ আম্মা তুমি তো অনেক শক্ত পোক্ত; তাইলে অহোন এমন করতাছো ক্যা। তুমি না বুদ্ধিমতি তাইলে।কবুল বলে দাও আম্মা!"

“ আফিয়া আর কিছু সময় নিজের চোখের জলে মায়ের বুক ভাসালো। অনেক বোঝানোর পর অবশেষে বললো,

“ আলহামদুলিল্লাহ কবুল!"

“ আরো একবার বলেন!”

“ কবুল!"

“আবার বলেন মা!"

“ কবুল!"

তিন কবুলে আফিয়ার পর্ব শেষ করে,কাজী গেলো নাসিফের দিকে,

“ আপনি কামরাঙ্গীরচর বড়গ্রাম নিবাসী নাযির আহমাদ গাজীর একমাত্র পুত্র মোহাম্মদ নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী এক লক্ষ এক হাজার একশো এক টাকা নগদ পরিশোধ যোগ্য মোহরানা দিয়ে খোলামোড়া নয়াবাজার নিবাসী মোহাম্মদ নিয়াজ মোর্শেদ মোল্লার বড় কন্যা মোসাম্মত সামিহা তাসনিম আফিয়াকে বিবাহ করিতে সম্মত আছেন যদি থাকেন তবে বলুন আলহামদুলিল্লাহ কবুল!"

“ আলহামদুলিল্লাহ কবুল!"

“ আবার বলুন।"

“ আলহামদুলিল্লাহ কবুল, আলহামদুলিল্লাহ কবুল!"

চলমান......

জানাতে ভুলবেন না কেমন হচ্ছে!

হ্যাপি রিডিং ডিয়ার রিডার্স।

আমার লেখা নিয়ে যেকোন ধরনের পোস্ট করতে জয়েন হতে পারেন আমার গ্রুপে। 

গ্রুপ লিংক কমেন্টে!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ