সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৪৮

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৪৮

সুখ প্রান্তর মরিয়ম বিবি


কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


“ বাবা!"


নাবীহা ঘুম থেকে উঠেই নিজের বাবাকে খুঁজে। স্বাভাবিক ভাবেই এটা তার নিয়মিত অভ্যাস, এবং তাতে সে অভ্যস্থ।যেহেতু সবসময় বাবাকেই কাছে পায় তাই আজ‌ও তাই করেছে।তবে আজ আরো কারণ রয়েছে।তা হচ্ছে পোড়া জায়গায় ব্যথা বা যন্ত্রনা করা।


সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই চোখ মেলেই হাতের ব্যথায় ছটফট করছিলো বাচ্চাটা তার সাথে মুখ দিয়ে অভ্যাসগত বাবা ডাকটা বেরিয়ে আসলো।নাইফ বোনের মৃদু চিৎকারে সজাগ হয়ে গেল।চোখ ঢলে বোনের দিকে ঘুমঘুম চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,


“ নাবু কি হয়েছে?ব্যথা করছে?"


তাদের মনেই নেই মা ঘরে। নাবীহা ঠোঁট ভেঙে কেঁদে দিয়ে বললো,


“ ব্যথা করে ভাইয়া; অনেক ব্যথা! আম্মু যাবো!"


“ বাবাকে বলি দাঁড়াও।

_ দেখি তোমার হাতে কত ব্যথা হচ্ছে?"


নাবীহার পোড়া জায়গার চামড়ায় হালকা টান পড়েছে,ঘুমের মধ্যে নড়চড় করায় হয়তো তাতে একটু লেগেছে তাই সে ব্যথা পাচ্ছে সাথে জ্বালাও করছে।যার কারণে কান্না করছে।নাইফ বোনের হাত দেখে ভাবুক হয়ে বললো,


“ দেখো একটু ওষুধ দিলেই কমে যাবে। দাঁড়াও আমি তোমাকে ওষুধ লাগিয়ে দেই!"


“ না তুমি বাবাকে ডাকো।বাবা লাগিয়ে দিবে!"


“ আমিও পারবো তুলতুল! তুমি ভয় পেয়ো না।আমি একটুও ব্যথা দিবো না।"


“ না আমি বাবার হাতে লাগাবো।বাবাকে ডাকো।

_ বাবা!"


নাইফ বোনের কষ্ট কমানোর চেষ্টা করতে চাইলেও বোন তার উপর ভরসা রাখতে পারছে না দেখে একটু কষ্ট পেলো কিন্তু আবার নিজেই বুঝে নিলো তার বোনতো ছোট। এখনও বাচ্চা তাই একটু জেদ করছে।সে দুই হাত উপরে তুলে আত্ন-সমর্পন করে বললো,


“ ঠিক আছে কেঁদো না।আমি বাবাকে ডাকছি। তুমি একটু থামো।"


বলেই প্যান্টের পকেটে একটা হাত ঢুকিয়ে দ্রুত কদমে বেরিয়ে যেতে গিয়েও থেমে গেলো। পিছন ফিরে বললো,


“তুলতুল আম্মু তো কাল এ বাড়িতেই ছিলো। তাহলে আম্মু?"


নাবীহা‌রও মনে পড়লো তার মা তো কাল‌'ই ফিরে এসেছিলো। তাহলে এখন তো মা ঘরেই থাকার কথা।সে চট করে উঠে বসলো।গায়ের কাথা ফেলে হাতের ব্যথা ভুলে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে বললো,


“ আম্মু চলে গিয়েছে?"


“ জানিনা! চলো গিয়ে দেখি।"


বলেই নাইফ নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।তার পিছু পিছু নাবীহাও। 


“ আম্মু?"


“ আম্মু!"


আফিয়া তখন শ্বাশুড়ির জন্য দুপুরের খাবার তৈরি করার আয়োজন করছিলো। বাচ্চাদের ডাকে ভ্রু কুঁচকে পেছনে ফিরে কিছু একটা ভেবেই চমকে উঠে হাতের ঝুড়িটা রেখে দিলো। এরপর কাপড় দিয়ে হাতটা মুছে গায়ের ওড়না ঠিক করতে করতে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো। বাচ্চারা ততক্ষণে তাদের ঘরে ঢুকেছে।


বিছানায় বাবা শোয়া এবং বাবার বুকের উপর শোয়া ছোট ভাইকে দেখে নাবীহা,নাইফ দুজনেই চমকে উঠলো।খুশিতে চেঁচিয়ে বললো,


“ ভাই!"

“ তাইফ?"


অজান্তেই উৎফুল্ল হয়ে উঠলো দুই ভাই বোন। নিজে ব্যথাও ভুলে গেলো নাবীহা।সে দৌড়ে বিছানায় উঠে বাবার পাশে বসে ভাইয়ের গালে হাত রাখলো।নাসিফের ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে।সে চোখ মেলে ছোট ছেলেকে দেখে মেয়েকেও দেখলো। মুখটা হাসি হাসি রেখে বললো,


“ উঠে গিয়েছেন আম্মা?"


“ হুম!

_ ভাই চলে এসেছে বাবা?"


“ হুম! আম্মা!"


নাসিফ বুকের উপর শুয়ে থাকা ছেলেকে একপাশ করে ধরে বালিশের উপর মাথা দিয়ে শোয়ালো। এরপরেই নিজে বসে মেয়েকে বুকে টেনে এক হাঁটুর উপর বসিয়ে বললো,


“ হাতের কি অবস্থা আমার মায়ের?দেখি বাবা!"


“ অনেক ব্যথা আর জ্বলছে বাবা!"


এত সময়ের পর ব্যথা যেন আবারও চড়ে বসলো। মুহূর্তে কাঁদো কাঁদো গলায় ছলছল চোখে বাবার দিকে নিজের পোড়া হাতটা এগিয়ে দিয়ে দেখালো।নাসিফ দেখলো পোড়া অংশে কিছু কিছু জায়গায় মোটা পরদে চামড়া উঠছে, সেখান দিয়ে ভেতরের লাল অংশ‌ও দেখা যাচ্ছে।আবার কোথাও কোথাও কালো হয়ে যাচ্ছে। মেয়ের হাতের এই করুন অবস্থা দেখে নাসিফের মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। রাগে পায়ের তলার রক্ত মাথায় উঠে গেল। ইচ্ছা করছে সুফিয়াকে জ্যান্ত পুড়িয়ে দিতে।


“ বাবা ভাই কখন এসেছে! আমি তো দেখলাম‌ই না।"


নাইফ বিস্মিত চোখে প্রশ্ন করলো নিজ পিতাকে।নাসিফ ছেলের দিকে স্বাভাবিক চোখে তাকিয়ে শুধালো,


“ কেন তোমরা রাতে দেখো নি?"


“ না বাবা!"


নাসিফ বুঝলো ওদের ঘুমের পড়েই হয়তো ছোট ছেলে এসে পৌঁছিয়েছে।


“ তুলতুলে,নাবীহা কি হয়েছে? "


“ আম্মু!"


“ আম্মু তুমি যাওনি আমাদের ছেড়ে!"


নাইফ মা'কে জড়িয়ে ধরে খুশি হয়ে বললো।আফিয়া ছেলের কথায় ঠিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে বুঝলো না। এমন প্রশ্নে তাও যেখানে নাসিফ উপস্থিত।তাই সে কথাটা এড়িয়ে গিয়ে ছেলেকে আদর দিয়ে বললো,


“ না বাবা।এখন যাও হাত মুখ ধুয়ে আসো। নাস্তা দিবো।"


নাবীহা বাবাকে রেখে মায়ের কাছে গেলো।আফিয়া মেয়ের কপালে হাত চেপে ধরে দেখলো জ্বর আসছে কি-না।পরে হাত ধরে বললো,


“ জ্বলছে অনেক, না মা!"


“ হুম! "


“ আচ্ছা চলো, আগে একটু পরিষ্কার করে দেই এরপর ওষুধ দিয়ে দিবো। ব্যথা কমে যাবে।"


“ ব্যথা পাই!"


“ করবে না মা! আম্মু আসতে করে পরিষ্কার করবো।দেখো তুমি!

আরো ঘুমাবেন? নাকি উঠবেন? ছেলে মেয়েদের সাথে নাস্তা দিবো?"


“ না আর ঘুমাবো না।উঠবো।

_ এই ছোট মিয়া কখন উঠবে?"


“ একটু পর নিজেই উঠবে।যেচে উঠিয়ে অযথা কাজে ব্যাঘাত করার দরকার নাই।"


“ ওখে!"


সবাই সবার মতো চলে গেল। আফিয়া মেয়ের হাত পরিষ্কার নতুন করে মলম লাগিয়ে দিলো। দাঁত ব্রাশ করিয়ে চোখ মুখ ধুয়ে দিলো। এরপর সবাইকে এক সাথে টেবিলে নাস্তা পরিবেশন করতেই ঘর থেকে ভেসে আসলো ছোট ছেলের গগনবিদারী চিৎকার।সে উঠে জানান দিচ্ছে তার‌ও খাওয়ার সময় হয়ে গেছে।


“ আপনি একটু ওদের খাইয়ে দেন।আমি দেখি বাবু কিছু করছে কি-না।"


“ হুম,যাও!"


নাসিফ মাত্র রুটি ছিঁড়ে মুখে দিয়েছে।নাবীহা মায়ের হাতে খাবে।এই বিষয়ে সুযোগ সন্ধানী নাইফ‌‌ও। কিন্তু ছোট ভাই তাদের সব ভেস্তে দিলো।তবুও তারা মায়ের হাতেই খাবে।জেদ দেখিয়ে বললো,


“ আমরা আম্মুর হাতেই খাবো।"


“ আম্মু ভাইকে খাওয়াবে। তারপর আম্মু খাবে না?"


“ না আমি আম্মুর হাতেই খাবো।"


নাবীহা উঠে গেলো।নাইফ বাবার পাশেই বসে র‌ইলো।নাসিফ হতাশ চোখে চেয়ে র‌ইলো আর বিরবির করে বললো,


“ বাচ্চাগুলো সব মা ন্যাওটা হচ্ছে কেন? কারোই তো দেখি আমাকে দরকার হয় না।"


নাইফ বাবার কথা শুনলো না কিন্তু বাবার অসহায় মুখ দেখে বললো,


“ আমি তোমার হাতে খাবো বাবা!"


সকালের নাস্তা শেষ করে বাচ্চারা তাদের ছোট ভাইকে নিয়ে মজে গেল খেলায়।আর নাসিফ গিয়ে বসলো বসার ঘরে।আফিয়া একটু বিরতি নিয়েছে।গলা,ঘাড়ের ঘাম মুছতে মুছতে সে বসার ঘরের দিকে এগিয়ে এসে নাসিফের পাশেই একটু ফাঁকা রেখে বসলো‌।নাসিফ এক পলক আফিয়ার দিকে চেয়ে বললো,


‌“ সুফিয়াকে ডাকো তো।ওর সাথে কথা আছে!"


আফিয়া জানেই কি বলবে।তাই নিজেকে ধাতস্থ করলো একটা রাম ধমক খাওয়ার জন্য।ঘাম মোছা শেষ করে নাসিফের দিকে তাকিয়ে ধীর আওয়াজে বললো,


“ যা বলার আমি বলেছি। আপনাকে কিছু বলতে হবে না।এটা একটা দূর্ঘটনা যেকারো সাথে যেকোন সময়‌ই হতে পারতো। তাছাড়াও..."


নাসিফের চাহনিতে কথা এখানেই থেমে গেলো। নিজের দৃষ্টি নামিয়ে হাত দুটো এক করে স্থির হয়ে বসে র‌ইলো।নাসিফ শক্ত কন্ঠে বললো,


“ ওকে বলবে এটাই শেষ সুযোগ। এরপর দায়িত্বে কোন অবহেলা দেখলে তৎ-নগদ ওকে যেখান থেকে এনেছি সেখানে পাঠিয়ে দিবো।আমি আমার বাচ্চাদের নিয়ে কারো সাথে কোন কম্প্রোমাইজ করবো না।সে যেই হোক।"


“ আমিও তাই বলেছি।ও বলছে আর হবে না।"


“ বলছো তো অবশ্যই,মাথায় তেল দিয়ে দিয়ে।আদর সোহাগ করে যা ভাত খাওয়ার সাথে সাথে ভাতে সঙ্গে মিশিয়ে খেয়ে ফেলবে!"


“ এভাবে বলি নাই। কঠোরভাবেই বলছি।"


“ শোন, তোমার কাজের লোক। তুমি কিভাবে তাদের হ্যান্ডেল করবে সেটা তোমার দায়িত্ব কিন্তু তাদের দ্বারা আমার পরিবারের কোন ক্ষতি হলে অবশ্যই আমি তার জন্য তোমার থেকে জবাবদিহি নিবো। আর যদি মনে করো সেটাতে সম্মতি নাই তাহলে আমার সিদ্ধান্তে বাগড়া দিবে না। চুপচাপ মানবে!"


“ হুম!"


এরপর নিরবতা।কিছু পল কাটলো।


“ তাড়াতাড়ি তৈরি হ‌ও। আমি হাসপাতাল থেকে অফিসে যাবো।"


“ রান্নার সব রেডি। রান্না শেষ হতে সর্বোচ্চ এক ঘন্টা; ওহ আমি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। আম্মু বলছে তারাও যাবে!"


“ তাই নাকি!"


“ হুম!"


“ আচ্ছা তাহলে বলো তৈরি হয়ে থাকতে,যাওয়ার পথে তুলে নিবো গাড়ীতে।এক সাথেই যাক।"


“ ওকে!"


আফিয়া স্কুলে ফোন করে তার বর্তমান পরিস্থিতি জানিয়ে দিয়েছে সঙ্গে এ বুঝিয়ে বলেছে ওর পক্ষে আর সম্ভব না ক্লাস করানো।তবে নতুন শিক্ষিকা দেওয়ার জন্য ও চেষ্টা করবে বলে ওয়াদা করেছে।এখন সমস্যা কোচিংয়ের বাচ্চাদের নিয়ে। যদিও সালাহ্ বলেছে চিন্তা না করতে।সে সামলে নিবে সবটা।তবুও অতটুকু ভাইয়ের উপর সব চাপিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে চাচ্ছে না আফিয়া।


সাফিয়া নাবীহার হাত পোড়ার খবরে বেশ বিচলিত হয়ে গেছে। কিন্তু আসতে পারছে না কারণ ওর বাচ্চাটার ভীষণ ঠান্ডা জ্বর। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ধুলোবালি এবং অতিরিক্ত গরম পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে হচ্ছে।তাই আপাতত বাচ্চাটাকে নিয়ে বের হচ্ছে না অবশ্য এর মধ্যেই একবার ভাগ্নির সাথে ফোনে দেখা করে কাঁদার যা কেঁদে নিয়েছে। অনেকগুলো চকোলেট নিয়ে আসবে বলেও ওয়াদা করেছে। রেজওয়ান কালকেই নাবীহার জন্য এক বক্স নতুন রং পাঠাবে বলে জানিয়েছে। তারপর ছোট বোনের সাথে অনেক সময় তিন ভাই বোন মিলে কথা বলেছে।


নতুন ছোট্ট বুড়ির নাম রাখা হয়েছে জাফিয়া তোফা ফেরা বিনতে রেজ‌ওয়ান।যার যেই নাম পছন্দ সে সেই নামে ডাকে।মামা ডাকে তোফা বলে।বড় বোন ভাইয়েরা ডাকছে ফেরা বলে।খালামনি,বাবা, মা কিংবা অন্যান্য সবাই ডাকছে জাফিয়া বলে।যাই হোক সে আমাদের তোফা কিংবা ফেরা।ভীষন আদুরে একটা বাচ্চা।গলুমলু নাদুসনুদুস মিষ্টি একটা পুতুল।


নাফিসা সকালেই ফোন দিয়ে মায়ের সাথে কথা বলেছিলো।তখন‌‌ই নাসিফ তাকে বলতে গিয়েও বলেনি।কারণ সেও এখন সন্তান সম্ভাবা।যদিও মাস দুই চলে তবুও ভাই হয়ে এই সময়ে বোনকে এত চিন্তার মুখোমুখি হতে দিতে চাইলো না। এমনিতেই এখন নিজের দায়িত্ব পালনের জন্য আজ প্রায় দেড় মাসের‌ও বেশি সময় হলো ফাতিন জাতিসংঘের স্বাস্থ্য টিমের সাথে রয়েছে।ভীষন ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে স্বামীকে রেখে নিশ্চয়ই কোন স্ত্রী ভালো থাকে না।নাফিসাও নাই।তাও হাসি মুখে থাকার চেষ্টা সবসময় করে।


 


🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸


“ আম্মু আসসালামু আলাইকুম "


“ ওয়া আলাইকুম ওয়া বাবা!"


নাসিফ শ্বাশুড়ি মা'কে গাড়িতে তুলে দেওয়ার জন্য নিজেই নেমে দাঁড়ালো। সালাহ্ হাতে বড় একটা টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে বেরিয়েছে।সেটা নিয়ে পেছনে রাখতে যেতেই নাসিফ বললো,


“ ঐটাতে কি?"


“ঐ আম্মু আন্টি আর আংকেলের জন্য কিছু খাবার নিয়েছে!"


“ এমা আমি'ই তো রান্না করে নিয়েছি। তুমি আবার কেন করলা?"


আফিয়া মায়ের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, সুলতানা আযিযাহ মেয়ের কথার উত্তরে বললেন,


“ অত কিছু না।হালকা কিছু।রাতে খাবে সমস্যা কি?"

 নাসিফ কথা পরিসমাপ্তি ঘটাতে বললো,


“ আচ্ছা থাক নিয়েই নিয়েছে এখন আর কি করার!

_ ওটা পেছনে রাখার দরকার নেই সামনেই রাখো। তোমার আপার কাছে দাও।"


আফিয়া ভাইয়ের থাকে টিফিন ক্যারিয়ার নিয়ে নিজের পায়ের সামনে ঠেকিয়ে রাখলো।নাইফ তার মামাকে দেখে যথারীতি উৎফুল্ল এবং উচ্ছসিত হয়ে বললো,


“ মামু আমি তোমার কাছে আসি।"


“ নাইফ বড় হচ্ছো! এখন তুমি মামুর কোলে কি করে বসবে?"


“ ওখে বাবা।"


চালকের আসনে নাসিফ,তার পাশে সালাহ্।তাই নাইফ চাচ্ছিলো মামার পাশে বসবে যদিও তাহলে মামার কোলেই বসা হলো তবুও।

সালাহর কোলে জায়গা হলো তার ভাগ্নে তার কলিজা তাইফের।সেও তার মামার বিশাল ভক্ত হচ্ছে।পেছনে এক জানালার পাশে আফিয়া,নাবীহা সবসময়ের মতো করেই মায়ের কোল ঘেঁষে বসেছে।

মাঝে সুলতানা আযিযাহ এবং তার পরে অন্য পাশের জানালায় নাইফ।


হাসপাতালে.....


“ আসসালামু আলাইকুম বিয়াইন!"


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম বিয়াইন!"


সালমা ফাওযিয়া বিয়াইনের সালামের প্রত্যুত্তরে সালামের উত্তর দিলেন। সুলতানা আযিযাহ বিয়াইনের থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বিয়াইয়ের উপর রেখে মৃদু হেসে তাকেও সালাম দিলেন এবং সালামের উত্তর নিলেন। তার পরপর‌ই আফিয়ার শব্দ শোনা গেলো,


“ আসসালামু আলাইকুম আম্মা,আব্বা আসসালামু আলাইকুম!"


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম মা।"


সালামের উত্তর দিতে দিতেই সালমা ফাওযিয়ার চিৎকার করে কান্না বেরিয়ে আসলো।তিনি আফিয়াকে একদমই আশা করেনি।তার সাথে বোনাস হিসেবে আছে তার ছোট নাতি।যার মুখটা দেখার সৌভাগ্য‌ও উনাদের হয়নি।নাসিফের কোলেই ছিলো ছোট্ট তাইফ।তাকে নিয়ে তার বাবা তার দাদীর দিকে ঝুঁকে ধরলো, নিজের এক হাত ব্যান্ডেজে মোড়ানো, কোমর অসাড় হয়ে পড়ে আছে।তাও তিনি পাগলের মতো উত্তেজিত হয়ে নাতিকে কোলে নেওয়ার প্রয়াস করলো।চেয়ার থেকে লাফিয়ে এসে এক‌ই উচ্ছাসে ভাসলেন নাযীর আহমাদ। নাতিকে ছুঁতে পেরেই যেন উনাদের সব কষ্ট উবে গেলো। দু'জনেই অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে আর নাতিকে আদর দিচ্ছেন। কিন্তু এত আদর তাইফ সোনার সহ্য হলো না।সে নিজের চিরায়িত নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল মাথায় তুললো নিজের কন্ঠ দিয়ে।গলা ফাটিয়ে চিৎকার আর ভ্যা ভ্যা সবাইকে ব্যস্ত করে তুললো। অবশেষে সালাহ‌ই বেরিয়ে গেলো ভাগ্নেকে ঠান্ডা করতে। সঙ্গে গেলো নাবীহা,নাইফ।


মুরুব্বিরা আলাপে মজে গেলেন,আর আফিয়া রুকাইয়ার সহযোগিতা নিয়ে সবার জন্য খাবার,সবার বলতে নাযীর আহমাদ, সালমা ফাওযিয়া,রুকাইয়াহ আর অন্য আয়ার জন্য খাবার বাড়তে থাকলো। নাসিফ গেলো একজন ডাক্তারের সাথে কথা বলতে।মেয়ের হাত নিয়ে সে ভীষন চিন্তিত। একবার ভালো একজন ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া অবশ্যই জরুরি।


“ কোথায় গেলেন? একটু তাড়াতাড়ি আসেন?"


আফিয়া ফোন করে নাসিফকে ডাকলো।নাসিফ তাড়াতাড়ি আসলো।


“ আম্মাকে একটু উঠিয়ে বসান। আমার ভয় করছে, কোথাও যদি ব্যথা পায়।"


“ না তোমাকে তুলতে হবে না।আমি করছি।"


যেহেতু একা নড়াচড়া নিষেধ তাই তাকে সম্পূর্ণ ধরেই বসাতে হবে যা আফিয়ার জন্য একটু কষ্টকর।তাই সে স্বামীর সহযোগিতা নিলো। 

নাসিফ মা'কে বসিয়ে দিয়ে বললো,


“ দাও আমি খাইয়ে দেই।"


“ না আপনি বসেন।আমি‌ই দিচ্ছি.!"


আফিয়া সুন্দর করে শ্বাশুড়ি আম্মাকে খাইয়ে দিলো


খাওয়া দাওয়া শেষ করে মেয়ের জন্য রাত নয়টার এপোয়েন্টমেন্ট নিয়ে নাসিফ বিদায় নিয়ে চলে গেল।একবারে রাতেই আফিয়া সহ বাচ্চাদের নিয়ে বাড়ি ফিরবে। ততক্ষনে সবাই এখানেই আনন্দ করুক। একসাথে থাকলে যেকোন পরিস্থিতিতে আনন্দে থাকা যায়।


চলমান...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ