সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_২৮

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_২৮

সুখ প্রান্তর, মরিয়ম বিবি - Morium Bibi


কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


পরের দিন....

সাফিয়াকে আনতে যাবে আফিয়া,নাসিফ,সালাহ, মিষ্টি, মান্নাত আর নাফিসা আর বড় চাচী,চাচা,বড় খালু আর খালা।আফিয়ার শ্বশুরের বর্তমান বাসস্থান গাজীপুর।যেহেতু অনেক দূরের পথ তাই সবাই বেশ সকাল সকাল‌ই তৈরি হতে থাকলো।

“ নাফিসা কোথায়, কতদূর আর?"

****

“ আচ্ছা, সাবধানে আয়।আমরাও এখনো তৈরী হ‌ইনি।"

নাফিসা যেহেতু তার নিজের বাসা থেকে আসছে তাই নাসিফ ফোন করে খোঁজ নিচ্ছে।

ঐদিকে আফিয়ার ড্রেসিং টেবিলের উপর থাকা সব সাজগোজের বক্স নিয়ে খাটের উপর পা ছড়িয়ে বসে নিজের পুরো মুখে,গলায় জামায় মাখছে নাবীহা।গায়ের সাদা ফ্রক লাল ব্লাসনে লাল রঙ ধারন করেছে। লিপস্টিক ঠোঁটের সীমানা ছেড়ে নাক, থুতনিতে ছড়িয়ে পড়েছে।আফিয়া রান্না ঘরে ছিলো,সবার জন্য নাস্তা বেড়ে নাসিফকে ডাকতে ঘরে এসেছিলো।এসেই এই অবস্থা দেখে দেয় এক চিৎকার,যেই চিৎকারে চমকে হাতের লিপস্টিক ফেলে দেয় নাবীহা।তরল লিপস্টিক বোতল থেকে গড়িয়ে পড়ে যায় বাদামী বিছানার চাদরে, আফিয়া ঘরে ঢুকে নাবীহার সামনে দাঁড়িয়ে,

“ নাবীহা কি করতেছো তুমি? তোমাকে আমি বারবার বলছি এগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করবে না! কথা বললে শোন‌ না কেন!"

নিজের কথা শেষ করেই ধাম করে একটা চড় বসালো নাবীহার পিঠে। যদিও আফিয়া হাতটা আলগোছে ছুঁইয়েছে তবুও বেশ জোরে লেগেছে,একবারে চটাস করে একটা শব্দ তৈরি হলো। মুহুর্তেই নাবীহা তীব্র আওয়াজে আর্তনাদ করে উঠলো আর বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলা নাসিফ চমকে উঠে দৌড়ে ভেতরে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। শব্দটা তার কানেও গেছে। এদিকে চড় মেরে এবং চড়ের আওয়াজে আফিয়াও থ হয়ে গেছে।সে এতটাও জোরে মারতে চায়নি। কিন্তু! 

নাবীহা নিজের বাচ্চা হাত দিয়ে পিঠ ধরার চেষ্টা করছে আর চিৎকার করে কান্না করছে। তার অশ্রুসিক্ত নয়ন তার মায়ের দিকে।

“ কি হয়েছে? এত জোরে শব্দ কিসের হলো? কি করছো তোমরা?"

এই মুহূর্তে নাসিফের উপস্থিতি আফিয়াকে অস্থির করে তুললো।নাসিফ মেয়ের কাছে এসে পিঠে হাত দিয়ে বারবার মেয়েকে জিজ্ঞেস করছে,

“ কি হয়েছে মা? কোথায় ব্যথা পেয়েছো? কিভাবে...

“ মা মারছে!"

ব্যস এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো নাসিফের ফেটে পড়তে।আর কিছু দরকার নেই।সে আফিয়ার দিকে রক্তচক্ষুতে তাকালো। দাঁতে দাঁত পিষে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই আফিয়া অসহায় চোখে তাকিয়ে কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গিতে বলতে চাইলো,

“ এমন কিছু না যেমন ভাবছেন।

_ আমি ওকে এভাবে আঘাত করতে চাইনি।দেখেন তো কি করছে? আর কিভাবে পুরো ড্রেসটা নষ্ট করেছে।আমি শুধু তার জন্যই একটু শাসন করতে গিয়েছিলা... কিন্তু এত জোরে লেগে যাবে তা ক্ষুনাক্ষুরেও বুঝি নি!

দেখি দেন আমার কাছে! আমি সামলে নিচ্ছি...

বলে আফিয়া কথা বলতে বলতেই নাসিফের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয় নাবীহাকে কোলে নিতে। ঐদিকে নাবীহা বাবার কোলে চেপে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।

আফিয়াকে হাত বাড়াতে দেখেই নাসিফ আফিয়ার দিকে হাত উঁচিয়ে নিষেধ করে,হালকা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় সামনে থেকে।আফিয়া কিছু বলতে যাবে তখন‌ই শোনা যায় সুলতানা আযিযাহর কন্ঠ,

“ কি রে বুড়ি কান্দে ক্যা?"

তিনি প্রশ্ন করতে করতেই এর মধ্যেই ঘরে ঢুকে পড়েছে।নাসিফ মেয়েকে কাঁধে নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পিঠে আদর করে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর নানা কথা বলে শান্ত করার চেষ্টা করছে,নাবীহার কান্নার থামলেও ফোপানি বন্ধ হয়নি। সুলতানা আযিযাহ মেয়ের দিকে চেয়ে রাগ দেখিয়ে বললো,

“ এর জন্য তুই মারিছস!"

তিনি সাজগোজের জিনিসগুলির দিকে আঙুল তাক করে কথাটা বললেন। আফিয়া মায়ের দিকে অসহায় চাহনি ফেলে অনুশোচিত কন্ঠে বললো,

“ আশ্চর্য মারবো কেন? তোমরা সবাই এটাই কেন ভাবো আমি মারছি! আমি ধমক দিয়েছি আর হ্যা মারবো বলে ভয় দেখিয়ে পিঠে হাত লাগাতে গিয়েই অসতর্কতার কারনে জোরে লেগে গেছে।আর কিছু না!"

আফিয়া নিজের কথা শেষ করেই বারান্দায় যায়।জোর করেই নাসিফের থেকে নাবীহাকে নিজের কোলে নেয়।নাসিফ শ্বাশুড়ির উপস্থিতি টের পেয়ে চুপ করে আছে। কিন্তু সে যে রেগে বোম তা তার মুখের রঙে ঠিক‌ই আঁচ পাওয়া যায়।নাবীহা মায়ের কোলে যাওয়ার পর ফোঁপানি আরো বেড়েছে।তার মনের দুঃখ আরো চড়াও হয়েছে।সে তো শুধু সাজুগুজু করতেই গিয়েছে তাই বলে মা মারবে! 

আফিয়া মেয়ের পিঠে হাত বুলাচ্ছে আর বলছে,

“ মা খুব পঁচা! মা কে বকে দাও তো একটু! মা আর কখনো তুলতুল সোনাকে মারবে না। কিন্তু তুমিও তো মায়ের কথা শোনো না!" 

নাবীহা মায়ের কাঁধেই চোখর পানির বন্যা বানাচ্ছে তার সাথে নাক মুছে আফিয়ার পুরো কামিজ ভিজিয়ে দিয়েছে।নাসিফ কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই পিছনে ফিরে দেখে শ্বাশুড়ি মা দাঁড়িয়ে আছে।তাই কিছু না বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। সুলতানা আযিযাহ মেয়ের জামাইয়ের মনোভাব বুঝতে পেরে মেয়েকে শাসনের গলায় বলে ,

“ একটু সহ্য ধৈর্য্য বাড়া; কথায় কথায় পোলাপাইনের লগে চিৎকার চেঁচামেচি এগুলা কি! জানোস না জামাই তার পোলাপাইনরে মাইরধ‌ইর করা পছন্দ করে না!"

আফিয় এবার বেজায় বিরক্ত হলো মায়ের উপর,হালকা চেঁচিয়ে বললো,

“ আশ্চর্য বারবার এক‌ই কথা কেন বলছো? মারছি কেন মারছি কেন? আমি বলছি না ইচ্ছা করে মারি নাই!

_ আমি একটি কথা আমি বুঝতে পারছি না আমার সামান্য ধমকের কারণেই যদি ওরা কান্না করে তোমরা সবাই আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ো।কেন? আমি কি ওদেরকে শাসন করার অধিকার রাখি না? আমি কি ওদের কেউ না? নাকি আমি ওদের সৎ মা বলে ওদের শাসন করার অধিকার আমার নাই? অথচ তোমরাই বলো মা হতে!মা কিভাবে হয় বলো তো! জন্মদাত্রী মায়েরা কি সন্তানদের শাসন করে না? তুমি করো নাই আমাদের শাসন! আমাদের ন্যায় অন্যায় দেখলে আমাদের কখনো ধমকাও নাই,নাকি বকো নাই কখনো!"

আফিয়ার গলা ভারী হয়ে উঠেছে।স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছে। সুলতানা আযিযাহ মেয়ের অবস্থা দেখে লজ্জিত হলেন তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেলেন। কোথাও একটা অপরাধবোধ তার গলাকে অবরুদ্ধ করে রাখার চেষ্টা করছে তাই তিনি স্থান পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পা বাড়িয়েও পিছনে ফিরে বললেন,

“ পৃথিবীটাই এমন। জন্মদাত্রী জন্ম দিয়ে নিজ স্বার্থে জবেহ করলেও লোকে বলবে সে তো মা! আর সৎ মা নিজের জীবন উৎসর্গ করেও বাচালে বলবে সৎ মা!

_ তবে আমার কাছে তোমার ভালো থাকাটাই জরুরি,আর আমি জানি তোমার ভালো থাকা এদের ভালো থাকাতেই।তাই বলছি শাসন করার অধিকার থাকলেও খাটিও না। বরং তাদের জন্মদাতার উপর ছেড়ে দাও।কারণ তুমি সৎ মা!"

সুলতানা আযিযাহ চলে গেলেন।নাবীহার কান্না ততক্ষণে থেমেছে কিন্তু থেমে থেমে নাক টানছে।আফিয়ার হাত নাবীহার পিঠেই থেমেছে।তার মা সত্য বলছে।সে যত‌ই আদর করুক দিন শেষে তার খারাপ ব্যবহারটাই সবাই মনে রাখছে।ঐ তো সেদিন যখন নাবীহা খাটের নিচে লুকালো তখন‌ও নাসিফ তার সাথে রুঢ় ব্যবহার করছে।তার কাছে কৈফিয়ত নয়, বরং স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলো তার বাচ্চাদের কোনভাবেই কাদানো যাবে না।

◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️

খাবারের সময়‌ও কেউ কোন কথা বলেনি। নাফিসা চলে এসেছে।যাদের জন্য স্বামী স্ত্রীর মাঝে মন কষাকষি তারা ঠিকই মায়ের আঁচলের কোনা ধরে ঘুরঘুর করছে।আফিয়াকে তৈরি হতে সাহায্য করলো নাফিসা। এদিকে মান্নাত, মিষ্টি বাকীরা তৈরি।আফিয়া এখন তৈরি করবে নাবীহাকে।নাবীহাকে তার ফুপু তৈরি করে দিয়েছিলো কিন্তু সেই পোশাক সে এর মধ্যেই জুস ফেলে নষ্ট করে ফেলছে।তাই আফিয়া বলছে একেবারেই যাওয়ার পথে নাবীহাকে নতুন করে পোশাক পড়াবে।তাই সবাই তৈরি হয়ে মা মেয়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

নাবীহার বায়না মায়ের মতো সাজবে।মা তো বোরকা পড়েছে কিন্তু বোরকার নিচে তো সুন্দর জামা পড়েছে তার সাথে মোটামুটি ভালোই হেব্বি সাজ দিয়েছে।যেহেতু নাসিফ সাজগোজ করা পছন্দ করে তাই নাবীহা চেষ্টা করে কোথাও গেলে একটু ভারী সাজগোজ করতে।যদিও তা বোরকার আড়ালেই থাকে।তবুও,যত সময় পর্দা বিহীন থাকে তার স্বামীতো দেখতে পারে, এটাই অনেক !

সাদা ফ্রক পড়িয়ে চুল গুলো দুটো ঝুঁটি করে দুই পাশে দুটো ক্লিপ দিয়ে আটকে দিলো। এরপর মাথায় কাজ করা ছোট একটি লাল হিজাব পড়িয়ে দিলো।তার সাথে চোখে কাজল দিয়ে গালে হালকা ফাউন্ডেশন দিয়ে লাল ব্লাসন লাগিয়ে দিলো। ঠোঁটে নিজের মতোই লাল লিপস্টিক পড়িয়ে দিলো।যদিও বাচ্চা ।আফিয়া বাচ্চাদের এত সাজগোজ করানো পছন্দ করে না কিন্তু নাবীহাকে দেখলেই তার সাজাতে ইচ্ছা করে।মেয়েটা এত আদুরে। সাজগোজ শেষে মেয়ের গালে,কপালে নাকে ছোট্ট করে চুমু দিলো। এরপর বললো,

“ চলেন আম্মাজান!"

নাসিফ মাত্র‌ই ঘরে ঢুকছিলো তাদের ডাকার জন্য। কিন্তু দরজা পেরুতেই মা মেয়েকে দেখে তার চোখ ঠান্ডা হয়ে গেলো।কি সুন্দর লাগছে।নাসিফ সাদা পাজামা পাঞ্জাবীর উপর কালো কোটি, ছেলেও তাই।আফিয়া তো কালো বোরকাই পড়ছে।মেয়েটা সাদা ফ্রক তার সাথে লাল হিজাব।

মুখে প্রানবন্ত হাসি ফুটিয়ে বললো,

“ মাশাআল্লাহ! আল্লাহর বেহেস্তে থেকে পরীগুলো আমার ঘরেই আসে সবসময়।আমি কৃতজ্ঞ আল্লাহর প্রতি।"

নাবীহা বাবার কাছে দৌড়ে গিয়ে কোলে উঠার জন্য হাত উঁচিয়ে ধরলে নাসিফ মেয়েকে কোলে তুলে নিলো। এরপর মেয়ের গালে,কপালে,নাকের উপর চুমু দিয়ে বললো,

“ আল্লাহ আমাকে সামর্থ্য দিন আপনার দান করা এই জান্নাতের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করার।আমি যেন আপনার আমানতের যথার্থ মর্যাদা দিতে পারি।"

“ আমীন।"

নাসিফের দোয়া শেষ হতেই আফিয়া আমীন বললো।

“ বাবা,মা !চলো সবাই গাড়ীতে বসে পড়েছে।"

নাইবা দৌড়ে ঘরে ঢুকে নিজের বাবা মায়ের উদ্দেশ্য চেঁচিয়ে কথাগুলো বলছে।নাসিফ আফিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,

“ তোমার সব হয়েছে!"

আফিয়া নিজের ব্যাগ দেখে নিয়ে, নিজের হিজাব,বোরকা দেখে বললো,

“ হ্যা আমি ঠিকঠাক আছি। আপনাদের কিছু লাগলে,কিছু নেওয়া বাকী আছে!"

“ না, আমার মোবাইল ওয়ালেট সব ব্যাগেই আছে।আর তুমি বাচ্চাদের জন্য..

“ নাবীহার জন্য এক সেট ড্রেস ব্যাগে নিয়েই।আর কিছু লাগবে না।"

“ আচ্ছা তাহলে বের হ‌ও!"

“ হ্যা!চলেন!"

এরপর সবাই র‌ওনা দিলো আল্লাহর নাম নিয়ে।

যাওয়ার পথে বাবার সাথে দেখা করতে ভুললো না আফিয়া।

◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾◾

পরের দিন....

সাফিয়াকে বাসায় এনে সেদিন রাতেই আফিয়া আর বাচ্চাদের নিয়ে নাসিফ নিজ গৃহে ফিরে আসে। । ছোট একটি ঘরে এতগুলো মানুষ থেকে অযথা গ্যাদারিং করার মানেই হয় না। তাছাড়াও রেজ‌ওয়ান এখন নয়া জামাই।তার যথেষ্ট স্থান দরকার,সময় দরকার।তারা থাকলে দেখা যাবে তার শ্বাশুড়ি তাকে নিয়েই পড়ে আছে।নয়তো বাচ্চাদের নিয়েই মেতে আছে। সবচেয়ে বড় কথা থাকার জন্য কষ্ট হবে যার কোন দরকার নাই।আসার সময় অবশ্য ভায়রা ভাইকে দাওয়াত করে আসতে ভুলে নাই। অবশ্যই তাদের বাড়িতে যাবে এই ওয়াদা নিয়েই আসছে।

“ সরি!"

আফিয়া আলমারি অব্যবহিত কাপড়গুলো ঢুকাচ্ছিলো।তখন পেছন থেকে আফিয়ার কোমর জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে আফিয়ার গলায় মুখ গুঁজে কথাটা বললো নাসিফ। দুটো রাত ঘুমাতে পারে নাই।তাই পরশু রাতে ফিরে আসার পর থেকেই পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। খাওয়া, নামাজ ছাড়া তাকে কেউ ডাকার সাহস‌ও করে নাই। অবশ্য বাচ্চারাও তাই করছে। কেবল আফিয়াই নির্জীব হয়ে পড়ে কাজ করে যাচ্ছে সংসারের।

নাসিফের সরি শব্দে আফিয়া প্রথমে থমকালো পরক্ষনেই নাসিফকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে শীতল কন্ঠে শুধালো,

“ সরি! কিসের জন্য?"

যেহেতু আফিয়ার পিঠের দিকে নাসিফের অবস্থান তাই নাসিফ আফিয়ার মনের অবস্থা বুঝতে পারছে না । তাই সে নিজের কথার বিশ্লেষণ করতেই বললো,

“ কাল সকালে একটু বেশি‌ই রিএ্যাক্ট করে ফেলেছি।আসলে আমি ... তুমি তো জানো আমি বাচ্চাদের বিষয়ে একটু বেশি‌ই সেনসিটিভ ।তাই ওদের চোখে পানি দেখলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতেন পারি না।এর জন্য সবসময় ওমন রিএ্যাক্ট করে ফেলি।"

“ ইটস ওকে আপনার সরি বলতে হবে না। আপনি নিজের জায়গায় ঠিক আছেন।আসলে যত‌ই হোক আমি তো ওদের সৎ মা; আর সৎ মায়েদের সব কিছু্ই একটু আড়চোখে দেখা হয়। অবশ্য আপন মা হলে আর এটা করতেন না।করার প্রশ্নই উঠে না।সৎ বলেই সব এমন...

আফিয়া কথা শেষ করেই আলমারির দরজা লাগিয়ে নাসিফের দিকে ঘুরে তাকালো।নাসিফের চোখে অপরাধবোধ কিন্তু তাতে আফিয়ার কোন বিশেষ হেলদোল হলো না।সে নাসিফকে এভাবে রেখেই সামনে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই নাসিফ হাত টেনে ধরে বললো,

“ কাল এগারোটায় ডাক্তারের চেম্বারে থাকতে হবে,সো তাড়াতাড়ি রেডি হবে।"

“ ডাক্তারের কাছে কেন?"

“ তিন মাস ধরে তোমার পিরিয়ড হচ্ছে না। সবসময় মেজাজ খিটখিটে থাকে,ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করতে পারছো না।কাল ঐ বাড়িতে গিয়েও বমি করেছো।এর পরেও ডাক্তার দেখাবে না কেন? কিসের এত অনিহা ডাক্তারের কাছে যেতে!"

আফিয়া নাসিফের কাছে এগিয়ে এলো।গায়ের সাথে গা লাগিয়ে নাসিফের উন্মুক্ত লোমশ বুকের উপর নিজের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে আঁকিবুঁকি করতে করতে বললো,

“ কিসের এত ভয় আপনার! আমার এর আগেও ছয় মাস পরে পিরিয়ড হয়েছিলো।এটা আমার জন্য কমন সমস্যা!আপনি যেমন ভাবছেন তেমন কিছু হ‌ওয়ার সুযোগ নেই।"

“ এর আগে তুমি অবিবাহিত ছিলে।তাই সুযোগ ছিলো না। কিন্তু এখন তুমি বিবাহিত আর আমার মনে হয় যথেষ্ট উপযুক্ত লক্ষণ আছে ঘটনার জন্য। তাছাড়া আমি শুধু তোমার রেগুলার চেকাপটাই করাতে চাইছি ।অন্য কিছু ভাবছি না।যেখানে তেমন কোন সুযোগ আমি নিজেই রাখি না।তাই...

শেষ কথাগুলো নাসিফ আফিয়ার থেকে মুখ ফিরিয়ে বিছানার উপর দৃষ্টি রেখে বললো।যদি আফিয়ার চোখে তাকিয়ে একবার কথাগুলো বলতো তাহলে দেখতো এক বিধ্বংসী নারীর কি নিদারুন যন্ত্রনার ছাপ সেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে।

চলমান......

☺️🌸👻

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ