#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১৫
‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️
“ প্রিয় ইমানদার মুসল্লি ভাই-বোন,সাহরির সময় হয়ে গেছে।এখন রাত তিন টা বেজে পাঁচ মিনিট। উঠুন সাহরির প্রস্তুতি নিন। আজকের সাহরির শেষ সময় রাত চারটা বেজে বিশ মিনিটে। উঠুন, উঠুন, উঠুন! সাহরির সময় হয়ে গেছে।প্রিয় ইমানদার মুসল্লি ভাই-বোন....
দেওয়ালের ওপার থেকে ঢাকের সাথে গলার সুরের মেলবন্ধনে একই ধ্বনি বারবার ভেসে আসছে।এত সময় আফিয়াকে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে ছিলো নাসিফ।সাহরির সময় হয়ে গেছে শুনে ছেড়ে দিলো।যদিও এখনও দুজনে খুব কাছাকাছি,আফিয়া তখন ঝোঁকের বশে নাসিফের বুকে হামলে পড়লেও এখন লজ্জায় চোখ তুলতেই পারছে না।তার মধ্যে নাসিফও খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে এত সময় জড়িয়ে ধরেছিল।তাই আরও বেশি লজ্জা লাগছে। নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে নিজের দু হাত কচলাতে থাকলো।নাসিফ আফিয়ার মনের অবস্থা ঠাওর করে হালকা মৃদু হাসলো। এরপর হুট করেই আফিয়ার দু গালে হাত রেখে কপালে গাঢ় করে চুমু খেলো।বেশ সময় কপালে ঠোঁট ঠেকিয়ে রাখলো। হঠাৎ এমন স্পর্শে আফিয়ার চোখ, ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠলো।তার দু হাত অগোচরেই নাসিফের দু হাতের উপর রাখলো।নাসিফ কপাল থেকে ঠোঁট সরিয়ে আফিয়ার ঠোঁটের কাছাকাছি নিজের ঠোঁট নিয়ে ছুঁইছুঁই অবস্থায় রেখেই মোহনীয় কন্ঠে বললো,
“ ওয়েলকাম টু মাই লাইফ।"
আফিয়া প্রত্যুত্তরে লজ্জা মাখা হাসি দিলো।নাসিফ স্বাভাবিক ভাবে দাড়িয়ে বললো,
“ চলো তাহাজ্জুদ আদায় করে সাহরি করবো।"
“ হুম!"
তাহাজ্জুদ, নিজেদের জীবনের নতুন শুরুর জন্য নফল সালাত সহ বেতরের সালাত আদায় করে নিলো।ইমাম হলো নাসিফ আর তার পিছনে দাঁড়িয়ে মুসল্লির কাতারে আফিয়া।
সালাত শেষে ছোট ছোট কিছু আমলের জন্য দু'জনেই আসন করে বসলো, ঠিক সেই মুহূর্তে ভেতর ঘর থেকে কান্নার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।আফিয়া একবার সেই দরজার দিকে তাকিয়ে পরক্ষনেই নাসিফের দিকে তাকালো,নাসিফ কোনদিকে না তাকিয়েই ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে।নাসিফের পড়নে এখন সাদা পাজামা পাঞ্জাবী।আফিয়া শুধু উৎসুক চোখে দেখছে,সে আঙুলের কড়া গুনে আমল করছিলো এখন এই মুহূর্তে ঠিক কি করবেন বুঝতে পারছে না।ঘর থেকে কান্নার শব্দ মানেই হলো নাবীহার কান্নার শব্দ।এর মধ্যেই দরজায় কড়া পড়লো। অবশেষে আমল অসম্পূর্ণ রেখে আফিয়াই উঠে দাঁড়ালো, দরজা খুলতেই দেখলো তার শ্বাশুড়ি সালমা ফাওযিয়া ,মাথায় হিজাব পড়িহিতা ।তিনি জিজ্ঞেস করলেন,
“ তুলতুল উঠে গেছে মা! "
“ জ্বী মা!"
“ ও কি তোমাদের সাথে ছিলো নাকি সারা রাত?"
জিজ্ঞেস করলেন সুলতানা ফাওযিয়া,আফিয়া ইতস্তত করতে করতে উত্তর দিলো,
“ জ্বী না মা,ও তো ঐ ঘরেই ঘুমিয়ে ছিল। একটু আগেই উঠেছে বোধহয়। আপনার ছেলে,ওর বাবা গিয়েছে ওকে আনতে!"
“ তাহলে ভাইয়া ঐ দরজাটা কেন আটকিয়ে রাখছে।সরো তো আমাকে দেখতে দাও।"
বলেই মা কে চাপিয়ে ভাবীকে টপকিয়ে ভেতরের ঘরে ঢুকলো নাফিসা। ততক্ষণে নাবীহার কান্না থেমেছে। ভেতরে ডিম লাইটের আলোয় নাসিফ মেয়েকে কোলে তুলে আদুরে আওয়াজে থামানোর চেষ্টা করছে।
আফিয়া সুলতানা ফাওযিয়ার চাহনিতে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে।তিনি দরজা পেরিয়ে ঘরে ঢুকে আফিয়ার মাথায় হাত রেখে স্নেহ ভরা চোখে বললেন,
“ একটু সময় লাগবে সবকিছুকে আপন করতে,আমি বুঝি মা।তুমি ভেবো না।আমরা কেউ তোমাকে চাপ দিচ্ছি না, তাড়াহুড়ার কিছু নেই। তুমি সময় নাও, তোমার মতো করে।তবে বাচ্চা দুটোকে আপন করে নাও মন থেকে।"
“ জ্বী মা,আমি চেষ্টা করবো।"
“ আল্লাহ তোমার সহায় হোক।
নামাজ শেষ হলে তাড়াতাড়ি ডাইনিংয়ে আসো।সময় শেষ হয়ে যাবে।"
বললেই তিনি আবারও নিজের কাজে চলে গেলো। ঐদিকে নাফিসা ঘরে ঢুকেই আগে আলো জ্বালালো। এরপর ঐ পাশের দরজা খুলে দিলো।
“ আমাকে দাও ভাই!"
“ না, তুই বেডশিটটা চেন্স করে দে।পুরোটা ভিজে গেছে।"
“ প্রস্রাব করছে!"
“ হ্যা কখন করেছেন কি জানি,মেয়েটা আমার পুরো ভিজে স্যাতস্যাতে হয়ে গেছে। কোমর পা সব ঠান্ডা বরফ হয়ে গেছে!"
নাসিফ মেয়ের শরীরে হাত বুলাতে বুলাতে হাঁটতে থাকলো।নাবীহা বাবার কাঁধে গাল ঠেকিয়ে মাথা পেতে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। এদিকে প্রস্রাব করে যে বন্যা বানিয়ে ফেলছে সেদিকে তার কোন খেয়াল নেই।আফিয়া দরজায় দাঁড়িয়ে সব দেখছে।নাসিফ মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বোনের উদ্দেশ্য বললো,
“ আম্মাকে বলবি কাল দোয়া পড়ে ওকে পানি খাইয়ে দিতে, বিছানায় প্রস্রাব করাটা বন্ধ করতে হবে তো! নয়তো এমন ভিজে থাকলে তো সবসময়ই ঠান্ডা লেগে থাকবে! এমনিতেই একটার পর একটা লেগেই আছে বাচ্চাটার আমার!"
“ তোমার মেয়েও তো নিজের প্রতী যত্নশীল না ভাই, এতটুকু মানুষ এসি ছাড়া থাকতেই পারে না।অথচ ডাক্তার সবসময় বলে ওকে ঠান্ডা থেকে দূরে রাখতে!"
“ ও বুঝলে তো কাজই দিয়েছিলো।যে এখনও এটাই বুঝে না তার কখন হিসু করতে হবে,সে নিজের খেয়াল রাখবে!তাহলে তুই আছিস কিসের জন্য!"
বোনকে চ্যাতানোর জন্য বললো নাসিফ, নাফিসা ভাইয়ের দিকে না চেয়েই কোমরে ওড়না গুঁজে চাদর মেলতে মেলতে বললো,
“ আমি আছি তোমার মেয়ের হাতের মার খাওয়ার জন্য!"
বলেই মাত্র বিছানো চাদরটা ভালো করে টেনে টানটান করে দিলো।বোনের অভিযোগে হেসে দিলো নাসিফ।নাবীহা আর নাফিসার মাঝে একদমই বনাবনি হয় না। দু'জন সবসময় লেগে থাকে।অথচ সম্পর্কে তারা ফুফু ভাতিজী।আবার কাউকে ছাড়া কেউ থাকতেও পারে না।নাসিফ বোনের উদ্দেশ্য বললো,
“ ওকে পরিষ্কার করতে হবে তো! তুই মগে করে পানি নিয়ে তোয়ালে ভিজিয়ে আন,আমি মুছে দিচ্ছি!"
“ না তুমি সরো আমি করছি!"
বলেই সবটা নাফিসা নিজেই করলো,প্রথমে নাসিফের কোল থেকে নাবীহাকে তার বালিশের উপর শুইয়ে দিলো এরপর তোয়ালে ভিজিয়ে আনলো, এরপর সেটা পাশে রেখে নাবিহার কাপড় খুলে ফেললো।নাসিফ এগিয়ে গিয়ে বোনকে সাহায্য করলো,নাফিসা সুন্দর করে নাবীহার কোমর থেকে পা অবধি সুন্দর করে ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে পরে টিস্যু দিয়ে মুছে দিলো। এরপর ডায়পার পড়িয়ে সুতি একটা প্যান্ট পড়িয়ে দিলো।‘এত ঝামেলাই হতো না যদি সে মনে করে ঘুমানোর আগেই ডায়পারটা পড়িয়ে দিতো।’বলেই একটা দম ছাড়লো।নাসিফ মেয়ের দিক থেকে চোখ সরিয়ে বোনের দিকে তাকালো। ভালোলাগা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা আর স্নেহে তার মনটা ছেয়ে গেল,কেমন যেন বুকটা গর্বে চওড়া হয়ে উঠলো।এই অসম্ভব ভালো আর শান্ত মেয়েটা তার বোন,তার আপন ছোট বোন।যে কিনা বিনা স্বার্থে তার জন্য সব করতে পারে। আল্লাহ তার প্রতি অবশ্যই বেশি দয়ালু তাইতো তার জীবনের সব মানুষগুলো ভালো, অতিরিক্ত ভালো।
আফিয়াও দেখলো এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতিরুপ হিসেবে অসম্ভব সুন্দরী আর সুন্দর মনের এক রমনীকে।
“ চলো সাহরির সময় চলে যাচ্ছে!"
বলেই দুজন পা বাড়াতেই আফিয়াকে দেখে থমকে গেল।দু ভাই বোন দুজনের দিকেই তাকালো।আফিয়াও হঠাৎ করেই দুজনের সাথে চোখাচোখি হতেই চোখ নামিয়ে ফেললো। নাফিসা আফিয়াকে পাশ কাটিয়ে গেল,যাওয়ার পথে বললো,
“ তাড়াতাড়ি আসো ভাবি।সময় শেষ হয়ে যাবে!"
নাসিফ আফিয়ার সামনাসামনি হয়ে দাড়াতেই আফিয়া বললো,
“ সরি এটা অবশ্যই আমার করা উচিত ছিলো কিন্তু আমি."
“ এমন কিছু নয়, তোমাকেই করতে হবে এমন কোন বিষয় এটা নয়। তাছাড়াও তুমি এখনও নতুন,সবটা বুঝতে সময় লাগবে।আর ,এটা নাফিসা ছাড়া কেউ পারেও না।তার ঘুম ভাঙ্গার পর একমাত্র ফুফু অথবা বাবাই তাকে সামলাতে পারবে!"
আফিয়ার কি হলো কে জানে,সে হঠাৎ করেই খুব সাহস করেই বলে ফেললো,
“ আমিও পারবো দেখিয়েন।একটু সময় লাগবে ঠিক আছে কিন্তু ও আমাকেই খুঁজবে এরপর। দেখবেন,বলে দিলাম!"
নাসিফের আফিয়ার কথাটা ঠিক কতখানি ভালো লেগেছে তা বলে বোঝানো যাবে না।সে চওড়া হাসি দিয়ে বললো,
“ ইনশাআল্লাহ,খুব শীঘ্রই সেই দিন দেখার অপেক্ষায় আছি!"
আফিয়া আর কথা বললো না কেবল হাসি উপহার দিলো।নাসিফ মেয়েকে আরও একবার দেখে তাঁর আফিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,
“ চলো,সবাই অপেক্ষা করছে!"
ঢুলুঢুলু চোখে খাবার টেবিলে এসে বসেছে মান্নাত।যতই ফোন টিপুক আর যাই করুক ঘুম কোন মতেই যাচ্ছে না।তাও বারবার চোখে পানি দিয়ে নিজেকে সতেজ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা সে করছে।তার অবস্থা দেখে মুখ টিপে হাসছে নাসিফের খালাতো বোন জিনিয়া। সমবয়সী দুজনের মাঝে একটু আগেই বেশ খাতির হয়েছে।সে পাশে বসে সালাদের বাটি থেকে এক টুকরো গাজর নিয়ে মান্নাতের মুখ ধরলো, ঠান্ডা জাতীয় কিছু মুখে লাগতেই মান্নাত চমকে উঠলো,
“ আরে উঠছো কেন? আমি তো ভাবলাম তুমি ঘুমাচ্ছো। কষ্ট করে উঠবে কেন,আমিই তোমাকে খাইয়ে দেই!"
“ আমি ঘুমাচ্ছি না।ঝিমুনি আসছে!"
“ হুম দেখতেই পারছি।এখনই সবাই চলে আসবে স্বাভাবিক হয়ে বসো!"
বলতেই মহিলারা সবাই চলে আসলো। আপাতত এই টেবিলে শুধু মহিলা সদস্যদের মধ্যে আফিয়া,তার শ্বাশুড়ি,দুই ননদ,আর আফিয়ার এক বোন,নাসিফ বসবে।কারণ তাদের আগেই এক ব্যাচ শেষ হয়েছে।নয়তো টেবিলে জায়গা হতো না।
আফিয়া নাসিফের পিছু পিছু এসে টেবিলের সামনে এসে দাড়ালো,নাসিফ এসে আগেই মায়ের উদ্দেশ্য বললো,
“ আম্মা বাবু কোথায়?"
“ ও তো খায়নি।বলেছে বাবার সাথে খাবো।দেখো তো বসার ঘরেই আছে বোধহয় দাদার সাথে!"
“ আহ্,এই ছেলেটা আজ সারারাত জাগলো,কাল কিভাবে সে সজাগ থাকবে দিনে!"
বলত বলতে নাসিফ বসার ঘরে গেল।নাইফ তার দাদার পাশের সোফায় মাথা হেলান দিয়ে ঝিমুচ্ছে।নাসিফ গিয়ে ছেলেকে এক হাতে আগলে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
“ নাইফ,বাবা উঠো!সাহরির সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে আব্বা!"
নাইফ বাবার গলার আওয়াজে সচকিত হলো। ছোট ছোট চোখজোড়া কোন মতে টেনে মেলার চেষ্টা করলো,নাসিফ ছেলের বাহু শক্ত করে ধরে দাঁড় করালো, এরপর বললো,
“ চলো চোখেমুখে পানি দিলেই ঘুম পালাই পালাই করবে!"
বলেই নাসিফ বসার ঘরের বেসিনে নিয়ে নাইফের চোখেমুখে পানির ছিটা দিলো।নাইফের ঘুম হালকা কাটলো।সে বাবার পাঞ্জাবিতেই মুখটা ঢলা দিলো।নাসিফ দেখলো কেবল ঘুমে কাতর ছেলের এহেন কান্ড। তারপর বাবার হাত ধরেই কোন মতে হেলতে দুলতে খাবার ঘরে গেল।আজ নাসিফের এক পাশে তার নতুন সহধর্মিণী অন্য পাশে তার একমাত্র পুত্র!
সুলতানা ফাওযিয়া আফিয়ার সামনে খাবারের বাটি এগিয়ে দিয়ে বলছে,
“ এটা তোমার ঘর মা, তোমার সংসার। এখানে কেউ তোমাকে এগিয়ে দিবে আর তুমি তার আশায় থাকবে এমনটা যেন না হয়। নিজের ঘর নিজের মতো করেই চলবে।যা খুশি খাবে,যা খুশি তৈরি করবে। বরং অন্যদের খেয়াল রাখা তোমার দায়িত্ব। এমনকি তোমার বাড়ির লোকদেরও , মনে রাখবে এই কথাটা। তোমার চালেচলনে যেন বোঝা যায় তুমি এই বাড়ির ভবিষ্যত কর্তৃ।"
আফিয়া শ্বাশুড়ির কথা গভীর মনোযোগী হয়ে শুনলো আর দেখতে থাকলো ছেলের প্রতি নাসিফের যত্ন। নিজের খাবারে এখনও হাত লাগায়নি, ছেলেকে খাওয়ানোতে ব্যস্ত সে অথচ সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে প্রায়ই।আফিয়া দ্রুত নিজের খাবার শেষ করলো, এরপর নাসিফের দিকে চেয়ে বললো,
“ বাকী টুকু আমি খাইয়ে দেই,আপনি নিজেরটা শুরু করেন।"
বাবা পাশে থাকলে নাইফ বাবার হাতেই খায়। নাফিসা এ সময়ে খাওয়ায় না, অবশ্য খেলে তো খাওয়াবে। কিন্তু আফিয়ার আগ্রহে সবাই সেদিকে চোখ তুলে তাকালো।মান্নাত কেবল ঘুমঘুম চোখে খাচ্ছে।সে জানে তার বোন বাচ্চা পালায় অভিজ্ঞ, ভুজুং ভাজুং বুঝ দিয়ে ঠিক নিজের বশে নিয়ে ফেলে।তাই তার হেলদোল কম এই বিষয়ে। কিন্তু বাকীরা বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে, আসলেই আফিয়া পারবে কিনা!
“ইটস ওখে তুমি চাপ নিও না।ও আমার হাতে ছাড়া খাবে না।"
“ চেষ্টা করি দেন,আপনি নিজে শুরু করুন,প্লিজ।"
নাসিফেরও প্রচুর ক্ষুধা লাগছে।তাই মনে মনে ভাবলো আফিয়াকে দিয়ে দেখুক, অন্তত শুরু করুক মা হওয়ার দায়িত্ব নেওয়ার।যদি না পারে তবে দেখা যাবে কিন্তু সুযোগ তো দিতেই হবে।
চেয়ার বদল করলো দুজনে, আফিয়ার চেয়ারে নাসিফ গেলো আর নাসিফের চেয়ারে আফিয়া এলো। নাইফ ঘুমন্ত চোখে বাবা আর নতুন মায়ের পরিবর্তন দেখছে,আফিয়া নাইফের প্লেট হাতে নিয়ে আদুরে ভঙ্গিতে বললো,
“ আজ থেকে নাইফ তার মায়ের হাতে খাবে তাই না বাবা! বলো খাবে না তুমি মায়ের হাতে?"
নাইফ কি বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না।তারও যে একটা মা এসেছে সেটাই সে এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না।তবে এই মা'টাকে তো সে নিজেই পছন্দ করে এনেছে।সেদিন যখন মা দেখতে গিয়েছিলো তখনও এই মা তাকে ভীষণ আদর করেছিলো। তার নতুন নানা নানীও অনেক আদর করেছিলো ওহ একটা ভালো মামাও তো ঐখানে পেয়েছে সে।আগে মামা ছিলো না।একটা খালামনি আছে,বড় খালা মনি।সে আদর করে কিন্তু সে তো অনেক দূরে থাকে।আর এই নানা বাড়ির সবাই খুব কাছেই থাকে,তারা বলেছে যখন খুশি নাইফকে তাদের বাসায় যেতে।এটাও বলেছে মায়ের সাথে সবসময় যেতে।নাইফের মুখে হাসি ফুটলো,ঘুম কোথায় পালালো কে জানে! সে বড় একটা হা করলো।আফিয়ার ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটলো। সুন্দর করে গুছিয়ে একটা লোকমা বানালো এরপর পরম মমতায় সেটা নাইফের গালে পুরে দিলো।হাসি হাসি মুখে নাইফ পরম তৃপ্তিতে তা চিবাতে থাকলো।সবাই আশ্চর্য আর খুশি খুশি চোখে দেখলো কেবল।নাসিফের হাত থেমে গেছে।ছেলে তার উপস্থিতিতে অন্য কারো হাতে খায় না। এমনকি ফুফু অথবা দাদীর হাতেও না। ঠিক এই কারণেই নাসিফকে কতদিন সাহরি না খেয়েই রোজা রাখতে হয়েছিল অথচ আজ!
চলমান.....
কত ব্যস্ততরা মাঝে নিয়মিত উপন্যাস দিচ্ছি অথচ আপনারা একটা কমেন্ট করতেও কঞ্জুসি করেন😒
ইদি দিলেন না কেউ! 🥲
হ্যাপি রিডিং ডিয়ার রিডার্স!😚







0 মন্তব্যসমূহ