#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_২৬
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
১৫ দিন পর...
নাইফের স্কুলে আজ তার পরীক্ষার ফলাফল দিয়েছে।নাইফের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো তবে এখনও হাঁটা নিষেধ তবুও তাকে স্কুলে নিয়ে আসা হয়েছে।ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে হুইল চেয়ারে বসিয়েই তাকে স্কুলে আনা হয়েছে।যদিও তাতে নাইফ গাল ফুলিয়ে রেখেছে।সে এই সুযোগে স্কুল কামাইয়ের তাগাদা করছিলো কিন্তু তার ইচ্ছাকে পঁচা পানিতে চুবিয়ে তার মা বাবা তাকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে স্কুলে নিয়ে এসেছে।
আফিয়া নাইফকে স্কুলে দিয়ে চলে গেছে।নাসিফ রয়ে গেছে।যেহেতু ছেলেটা বড় তাকে বারবার কোলে তুলে ওঠা নামা করানো আফিয়ার জন্য কষ্টকর।তাই ছেলের জন্য নাসিফই রয়ে গেছে।আফিয়া গেলো মেয়ের স্কুলে।আর কয়দিন পরেই তো ভর্তি পরীক্ষা। এরপর মেয়েটাও নিয়মিত স্কুলে যাওয়া আসা শুরু করবে আর আফিয়ার কষ্টও বাড়বে।যদিও মায়েদের কাছে এটা কষ্টের না তারা সন্তানের জন্য সব করতে পারে, সন্তানদের ভবিষ্যত এর জন্য তারা নিজেদের উৎসর্গ করতেও দু'দন্ড ভাবে না।
“ হেই মিস্টার ওয়াসীত্ব গাজী,হাউ আ্যা ইয়্যু? লং টাইম আফটার সি ইয়্যু।হাউ পাসেড ইয়্যুর ডেইস?আই হোপ সো...এজ ইয়্যু ওয়ান্ট!"
হাসি হাসি মুখে একদমে কথা গুলো বললেন আইরিন নাজমা ম্যাম।হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হ্যালো হাইয়ের সাথেই। নাসিফ হাত না মিলিয়েই ঠোঁটে হাসি বজায় রেখে প্রত্যুত্তর করলেন,
“ হ্যালো ম্যাম!আ'ম আলহামদুলিল্লাহ,হুয়াটস এবাউট ইয়্যু?ইয়াহ ইটস্ আফটার আ্যা লং টাইম!"
“ আলহামদুলিল্লাহ,বাট আপনি! ছেলেকে নিতে? কেন আপনার মিসেস কোথায়? তিনি আসবেন না আর?"
ভ্রু কুঁচকে উৎসুক হয়ে প্রশ্নটা করলেন,নাসিফ ওভাবেই উত্তর দিলো,
“ হ্যা এসেছিল, আবার চলে গেছে।মেয়ের স্কুলও ছুটি দিয়ে দিবে। তাকে আনতে গিয়েছে।"
“ মেয়েকেও স্কুলে দিয়ে দিয়েছেন।কোন স্কুলে দিলেন? আমার এখানেই দিতেন? একসাথেই দুই ভাই বোন যাওয়া আসা করতো! আপনাদেরও একটু রেহাই হতো।"
“ হ্যা স্কুল বলতে ঐ এলাকায়ই ছোটখাটো একটা কিন্ডারগার্টেনে দিলাম।যাতে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহটা তৈরি হয়। তারপর একটু আধটু শিখুক এরপর তো এখানেই ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ইনশাআল্লাহ টিকলে ভর্তি করাবোই।"
“ বাহ্ এটা বেশ উত্তম সিদ্ধান্ত।তো আপনার বিজনেসের কি অবস্থা?"
“ আছে সব আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আচ্ছা আমি জানতে চাইছিলাম নাইফের পড়াশোনার কি অবস্থা?"
“ নাইফের পড়াশোনার কি অবস্থা?... নাইফের অবস্থা নিয়ে আমি স্কুল ছুটি দেওয়ার আগেই তো আপনার মিসেসের সাথে আলোচনা করেছিলাম। ওর অবস্থা কিন্তু খুব একটা ভালো না।উনি আপনাকে বলেননি?"
“ ভালো না মানে? আসলে ও তো স্কুল ছুটি ঘোষণা যেদিন দিলো সেদিন ফিরেই বাড়ির সামনে এক্সিডেন্ট করলো এরপর আর কি? ছেলের জীবন নিয়েই টানাটানি পড়াশোনার খবর কিভাবে নিবো?"
“ এক্সিডেন্ট করেছে মানে? কে এক্সিডেন্ট করলো? আপনার ওয়াইফ?"
চমকে গিয়ে প্রশ্নটা করলেন আইরিন নাজমা ম্যাম।নাসিফ দ্রুত গতি মাথা দুলিয়ে না বুঝিয়ে উত্তর করলেন,
“ না,না, ছেলে কথা বলছি।নাইফ তো সেদিন গাড়ি থেকে নামতেই কোথায় থেকে একটা অটো রিকশা এসে পায়ের উপর তুলে দিলো। ছেলেটা আমার এখনো হাঁটতে পারছে না।আজকে তো হুইল চেয়ারে করে নিয়ে এসেছি।"
“ মানে কিভাবে কি? আমি তো এখনও ওর ক্লাস যাইনি তাই জানিনা খবরটা! আমাকে একটু খুলে বলেন তো!"
এরপর নাসিফ সব খুলে বললো।আইরিন ম্যাম চমকাতে চমকাতে নিজের দু হাত দিয়ে গাল চেপে ধরেছে। এরপর বললেন,
“ কিছু মনে করবেন না গাজী সাহেব।না বলে পারছি না তাই বলছি , আপনার এই মিসেস কে আমার একদমই পছন্দ হচ্ছে না। আপনার মতো এত দায়িত্ববান মানুষের পাশে এমন কান্ডজ্ঞানহীন দায়িত্ববোধহীন একজন মানুষ কিভাবে কি করবে? মানুষ সালমান দুটো বাচ্চাকেও সামলাতে পারছে না।আমি কিন্তু উনাকে সেদিন অনেক বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।আপনি হয়তো জানেন না।নাইফের পড়াশোনার অবস্থা কিন্তু দিনদিনই ডাউন হচ্ছে! অথচ যখন মা ছাড়া আপনি একাই ওদের সামলিয়েছেন তখনও কিন্তু নাইফ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করতো।.......
আইরিন নাজমা ম্যাম সেদিন আফিয়ার সাথে যেভাবে যা বলেছে সব খুলে বললো নাসিফকে।নাসিফ কোন বাক্য ব্যয় করেনি কেবল চুপ করে শুনেছে।এর মধ্যেই বেল বেজে উঠল। আইরিন ম্যাম তাড়া দেখিয়ে চলে গেলেন।নাসিফ হতভম্ব হয়ে কেবল তাকিয়ে রইলো। তাকে এত কথা এভাবে বলার কি দরকার তার বোধগম্য হলো না।সে মনে মনে বললো,
“ মহিলা মানুষের মন বোঝার চেয়ে মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করা সহজ!"
◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️
“ ছেলের ফলাফল তুমি আগেই পেয়েছো তাহলে আমাকে বলোনি কেন?"
নাসিফের প্রশ্ন তার দিকে ফিরে তাকালো আফিয়া।নাইফ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে,নাবীহা ভাইয়ের থেকে পাওয়া চকোলেট চেটেপুটে খাচ্ছে। তাই তারা কিছুই শুনতে পাচ্ছে না।আফিয়া দৃষ্টি ঘুরিয়ে সামনে রেখে বললো,
“ এমনিতেই।
_ আপনি এই অবস্থায় ছেলেকে বকাঝকা করিয়েন না প্লিজ! ইনশাআল্লাহ পরের বার ভালো করবে!"
“ ইনশাআল্লাহ!
_ তুমি এটার জন্য নিজেকে দায়ী ভেবো না। এখানে তোমার কোনো দোষ নেই। সময়ের অভাবে ওর পড়াশোনার দিকে মনোযোগ দিতে পারি নি। সেও বেশ উৎফুল্ল ছিলো সবকিছু নিয়ে তাই এমন করেছে।এটা নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। তাছাড়াও এ বিষয়ে তোমার করনীয় কিছুই ছিলো না।সবটা সময়ের খেলা।তবে এখন থেকে একটু ওর দিকে বেশি মনোযোগ দিও।জানি সংসারে তোমার আরওৎঅনেক কাজ আছে,তোমার কাজের অনেক চাপ তারপরও। বাচ্চা দুটো তো তোমাকে ছাড়া এখন কিছুই বুঝে না।তাই তুমিই ওদের সামলাতে পারবে।তুমি বললে ওরা পড়াশোনায় নিয়েও সিরিয়াস হবে ইনশাআল্লাহ।"
“ ওরা আমার প্রতি আসক্ত হচ্ছে আপনার ভালো লাগছে না? "
“ কেন লাগবে না। তুমি ওদের প্রতি যেই দরদ দেখাচ্ছো,যতটা যত্ন করো তা ওদের মায়ের মতোই। সেই বিষয়ে আমি অভিভূত হচ্ছি, বলতে দ্বিধা নেই।"
নাসিফের এ কথার পিঠে আফিয়া আর কিছু বললো না।গাড়ী এখন আজিমপুর ছাড়িয়েছে।নাইফ বলে উঠলো,
“ মা!"
ছেলের ডাকে আফিয়া পিছনে ফিরে বললো,
“ কি হয়েছে বাবা?"
“ মা, চলো না আমরা আজকে ঘুরে বেড়াই!"
নাইফ বলেই মায়ের দিকে আকুল হয়ে তাকালো।নাসিফ ছেলেকে আয়নায় দেখছে। ফলাফল খুব একটা খারাপ হয়নি।তবুও বাচ্চাটার মন খারাপ হয়ে আছে। যদিওবা সে এখনো কিছুই বলেনি।এই অসুস্থ অবস্থায় বলতেও ইচ্ছে করলো না। তাছাড়াও বাচ্চাটা বরাবরই ভালো ফলাফল করে, একবার দু'বার খারাপ হলে খুব একটা ক্ষতি নেই।আগে নিজেরা ভালো থাকুক।
“ কোথায় যাবে?"
ছেলেকে শুধালো নাসিফ,নাইফ বাবার দিকে তাকালো এবার। ফলাফল হাতে পাওয়ার পর ভয়ে বাবার দিকে একবারও তাকায়নি, বাবাও তার সাথে কোন কথা বলেনি। মায়ের হাত ধরে মায়ের আঁচলের ছায়ায় লুকিয়ে ছিলো।এখন যখন বাবা কথা বললো তার ভয় একটু কাটলো, ভীত চোখে তাকিয়ে বললো,
“ মিউজিয়াম যাবো!"
নাইফের ইতিহাসের প্রতি ঝোঁক আছে,তাই সে নিজের পছন্দের জায়গা বলতে মিউজিয়ামকেই আগে রাখে।তাই করলো নাসিফ।আফিয়া বললো,
“ আমি এক কাজ করি ।বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দেই,আমরা বাইরে লাঞ্চ করছি।নয়তো আম্মা চিন্তা করবে।"
“ হু!"
◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾
হাসতে খেলতে বেলা গড়িয়ে গেলো অনেকগুলো। দিনের পর রাত, রাতের পর দিন! স্রষ্টার চমৎকার নিয়মানুযায়ী একেরপর এক মুহুর্ত কাটিয়ে দিলো সবাই। আনন্দ, উচ্ছাস, দুঃখ-যাতনা,মান-অভিমান
সবই ছিলো এই সময়ে
ভালো খারাপের সঙ্গে এক সাথে তাল মিলিয়ে কাটিয়ে দিলো আরো পাঁচ মাস! নাইফের পা ভালো হয়েছে অনেক আগেই।নাবীহা এখন নাইফের স্কুলেই প্লে-তে পড়ে।আফিয়া সকালে বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যায়। দুপুরে ফিরে। তারপর সংসার, বাচ্চাদের পড়াশোনা, শ্বশুর শাশুড়ি সেবা যত্ন আর নাসিফের সঙ্গে খুনসুটি, ভালোবাসায় কাটিয়ে দেয় সারাদিন।নাসিফও ব্যাবসায়ে আরো মনোযোগী হয়েছে। সারাদিন ব্যাবসার কাজের চাপের মাঝেও দুপুরে খেতে আসা, বাচ্চাদের নিয়ে এদিক ওদিক
ঘুরতে যাওয়া,বাবা মায়ের খেয়াল, ছোট বোনের দিকে নজর রাখা থেকে শুরু করে প্রতি রাতে আফিয়াতে মজে যাওয়া সবটাই খুব সুন্দর করে সামলাচ্ছে।এর মাঝেও খুশির খবর হলো সালাহ্ বুয়েটে চান্স পেয়েছে এবং প্রথম সারির শিক্ষার্থী হিসেবেই পেয়েছে।যদিও টাকা পয়সা নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছিলো যার সমাধান তার বড়লোক দুলাভাই করে দিয়েছে অবশ্য ছোট দুলাভাইও কিছুটা অবদান রেখেছে।
“ ভাইয়া আসসালামু আলাইকুম!"
“ আরেহ ইঞ্জিনিয়ার সাহেব যে ওয়া আলাইকুম আসসালাম,কেমন আছেন? কি অবস্থা আপনার?"
সালাহ্ হেসে উত্তর করলো
“ আলহামদুলিল্লাহ ভাইয়া।
_ পানি খাবো।"
“ এই বাবলু পানি দেও তো ।এক কাজ করো লাচ্ছি অর্ডার দাও।"
বলেই নাসিফ সালাহর দিকে ঘুরে জিজ্ঞেস করলো,
“ এদিকে কি মনে করে?"
“ ক্যাম্পাসে বর্ষবরণের প্রস্তুতি চলছে।তো ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাদের একটা গ্রুপ করে দিয়েছে, আমাদের ব্যাচের মধ্যে আমি পড়েছি সাথে আমার তিনজন ব্যাচমেট ,দায়িত্ব হচ্ছে এক রঙের থান কেনা।বড় আপাকে জিজ্ঞেস করলাম বললো, চকবাজার যা।তাই এখানে আসলাম কিন্তু এসে হাটতে হাটতে আমার জান নাই!"
বলেই সালাহ নিজের কপাল পেতে দিলো টেবিলের উপর।ওর নাজেহাল অবস্থা দেখেও নাসিফের হাসি আসছে।নাসিফের মতে সালাহ শ্যালক হিসেবে দুর্দান্ত একটা মানুষ, বোনদের জন্য তার দায়িত্ববোধের শেষ নেই।তেমনি প্রানবন্ত আর উচ্ছল।সব কিছুই নিজের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব দিয়ে
নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে পারে। দায়িত্ব পালনের কথা তাকে বলতে হয় না।নিজেই কাঁধে তুলে নেয়।
এসির তাপ আরো শীতলে নামিয়ে সালাহর বন্ধুদের উদ্দেশ্য বললো ,
“ আমি তো শুধু লাচ্ছি বললাম,তোমরা বলো কে কি খাবে?"
“ না ভাইয়া আমরা কিছুই খাবো না।শখের বসে এসেই লুচি আর কাবাবা খেয়েছি।লেবুল শরবতও খেয়েছিলাম কিন্তু হাটার পর মনে হচ্ছে তাতে কিছুই হয়নি।এখন একটা বরফের পাহাড় হলে ভালো হয়।"
ওদের কথায় নাসিফ শব্দ করে হেসে উঠলো। এই বয়সের এই উদ্দামতাই তার ভালো লাগে।এই যে বন্ধুরা মিলে একসাথে একটা কাজে বের হয়েছে, ক্লান্ত হয়েছে টুকটাক খাবার খেয়েছে আবা ক্লান্ত হয়ে একে অপরের উপর ঢলে পড়ছে।
নাসিফের সাথে ছেলেদের খুচরো আলাপের মাঝেই চার গ্লাস লাচ্ছি উপস্থিত হলো।নাসিফ বললো এটা শেষ করো এরপর আমার সাথে যাবে সবাই।
সবাই তাই করলো। এরপর নাসিফ নিজেই নিয়ে বের হলো। ঘুরে ঘুরে বেশ কয়েকটি বড় বড় পাইকারি কাপড়ের দোকান থেকে ওদের প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড় কিনে দিলো।এর সাথে নিজের ঘরের মহিলাদের জন্য এবং শ্যালিকা ও শ্বাশুড়ি মায়ের জন্যেও কিনলো। সেগুলো সব নিজের কাছে রেখে দিলো। এরপর ছেলেদের বললো,
“ এখন সবাই আমার সাথে চলো। লাঞ্চ করবো!"
সালাহ্ তো তার দুলাভাইকে চিনেই।যখন বলেছে লাঞ্চ সে করাবে তার মানে সেই করাবে।তাই বন্ধুদের নিয়ে গেলো।
খেতে খেতে সবাই টুকটাক আলাপ করছে।
“ ভাইয়া আপনি কি কিছু শুনছেন?"
“ কোন বিষয়ে!"
“ ছোট দুলাভাই আসছে!"
“ কবে?"
“ নিশ্চিত না । তবে মা'কে মামী'কে বলতে শুনলাম , ভাইয়ার টিকিট কনফার্ম।তার মানে দুই একদিনের মধ্যেই আসবে।"
“ আমার সাথে তো গত পরশুও কথা হলো! কই কিছু তো বললো না।"
“ ছোট দুলাভাইয়ের সাথে?"
“ হ্যা!"
“ কি জানি!"
“ যাক,বলুক আর নাই বলুক! আসছে এটাই উত্তম কথা। সাবধানে আসুক।"
“ হ্যা।"
◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️
ইদানিং আফিয়ার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি খারাপ দেখা যাচ্ছে তার আচরণে। কেমন রুক্ষ হয়ে থাকে সবসময়।ভালো কথা বললেও সহ্য করতে পারছে না।মুড সুইংয়ের মতো জঘন্য রোগে আক্রান্ত আফিয়া ঠিক করলো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাবে।কেমন জানি শরীরটা সারাক্ষণ গুলিয়ে আসে,বমি হচ্ছে ঘনঘন।তার সাথে ওজন বাড়ছে অবিরত। শরীরের এহেন অবনতির প্রভাব পড়ছে তার ব্যবহারে যার শিকার হচ্ছে বাচ্চারা। এইতো একটু আগেই নাবীহাকে ধমকেছে অথচ নাবীহাকে উচু শব্দেও কেউ কথা বলে না।নাবীহা মায়ের ধমক খেয়ে দাদুর ঘরের খাটের নিচে গিয়ে লুকিয়েছে। অনেক সময় নিয়ে তাকে খুঁজছিলো সবাই। এদিকে নাবীহা ঘুমিয়ে পড়েছে কাঁদতে কাঁদতে।না পেয়ে পুরো বাড়িতে হইহট্টা শুরু হয়ে যায়। ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন নাবীহাকে পাওয়া যাচ্ছিলো না তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো মসজিদের মাইকে গিয়ে ঘোষণা করবে।ঠিক তখনই ঘটলো আশ্চর্যের বিষয়,নাবীহা ইঁদুর দেখে চিৎকার করতে শুরু করলো।সে যখন ঘুমিয়ে ছিলো ইঁদুর তার আঙ্গুলে কামড় দিচ্ছিলো তাই দেখে সে ভীষন ভয় পেয়ে যায়।আর কি দিলো জোরেসোরে চিৎকার এক।
ঘরের ভেতরে শব্দ পেয়ে সবাই আবারও খুঁজতে শুরু করলো এরপর উঁকি দিয়ে যখন দেখলো খাটের নিচে কাঁপতে কাঁপতে নাবীহা কাঁদছে তখন, আর কি?
নাফিসা খাটের নিচে ঢুকে নাবীহাকে টেনে বের করলো,আফিয়া দৌড়ে গিয়ে মেয়েকে নিতে গেলে সে ভয়ে যায় না। ফুফুর বুকে মুখ লুকিয়ে হিচকি দিয়ে কাঁদতে থাকে।আফিয়ার অন্তরে মনে হলো কেউ বড়সড় পাথর দিয়ে আঘাত করছে। নাফিসা ছিলো মেডিকেলে।সে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
“ এটা কি হলো? এমন করলো কেন?"
আফিয়া মেয়ের পিঠে হাত বুলিয়ে বললো,
“ মায়ের কাছে আসবে না! মা আর কখনো বকা দিবো না প্রমিজ!"
“ বকেছো? কেন?"
“ আর বলো না।কাজ করছি সে আঁচল ধরে টানাটানি করছিলো।তখন আমার হাত থেকে ভাঁজ করা শাড়ীগুলো সব পড়ে গিয়েছে।তাই ধমক দিয়েছিলাম কিন্তু তখন কি জানতাম আমার মায়ের এত রাগ হবে!"
বলেই আফিয়া জোর করেই নাফিসার কোল থেকে নাবীহাকে নিলো।মা কোলে নিতেই নাবীহার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেলো।এর মধ্যেই শোনা গেল বাইরে কলিং বেলের শব্দ।নাসিফকে জানানো হয়েছিলো নাবীহার নিখোঁজ হওয়ার খবর তাই হয়তো সে চলে এসেছে।
চলমান...







0 মন্তব্যসমূহ