সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৪৯

#সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৪৯



কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 

২ বছর পর...


গাজী পরিবারের সবাই আজ ভীষণ ব্যস্ত তার কারণ এই পরিবারের সবার আদরের এবং প্রিয় একজন মেয়ে বহুবছর পর পিতৃ ভুমিতে পদার্পণ করবে। অর্থাৎ উম্মে নাফিসা তাহসিন গাজী নিজের বাবার বাড়িতে আসছে। সঙ্গে আসবে তার পুরো পরিবার।

নাসিফ আজ ভীষণ ব্যস্ত! তিন দিন ধরেই ছুটোছুটি করছে। বোনের যা যা পছন্দ সব এনে রাখছে পাছে তার জন্য তার বোনকে অপেক্ষা না করতে হয়! 

সকাল সকাল উঠেই গ্রামের বাড়িতে গিয়েছে, উদ্দেশ্য একদম টাটকা তাজা মাছ আনা।সবজি আনা। গাছের বিভিন্ন ফল এনে রাখা।তার বোন যেখানে থাকে সেখানের সব একদম খাঁটি,কোন ভেজাল নাই।এত বছরে নিশ্চয়ই তার অভ্যাস হয়ে গেছে।এই শহরের বিষাক্ত রাসায়নিক দেওয়া খাবার খেয়ে যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে? তার চেয়েও বড় কথা গোয়ালার সাথে কথা বলে রেখেছে যেন এখন থেকে দুধ বেশি করে দেয়।


আফিয়াও ব্যস্ত একমাত্র ননদের ঘরটাকে পরিপাটি করা নিয়ে। নতুন চাদর থেকে পর্দা,ঘরের প্রতিটি কোনা বারবার পরিষ্কার করা, সুন্দর এবং আকর্ষণীয় কিছু নতুন নতুন শো পিস এনে সাজিয়ে রেখেছে। বারান্দায় সে এমনিতেই অনেক গাছ লাগিয়েছিলো সেগুলো পরিষ্কার করে রাখছে যাতে ঝোপ ঝাড় না বুঝা যায়,মশা না থাকে, পোকামাকড় না থাকে।একটা সুন্দর দোলনাও এনে রেখেছে।যদিও নাফিসার আগেই একটা দোলনা ছিলো কিন্তু সেটা পুরানো দেখে নতুন করে এনে রেখেছে।নিচে ফ্লোরম্যাট বিছিয়ে দেওয়াল ঘিরে কুশন, ছোট্ট একটি মাটির পাত্রে পানি দিয়ে সুন্দর করে দুটো পদ্মফুলের ডগা ফেলে তার মধ্যে কিছু প্রদীপ রাখা হয়েছে। পাশেই একটা ছোট কাঠের টেবিলের উপর মোমবাতির স্ট্যান্ড,যার মধ্যে রঙিন মোমবাতি রাখা।

বাথরুমটা বারবার পরিষ্কার করছে, অযথাই ফ্ল্যাশ করে রাখছে। এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে সুবাসে ভরে রাখছে।

মায়ের পিছু পিছু ঘুরে মা'কে সব কাজে সহযোগিতা করছে তাদের একমাত্র মেয়ে নাবীহা উসরাত গাজী। ফুফুর সাথে তার রোজ কথা হয়।ছোট বেলায় ফুফু তাকে কত আদর করতো, এখনও করে।সেই ফুফু এতদিন পর আসবে তার সাথে আসবে তার আরেকটি ছোট বনু।বনুর জন্য সে অনেক গিফট কিনে রেখেছে মায়ের সাথে গিয়ে।


দোলনা কিনেছে নতুন বাবুর জন্য,ফিডার কিনে এনেছে, অনেক অনেক খেলনা বলা যায় নাফিসার ঘরে ডুবিয়ে দিয়েছে খেলনা দিয়ে। পুরো জমিনে কার্পেট বিছানো হয়েছে যাতে পরে গিয়ে ব্যথা না পায়।

ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ ঠিকঠাক আছে কি-না,এসি চলে কি-না, হাওয়া আসে কি-না তাও দেখে রাখছে বারবার।

এখন এই ঘরটা দেখলে কেউ বুঝবেই না দীর্ঘদিন ধরে এই ঘরের মানুষটা এই ঘরে থাকে না। 


ছেলে আর ছেলের ব‌উয়ের এমন তোরজোর আয়োজনে গর্বে বুকটা ভরে উঠেছে নাযীর আহমাদ এবং সালমা ফাওযিয়ার। যেখানে এখন ভাই বোন কে ঠকানোর প্রচলন সেখানে কতটা আন্তরিক হলে এতটা আয়োজন করা যায়। অবশ্য উনারাও কম যান না। মেয়ের জন্য কি করবে তার চেয়েও বেশি করছে মেয়ের মেয়ের জন্য। আফিয়া, নাসিফ বলেছিলো উনাদের দু'জনকে গিয়ে একবার দেখে আসতে কিন্তু ঐখানে গিয়ে তাও আবার দুজনেই বয়স্ক অসুস্থ মানুষ! চিন্তা ভাবনা করে যাওয়ার সাহস পায়নি। ছেলেকে নিয়ে যেতে বলবে তাও সম্ভব নয় কারণ ছেলেটা এই দুই বছরে অনেক ধকল সহ্য করেছে।


সালমা ফাওযিয়াকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মাদ্রাজ গিয়েছিলো,মেয়েটার জন্য আবার সিঙ্গাপুরে।তার মধ্যে ছোট ছেলেটার আবারও জ্বর বাঁধে তাকে নিয়েও হাসপাতালে দৌড়িয়েছে পুরো এক সপ্তাহ।তাই উনারা নিজেদের এই ছোট্ট মনোবাসনাক লুকিয়ে রেখেছে,আর মেয়ের আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।যার অবসান আজ ঘটছে।


নাফিসাদের ফ্লাইট রাতে এসে পৌঁছাবে।আফিয়া তাই ফাতিন আর তার বাবা মায়ের পছন্দের খাবারের তালিকা নাফিসার থেকে যা সে আগেই শুনে রেখেছিলো সেখান থেকে হালকা পাতলা কিছু করছে।নাফিসার পছন্দের বাংলা রান্নাও করেছে।ওরা সম্ভবত এক মাস থাকবে দেশে তবে কতদিন এ বাড়িতে থাকতে পারবে তা বলা যায় না কারণ ওরা এক মাসে অনেক কাজের পরিকল্পনা নিয়ে আসছে।যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফাতিনদের দাদা বাড়ির সম্পতির ভাগবাটোয়ারা করা।তার মানে অবশ্যই এই সময়ে তারা বেশিভাগ সময় গ্রামে এবং দৌড়ঝাঁপের উপরে থাকবে।যদিও নাসিফ অনুরোধ করবে অন্তত বোন এবং ভাগ্নিকে যাতে তাদের কাছে রেখে যায়।


“ আম্মু!আম্মু!আম্মু!"


নাবীহা মা'কে ডাকতে ডাকতে রান্না ঘরের দিকে ছুটে আসছে।তার হাতে একটি কৃত্রিম ফুলের টব যাতে রাখা তার‌ই বানানো অনেকগুলো ফুল এবং তার চারপাশে ছোট ছোট মরিচ বাতি লাগানো।


আফিয়া মেয়ের চেঁচামেচি শুনে রান্না ঘরের দরজার দিকে তাকালো। রান্না ঘরে এখন ঢোকা নিষেধ নাবীহার।তার হাতে স্কিন সার্জারি করিয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ হলো।চুলার তাপ থেকে কয়েক মাস দূরে রাখতে বলেছে।তাই নাসিফ কড়া করে বলে দিয়েছে যাতে মেয়ে রান্না ঘরে না ঢুকে। বাবার আদেশ অমান্য করার দুঃসাহস এখনো বাচ্চাদের হয়নি।আফিয়াও এই সুযোগে সবসময় তাদের বাবার ভয়ে তটস্থ রাখে।তাতে বাচ্চাদের সঠিকভাবে রাখা সহজ হয়।


“ বলো।"

“ আম্মু এটা ফুপুর ঘরে রাখি?"

“ এটা তো তোমার টেবিলে থাকে।ভাইকেও তো দিলে না।এখন ফুপুকে দিবে?"

“ ভাইয়াকে দিবো না।ফুপুকে দিবো! ভাইয়া সবসময় আমার চুল অগোছালো করে দেয়।কালারস‌ও ফেলে দেয়,বেড‌ও অগোছালো করে রাখে!"

“ আচ্ছা ঠিক আছে দিতে হবে না।ফুপুকেই দাও। কিন্তু পরে কান্নাকাটি করবা না!"

“ ওখে আম্মু!"


বলেই সে আবারও দৌড় দিলো। এবং সে তার ফুপুর স্টাডি টেবিলের উপর রাখলো।এটা ব্যাটারীর সাহায্যে চলে,যখন ফুপু আসবে সে শিখিয়ে দিবে কিভাবে এটাকে জ্বালাতে হবে।


রাতে... শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা -


“ আসসালামু আলাইকুম ভাই!"


দুর থেকে হিজাব কালো বোরকায় আবৃত এক‌ রমনীকে দৌড়ে আসতে দেখে নাসিফ‌ও দৌড় দিলো।ছয় বছরের মতো সময়.. এত দীর্ঘ সময় পর একমাত্র আদরের বোন,কলিজার টুকরাকে দেখে নাসিফ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলো না। বোনকে বুকে নিয়েই ঝরঝর করে কেঁদে দিলো। নাফিসা তো চিৎকার করে কাঁদছে খুশিতে।বাবার সমতুল্য বড় ভাই,যে কি-না ছোট থেকেই সন্তানের মতো আগলে আগলে রেখেছে সেই ভাইকে স্বচক্ষে দেখে না কতদিন হলো!

ভাই বোনের মিলনে খানিকটা ব্যাঘাত ঘটালো ফাতিন জিয়ান।বড় সুমন্ধীকে উদ্দেশ্য করে বললো,


“ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।"


বোনকে ছেড়ে বোন জামাইকে করমর্দন এবং কোলাকুলি করে সুন্দর ঝকঝকে হাসি উপহার দিয়ে সালামের উত্তর দিলো নাসিফ,


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম।কেমন আছো ফাতিন?"


“ জ্বী ভাইয়া, আলহামদুলিল্লাহ!"


“ আরে আম্মা।আমার আরেকটা আম্মা! আল্লাহ কত মহান আমাকে এতগুলো আম্মার ভাগ্য দিয়েছে।আসেন মামার কোলে আসেন।"


ছোট্ট নাজিফা ফাতিন জিয়ান টুকুর টুকুর করে মামার দিকে চেয়ে আছে।বাবার কোলে বেবি ক্যারিয়ারের ভেতরে সাদা পশমী তোয়ালে মোড়ানো একটি ছোট্ট তুলোর বস্তা যেন সে।মাথার চুল গুলো সব লালচে।কান অবধি লম্বা ঘন চুল গুলোয় নাফিসা সুন্দর করে ক্লিপ লাগিয়ে দিয়েছে।গালে আস্তো একটি আপেল বসে আছে যেন, এতটাই লাল হয়ে আছে। ঠোঁট দুটো উল্টে রেখেছে, তা দেখলে মনে হয় সিঁদুর লেগে আছে যা এখনি গড়িয়ে পড়বে!ফুলকো লুচির মতো ফুলো গালের কারণে নাক‌ই দেখা যাচ্ছে না। অবশ্য নাটকা বোচাই হবে বোঝা যাচ্ছে।গলুমলু বাবুটাকে তার মামা অতি আদরে আর আলগোছে নিজের বাহুর মাঝে তুলে নিলো।নাক দিয়ে নাকে ঘষা দিয়ে গালে,কপালে নাকে ঠোঁট ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে আদর দিচ্ছে।নাজিফা অচেনা মামাকে টুকটুক করে দেখছে।চোখ ভ্রু কুঁচকে সে অপলক চেয়ে আছে মামার দিকে। বিশেষ কোন প্রতিক্রিয়া তার তরফ থেকে দেওয়ার অভিপ্রায় না দেখে নাসিফ বোনকে জিজ্ঞেস করলো,


“ অচেনা সবার কোলেই যায়? কাদে না?"


“ না।যে নেয় তার কোলেই যায়। এবং গিয়ে এভাবেই দেখে যেন কত কিছু বুঝে ও!"


বোনের কথায় হেসে দিলো নাসিফ‌।আবার‌ও ভাগ্নিকে আদর দিয়ে বোনের শ্বশুর শাশুড়িকে উদ্দেশ্য করে বললো,


“ চলেন আন্টি আংকেল।বাড়ি গিয়ে একটু রেস্ট নিবেন!"


“ শিয়র"


নানা আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই বাড়িতে পৌঁছে গেলো ফাতিনের পরিবার এবং গাজী বাড়ির তিন গাজী।নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী,তার বোন নাফিসা গাজী ও তাদের চাচাতো ভাই আহসাব গাজী। 


“ আসসালামু আলাইকুম; কেমন আছেন সবাই?"


দরজা খুলেই চমৎকার হাসি উপহার দিলো আফিয়া।তাকে দেখেই তার উপর একরকম লাফিয়ে পড়লো নাফিসা। একমাত্র ভাইয়ের ব‌উয়ের সাথে তার কিছুটা মনোমালিন্য হয়েছিল তাই সে ভীষন লজ্জিত।দুরবার্তায় ক্ষমা চাইলেও সরাসরি চোখ মেলাতে পারবে বলেই এতদিন আসা নিয়ে গড়িমসি করেছিলো। কিন্তু আসতে তো হবেই আর ক্ষমাও চাইতে হবে তাই এসেই ভাবীর বুকের উপর আঁছড়ে পড়ে মাফ চাইলো,


“ ভাবী মাফ করে দাও আগে। অনেক কটু কথা বলেছি। অনেক বাজে ভাবে তোমাকে হেয় করেছি। তুমি মাফ না করলে আল্লাহ‌ও করবে না।আগে মাফ করো তারপর তোমার বাড়িতে পা রাখবো নয়তো এখন‌ই চলে যাবো।"


আফিয়া বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছে।যদিও তার প্রতি নাফিসার এত নরম ব্যবহারে সে কিছুটা বিমোহিত হচ্ছে তবুও সবার সামনে এভাবে! 


“ ভাবি আপনার ননড অনেক কষ্ট পায় ঐগুলো ভেবে।আমি বলেছিলাম ভাবি কিছুই মনে রাখে না সে অনেক ভালা মানুষ! কিন্তু শোনেই না কথা!"


স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে খানিকটা কথা বললো ফাতিন।ননদাইয়ের সামনে খোলামেলা ভাবে কখনোই আফিয়া আসে না।আজ‌ও আসেনি।মুখের উপরে হালকা একটা নিকাব বেঁধেই দরজা খুলেছে, যেহেতু বাইরে আরো অনেক পুরুষ আছে তাই।


আফিয়া পরিস্থিতি সামলাতে বললো,


“ এ্যাই নাফিসা কি করছো? তুমি কি আমাকে সবার সামনে লজ্জায় ফেলতে চাইছো? কি ভাবছে সবাই! তাছাড়াও জামাই এতদিন পর শ্বশুর বাড়িতে এসে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে,সাথে তালোই,মাওইমা,কি করছো কি বলো তো তুমি!

চলো ভেতরে চলো!এক বাচ্চার মা হয়ে নিজেই এখনো বাচ্চামো! "


“ না আগে বলো মাফ করেছো!"


“ তোমার প্রতি আমার কোন রাগ নেই,কোন অভিযোগ নেই তোমার বিরুদ্ধে তাহলে মাফ কিভাবে করবো? তোমার ঐ সময়ে যা সঠিক মনে হয়েছে তাই করেছো। এখানে আমি রাগ পুষে রাখার কিছুই দেখি না।আসো ভেতরে... আচ্ছা আমার আম্মা কোথায়?"


“ এই তো।"


নাসিফ ভাগ্নিকে নিয়ে পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিলো।আফিয়ার কথায় সামনে আসার জন্য পা বাড়াতেই পুঁচকে সোনা নিজের মায়ের দিকে ঝুঁকে পড়লো,সবাই বুঝলো তার এখন মা চাই।নাফিসা ভাইয়ের কোল থেকে মেয়েকে নিয়ে ভাবীর দিকে দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো,


“ দয়া করে প্লিজ একে তুমি‌ই রেখে দাও।পেলেটেলে বিয়ে দিয়ে দিও। আমার ভাইয়ের কম নাই। আরেকটা মেয়ে বিয়ে দিতে সমস্যা হবে না।"


“ আলহামদুলিল্লাহ , মাশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ!

আল্লাহ দীর্ঘজীবী করুক। অনেক অনেক বড় করুক...আউ`জু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিং কুল্লি শাইত্ব-নিওঁ ওয়া হা-ম্মাহ, ওয়া মিং কুল্লি আ`ইনিল লা-ম্মাহ।অর্থ : ‘প্রত্যেক শয়তান হতে আল্লাহর পূর্ণ কালেমা দ্বারা তোমাদের দু’জনের জন্য পরিত্রাণ চাচ্ছি। আর পরিত্রাণ চাচ্ছি প্রত্যেক বিষাক্ত কীট হতে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর চক্ষু হতে।’ (বুখারি, মিশকাত)সুতরাং আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেকের ছোট বাচ্চাদের সকল প্রকার কুদৃষ্টি, ক্ষতিকর প্রভাব, বিষাক্ত প্রাণী ও সকল প্রকার বিপদাপদ থেকে হিফাজত করুন। আমিন।[ এই দোয়াটি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার আপনার প্রিয় এবং আখেরি নবী তার অতি আদরের দুই চাঁদ,দুই কলিজা,দুই প্রিয় নাতির জন্য করতেন!তাই আমি এই দোয়াটি‌ই

 দিলাম।]


ননদের কথায় খুশি প্রকাশ করে উপরোক্ত কথাগুলো বললো আফিয়া।নাসিফ আফিয়াকে বললো,


“ এখানেই থাকবে দাড়িয়ে সবাই? ঘরে ঢুকবে না!"


“ হ্যা হ্যা!"


“ সবাই প্লিজ ভেতরে আসুন।"


ঘরে পা দিয়ে সবার আগেই দেখা হলো আরেক কন্যার সাথে।নাবীহা দৌড়ে তার ফুপুর কাছে চলে আসে,


“ ফুপু!"


“ ওরে আমার কলিজারে।"


“ আসসালামু আলাইকুম ফুপু!"


নাইফ‌ও ছুটে এসে সালাম দিলো।নাবীহাও ভাইকে দেখে সালাম দিলো,


“ আসসালামু আলাইকুম ফুপু,ফুপা আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই?"


“ বুড়ির কথায় সবাই হাসি হাসি মুখ করে উত্তর দিলো।নাইফ তার নতুন বোনের দিকে হাত বাড়িয়ে মায়ের উদ্দেশ্য বললো,


“ ওকে আমার কোলে দাও না আম্মু!"


“ না আমি নিবো।"


নাবীহা ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে মায়ের দিকে হাত বাড়িয়ে বোনের এক হাত ধরে জোর করছে তাকে দেওয়ার জন্য।আফিয়া কাউকে না দেওয়ার কথা বললে তারা দুজনেই ঠোঁট উল্টে মাকে বললো,


“ কেন দিবে না। দাও একটু।"


“ না ফেলে দিবে তোমরা!"


“ ফেলবো না আম্মু দাও না!


নাবীহা মা'কে বোঝানোর চেষ্টা করছে, ঐদিকে নাইফ বললো,


“ আমি তো বড় ।আমি ফেলবো না।"


“ না যাও এখান থেকে।তোমরা দাদু,ভাইয়াকে সালাম দিয়েছো? তাদের সাথে আলাপ করো গিয়ে।

আর হ্যা দুষ্টুমি করবে না একদম!"


“ আমাকে...!"


“ নাইফ!"


মায়ের জোরে আওয়াজ মানেই আর কথা হবে না।দুই ভাই বোন পাশে সরে গেলো। ঐদিকে নাফিসার শ্বাশুড়ি বললো,


“ আরেক জনের মুখ তো দেখলাম না বেয়াই।"


নাযীর আহমাদ বেরিয়ে কুশলাদি সারছেন।সালমা ফাওযিয়াও বেড়িয়ে এসেছেন এর মধ্যেই।তারা আগে বেয়াইন বেয়াইয়ের সাথে কথা বললো, মেয়ের জামাইয়ের সাথে কথা বলছে। বাচ্চা নিয়ে এই দিকে দুই জুনিয়র গাজীর যুদ্ধ আর নাসিফ ওয়াসীত্ব বাবার পাশে দাঁড়িয়ে বোনের শ্বশুরবাড়ি লোকদের সাথে আলাপে ব্যস্ত বাবাকে দেখছে।তখন‌ই কথাটা জিজ্ঞেস করলেন ফাতিনের বাবা জিয়ান সাহেব।তিনি ঐ গাজীর বিশাল ভক্ত।তার করা নিত্য কর্মকাণ্ডের ইতিহাস শুনে তিনি ভীষন মজা পান। মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে হাসেন বলে।


“ আম্মা,আব্বা?"


নাফিসা বাবা মায়ের বুকের পড়ে কাঁদতে কাঁদতে সব জামা কাপড় ভিজিয়ে ছাড়লো।তারাও মেয়েকে পেয়ে একদম নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে কাদলো।


“ আম্মা ওকে কাদাচ্ছো কেন? ওদেরকে ছাড়ো।ফ্রেশ হবে।

ঐ্যাই নাফিসা ভেতরে যা জামাইকে নিয়ে,ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নিয়ে খাওয়া দাওয়া করে ঘুম দে।

জামাই যাও!"


আফিয়ার দিকে তাকিয়ে হালকা উচু আওয়াজে বললো,


“ তুমি ওকে নিয়ে বসে থাকলে চলবে। বাচ্চাদের

কাছে দাও।সবার জন্য খাবার সাজাও।"


“ হ্যা যাচ্ছি!"


বাবা দিতে বলেছে শুনেই দুই ভাই বোন আবারও এগিয়ে আসে সাহস করে কিন্তু তাদের সাহসে পানি ঢেলে তাদের মা বোনকে নিয়ে বোনের নানীর কোলে তুলে দিলো।এবার তারা দুই ভাই বোন দাদীর কাছ ঘেষলো।


নাফিসা বাবা মায়ের কোল ছেড়ে চোখ মুছে বললো,


“ আশ্চর্য যাকে দেখার জন্য এত ছটফটানি নিয়ে আসলাম তাকেই দেখতে পেলাম না কোথায় সে?"


“ আছে হয়তো কোথাও।"


“ তাইফ!"


নাসিফ ছোট ছেলেকে ডাকলো।বাবার ডাক কানে যেতেই দরজার পর্দার আড়াল থেকে সোজা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো তাইফ।


“ কি ব্যাপার এমন করলো ক্যান?"


নাসিফ আফিয়ার দিকে তাকালো আফিয়া তার দিকেই অসহায়ের মতো করে তাকিয়ে আছে,তাই দেখে নাসিফ বললো,


“ কাজ বাড়িয়ে এখন চেয়ে আছো কেন?"


চলমান.... 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ