#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৫০
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
“ তাইফ বাবা দরজা খোলো,বাবা এসেছি তো।দেখো ফুফু এসেছে,ফুফা এসেছে তোমার ছোট্ট বোন এসেছে।আসো বাইরে আসো।”
দরজার বাহিরে দাঁড়িয়ে ছেলেকে মিনতি করছে আর দরজা খোলার জন্য বলছে। কিন্তু ছোট্ট তাইফ একদম কঠোর হয়ে দরজার সাথে পিঠ লাগিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।দরজা চেপে দাঁড়িয়ে আছে,নাসিফ দরজা ধাক্কা দিলেই সে মুখ থুবড়ে পড়ে, আর বাবা হয়ে নাসিফ তো ছেলেকে ব্যথা পেতে দিতে পারে না। তাই অসহায়ের মতো বিনীত অনুরোধ করছে।
বয়সে সে চার বছরের হলে কি হবে! কর্মকাণ্ড তার চল্লিশ বছরের বৃদ্ধের মতো।এখনই নিজের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিতে শিখে গেছে।
আফিয়া এই ছেলেকে নিয়ে ভীষন দুশ্চিন্তা করে। এতটুকু মানুষ তার সবকিছুতেই নখরামি। তার খাবারের প্লেট,গ্লাস কেউ ধরতে পারবে না বাবা, মা, ভাইয়া, বুবুন ছাড়া।
আবার তার গাড়িতেও কারো বসা নিষেধ শুধু বুবুন আর ফেরা বসবে! তার ব্যবহৃত ঘড়ি কেউ ধরতে পারবে না মা আর বাবা ছাড়া।
তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো তার বাবা মা এমনকি তাকে আদর করে এমন কেউ অন্য কাউকে আদর করতে পারবে না।কোলে নেওয়া তো দুরের কথা। শুধুমাত্র ফেরাকে নেওয়ার অনুমতি আছে।।ফেরাকে ছাড়া অন্য কাউকে কোলে নিলেও সে এমন যুদ্ধ বাঁধিয়ে ছাড়ে। চিৎকার চেঁচামেচি করে পুরো বাড়ি মাথায় তুলে অবশ্য ঘন্টা খানেক পর সে নিজেই কোলে নেওয়ার জন্য টানাহেঁচড়া করা শুরু করে।
তার আরো একটি বরাদ্দকৃত সম্পতি তার মামা।মামা কেবল তার।তার সামনে আর কাউকে তার মামা বাবা ডাকতে পারবে না। সে তার মামার একমাত্র বাবা।এই বিষয়ে সে ভীষন কঠোর।হয় কান্নাকাটি করে সর্দি বাঁধিয়ে ছাড়বে না হয় তার সাথে কথা বলাই বন্ধ করে দিবে।যা করছে এখন।
এত সময় সে দরজার পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে সবাইকে দেখছিলো কে কি করছে? কাকে কাকে আদর দিচ্ছে।সব ঠিক থাকলে তার বাবা মায়ের ঐ বাবুটাকে কোলে নেওয়া তার পছন্দ হলো না,আবার বুবুন ভাইয়াও বাবুটাকে নেওয়ার জন্য কেমন ঝগড়া করছে! কই তাকে নেওয়ার জন্য তো করে না? দাদীর তো অসুখ,তাকে কোলে নিতে পারে না তাহলে ঐ মোটু বাবুটাকে কিভাবে নিলো? তার মানে তারা সবাই এখন ঐ নতুন বাবুটাকে বেশি ভালোবাসে।তাকে কেউ ভালোবাসে না।সে দুষ্টুমি করে দেখে তাকে ভালোবাসে না। নতুন বাবু এনেছে ভালোবাসার জন্য,ঐ বাবুটাকে এখন বেশি বেশি আদর দিবে সবাই!
এমন চিন্তা ছোট ভাই বোনের আগমনে হয় না এমন বাচ্চা বড় ভাই আর বোন পৃথিবীতে খুব কমই আছে। সবাই অন্তত একবার হলেও এমন করে ভাবে।তার মধ্যে মাথায় যদি ঢুকিয়ে দেওয়া হয় তোমাকে কুড়িয়ে পেয়েছি কিংবা এনেছি।তাহলেই হলো কাজ তামাম!
তাইফের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও হটাৎ করেই প্রখর হয়ে গেলো ,তার হৃদয়ে বেজে উঠলো তার বুবুন আর ভাইয়ার বলা সেই কথাগুলো ।
“ তোমাকে তো কুড়িয়ে এনেছে আম্মু বাবা!"
“ তোমাকে আমরা বেরিবাঁধের ময়লার স্তূপে পেয়েছিলাম,মনে হয় তুমি অনেক দুষ্টুমি করতে বলেই তোমাকে তোমার আসল আব্বু আম্মু ফেলে দিয়েছিলো। তারপর আমরা স্কুল যাওয়ার সময় দেখলাম একটা বাবু ভ্যাউ ভ্যাউ করে কাঁদছে,তার নাক দিয়ে সর্দি পড়ছে,সে অনেক জোরে হিসু করে নদীতে ফেলছে। আমাদের মনে হলো এমন নোংরা পরিবেশে থাকলে বাবুটা অসুস্থ হয়ে যাবে, আমরা আম্মু আব্বুকে বললাম তখন তারা গিয়ে তোমাকে নিয়ে আসলো। এরপর থেকেই তুমি আমাদের সাথেই থাকো ।"
“ না না নাবু তাইফকে তো পেয়েছি আমরা সেই হাসপাতালের বাস্কেটে।ভ্যা ভ্যা করে কাদছিলো, আম্মু আর বাবার মায়া হলো তারপরেই নিয়ে আসলো।"
ভাইয়া আর বুবুনের এমন অদ্ভুত গল্প শুনতে শুনতে তার কান পেকে যাচ্ছে যদিও সে এগুলোর কোনটাই ঠিকঠাক বুঝতে পারে না।তার তো কোন কিছু বোঝার জন্য বোধশক্তি'ই হয়নি। কিন্তু তাও তার ঠিকই মনে হতো বিষয়টি ভীষন খারাপ। নিশ্চয়ই তাকে খারাপ কিছু বলছে। ঠিক এই কারণেই সে ঠোঁট ফুলিয়ে নাক খিচিয়ে আকাশ পাতাল এক ঘরে চিৎকার দেওয়া শুরু করতো। এরপর আর কি? মায়ের ভয়ে বড় দুইজন গা ঢাকা দিতো। ভদ্র বাচ্চার মতো সেদিন সব কাজ করতো। যদিও সুযোগ পেলে ভাইকে ক্ষ্যাপানো ঠিকই চলতো।
গায়ে সেন্টু গেঞ্জি আর একটা গেঞ্জি কাপড়ের হাফ প্যান্ট পড়া তাইফ দরজার সাথে পিঠ চেপে শক্ত হয়ে দাঁত খিচে আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। ঐদিকে বাবা মায়ের অসহায়ত্ব, অবশেষে ফুফুই এগিয়ে আসলো।সে তো সব জানেই।তাও ভাই ভাবীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ কি হয়েছে ওর? কি নিয়ে এত রাগ হচ্ছে?"
“ আর কি? বাবুকে কেন নিলাম!"
“ ঠিকই তো; কেন নিবে? তোমাদের ঘরে এত সুন্দর,এত ভালো একটা বাবু রেখে কেন তোমরা ঐ পঁচা অন্য বাবুটাকে কোলে নিলে?
এটা তো অবশ্যই রাগ করার কারণ! আমি আবার ছোট আব্বাকে একশো বার সমর্থন করি।"
নিজের পক্ষে সমর্থন পেয়ে একটু কৌতূহল জাগলো মনে।হয়তো ভালোও লাগলো।দরজা থেকে পিঠ সরিয়ে একটু করে ফাঁক করলো।দরজা ফাঁক হতেই আফিয়া করুন চোখে তাকালো ছেলের দিকে যেন সে কত কষ্ট পাচ্ছে,কত অসহায় হয়ে পড়েছে।নাসিফ প্যান্টের পকেটে হাত রেখে টান টান হয়ে দাঁড়িয়ে এক ভ্রু উঁচিয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলো।নাফিস ওয়াসীত্ব গাজী ওরফে তাইফ সোনা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে দরজার একদম মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ানো অতীব সুন্দরী রমনী যাকে সে কখনো সরাসরি দেখেনি তবে রোজ একবার অন্তত ভিডিও কলে দেখে।যার মুখের অমায়িক হাসি আর প্রাণোচ্ছল ভালোবাসা তার জন্য সবসময় থাকে।সেই নারীও তাকে সবসময় ছোট বাবা বলে ডাকে।তার জন্য প্রায়ই অনেক অনেক খেলনা পাঠায়।এই তো কালই বলেছিলো তার জন্য অনেকগুলো ঘড়ি নিয়ে আসবে। সম্পর্কে সে তার ফুফু হয়।এটাই তো বলে বাবা মা,ভাইয়া বুবুন,দাদী এবং দাদু!
দরজার ফাঁক দিয়ে দুটো মার্বেলের মতো চোখ গলিয়ে কোন মতে দেখতে চেষ্টা করছে,তার এসব দেখে নাসিফের ভীষণ রাগ চড়ছে।
সাধারণ সময় বাচ্চাদের এগুলো মেনে নেওয়া গেলেও এক ঘর ভর্তি আত্নীয় স্বজন বিশেষ করে বোনের শ্বশুরবাড়ির লোকের সামনে বাচ্চাদের এত এত জেদ সে একদম নিতে পারে না।যদিও তার বড় দুজন মোটেই এমন ছিলো না কিন্তু ছোট জন যেন দুনিয়াতে আসছেই তাকে সবসময় নাকানিচোবানি খাওয়াতে।এই ছেলের এই বয়সেই এত এত ইগো,জেদ,অহং তাকে স্পষ্ট করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় এই এর কর্ম ফল; তাকে তার দুঃকর্মের
শাস্তি দিতেই এসেছে নয়তো এখনই কেন!
কথাগুলো ভাবতেই নাসিফ আফিয়ার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে দরজা থেকে সরে গেলো। অতিথি বলতে তার বোনের শ্বশুর, শ্বাশুড়ি সামনে গিয়ে বললো,
“ Sorry Auntie and Uncle.. I feel too much Shy. Actually আমার এই ছোট্ট বাচ্চাটা...
“ Ohhhh....Come on dear.it's ok ... we knew him very much.don't worry.he is now just a kid. so ...any way..let it go.
_ Hey honey, darling. Where are you?"
বলতে বলতেই দরজা সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন ফাতিনের মা।ফাতিহা মাকসুদ! পেশায় চিকিৎসক! এই বয়সেও বেশ স্ট্রং এবং চঞ্চলা।তার সঙ্গে ভীষন রসিক একজন মানুষ। সবসময় হাসি উনার মুখে লেগেই থাকে।তিনি তাইফকে বেশ পছন্দ করেন।বলা যায় ভিডিও কলে নাফিসার চেয়ে সেই বেশি কথা বলে তাইফের সাথে।আসলে ছোট ছোট বাচ্চাদের পাকা পাকা কথা তার বেশ লাগে। তিনি দরজা সামনে এগিয়ে এসে নাফিসার পাশে দাঁড়িয়ে বললেন,
“ হেই ডার্লিং তোমার কি আমাকে পছন্দ হয়নি? চলে যাবো?"
দীর্ঘদিন বিদেশে থাকলেও উনি এখনও একদম স্পষ্ট বাংলা বলেন।তাই উনার কথা বুঝতে কোন অসুবিধা হয় না।তাইফ নিজের ফুফুর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তার পাশে লাল চুলের এক সুন্দরী নারীকে দেখতে পেলো।সে নিজের গোলাপী ঠোঁট নাচিয়ে নাচিয়ে তাকে বলছে,
“ ওমা তুমি তো আমাকে আসতে বললে, অথচ এখন আমাকে দেখেই দরজায় খিল দিলে? This is not done Honey, You insulting me!এটা কিন্তু ঘোরতর অপমান করা হচ্ছে আমায়।আমি কিন্তু ভীষন কষ্ট পাচ্ছি মনে!
_ তুমি কি বের হয়ে আমাকে welcome করবে না? বলো?"
তাইফ এখনও কোন শব্দ উচ্চারণ করলো না কিন্তু তার এক পা এবং মাটির হাঁড়ির মতো ফুলো পেটটা বের করে রেখেছে।আরেক চোখ দেওয়ালে ঠেকিয়ে কোনমতে বাইরের পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করছে।আফিয়া ছেলের নখরামিতে বিরক্ত হয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো,
“ আপনারা প্লিজ সবাই চলুন, গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিন।এ ছেলের এগুলো আজ সারাদিন চলবে!"
বলেই আফিয়া ফাতিহা মাকসুদের গায়ে হাত দিয়ে নরম স্বরে বললো,
“ মাইওমা চলুন তো!"
তিনি আফিয়াকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
“ আমরা ঠিক আছি। চিন্তা করো না। তুমি ওদেরকে নিয়ে যাও।আমি এখানে তোমার বাবা মায়ের সাথে গল্প করি।"
“ ঠিক আছে!
নাফিসা চলো! বাচ্চাটাকে ফ্রেশ করে দাও।"
“ না,ওয়েট!"
বলেই নাফিসা আরো একটু এগিয়ে গিয়ে বললো,
“ ছোট বাবা আপনি কি বের হবেন না ? তাহলে আমি এতগুলো ঘড়ি কাকে দিবো!"
বলেই নাফিসা টেবিলের উপর রাখা নিজের হ্যান্ড ব্যাগের দিকে তাকালো!
“ অনেকগুলো ঘড়ি?"
দরজা দিয়ে একপাশ বের করে শুধালো তাইফ সাহেব।সবাই বুঝলো এত সময়ে ঠিক স্থানে খুঁটি পোতা হয়েছে,সবাই উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে ভাতিজা ফুফুর দিকে। নাফিসা নিজের স্বামীর দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ অনেকগুলো ঘড়ি না ফাতিন?"
“ হুম! অনেক.. ওহ আমার মনে এগুলো আবারও দোকানেই ফিরিয়ে দিতে হবে!"
“ অনেক গুলো ঘড়ি কোথায়?
_ তোমার হাতে তো ব্যাগই নেই!"
নাফিসা ভাইপোর বুদ্ধ দেখে মুখ টিপে হেসে দিলো।খালি হাতে ঘড়ি, কিভাবে দিবে তাও বুঝলো এতটুকু বাচ্চা! নাফিসা আরো একটু এগিয়ে গিয়ে বললো,
“ আমার কাছে ব্যাগ না থাকলে কি হবে, ঐ যে দেখো ঐখানে দরজার পাশে, অনেক গুলো ব্যাগ ওর মধ্যেই আছে।"
“ আমাকে দিবে সবগুলো?"
“ তুমি তো ফুফর কাছেই এলে না। তাহলে কিভাবে দিবো!"
“ এসছি তো।দেখো!"
নিজের পুটলি পেট বের করে সেন্টু গেঞ্জি, হাফ প্যান্ট পড়ুয়া,পায়ে এক জোড়া বিড়ালের স্পঞ্চ জুতা পায়ে ছোট বালক তার ফুফুর সামনে খানিকটা লোভীর পরিচয় দিয়েই অবশেষে উপস্থিত হলো। নাফিসা আকাশের চাঁদ পাওয়ার মতোই বুকের মাঝে টেনে নিয়ে আদরে আদরে ভরিয়ে দিয়ে বললো,
“ ওরে আমার বাবারে! ফুফু তোমাকে একটু জড়িয়ে ধরতে, কোলে নেওয়ার জন্য কত ছটফট করেছি তুমি তো জানো না।আমি শুধু আল্লাহর কাছে বলেছি আমার ভাইয়ের এই রাজকুমারকে দেখার আগে যেন আমি আল্লাহর প্রিয় না হই!
_ তোমার কাছে, তোমার মায়ের কাছে আমার কতশত ক্ষমা চাওয়ার আছে! তোমার মা মন থেকে ক্ষমা করবে কি না জানিনা কিন্তু তুমি করে দিও। তোমার রক্ত না আমি! রক্তের দায়ে হলেও ক্ষমা করে দিও বাবা!
_ আল্লাহ এতো হুবহু আমার ভাইয়ের কপি।ভাবী সবসময় বলে স্বভাব ভাইয়ের পেয়েছো,রাগ জেদ সব ভাইয়ের পাচ্ছে কিন্তু এটা কখনো কেন বলোনি ভাবী, আমার বাপ যে দেখতেও হুবহু তার বাপের মতো হচ্ছে? এত সুদর্শন আর বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা!"
ফুফুর আদরে একদম চুপসে গেছে তাইফ বাবু।সে আদর চাচ্ছে না এখন! সে তো ঘড়ি চাচ্ছে কিন্তু কিভাবে বলবে! নাফিসা শেষের প্রশ্নটা আফিয়ার দিকে চেয়ে করলো,আফিয়া তার উত্তর না দিয়ে এখান থেকে সরে ভেতরে গেলো। নাফিসা নিজের আদর জারি রেখেই ভাতিজাকে কোলে তুলে নিয়ে বললো,
“ শোন যে যাকে খুশি কোলে নিক আদর করুক।ফুফু শুধু তার ছোট বাবাকেই আদর করবে।কোলেও নিবে! ওকে বাবা!
তাইফের ফুফু সবচেয়ে বেশি ভালো তাইফকে বাসে! এখানে কোন লুকোচুরি নেই।কেউ কষ্ট পেলেও কিছু করার নেই।বুঝেছো সবাই!"
এমন একটা ঘোষণার পর আর কি লাগে! অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা বড় দুই ভাই বোন একদম নির্লিপ্ত চোখে কেবল হাসলো।তারাও খুশি ছোট ভাইয়ের খুশিতে। তাইফ ফুফুর কোলে বসে বারবার চোখ ঘুরিয়ে ফুফুকে দেখছে আবার একটু পরপর সেই ব্যাগের দিকে তাকাচ্ছে। নাফিসা ভাতিজার মনস্তাত্তিক অবস্থা ধরতে পেরে শব্দ করে হেসে দিলো। এরপর ফাতিনকে বললো,
“ শোন প্লিজ ব্যাগটা এখনই দাও!"
“ sure!"
স্ত্রীর কথা অনুযায়ী ফাতিন একটি বড় লাগেজ এনে তাদের সামনে রাখলো।পায়ের সামনে বসে একটা কালো লাগেজ দেখতে পেয়ে প্রশ্নাত্মক চোখে ফুফুর দিকে তাকাতেই নাফিসা ভাতিজার গালে ঠোঁট ছুঁইয়ে চমৎকার হাসি দিয়ে বললো,
“ এটাতে যা আছে সব তোমার! সব তোমার! এখনই খুলে দেখবে!"
“ না এখন না পরে!
তুই ওকে রাখ।ফ্রেশ হ আগে।ফাতিন যাও ফ্রেশ হও গিয়ে;
তাইফ নামো ফুফুর কোল থেকে।ফুফুরা রেস্ট নিক,বিকালে সবাই মিলে খুলবো! ওখে বাবা?"
“ ওকে!"
এত সময়ে ভদ্র বাচ্চা হলো তাইফ সোনা।ফুফুর কোল থেকে নেমে দৌড়ে গেলো সোফায় নাতনিকে নিয়ে কুয়ারা করা সালমা ফাওযিয়ার দিকে। একটু দুরত্ব বজায় রেখেই দেখতে থাকলো ঐ সাদা পশমী কাপড়ে মোড়ানো লাল চুলের তুলোর বস্তাটাকে।
চলমান....
দেরি করার জন্য ভীষণ দুঃখিত, কিন্তু আমি অপারগ।কাজের চাপ অনেক বেশি।বাড়িই এসেছি প্রায় এক ঘন্টা দেরিতে।
হ্যাপি রিডিং এন্ড টেইকস লাভ ফ্রম মি ফর গিভ মি লটস অব লাভ!







0 মন্তব্যসমূহ