সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৩৬

#সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৩৬

সুখ প্রান্তর, মরিয়ম বিবি - Morium Bibi


কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


“ আপা তুমি পারবা? এত সময় দাঁড়িয়ে থেকে কিভাবে করবা?"

“ পারবো! না পারার কি আছে? তুই সব পরিকল্পনা অনুযায়ী কর।"

“ কিন্তু তুমি এখন এই অবস্থায়! তুমি এত চাপ নিও না।দেখিও আমি সব ম্যানেজ করে নিতে পারবো ! "

“ হ্যা জানি পারবি! 

_ তারপরেও আমিও করবো।তোর সাহায্য হবে এতে!"

“ কিন্তু আপা!"

“ ভাই যাও তো।

বেশি আপা আপা না করে লিফলেট গুলো বিলি কর, পোস্টারগুলো ছাপিয়ে দে!"

শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অধ্যয়নরত সালাহ্ এখন নিয়মিত গৃহ শিক্ষকের পেশায় নিয়োজিত।তাতে অবশ্য খুব একটা পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে না। সে ঠিক গুছিয়ে নিতে পারে।না পারলেও পারতে হয়। তাদের মতো নিম্ন বিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা সব পারে।বাবা অসুস্থ, বয়স্ক মা, গর্ভবতী অসহায় বোন। সুতরাং না পারলেও পারতে হয়।এটাই এই জগতের নিয়ম।হুট করেই সব পারার লড়াইয়ে নেমে পড়ে নিম্ন বিত্ত এবং মধ্য বিত্তের ছানারা। জীবনটা মোটেই তাদের কাছে ফুলের শয্যা নয়,তারা পরদে পরদে উপভোগ করে চরম বাস্তবতা। সালাহ্ তাই করছে। জীবনের কঠিন নির্মমতা আগে বুঝেছে তবে এখন উপলব্ধি করছে।

আফিয়া শিক্ষার্থী অবস্থায় নানা সময়ে নানা চাকরি করতো। তখন সে টিউশনিও করেছে তাই ছাত্র ছাত্রী পড়ানোয় তার অভিজ্ঞতা আছে।তাই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে গর্ভকালীন সময়ে সে শিক্ষকতা করবে।

যদিও সে পাশেই একটা ছোট কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে প্রভাতী শাখায় চাকরির জন্য সিভি জমা দিয়েছে তবুও পাশাপাশি ঘরে বসেই কিছু বাচ্চা পড়ানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে।

সালাহ্ আপাতত তিন জন শিক্ষার্থী পড়াচ্ছে তাদের বাসায় গিয়ে, পাশাপাশি সে একটা অনলাইন প্লাটফর্মের অনলাইন ভিত্তিক কোচিং করাচ্ছে। অবশ্যই তার সাবজেক্ট ফিজিক্স।সেখানে তাকে চাকরিটা পেতে সহায়তা করেছে তার‌ই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র ভাই। গরীব এবং অত্যন্ত মেধাবী সালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ে এর মধ্যেই নিজের প্রতিভা আর অসম্ভব সুন্দর ব্যক্তিত্বের কারণে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।তাকে শিক্ষক থেকে ক্যান্টিন বয়, সদ্য জুনিয়র থেকে সিনিয়রদের সিনিয়ররাও বেশ স্নেহ এবং ভালোবাসে।তাই হয়তো একটু সহজ‌ই হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথচলাটা।এই যে বেশ ভালো ভালো এমাউন্টের সম্মানীর তিনটে টিউশন এখন তার ভাগ্যে।যার কারণে বুকে বল পেয়ে বোনের দায়িত্ব নিতে পারছে।

তারপর আছে অনলাইনের চাকরিটা। সেটাও মোটামুটি পনেরো দিবে বলেছে। সবকিছু মিলিয়ে সালাহ্ চেষ্টা করছে বোনের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালনে। তবুও আত্ননির্ভরশীল বোন তার। একদমই বসে থাকতে নারাজ।তাই তো ছয় মাসের পেট নিয়ে‌ও ছুটে চলছে জীবনের গাড়ি নিয়ে।

আফিয়া এখন শুধু ৩য়- ৫ম শ্রেনীর ক্লাস করাবে। মোট দুটো ব্যাচ পড়াবে। সকাল এবং বিকাল। ৩০০ টাকা-৫০০ টাকা ধরেছে মাসের সম্মানি যাতে গরীব ঘরের বাচ্চাদের তাদের পরিবার তার কাছে পড়াতে আগ্রহী হয়। তাছাড়াও সে হিসাব করছে যদি ৩০০ টাকা করেও মাসে দশ জন শিক্ষার্থী পড়ায় তাহলেও মাসে ৩০০০ টাকা আর ৫০০ করে দশ জন হলে ৫০০০ টাকা।দুই ব্যাচে যদি দশ জন হয় তাহলেই তো মাসে আট হাজার।আর যদি দুই ব্যাচে বিশ হয় তাহলে ষোল হাজার। অবশ্য সালাহ্ বলেছে এই কাজে সে বোনকে সহযোগিতা করবে। এবং সেও চেষ্টা করবে এই ব্যাচের মধ্যে বড় ক্লাসের শিক্ষার্থী নিতে যাতে সে দুই একটা পড়াতে পারে। অবশ্য আফিয়া স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে কারণ সকালের এই সময়টাই সালাহ্ নিজের পড়াশোনা করে। বাকী দিন তো টিউশনির পিছনেই ছুটে।

আফিয়া সকালের সময় নির্ধারণ করেছে সাতটা থেকে আটটা।সে যেখানে চাকরির জন্য সিভি দিয়েছে ওদের ক্লাস শুরু হয় সাড়ে আটটা থেকে।আর সে যেই শিক্ষার্থীদের পড়ানোর দায়িত্ব নিবে তারা অবশ্যই দিবা শাখার হবে।তাই এই ব্যাচটা সে ৫ম শ্রেনীর জন্য নির্ধারিত করেছে।

বিকালের ব্যাচের সে ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের পড়াবে বলে মনোঃস্থির করেছে কারণ তাদের ক্লাস অবশ্যই সকালের দিকে থাকবে। অবশ্য অন্য কোন ক্লাস যে পড়াবে না তা নয়।পেলে অবশ্যই পড়াবে।তবে তার লক্ষ্য ৩য় থেকে ৫ম।

পোস্টার সেভাবেই ছাপানো হয়েছে।নিজ এলাকার আশেপাশে পোস্টার লাগানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সালাহ্ এবং তার বন্ধু মহল।তার সাথে এলাকার ফেসবুক গ্রুপেও পোস্ট করে দিয়েছে। আশেপাশের স্কুলের সামনে গিয়ে লিফলেট বিলিও করেছে।

আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদের সহায় হবে।

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

রাগে অন্ধ নাসিফ এখনো ব‌উয়ের কোন খোঁজখবর নেয়নি।না তার পরিবারের তরফ থেকে কোন খোঁজ খবর আছে! তবে আফিয়া লুকোচুরি করেই মাঝে মাঝেই বাচ্চাদের সাথে দেখা করে আসে।

তার ফাঁকে নাসিফকে দেখার তৃষ্ণা‌ও মিটে।তবে 

অবশ্য এখানেও নাসিফ সাহায্য পেয়েছে নাইফ নাবীহার স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার। লুকোচুরি করতে গিয়েই একদিন ভদ্রমহিলার চোখে অপরাধী হতে হতেও বেঁচে যায়।তখন বাধ্য হয়েই খানিকটা সমস্যা বলে যদিও আসল সত্য লুকিয়ে কারণ যত‌ই হোক ঘরের কথা পরকে বলতে আফিয়ার শিক্ষায় বিঁধে। এরপর থেকে আর কোন সমস্যার মুখোমুখি আফিয়া আর নাইফ হয়নি।

আর মাত্র তেরোদিন বাকী আফিয়ার প্রসবের। একদম দশ মাস পূরন করেই তিনি দুনিয়ায় আসার ওয়াদা করেছেন বোধহয়। ডাক্তার তেরো দিনের কথা বললেও আল্লাহ জানে কখন হুট করেই তার আগমন ঘটে। আফিয়ার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা অবনতিতে আছে।হাতে পায়ে পানি এসে পুরো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। চলতেও কষ্ট হচ্ছে তাই সালাহ্ এখন থেকে আগামী একমাস সবধরনের কাজ থেকে আফিয়াকে বিরত রেখেছে।আর কোনমতে নিজেই চালিয়ে নিচ্ছে তাদের ছোট্ট প্রতিষ্ঠান। অতিরিক্ত গরম থাকে বাঁচতে পেছনের বারান্দার বাইরে পাটি বিছিয়ে সেখানেই বাচ্চাদের পড়াতো।সবার জন্য একটি করে জলচৌকি।যেটাতে নিজের ব‌ই,খাতা রেখে মাটিতে আসন করে বসে সবাই পড়তো‌। শুধু আফিয়া একাই দাঁড়িয়ে অথবা চেয়ারে বসতো‌।

দুই ভাই বোনের টিউশনি আর সালাহর অনলাইন কোচিং থেকে যা আসে তাতে আলহামদুলিল্লাহ ভালোই চলে। আফিয়ার স্কুলের চাকরিটা হয়েছিল কিন্তু আফিয়া নিয়মিত করতে পারেনি।

গর্ভাবস্থার নানা জটিলতায় তার পক্ষে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।দুই মাস অনেক কষ্টে করেছিলো। এরপর হুট করেই জ্বর আর শরীরের ব্যথায় বিছানায় পড়ে যায়। হাসপাতালে অবধি নেওয়া লাগে। এক সপ্তাহ হসপিটালে থাকার পর আর স্কুলের চাকরি চালাতে দেয় নি সালাহ্।

তবে বাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায়‌ই পনেরো জন।পনেরো থেকে বিশ উঠানামা করে।৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী আছে দুইজন,৭ম ০ ৮ম শ্রেনীর আছে তিনজন।তাতেই মোটামুটি চলে।বাবা মায়ের খরচ দিয়ে নিজের বাচ্চার জন্যেও কিছু সঞ্চয় রাখছে।

শরীরের অবস্থা যাই হোক আফিয়ার চেহারায় যেন নূর ঝড়ছে। অনেকেই বলছে মেয়ে হবে। মেয়েদের মা নাকি গর্ভকালীন সুন্দরী হয়ে উঠে। তবে আফিয়ার কেন জানি মনে হচ্ছে তার ছেলেই হবে।সে তেমন করেই প্রস্ততি করছে। একটু আধটু যা অবসর পায় তাতে আল্লাহর ইবাদত করেই কাটায়। প্রচুর প্রচুর কোরআন তেলাওয়াত করে। গর্ভকালীন যেসব সূরা, দোয়া পড়লে প্রসবের বেদনা কম হয় এবং বাচ্চা সুস্থ ও সুন্দর হয় সেগুলো সব পড়ে। ছোট ছোট নানা আমল করে।আর রাহমান থেকে ইয়াসিন তার এখন মুখস্থ হয়ে গেছে।ওয়াকিয়াহ,তাওবাহ তার পাঠের নিয়মিত সুরা। সবকিছুর মাঝেই চলছে মাতৃত্বের স্বাদ উৎযাপন।সে একসাথে তিন বাচ্চার দায়িত্ব‌ই পালন করছে।

সাফিয়া মাসের যেকোন এক সময় এসে সপ্তাহ থেকে যায়।সেও বোন আর ভাইকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে।সত্যি বলতে আল্লাহ কাউকে ঠেকায় না। আফিয়াদের‌ও ঠেকায়নি।

“ বলছিলাম ভাই।আমি বোধহয় আজ স্কুলে যেতে পারবো না রে? গায়ে একটুও শক্তি পাচ্ছি না।পা দুটো ভীষন ওজন আর ভারী লাগছে। তুই একটু যাবি! বাচ্চা দুটো আমার জন্য অপেক্ষা করবে! ওরা তো আশায় থাকে মা আসবে বলে..."

সালাহ্ নিজের ব্যাগ গুছাচ্ছিলো।বোনের কথায় থেমে গিয়ে সেদিকে তাকালো। ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিয়ে বোনকে উদ্দেশ্য করে বললো,

“ সে না হয় গেলাম। কিন্তু তুমি বোরকা নিকাবে থাকো তাই কেউ চিনে না। অবশ্য চিনলেও সমস্যা নাই। কিন্তু আমি তো আর বোরকা নিকাবে থাকবো না। তখন হুট করেই যদি‌ ভাইয়া চলে আসে? কি করবো তখন!"

“ আসবে না।তার আজকে ভিসার জন্য কাজ আছে।শুনেছি তুরস্ক যাবে মাল আনতে।আজকে বাচ্চাদের নিতে ড্রাইভার রাসেল আসতে পারে!

_ তুই যা! উনি জানেন আমি যাই,তুই গেলেও সমস্যা নাই।"

“ ওখে দাও তাহলে তোমার জাদুর ঝুড়ি।"

“ টেবিলের উপরেই আছে ।ব্যাগটা সাবধানে নিবি।নাইফের জন্য একটু ডাবের পুডিং দিয়েছি। ভেঙে গেলে খাবে না।"

“ ঠিইইক আছে!"

সালাহ্ বোনের সাথে কথা বলে সেই ব্যাগটাও হাতে তুলে নিলো।এখন বেলা নয়টা তার দশটায় ক্লাস আছে। সালাহর টিফিন পিরিয়ড এগারোটায়। মানে হয় তাকে ক্লাস মিস দিতে হবে নয়তো অর্ধেক করতে হবে।কিছু করার নেই। বাচ্চা দুটো মায়ের জন্য চাতকের মতো চেয়ে থাকবে। কথাটা ভাবতেই সালাহর ভেতর থেকে দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। বাচ্চাদের ভবিষ্যত নিয়ে তার দুলাভাইয়ের এত ড্রামা অথচ সেই বাচ্চারা মা ছাড়া কিছুই বুঝে না। তাদের জন্য কত কষ্ট করছে তার বোনটা।

সালাহ্ অবশেষে অর্ধেক ক্লাস কামাই দিয়েই স্কুলের সামনে এসে দাড়ালো।সাথে তার এক বান্ধবী‌ও ছিলো। টিফিন পিরিয়ডে কিছু সময়ের জন্য পকেট গেইটটা খোলা থাকে সেটা দিয়েই তারা ভেতরে ঢুকলো। অভিভাবকের বসার রুমের সামনে বসলো। নিজের সহপাঠীর সাথে খোশ মেজাজে আলাপ করছিলো।ঠিক তখনই বেল বেজে উঠলো।

“ মামুউউউউ; 

_মা কোথায়?" 

দুই ভাই বোন মামাকে দেখে দৌড়ে আসে একসাথে।কে আগে মামাকে ধরতে পারবে তার‌ই প্রতিযোগীতা আর কি। সবসময়ের মতো নাইফ‌ই জিতলো কিন্তু তাতেও খুশি মিললো না।কথা অনুযায়ী আজ মা আসবে । কিন্তু মা কোথায়? প্রশ্ন করতেই সালাহ্ হাঁটু গেড়ে বসলো ভাগ্নে ভাগ্নির সামনে।বললো,

“ আগে বসো।জিরাও। তাড়াতাড়ি খাইয়ে দেই তারপর মায়ের সাথে কথা বলবে! ওকে!"

“ আচ্ছা!"

ভদ্র,সুবোধ বালকের মতোই মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো নাইফ।নাবীহাকে সালাহ্ কোলে তুলে নিয়ে গালে কপালে চুমু খেলো।চুলে হাত বুলিয়ে বললো,

“ আমার আম্মা জানের কি ভীষন মন খারাপ হচ্ছে?"

নাবীহা কাঁদো কাঁদো গলায় বললো,

“ আম্মু কোথায়? আম্মু কেন আসেনি।"

সালাহ্ ভাগ্নীর গালে চুমু খেয়ে কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে 

আদুরে গলায় বললো,

“ মা আসবে তো। তোমার জন্য বনু আনতে যাবে তাকে নিয়েই আসবে।"

“ বনু কবে আসবে?"

“ আগে বসো।

_ মামু খাইয়ে দেই তারপর তুলতুল সোনাকে তার মায়ের সাথে কথা বলিয়ে দিবো, ওখে?"

“ না ! আগে মায়ের সাথে কথা বলবো!"

“ আগে কথা বলা লাগবে?"

“ হুম!"

নাইফ নাবীহা একসাথে বললো। সালাহ্ ভাগ্নে ভাগ্নীর জেদের কাছে হার মানলো।আফিয়া ফোনে খুব একটা কথা এখন বলে না। অবশ্য বলতেই পারে না।কথা বলতে গেলেই হাঁপিয়ে উঠে। অবিরত উচ্চ শ্বাসটান শুরু হয়।তাই কথা কম বলার চেষ্টা করে।

ফোন বের করে আফিয়ার নাম্বারে ডায়াল করতেই ফোনটা তুলে ফেললো যেন সে এটার অপেক্ষায়‌ই ছিলো।

“ হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। বাবা মায়ের শরীর ভীষন অসুস্থ,তোমরা মামুর কথা শোন!"

সালাহ্ ফোন করেই ভাগ্নের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিলো।আফিয়াও যেন তা বুঝেই সরাসরি ছেলেকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলো বললো,

“ তুমি কোথায়? কেন আসো নি? বনুকে নিয়ে আসবে,তাই আসো নি?"

“ হ্যা বাবা।মা তো কিছুদিনের মধ্যেই নতুন বাবু নিয়ে আসবো।তাই এখন মা একটু রেস্ট নিচ্ছি। তুমি তো বড়। তুমি নিজের আর বোনের খেয়াল রাখো।মা আজকের পর আবার অনেক দিন পর তোমাকে ফোন দিবো। নতুন বাবু নিয়ে তোমাদের কাছে চলে যাবো।তাই তুমি দয়া করে মামার কথা শুনে খাওয়া শেষ করো।নয়তো ঘন্টা পড়ে যাবে এখন‌ই।"

“ আচ্ছা!

_ তুলতুল কথা শুনে না‌ মা!

_ খালি ঐ বাজে মেয়েটার সাথে খেলতে যায়।আর ব্যথা পেয়ে ভেউভেউ করে কাঁদে।কালকে তুলতুলের হাতে ঐ মেয়ে অনেক জোরে বারি দিয়েছিলো।হাত ফুলে গেছে!"

“ কিহ!

_কিভাবে? তোমার বাবা দেখছে? কিছু বলে নাই?"

“ বাবা আমাদের বকছে।ওর জন্য আমাকেও বকছে। বলছে ক্রিকেট খেলতেও দিবে না।ওর জন্য কেন আমাকে পানিশট করবে বলো? তুমি বাবাকে বলো আমাকে খেলতে যাওয়ার পারমিশন দিতে!"

“ আচ্ছা সে আমি বলবো এখন তুমি তুলতুলের কাছে ফোন দাও আর চুপচাপ মামার হাতে খেয়ে নাও।"

“ আচ্ছা মা।

_ নাও মা কথা‌ বলবে!"

“ হ্যালো মা!"

“ কতটুকু ব্যথা লাগছে বাচ্চা?"

“ ইত্তু! 

ভাইয়া‌ মিথ্যা বলছে! আমি ঐ মেয়েটার সাথে খেলি না। আমি তো জিনির সাথে খেলি...

ঐ আমাদের সাথে খেলতে চলে আসে খালি! তারপর ও আমাকে ব্যথা দেয়।"

“ অনেক ব্যথা করতেছে?"

“ হুম!"

বলতেই নাবীহার চোখ ভরে গেলো। সালাহ্ বিস্মিত চোখে দেখলো তার ভাগ্নীর মাত্র রূপবদল। এইতো শান্ত ছিলো এখন‌ই কাঁদছে। এবং তার দু'চোখ ছাপিয়ে বর্ষন হচ্ছে!নাবীহার ডান হাতের কনুই লালচে হয়ে আছে।দেখতেই সালাহ্ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,

“ এখানে কি হয়েছে?"

“ এটাই তো মামু!"

“ এখানে মারছে?"

“ হুম।ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে।"

“ বেশ পাজী বাচ্চা তো। আমার ভাগ্নীর গায়ে হাত দেয়।"

“ দেখিয়ে দিবা।ওর কান মলে দিবো!"

“ ওখে মামু। তুমি তাহলে আজকে চলো বাসায়।আমি আজকেই দেখিয়ে দিবো।"

নাবীহা তার মায়ের সাথে কথা বলছে আর এদিকে মামা ভাগ্নে ঐ মেয়েকে মারার মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কিন্তু নাইফের শেষ কথায় সালাহর মুখ বন্ধ হয়ে গেলো।সে তো আর ঐ বাড়িতে যেতে পারবে না।কারণটা তো স্পষ্ট। যেখানে তার বোনের প্রবেশ নিষেধ সেখানে তার কি?

চলমান.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ