#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_২৭
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
সাফিয়ার বর এসেছে পনেরো দিন পার হয়ে গেলো।কাল সাফিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসবে।তাই তার আয়োজন চলছে মোল্লা বাড়িতে।আফিয়া আরোও আগেই পৌঁছে যেতো বাপের বাড়িতে কিন্তু নাইফের জন্য যাওয়া হয়নি। নাইফের পরীক্ষা ছিলো।ক্লাস টেস্ট। শেষ হওয়ার পর আজ আসবে।যদিও অনেক কাজ নাসিফের সহায়তায় আগেই সেরে ফেলছে।নাসিফ নিজের আপন ছোট বোনের মতো করেই সব আয়োজন করেছে।যাতে কোথাও কোন কমতি না থাকে!আফিয়া যেতে না পারলেও নাসিফ ঠিকই যাচ্ছে।
সাফিয়ার বর রিজওয়ান ভূঁইয়া। সুদর্শন পুরুষ। লম্বা ফর্সা।প্রায় নয় বছরের প্রবাস জীবন।কাতারের এক কোম্পানিতে আছে।গত বছর দুই আগে ছুটিতে এসেছিল।তখনই বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে আফিয়ার সন্ধান পায়।আফিয়াকে দেখতে এসে পছন্দ হয় সাফিয়াকে।পাত্রী দেখে যাওয়ার পর বাড়িতে গিয়ে জানাবে বলে যায়।বাড়ি গিয়ে জানায় তাদের ছোট মেয়েকে পছন্দ হয়েছে। প্রথমে মোল্লা পরিবারের সবাই অমত করলেও আফিয়া বোঝানোর পর সম্মতি দেয় এবং তার ঠিক এক মাসের মধ্যেই বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। গত কোরবানির পর তুলে নেওয়ার কথা থাকলেও ছুটি পায়নি বলে তা সম্ভব হয়নি। তাই এত দেরি হলো।
“ আসসালামু আলাইকুম আম্মু!"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,আসো আসো তাড়াতাড়ি ভেতরে আসো।"
“ নানীপা আসসালামু আলাইকুম!"
মায়ের হাত ধরে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে নানীকে সালাম দিলো নাবীহা। সুলতানা আযিযাহর কোমরে ভীষন ব্যথা তাও নাতনিকে দেখে খুশিতে বাকবাকুম হয়ে কোলে তুলতে গিয়ে আবারও ব্যথা পেলেন। মৃদু আর্তনাদ করে উঠলেন,
“ আহ্!"
“ আরে আম্মু কি করছেন। রাখেন ওকে নিচে! কোমরে ব্যথা তার মধ্যে আবার ওকে!"
“ সমস্যা নাই । আমার আপামনি কতদিন পরে আসলো।আমি একটু মন ভরে দেখে নেই।"
বলেই তিনি নাবীহার মুখটা উপরে তুলে কপালে, গালে,নাকে চুমু খেলো।নাবীহা নানীর দিকে দুষ্টু হাসি দিয়ে চেয়ে আছে।সে বেশ পাকা হচ্ছে।নানীর সাথে তার বেশ মাখো মাখো ভাব।ফোনে ভিডিও কলে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে।নানার সাথেও আলাপ করে।তাই নিয়ে নানী নাতনির মাঝে খুনসুটি চলে।
“ নানীপা!"
বলেই নাইফ পেছন থেকে সুলতানা আযিযাহর কোমর জড়িয়ে ধরলো।নাতীর হাতে হাত রেখে সুলতানা আযিযাহ হেসে দিয়ে উত্তর দিলো সালামের। এরপর কথায় কথায় সবাই ঘরে ঢুকলো,জিরিয়ে নিলো।ঘর ভর্তি মেহমান।
সবাই আফিয়াকে রেখে নাসিফকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾
“ দুলাভাই আপনার কিন্তু কথা ছিলো আমাদের বাড়িতে যাওয়ার। এখনও গেলেন না!"
মান্নাতের অভিমানী অভিযোগ।নাসিফ শ্যালিকার অভিযোগ দেখে হাসলো এরপর বললো,
“ যাবো যাবো।খুব শীঘ্রই তোমার বিয়ের আয়োজন করতেই যাবো ইনশাআল্লাহ্!"
“ হুহু,আমার বিয়ের দেরি আছে! ঢের দেরি!"
“ দেখা যাক।"
মিষ্টি মিষ্টি করে ডাক দিলো,
“ জিজু!"
মিষ্টির মিষ্টি ডাকে নাসিফ গলা খাঁকারি দিলো। পাঞ্জাবির বোতাম ঠিক করে মিষ্টির দিকে ঘুরে বসে বললো,
“ এত মধুর করে ডাকতে নেই শ্যালিকা!ডায়াবেটিস হয়ে যাবে। পরে তোমার বোনের জ্বালা বেড়ে যাবে।"
“ আপনি বোধহয় এমনিতেই কম জ্বালান আমার বোনকে!
_ আমি সব জানি!"
“ আরেহ সর্বনাশ! সব জানো? তোমার বোন সব বলে! কিভাবে কি করি তাও বলে? তাহলে তো তুমি অভিজ্ঞ হয়ে যাচ্ছো! "
“ ছিহ দুলাভাই কি সব বলতেছেন! আমি এমন কিছু বলি নাই!"
“ কেমন কিছু বলো নাই শ্যালিক পাখি!"
“ শুনছেন,বাইরে বাবুর্চির লোক এসেছে!"
শালী দুলাভাইয়ের আড্ডার মাঝে বাগড়া দিলো আফিয়া।নাসিফ এক্সকিউজ মি বলে উঠে গেলো।
◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾
রাত প্রায় দেড়টা.....
“ বাড়ি ভর্তি মানুষ,আপনি আর ফোন দিয়েন না।সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করছে!"
“ আরে ভাই আর মাত্র একটা রাত! এরপর নিজের ঘরে নিয়ে চব্বিশ ঘন্টা আলাপ করো কারো সমস্যা হবে না তাতে।"
সাফিয়া বারান্দার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে খুবই আস্তে করে কথাগুলো বলছিলো । কিন্তু বারান্দার দেওয়ালের ওপাশে থাকা নাসিফের কানে ঠিকই পৌঁছে যায় এবং সে ঐরুপ উত্তর দিলো।সাফিয়া মুখ বের করে এক পলক দেখেই দৌড়ে নিজের ঘরে ঢুকে গেলো। লজ্জায় আর দাড়ালো না।নাসিফ নিজের দুষ্টমিতে হেসে উঠলো। সে এখানে দাঁড়িয়ে কসাইকে দিক নির্দেশনা দিচ্ছে।খাসি এনেছে জামাইয়ের জন্য।আর গরুর ব্যবস্থা কসাই তার দোকানেই করবে। এখানে আর আনলো না। মুরগীও চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে।শুধু তো রাতটাই। এরপর তো সময় নাই আর। মাছের দায়িত্ব মাছ ওয়ালার।সেই কেটে দিয়ে যাবে।
সাফিয়াকে মেহেদী পড়াতে একজন মেহেদী শিল্পী আসছে। তিনি মেহেদি পড়াচ্ছিলো এর মধ্যেই তিনবার রেজওয়ান ফোন করে।তাই সবাই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করতে থাকে। যার জন্য সাফিয়া নিষেধ করে।
নাসিফ কসাইয়ের সাথে আলাপ শেষ করে বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকে। এমনিতেই ভেতরে তার থাকার জো নেই।সব মহিলা সদস্য।আজ রাতে ঘুমও হবে না। কোথায় ঘুমাবে! এত এত মানুষের মাঝে। তার ঘুমের মানেই হলো তাকে একটা রুম ছেড় দিয়ে বাকীরা এক রুমে কষ্ট করে থাকা তাই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ রাতটা না ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিবে।যদিও ঘুমানোর সুযোগও কম।সবতো তাকেই দেখতে হচ্ছে।যতই মামা,খালু, চাচা থাকুক।তার শ্বশুর তো তাকেই ছেলের দায়িত্ব দিয়েছে।সেটা তো তাকে সুন্দর মতো পালন করতে হবে। সালাহ্ আছে ডেকোরেশন নিয়ে। কোথায় কিভাবে সাজাবে তার দায়িত্ব সালাহর।আফিয়া বোনকে নিয়ে ব্যস্ত।একটু আগেই দেখলো সবার জন্য চা করতে গেছে। আচ্ছা বাচ্চারাও কোথায়?
কথাটা ভাবতেই ভ্রু কুঁচকে বারান্দার দরজা দিয়ে ভেতরে দেখার চেষ্টা করলো, মহিলাদের কিচিরমিচির আর বাচ্চাদের চইচই ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছে না।নাফিসাকে নিয়ে আসতে চেয়েছিল আফিয়া, কিন্তু নাসিফ বারণ করায় আসেনি।না আসাই উত্তম,এত মানুষের মাঝে নাফিসার সমস্যা হয়।
মেয়ের খোঁজ না পেলেও ছেলের খোঁজ ঠিকই পেলো।প্যান্ডেলের সামনে বক্সে গান বাজছে।সে সেখানে তার মামু আর অন্য কাজিনদের সাথে নৃত্য কর্মে ব্যস্ত আছে।নাসিফ সেদিকে এগিয়ে গেলো। সালাহ্ তার বন্ধুদের নিয়ে কৃত্রিম ফুল দিয়ে সাজাচ্ছে প্যান্ডেল।
“ কতদূর এগোলো?"
“ এই তো ভাইয়া! প্রায় হয়েই গেছে।"
“ নাইফ,যাও ভেতরে যাও! এখন গিয়ে ঘুমাও!"
“ আজকে আমি ঘুমাবো না বাবা প্লিজ! মামা আজকে জেগে থাকবে, আমিও..
“ নো! একদমই আর্গু করবে না! তুমি এখন না ঘুমালে কাল প্রোগ্রামে থাকতে পারবে না। সারাদিন মুরগীর মতো ঝিমাবে!যাও এখন রুমে!"
“ বাবা প্লিজ!!"
“ নাইফ!"
“ ভাইয়া থাকুক,ও এখানে আমাদের সাথেই ঘুমাবে নে?"
“ এখানে কোথায়?"
নাসিফ জিজ্ঞেস করলো সালাহকে।সালাহ বললো,
“ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই প্যান্ডেলেই আজকে ঢালা বিছানা করে ঘুমাবো!"
“ এখানে কিভাবে সম্ভব?মশায় কামড়াবে!"
“ মশারী টাঙিয়ে নিবো আর কয়েলও জ্বলবে। নাইফ আমাদের সাথেই থাকুক ভাইয়া।"
“ যা খুশি করো। তবে ও যেন ঘুমায় আমি খালি এতটুকু বলছি।"
“ থ্যাংকু ভাইয়া!"
“ থ্যাংকু বাবা!"
ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল, উদ্দেশ্য মেয়ের খোঁজ আর মেয়ের মায়ের সন্ধান করা।
◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾
“ বাবা দেখো আমি মেহেদী দিয়েছি!"
বসার ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলো নাসিফ। বাচ্চাদের না দেখতে পেয়ে ঘরেই ঢোকার সিদ্ধান্ত নিলো,ঠিক তখনই দৌড়ে আসলো তার কলিজার অর্ধেক!মেয়ের হাতে মেহেদী দেখে খুশি হয়ে হাঁটু ভেঙ্গে বসে দুই হাত নিজের দুহাতে তুলে ধরে বললো,
“ মাশাআল্লাহ।আমার পরীটাকে তো সত্যিই পরী লাগছে!
_ আজ তো খালামনির বিয়ে; এখন যদি তুলতুল সোনাকে বেশি সুন্দর লাগে তবে কি তাকেও বিয়ে দিয়ে দিবো!"
“ বিয়ে কি বাবা?"
“ বিয়ে! বিয়ে হচ্ছে একটা ম্যাজিক! সবকিছু হুট করেই সুন্দর করে তুলে! নতুন একটি পৃথিবী দেখায়, সুন্দর সুন্দর কিছু মানুষের আগমন হয়। তার সাথে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা সহস্রগুন বৃদ্ধি করে দেয়!"
বাবার এত বড় বড় কথা বোঝার জন্য মগজ এখনো পরিপক্ক হয়নি তুলতুল সোনার।সে বিস্ময়কর চোখে বাবার দিকে চেয়ে আছে।নাসিফ মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে বললো,
“ আপনি এখন এগুলো বুঝবেন না।বড় হলে বুঝবেন!"
“ কবে বড় হবো?"
“ ইনশাআল্লাহ অনেক তাড়াতাড়ি!"
“ বড় হলেই বিয়ে হয় বাবা?"
মেয়ের কথায় মেয়ের দিকে তাকালো।মেয়েটা হাসি হাসি মুখে তাকিয়ে আছে। ফর্সা গায়ে হলদে কমলা লেহেঙ্গা পড়ানো।ওড়না আড়াআড়ি করে পড়িয়ে দিয়েছে সুন্দর করে।নাসিফ খেয়াল করলো তার মেয়ে আজ সেজেছেও। চার পেরিয়ে পাঁচ ছুঁইছুঁই মেয়েটার মধ্যে এখনই সৌন্দর্য উপচে পড়ছে।দেখলেই ইচ্ছা করে গাল দুটো টেনে দিতে।নাসিফেল হঠাৎ করেই আমিরার কথা মনে পড়লো। এই চেহারা আমিরার।কি আশ্চর্য মেয়েটা মায়ের রুপ নিয়ে আসছে। চেহারার গঠন মায়ের মতোই হচ্ছে।কি দারুন লাগছে।আফিয়া নাবীহাকে কখনো সাজায় না।ওর কথা হলো এই বয়সেই মেকাপের ছোঁয়া লাগলে বাচ্চার ত্বকের কোমলতা নষ্ট হয়ে যাবে।বড় হওয়ার আগেই বুড়িয়ে যাবে।তাহলে আজ কেন সাজালো; এই সাজ তো নাসিফকে আমিরার কাছে নিয়ে যাচ্ছে।
“ বাবা মেয়ের মাঝে কি নিয়ে এতো ভাব হচ্ছে, শুনি!"
আফিয়া হাতে ট্রে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।নাসিফ মেয়েকে কোলে রেখেই আফিয়ার দিকে তাকালো।নাসিফের চাহনিতে আফিয়ার মুখভঙ্গি বদলে গেলো।কি হয়েছে? শুধালো।নাসিফ প্রতুত্তর করলো না।কি বলবে? মেয়েকে দেখে মেয়ের আসল মায়ের কথা মনে পড়ছে? আফিয়া ট্রে নিয়ে টেবিলের উপর রাখলো। এরপর নাসিফের দিকে এগিয়ে গিয়ে মেয়ের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,
“ মায়ের কাছে আসো প্রিন্সেস!"
নাবীহা বাবার কোল থেকে মায়ের কোলে গেল।আফিয়া মেয়ের কপালে চুমু খেয়ে বললো,
“ খালামনির কাছে গিয়ে বসো।দেখো তো মেহেন্দী আন্টি ঠিকঠাক খালামনিকে মেহেদী দিচ্ছে কি-না!"
“ আচ্ছা!"
বলেই নাবীহা মাথা দুলালো,আফিয়া মেয়েকে নামিয়ে দিলো কোল থেকে।নাসিফ সেদিকে এক নজর তাকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই আফিয়া নাসিফের হাত টেনে ধরলো! বললো,
“ কি হয়েছে? কেউ কিছু বলেছে? মুখটা এমন শুকনো কেন?"
নাসিফ ওভাবেই নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো, এরপর আফিয়ার দিকে ফিরে বললো,
“ কি হবে? কিছু হয়নি। তাছাড়া আমাকে কেন কেউ কিছু বলবে?"
“ কিন্তু আপনার মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে কিছু একটা হয়েছে!
_ বলেন না কি হয়েছে? অফিসে কোন সমস্যা!"
“ আরে না পাগলি! অফিসে কিছু হয়নি। ইভেন আমার কিছুই হয়নি। এমনিতেই চুপচাপ আছি!
_ আচ্ছা সবাই হাতে মেহেদী পড়ছে! তাহলে তোমার হাত খালি কেন?"
আফিয়ার হাত দুটো উপরে তুলে নিজের কাধ বরাবর করলো। এরপর আবারও জিজ্ঞেস করলো,
“ মেহেদী দিচ্ছো না কেন?"
আফিয়া হাত দুটো নাসিফের বাঁধন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো,
“ সবাই মেহেদী পড়ে থাকলে চলবে? এইযে একটু পর পর চা, কফি দিতে হচ্ছে। এগুলা কে করবে?সব কি বয়স্ক মা খালাদের উপর ছেড়ে দিবো?"
“ তার মানে কি তুমি মেহেদী পড়বে না?"
“ দেখি পড়বো সময় পেলে!"
“ সময় পেলে! সেই সময়টা কবে পাবেন? বিয়ে শেষ হবার পর?"
কথাটা বলে পাঞ্জাবির পকেটে হাত ঢুকিয়ে বাকা চোখে আফিয়ার দিকে চেয়ে আছে।নাসিফের তাকানোর ধরণে আফিয়া আমতা আমতা করে বললো,
“ এভাবে কি দেখছেন? এখন সময় না পেলে কি করবো!
_ আচ্ছা ঠিক আছে,পড়বো নে। ওদের দেওয়া শেষ হোক।সবার শেষে আমি পড়বো। ততক্ষণে অনেকের মেহেদীই শুকিয়ে যাবে।"
“ উফ্!"
একটা শ্বাস ছাড়লো নাসিফ।আফিয়া ওর অবস্থা দেখে হেসে দিলো।
“ এই জামাইকে চা দিছো?"
দূর থেকে জিজ্ঞেস করলেন মামী।আফিয়া ,নাসিফ স্বাভাবিক চেহারা করে দাঁড়ালো।তিনি আফিয়াকে প্রশ্ন করে উত্তরে জন্য চাইতেই আফিয়া বললো,
“ অনেকবার খেয়েছ মামী।
_ আরো দিবো চা?"
প্রশ্নটা ছিলো নাসিফের দিকে চেযে।নাসিফ বললো,
“ না।
_ আচ্ছা আমি বাইরে আছি। কিছু লাগলে বলো!"
“ হু!"
◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾
কন্যা বিদায়ের বেদনা আবারও সহ্য করতে হলো সুলতানা আযিযাহ ও নিয়াজ মোর্শেদ মোল্লাকে। বোনের হাত ধরে তাকে বরের গাড়ীতে নিয়ে বসালো সালাহ্ মোল্লা।তার চোখও বারবার ভিজে আসছে।বড় বোনের সাথে তার সম্পর্ক মা সন্তানের।আর ছোট বোনের সাথে সম্পর্ক ছিলো দা কুমড়োর কিন্তু তাতেও ছিলো মিষ্টতা। সারাদিন একে অপরের সাথে লেগেই থাকতো আবার একে অপরের খোঁজেও ব্যস্ত থাকতো। আজ থেকে সালাহ একা।
দরজা খুলেই কেউ বলবে না,
“ বারবার দরজা খুলতে পারবোনা।একবার যাবি একবার আসবি।নাইলে বাইরেই থাকবি!"
সালাহ্ও কাউকে বলবে না,
“ তোর হাতের তরকারি জঘন্য হয়। মনে হয় তুই ইচ্ছে করে আমাদের মারতেই এমন জঘন্য রান্না করিস।
_ এই বিয়ের পর তোর জামাইকে কিভাবে খাওয়াবি। নিশ্চিত তোকে তিন বেলা পিটাবে এই জঘন্য,কুৎসিত রান্নার জন্য!"
তখন রাগে কেউ আর সালাহর সামনে থেকে খাবারের প্লেট কেড়ে নিবেনা।মাথায় পুরো জগের পানি ঢেলে দিবে না। সালাহ্ রেগে গিয়ে কারো মাথার সব চুল টানবে না। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো সালাহ।সাফিয়া ভাইয়ের কান্নার সুরে আরো চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করলো,আফিয়া দরজায় দাঁড়িয়ে মা'কে জড়িয়ে কাঁদছে।নাসিফ এগিয়ে গিয়ে সালাহ্কে বললো,
“ ওকে বিদায় দাও ভাই। গাড়িতে বসাও।"
সালাহ্ কোনমতে হাতটা ধরে গাড়ীতে তুলে দিলো।সবাই কাঁদছে মোটামুটি।একা ঘরে বসে নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে এক অসহায় বাবা।যিনি নিজের দুই কন্যাকে পরের ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু একবারও নিজের পায়ে হেঁটে গিয়ে না কন্যাদের সংসার করা দেখতে পারলেন আর না তাদের হাত ধরে একটু এগিয়ে দিয়ে আসতে পারেন।এত অথর্ব কেউ কি হয়!
চলমান.....







0 মন্তব্যসমূহ