#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৩৫
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
দুই মাস পর....
আফিয়ার শরীর আরো ভারী হয়ে উঠেছে। পেটের মাঝে থাকা মানুষটার অস্তিত্বও দৃশ্যত।সাফিয়া বোনকে আর মায়ের বাড়ি পাঠায়নি। রেজওয়ান নিজেই না করেছে।এখানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আর গাইনি ডাক্তারের পরামর্শে আপাতত সাফিয়া মানসিক ভাবেও সুস্থ আর শারীরিক ভাবেও।তবে এর মধ্যেই ভয়াবহ এক কাজ আফিয়া করে ফেলেছে তা হলো সাফিয়া কে নিয়ে নাইফের স্কুলে গিয়ে নাইফ নাবীহার সাথে দেখা করে এসেছে।যদিও কাজটা করতে বেশ ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয়েছিলো তবুও। ঘটনা গত তিনদিন আগের।নাইফ নাবীহাকে ক্লাসে ঢুকিয়ে নাসিফ অফিসে চলে যায়। তার আগেই খানিকটা দূরে ঠিক সেই ফার্মেসির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে দুজন নারী।একজন নাবীহা নাইফের মা ,অন্যজন নাইফ নাবীহার খালা। বাচ্চাদের ঢোকানোর পরেই দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয় যেটা খুলে শেষ ঘন্টায়। সেদিনও তাই হয়েছিলো।আফিয়া যেহেতু সব জানেই তাই সে বাচ্চাদের দলের পিছনেই স্কুলের ভেতরে ঢুকে যায়। যেহেতু সামনেই নাসিফ ছিলো বাচ্চাদের সাথে তাই তাকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে।
বাচ্চাদের ক্লাসে বসিয়ে দিয়েই নাসিফ চলে যায়। ওদের নিতে আসবে বাড়ির গাড়ী চালক। এখন এমনি চলছে। অথচ আফিয়া কখনোই বাচ্চাদের অন্য কারো হাতে ছাড়েনি।কিছু করারও নেই।নাসিফ ব্যস্ত মানুষ।আফিয়া সেই অভিভাবকদের বসার রুমে এক কোনায় গিয়ে বসে, যেহেতু নতুন বোরকা,নিকাব পড়া, চোখে চশমা পড়া ছিলো তাই কেউই চিনতে পারছিলোনা।আফিয়া অপেক্ষা করছিলো বাচ্চাদের টিফিন টাইমের জন্য।
নাসিফ নাইফকে দায়িত্ব দিয়ে গেছে যাতে সে নিজের বোনকে ঠিকঠাক ভাবে খাইয়ে দেয়।নয় বছরের একটা ছেলে অবশ্যই এতটুকু করতে পারবে। অবশ্য নাইফ অনেক আগের থেকেই এগুলো করে,আফিয়াই শিখিয়েছে।
টিফিন পিরিয়ডে ঘন্টা পড়তেই সব বাচ্চারা ছুটোছুটি করে বেরিয়ে আসে ক্লাস থেকে। আফিয়া, সাফিয়া সেই সুযোগেই ছুটে যায় ওদের ক্লাসের দিকে।
“ বাবু, নাইফ!"
দূর থেকে নাইফকে ডাকলো আফিয়া।নাইফ প্রথমে শোনেনি।পরে হালকা শব্দ তার কানে যেতেই সে চারদিকে নিজের দৃষ্টি ঘুরায়।
“ বাবা মা এদিকে!"
নিজেদের থেকে দূরে বোরকা পরিহিত দুজন নারীকে দেখে নাইফের দৃষ্টি থমকালো। তাদের মধ্যে একজন দুটো হাত সামনে বাড়িয়ে রেখে তার দিকেই ইশারা করছে।নাইফ কিছুক্ষণ গভীর ভাবে দেখলো এবং চিনতে খুব কষ্ট তার হয়নি।এক পা সেদিকে বাড়িয়েও কিছু একটা মনে করে পিছিয়ে গেলো।একটু আগেই তার চোখেমুখে খুশির ঝিলিক ছিলো অথচ হুট করেই আঁধার নেমে এসেছে। আফিয়ার মুখটাও আঁধারে ছেয়ে গেলো।নাইফ কোনদিকে না তাকিয়ে হাতের টিফিন বক্সটা শক্ত করে চেপে ধরেই আফিয়াকে উপেক্ষা করে অন্যদিকে হাঁটা ধরলো।
আফিয়া ছেলের এমন প্রতিক্রিয়ার জন্য একদমই প্রস্তত ছিলো না।সে ছলছল চোখে ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো কিছু মুহূর্ত। পরমুহূর্তেই দৌড় দিলো ছেলের পিছু।আফিয়ার দৌড়ে পিলে চমকে উঠলো সাফিয়ার।প্রায় ৬৫ কেজীর উপরে এখনই আফিয়ার ওজন। পাঁচ ফুটের উচ্চতায় ছয় মাসের বাচ্চা সহ তার ওজন ৬৫ ছাড়িয়েছে,এই অবস্থায় যদি পড়ে যায় তাহলে বড় দূর্ঘটনা নিশ্চিত যার ক্ষতিপূরণ কোনভাবেই সম্ভব নয়।
“ নাইফ বাবা, মায়ের সাথে কথা বলবা না।কোথায় যাচ্ছো আম্মু তো এদিকে।"
নাইফও দৌড়াচ্ছে হুট করেই।সে কাঁদছে।তার ডান হাতের কব্জি দিয়ে চোখ মুছছে।বাম হাতে টিফিন বক্স আঁকড়ে ধরা। ঐদিকে সাফিয়া চিল্লাচ্ছে,
“ আপা, সাবধানে! কি করতেছো? পড়ে যাবা, আপা! আল্লাহর দোহাই লাগে একটু থামো!
_আপা!পড়ে গেলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।"
আফিয়ার চিৎকার কানে না গেলেও সাঠিয়ার কথা ঠিকই গেছে। নিজের পা'কে ফ্লোরের সাথে খিচে আটকে ফেললো।পিছু ফিরে দেখলো সাফিয়া চিৎকার করে ডাকছে।আর। আফিয়া তার দিকে দৌড়ে আসছে, ভয়ানক ভাবে হাপাচ্ছে।বোরকা পড়া তার পরেও বোঝা যাচ্ছে আফিয়ার শরীর কতটা ভারী হয়ে উঠেছে।নাইফ যেন অনেক কিছুই বুঝে ফেললো।এই যেমন এখনই বুঝতে পারছে তার মায়ের কষ্ট হচ্ছে তার পিছনে দৌড়ায় আসতে।আফিয়া ছেলের সামনে এসে কোমরে হাত রেখে ভয়াবহ ভাবে শ্বাস নিচ্ছে। তারপরও ছেলের কাঁধে এক হাত রেখে মমতায় ডুবো ডুবো চোখে তাকিয়ে আছে। চোখে চশমা পড়ায় বুঝতে পারলো না নাইফ তার মা কাঁদছে।
“ মায়ের প্রতি রাগ হয়েছে বাবা?"
কোমর নিচু করে ছেলের মুখটা নিজের দিকে তুলে প্রশ্নটা করলো আফিয়া। নাইফ অভিমানে কষ্টে হাত সরিয়ে বললো,
“ তুমি আমার মা নও। তুমি তো সৎ মা; মা হলে কি আমাকে,তুলতুলকে রেখে চলে যেতে নানু বাড়ি!"
আফিয়ার মনে হলো তার বুকে কেউ চাপাতি দিয়ে কুপাচ্ছে।এটা নাইফ বলছে? কে বলেছে ওকে? নাইফ তো সৎ পর বোঝেই না। তাদেরকে কেউ শেখায়নি।তবে কি এখন আফিয়াকে ভুলতেই এগুলো শিখানো হচ্ছে।আফিয়া নিজের ভারী দেহটা নিয়ে অনেক কষ্ট করে হাঁটু ভেঙ্গে বসলো ছেলের সামনে।চশমা খুলে নিকাবটা তুলে ফেললো।পুরো মুখটা ঘেমে একাকার হয়ে গেছে।সে কাঁদছে তাও নাইফের চোখে ধরা পড়লো। বোরকার ওড়না দিয়ে মুখটা মুছে নাইফের দু হাতের নিজের হাতের মুঠোয় রেখে কাঁদো কাঁদো গলায় বলতে থাকলো,
“ এগুলো কি বলছো বাবা? এগুলো কে শিখিয়েছে তোমায়? বাবা?"
“ না, বাবা না ।আমি জানি। আমাদের ভালোবাসো না।তাই তো আমাদের রেখে চলে গেছো। নিজের জন্য নতুন বাবু আনতে!"
“ এমন কিছু না বাবা।তোমাকে অনেক ভালোবাসি,তোমাকে, তোমার বনুকে। অনেক অনেক ভালোবাসি। সবচেয়ে বেশি ভালো তো তোমাদেরকেই বাসি।"
“ তাহলে কেন চলে গিয়েছো বলো? কেন আর আসো না আমাদের বাড়িতে।কেন তুমি আমাকে, তুলতুলকে ভালোবাসো না।"
“ মা তো অসুখ বাবা। তুমি দেখছো না মা কথাও বলতে পারছে না!"
পাশ থেকে সাফিয়া বললো।নাইফ সাফিয়ার কথায় সাফিয়ার দিকে এক পলক তাকিয়ে আবারও তাকালো আফিয়ার দিকে।আফিয়া ছেলের হাতটা নিজের গালে ঢেকিয়ে চোখের আঁটকে রাখা পানি ছেড়ে দিলো। অস্পষ্টভাবে বললো,
“ মা তোমাদের অনেক ভালোবাসি বাবা, কাউকে মা ছাড়তে পারবে না। তোমাদেরকেও না যে আসছে তাকেও না।"
আফিয়ার কথা নাইফের মস্তিষ্কে ঢুকলো না। সাফিয়া নাইফের মাথায় হাত বুলিয়ে আদুরে গলায় বললো,
“ বনু কোথায়? বোনকে নিয়ে চলো। কোথাও বসে মায়ের সাথে রাগ শেষ করো। মায়ের অনেক অসুখ। তুমি তো বড়, তুমি যদি মায়ের দুঃখ না বুঝো তাহলে মা কাকে বলবে বলো?"
মায়ের মুখে তাকিয়েই নাইফের কষ্ট লাগছে।যতই রাগ থাকুক।মা তো! মায়ের অসুস্থতা সব সন্তানের জন্যই চিন্তার।সব সন্তানকেই বিচলিত করে।নাইফ মায়ের হাত ধরে উঠতে সাহায্য করলো। কিন্তু অতটুকু ছেলের পক্ষে কি তা সম্ভব! তাও সে চেষ্টা করছে তাতেই আফিয়ার চোখ ভারী হয়ে উঠলো। ছেলে আর বোনের সাহায্য নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।নাইফ মায়ের হাত ধরে হাঁটতে সাহায্য করতে লাগলো।আফিয়ার যদিও সাহায্য লাগবে না তবুও ছেলের এই কাজটা তার ভালো লাগছে। কতদিন পর।পুরো তিনমাস পর ছেলেটার মুখ দেখলো। বারবার তাকাচ্ছে।সাফিয়া সাবধান করে বলছে,
“ নিচে দেখে হাটো। পড়ে যাবা।"
নাইফের হাত ধরে মেয়ের ক্লাস রুমের দিকে আগালো। ছোট্ট নাবীহা মন খারাপ করে টেবিলের উপর রাখা নিজের ব্যাগের সাথে গাল ঢেকিয়ে বসে আছে।নাইফ গিয়ে বোনকে বললো,
“ তুলতুল দেখো মা এসেছে!"
চট করেই মাথা তুলে তাকালো নাবীহা।ক্লাসে সবার মা আসে।তাদেরকে খাইয়ে দিয়ে যায়। একমাত্র তার মাই আসে না।তাইতো তার মন খারাপ থাকে।যদিও মাঝে মাঝে বাবা আসে।তবুও।নাবীহাকে দেখে আফিয়া আর স্থির থাকতে পারেনি।মেয়েটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।মেয়েকে টেনে বুকে নিলো । নাবীহাও এতদিন পরে মা'কে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে দিলো।সে তো ছোট্ট।অত রাগ, অভিমান তার নেই।সে মা'কে দেখেই ডেকে উঠলো,
“ মা!"
“ চলো মা অনেক মজা বানিয়ে এনেছি তোমাদের জন্য।"
বাচ্চাদের নিয়ে ক্লাসের বাইরে এলো খোলা পরিবেশে।সাফিয়া কেবল মা আর তার ছাওদের কাজকাম দেখছে।নাইফকে একপাশে বসিয়ে নিজের এক হাঁটুর উপর নাবীহাকে বসালো।যদিও তার অনেক কষ্ট হচ্ছে তবুও। সে খুবই আনন্দিত মনে কাজটা করছে।
নাইফ মা'কে গভীরভাবে দেখছে। তার চোখে মা'কে অনেক মোটা আর সুন্দর লাগছে।নাবীহাও মা'কে দেখছে।যেন কত জন্মের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে বাচ্চা দুটো।
আফিয়া বাচ্চাদের প্রিয় চিকেন পুলি বানিয়ে এনেছে।তারা মায়ের হাতের এই মজাদার নাস্তা খুবই পছন্দ করে।
“ হা করো দুই ভাই বোন!"
একটা পিঠা বের করে মেয়ের দিকে তাকিয়েই থমকে গেলো।কি মায়া ঐ বাচ্চা দুটো নয়নে।ফুলোফুলো গালটা চুপসে চাপার সাথে লেগে গেছে। আফিয়ার চোখ আবারও ভরে উঠলো।সে টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে মেয়ের মুখে পিঠা ধরতেই সে টুপ করে একটা কামড়ে অনেক খানি পিঠা নিজের মুখে পুরে নিলো। তারপরও নাইফকে খাওয়ালো। এভাবেই সে নিজের তৈরি করে আনা নারকেলের নাড়ু,চিকেন পুলি,চিকেন ভেজিটেবল রোল খাওয়ালো। তারপর মুখ মুছিয়ে দিলো।এর মধ্যেই ঘন্টা পড়ে গেছে।নাইফ নাবীহা করুন চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইলো।নাবীহা মায়ের গলা জড়িয়ে ধরলো যাতে মা যেতে না পারে।নাইফ এতসময় পর আবার মুখ খুললো,
“ তুমি আবারও চলে যাবে আমাদের ছেড়ে?"
“ না বাবা আমি কোথাও যাচ্ছি না।আমি তোমাদের সাথেই থাকবো।"
“ সত্যিই!"
“ হ্যা সত্যিই!"
বলে ছেলের কপালে চুমু দিলো।এর মধ্যেই আবারও
ডং করে ঘন্টার আওয়াজ বেজে উঠলো।আফিয়া তাড়াহুড়ো করে ছেলে মেয়ের হাত ধরে সাবধান করে বললো,
“ আমি যে এখানে এসেছি বাবা অথবা কাউকে বলো না। তাহলে কিন্তু আর মা আসতে পারবে না।"
“ কেন! বাবা বকা দিব?"
নাবীহার প্রশ্ন। আফিয়ার মাথায় আসলো এভাবে বললে বাচ্চাদের মনে বিরূপ মন্তব্য ঢুকবে তাই সে বুদ্ধি খাটিয়ে বললো,
“ মা তো অসুস্থ,এর জন্যই তো নানা বাড়িতে গিয়েছে তাই না।এখন যদি অসুস্থ অবস্থায় এখানে চলে আসি তাহলে কি বাবা রাগ করবে না বলো? বাবা কি অসুখ নিয়ে দুষ্টুমি করলে তুলতুল সোনাকে বকে না?"
নাবীহা মাথা দুলিয়ে সম্মতি দিলো।নাইফ মা'কে জিজ্ঞেস করলো,
“ আমাদের কি নতুন বাবু আসবে মা?"
আফিয়া ছেলের প্রশ্নে একটু লজ্জা পেলো। সাফিয়া ভাগ্নের মাথায় হাত রেখে বললো,
“ হ্যা আল্লাহ তোমাদের আরো একটি ভাই-বোন দিচ্ছে।সে চলে আসলেই মা তোমাদের কাছে ফিরে যাবে। ততদিন তোমরা গুড বয় এবং গুড গার্ল হয়ে থাকবে, ওখে?"
খালামনির কথায় নাইফের চোখমুখ জ্বলজ্বল করে উঠলো,সে মায়ের দিকে চেয়ে উৎফুল্ল হয়ে বললো,
“ মা সত্যিই আমাদের আরেকটি বাবুনি আসবে? বোন!"
নাইফের চোখেমুখে উচ্ছাস।আফিয়া ছেলের খুশি দেখে হাসলো।নাবীহা ছোট্ট,এটা না বুঝলেও ভাইয়ের খুশিতে খুশি ঠিকই হলো।সেও ভাইয়ের মতো করেই মা'কে জিজ্ঞেস করলো,
“ আরেকটা বনু মা?কতবড় বনু! অনেক বড়!"
“ আমি জানি মা! আল্লাহ জানে! তোমরা কি চাও বলো?"
“ বনু।একটা ছোট বনু।"
নাইফ হাত দিয়ে দেখালো।নাবীহাও ভাইকে নকল করলো।আফিয়া দুই ছেলে মেয়েকে বুকে চেপে ধরে বললো,
“ তোমাদের ইচ্ছা আল্লাহ পূরণ করুক। আল্লাহর কাছে দোয়া করো।"
বলেই কপালে চুমু দিয়ে বললো,
“ এবার ক্লাসে যাও।আর হ্যা কারো সাথে মারামারি করবে না। মিলেমিশে থাকবে।আর মা মাঝে মাঝেই আসবো। কিন্তু বাবা অথবা কাউকে বললে আর আসবো না।"
“ আমরা বলবো না তুমি আসো।বনুকে নিয়ে।"
কথা শেষ করেই নাইফ মায়ের পেটে মুখ লাগিয়ে একটা চুমু দিলো।আফিয়া পুরো থ হয়ে গেছে ছেলের কাজে।সাফিয়া মুখে হাত দিয়ে চমকিত চোখে তাকিয়ে আছে।নাইফ বাবুকে চুমু দিয়ে মা'কে একটু ঝুঁকতে ইশারা করলো।আফিয়া ঝুঁকতেই নাইফ মায়ের গালেও চুমু দিলো আর বললো,
“ I love you Ma, Happy mother's Day!"
ভাইকে নকল করে নাবীহাও একইভাবে মা'কে ভালোবাসা দিলো, মায়ের গলা জড়িয়ে বললো,
“ আইলাবু মা।হ্যাপি মাথারস ডে।"
আফিয়া ভুলেই গিয়েছিলো সে আজ মাদার্স ডে।সে খুশিতে আবারও কেঁদে দিলো। বাচ্চাদের বুকে জড়িয়ে নিয়ে মাথায়,গালে, কপালে চুমু দিয়ে বললো,
“ মা'ও তোমাদের অনেক ভালোবাসে। অনেক অনেক বেশি।মনে রাখবে মা সবচেয়ে বেশি ভালো তার বাবু আর তুলতুলকে বাসে। ঠিক আছে? যে যাই বলুক,তোমরা বিশ্বাস রাখবে মা তার নাইফ নাবীহাকে সবার চেয়ে বেশি ভালোবাসে।"
“ হুম ।আমরাও।"
আচ্ছা এখন যাও ক্লাস শুরু হয়ে যাবে।মা আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।"
নাইফ নাবীহা অনিচ্ছা সত্ত্বেও মা'কে বিদায় দিয়ে নিজেদের ক্লাসের দিকে যায়। এদিকে আফিয়াও বহুদিন পর শান্ত চিত্তে নিজ গন্তব্যে যায়।সাথে সিদ্ধান্ত নেয় সে তার মায়ের কাছে চলে আসবে এবং নিজের জন্য কিছু একটা করা শুরু করবে।নাসিফের খামখেয়ালিপনায় সে নিজের এবং বাচ্চাদের ভবিষ্যত নষ্ট করতে পারবে না। তবে নাসিফের ধন্নাও সে ধরবে না। অনাগত সন্তানকে জন্মের সিদ্ধান্ত যখন তার। সুতরাং তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করার দায়িত্বও তার।আর এখানে থাকলে এভাবে মাঝে মধ্যে লুকিয়ে চুরিয়ে এই বাচ্চাদের সাথেও যোগাযোগ রাখতে পারবে। সুতরাং কাছাকাছি থাকা একান্ত জরুরি।
চলমান......







0 মন্তব্যসমূহ