#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_২১
‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️
সহজ প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।সে আপন গতিতে নিজস্ব উদ্যোগে এগিয়ে চলে বিনা বাধায়।তাকে আটকানোর ক্ষমতা পরম করুণাময় ছাড়া কারো নেই। কিন্তু তিনিই তো সময়! আমরা বহু সময় বহু কারণেই শ্রাব্য-অশ্রাব্য বাক্য ব্যয়ে অপমানিত করে থাকি অতি মূল্যবান সময়কে! কিন্তু হাদিসের পাতায় উল্লেখিত রয়েছে সময়কে গালি না দেওয়ার বিশেষ বার্তা।কারণ কাল,সময়, মুহূর্ত সবকিছুই স্বয়ং সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিশালী রাব্বে কারীম,দোজাহানের বাদশা, আপনার আমার মালিক,মহান করুনাময় ক্ষমাশীল পরম দয়ালু আল্লাহ। তিনি নিজেই কাল নিজেই সময়।তাকে গালি দেওয়ার মতো ক্ষমার অযোগ্য পাপ কাজ, নাফরমানি,কাফেরতা করি কিভাবে আমরা? আমাদের দিলে কি মৃত্যু ভয় নেই? নাকি উবে গেছে সকল জান্নাত জাহান্নামের ভয়! আমাদের অন্তর কি শীলায় আচ্ছাদিত ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে গেছে।কোন কলুশতায় আজ আমরা এতটা দিকভ্রষ্ট! কিসের তাগিদে আমরা আজ এত লাগামহীন! কে আমাদের রক্ষা করবে রোজহাসরে এক রব ছাড়া? নিশ্চয়ই তিনি এক ও অদ্বিতীয়,কেউ নেই তার সমকক্ষ কিংবা তার মতো দয়ালু।
[আর যেহেতু সময় আল্লাহর নির্দেশক্রমে আবর্তিত হয় তাই সময়কে গালি দেওয়া আল্লাহকে গালি দেওয়ার নামান্তর। আর আল্লাহকে গালি দেওয়া মানে তাকে কষ্ট দেওয়া। সুতরাং তা হারাম।
❑ বহু হাদিসে সময়কে গালমন্দ করতে নিষেধ করা হয়েছে। যেমন:
◆ ১. আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
لاَ تَسُبُّوا الدَّهْرَ فَإِنَّ اللهَ هُوَ الدَّهْرُ
“তোমরা সময়কে গালমন্দ করো না। কারণ আল্লাহই সময়।” [সহিহ মুসলিম, হা/৬০০৩]
◆ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন,
قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَسُبُّ ابْنُ آدَمَ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ بِيَدِيَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ
“আল্লাহ তাআলা বলেন (হাদিসে কুদসি), আদম সন্তান সময়কে গালমন্দ করে। অথচ আমি তো সময়। আমার হাতেই রাত ও দিন (এর বিবর্তন সাধিত হয়)।” [মুসলিম, হা/৬০০৩]
◆ ৩. হাদিসে কুদসিতে আরও বর্ণিত হয়েছে,
قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ يَسُبُّ الدَّهْرَ وَأَنَا الدَّهْرُ أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ
“আল্লাহ বলেছেন, আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়। সে সময়কে গালি দেয় অথচ আমিই তো সময়। আমি রাত-দিন আমিই আবর্তিত করে থাকি।” [সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ৪২/ শব্দচয়ন ও শব্দ প্রয়োগে শিষ্টাচার, পরিচ্ছেদ: ১. সময় ও কালকে গালমন্দ করা নিষিদ্ধ]
◆ এর দিন-রাতের পরিবর্তন প্রসঙ্গে একমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন বিষয়। মহাগ্রন্থ কুরআনে আল্লাহ তাআলা এ প্রসঙ্গে বলেন,
يُقَلِّبُ اللَّهُ الَّيْلَ وَالنَّهَارَ ۚ إِنَّ فِى ذٰلِكَ لَعِبْرَةً لِّأُولِى الْأَبْصٰرِ
“আল্লাহ রাত ও দিনের আবর্তন ঘটান। নিশ্চয় এতে শিক্ষা রয়েছে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য।” [সূরা নূর: ৪৪]
তাফসিরে বিন সাদিতে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, “অর্থাৎ তিনি (আল্লাহ) ঠাণ্ডা থেকে গরম, আবার গরম থেকে ঠাণ্ডা, দিন থেকে রাত আবার রাত থেকে দিন তিনিই পরিবর্তন করেন। অনুরূপভাবে তিনিই বান্দাদের মধ্যে দিনগুলো ঘুরিয়ে আনেন। যারা সত্যিকার বান্দা, বুদ্ধি ও বিবেকবান, তারা এগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিয়ে এগুলো কেন সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা সহজেই বুঝতে পারে। কিন্তু তারা ব্যতিক্রম, যারা পশুদের মত এগুলোর দিকে তাকায়।” [তাফসিরে সাদী]
আর তাফসিরে আহসানুল বয়ানে বলা হয়েছে, “আল্লাহ তাআলা কখনো দিন বড়, রাত ছোট, আবার কখনো এর বিপরীত করে থাকেন। অথবা কখনো দিনের উজ্জ্বলতাকে কালো মেঘের (ছায়ায়) অন্ধকার দিয়ে এবং রাতের অন্ধকারকে চাদের জ্যোৎস্না দিয়ে বদলে দেন।”
◍ জাহেলি যুগের আরব মুশরিকরা সময় সম্পর্কে বিরূপ কথা বলত এবং সময়কে গালমন্দ করত। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, শুধু সময়ই তাদেরকে মৃত্যু দেয়:
◆ মহান আল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন,
وَقَالُوا مَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ ۚ وَمَا لَهُم بِذَٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ
“তারা (কা ফের-মুশ রিকরা) বলে, শুধু পার্থিব জীবনই আমাদের জীবন। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। সময় ছাড়া অন্যকিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে।” [সূরা জাসিয়া: ২৪
অর্থাৎ তাদের বিশ্বাস ছিল, রাত-দিনের বিবর্তনে মানুষের বয়স শেষ হয়ে গেলে মানুষ এক সময় মরে যায়। অর্থাৎ মানুষের মৃত্যুর পেছনে একমাত্র অনুঘটক হল, সময়। আল্লাহ মানুষের জীবন-মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করে না, মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বা আখিরাত বলেও কিছু নেই। কিন্তু তা তাদের ভ্রান্ত ধারণা ছাড়া অন্য কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে সময়ের নিজস্ব কোনও শক্তি নেই। সে কারও উপকার করতে পারে না, কোনও ক্ষতি করতে পারে না। বরং এ বিশ্ব চরাচরের নিয়ন্ত্রণ, সময়ের এ গতিধারার নিয়ন্ত্রণ, মানুষে জীবন, মৃত্যু সব কিছু আল্লাহর হাতে ন্যস্ত। জীবনের উত্থান-পতন, ভালো-মন্দ যা কিছু ঘটে সবই আল্লাহর আওতাধীন।
❑ সময়ের অবস্থা বর্ণনা করা জায়েজ; গালমন্দ করা জায়েজ নয়:
আনাস ইবনে মালিক রা. এর নিকট হাজ্জাজ কর্তৃক মানুষ যে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করা হলে তিনি বললেন,
اصْبِرُوا؛ فإنَّه لا يَأْتي علَيْكُم زَمَانٌ إلَّا الذي بَعْدَهُ شَرٌّ منه، حتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ. سَمِعْتُهُ مِن نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عليه وسلَّمَ
“ধৈর্য ধর। কেননা, মহান প্রতিপালকের সাথে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে) তোমাদের উপর এমন কোন যুগ অতীত হবে না, যার পরের যুগ তার চেয়েও বেশি খারাপ নয়। তিনি বলেন, এ কথাটি আমি তোমাদের নবী থেকে শুনেছি।” [সহিহুল বুখারি]
আল্লাহ তাআলা বলেন,
هَٰذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ
“আজ অত্যন্ত কঠিন দিন।” [সূরা হুদ: ৭৭]
তিনি আরও আরও বলেন,
إِنَّا أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِي يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ
“নিঃসন্দেহে আমরা তাদের উপরে এক চরম দুর্ভাগ্যের দিনে পাঠিয়েছিলাম এক প্রচণ্ড ঝড়-তুফান।” [সূরা কামার: ১৯]
❑ আল্লামা বিন বায রাহ. বলেন,
فلا يجوز للمسلم أن يسبَّ الدهر، ولكن يُجاهد نفسه في طاعة الله ورسوله، وترك ما نهى الله عنه ورسوله، فما أصابه من الأذى هو بأسباب أعماله السيئة، لا بأسباب الدهر، الدهر ما له تصرُّفٌ، لكن وصفه بالشدة لا يضرُّ، يقول: هذا زمان شديد، أو هذا زمان حارٌّ أو بارد، ما يضرُّ هذا.
“অত:এব কোনও মুসলিমের জন্য সময়কে গালি দেওয়া জায়েজ নাই। বরং তার কর্তব্য, আল্লাহর ও রসুলের আনুগত্যের ক্ষেত্রে প্রচুর চেষ্টা-সাধনা করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রসুল যা নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকা। সে যে সব কষ্ট-শ্লেষের সম্মুখীন হয় তা তার অপকর্মের কারণে; সময়ের কারণে নয়। সময়ের নিজস্ব কোনও কর্মক্ষমতা নেই। তবে সময়কে কঠিন বলায় সমস্যা নেই। যেমন: মানুষ বলে, সময়টা কঠিন বা সময়টা গরম বা ঠাণ্ডা। এতে কোনও ক্ষতি নেই।”
মোটকথা, সময় এবং কাল-মহাকাল মহান অধিপতি এক আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। তার নিজস্ব কোনও শক্তি বা ইচ্ছা-অনিচ্ছা নেই। সময়ের প্রভাবে কারও কোনও উপকার বা ক্ষতি হয় না আল্লাহর হুকুম ছাড়া। তাই সময়কে গালমন্দ করা মানে আল্লাহকে গালমন্দ করা ও তাকে কষ্ট দেওয়ার নামান্তর। তাই তাওহিদপন্থী মুসলিমের জন্য আবশ্যক হল, কথাবার্তায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা, জীবনে কোনও বিপদাপদ নেমে এলে সে জন্য সময়কে দোষারোপ না করা বরং এ ক্ষেত্রে বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, জীবনে ভালো-মন্দ যা কিছু ঘটুক সবই আল্লাহ নির্ধারিত তকদিরের আলোকেই ঘটে থাকে। এ বিশ্বাস ইমানের ৬টি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। আল্লাহ আমাদেরকে তাওহিদ বিরোধী বিশ্বাস ও কথা ও কর্ম থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
▬▬▬▬✿◈✿▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল।
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সৌদি আরব।] তথ্যসূত্র - গুগল।
সময়ের আবহেই কেটে গেছে অনেকগুলো দিন।দিন পেরিয়ে সপ্তাহ, সপ্তাহ পেরিয়ে মাস! তার সাথে সম্পর্কের মধ্যে এসেছে ঘনত্বের আবহ।জুড়েছে এক অপরের সাথে নিখুঁত ভাবে। কোথাও কোথাও হচ্ছে স্বচ্ছতার জানান,কেউ কেউ মিশছে নিজস্বতায়।
সংসার জীবনে আফিয়ার আজ প্রায় তিন মাসেরও অধিক সময় পেরিয়ে গেল।সেই রোজার পর ঈদ,ঈদের পর দুটো মাসের নানা পারিবারিক ব্যস্ততা,একে অপরের বোঝার সুবিধার্থে একান্ত সময়ের তাগিদে মধুচন্দ্রিমা যদিও তা ব্যাবসায়িক সফর বলেই আজও সকলের জানা তবুও! দিনশেষে দুজনের মাঝে তৈরী হওয়া মধুরতার রেশ এখনো অমলিন আর সতেজ।সুখ সুখ অনুভবে আফিয়ার যেন প্রাণওষ্ঠাগত।এত সুখ যে কখনো সখনো মনে হয় একটু আধটু দুঃখ থাকা ভীষন জরুরি নয়তো সুখের সুখ গায়ে লাগবে কি করে? মন তো সুখেই ডুবে গেছে সে আবার নতুন করে ডোবার মজা বুঝবে কি করে!
তাই বোধহয় খুব করে এক পশলা দুঃখ চায়,যাতে প্রাণপ্রিয়কে নিয়ে এক ছটা বেলা কাটবে দুঃখ বিলাস করে।দুঃখ জলা ডোবায় ছলাৎ ছলাৎ করে নাচবে দু'জনে কিন্তু রবের যে তার প্রতি বড়ই মহিমা তাইতো সুখই তার জন্য বরাদ্দ।
“ আফিয়া!"
মধুর ডাকে ঘোর থেকে বেরিয়ে এলো আফিয়া। বারান্দার মানিপ্ল্যান্ট গাছের পাতায় মুখ ডুবিয়ে কচি পাতার ঘ্রাণ নিতে নিতে নিজের সুখের অনুভুতি ভাগ করছিলো আর নানান কল্পনার গল্প সাজাচ্ছিলো। তখনই ঘরের থেকে ভেসে এলো নাসিফের ভরাট কন্ঠে প্রেম ঢালা ডাক।নাসিফ যেন চোখে হারায় আফিয়াকে আর আফিয়া চোখে হারায় নাসিফের সন্তানদের।তারাই আফিয়ার সব,এই ঘর ,এই সংসার সব,সব কিছু্ই এখন তার। তাদের ছাড়া আফিয়া আর আফিয়াকে ছাড়া তারা! ভাবাই যায় না।
“ এভাবেই থাকবে? একটু অন্তত গোছগাছ হও! উনারা চলে আসবে বলে!"
আফিয়ার গাছটার ডাল ছেড়ে অন্য একটা গাছের ডাল সুন্দর করে সুতার বেরিতে আঁটকে দিয়ে নাসিফের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো,
“ আমি উনাদের সামনে যাবো? আমার কেমন জানি লাগছে; মনে হচ্ছে আমার না যাওয়াই উত্তম!উনারা উনাদের নাতী নাতনির সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন তাই করুক,অযথা আমি গিয়ে..
“ হয়েছে? যথেষ্ট বুদ্ধি খরচ করেছো।আর করো না। এমনিতেই চুল সব পড়ে যাচ্ছে তোমার; এরমধ্যে এত প্রেসার নিলে তো সব একবারেই জড়ে পড়বে!"
নাসিফের টিটকারিতে আফিয়ার মুখটা চুপসে গেলো। সবচেয়ে দূর্বল জায়গায় আঘাত করে সবসময়। নিজের হাত দুটো পেছনে নিজের কোমরের সাথে এটে দুহাতের মধ্যে কচলাকচলির যুদ্ধ চালাতে থাকলো।নাসিফ বাহু ধরে কাছে টেনে নিয়ে বললো,
“ শোন বোকা নারী! তুমি আমার স্ত্রী, সহধর্মিণী। আল্লাহর কালাম পাঠ করে তার পবিত্র ঘর মসজিদে বসে তার এক মসজিদ ভর্তি বান্দাকে সাক্ষী রেখে, ফেরেশতাদের সাক্ষী রেখে তোমাকে কবুল করেছি,বিয়ে করেছি! লুকিয়ে রাখার জন্য নয়। অন্তত কে পছন্দ করলো কে করলো না তার জন্য তো নয়ই!আর উনাদের খামখেয়ালিপনায় তো একদমই আমি তাল মেলাবো না।উনারা তোমাকে কেন? কাউকেই পছন্দ করবে না।কারণ উনারা চানই নাই আমি কখনো দ্বিতীয় বার বিয়ে করি। অবশ্য করলেও যদি তাদের তালাকপ্রাপ্তা ভাগ্নিকে করতাম যেটা উনারা চেয়েছিলেন তাহলে অবশ্যই নাচতে নাচতে মেনে নিতেন।সো, তাদের কথা মাথায় নিয়ে তুমি নিজের ঘরে লুকিয়ে থাকবে কেন? তুমি কি কোন অন্যায় করেছো?"
আফিয়া নাসিফের কথার উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে বললো,
“ আচ্ছা আপনি তাহলে ঐ মহিলাকে কেন বিয়ে করেন নাই? না মানে আমি যতদূর শুনেছিলাম উনিও অসুস্থ মানে উনিও সন্তান জন্ম দিতে পারবে না। অনেকগুলো বছরের সংসার, বাচ্চা না হওয়া উনার স্বামী উনাকে লুকিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছিলেন যা উনি জানতেন না। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই উনার স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রী একদম জমজ দুটো বাচ্চা সহ বাড়ি এসে উঠে এরপরই নাকি তালাক হয়ে গিয়েছিল উনাদের তাহলে এমন একজনকে তো আপনি অনায়াসেই বিয়ে করতে পারতেন সত্যি বলতে এটা কিন্তু খুবই ফজিলতপূর্ণ কাজ হতো তাই না! তাহলে কেন করলেন না?"
“ হ্যা ঐটাকে বিয়ে করে আমি আমার বাচ্চাদের জন্য বিষফোঁড়া ঘরে তুলে আনতাম!"
“ মানে! বিষফোঁড়া কেন হবে? উনি ওদের খালা! ..
আফিয়া দেখলো নাসিফের চোখ লাল হয়ে উঠেছে,তার যে রাগ চড়ছে সেটা চোখ দেখেই বুঝতে পারছে আফিয়া তাই শান্ত করতে বললো,
“ দেখেন রাগ কইরেন না।আমি তো শুধু জানার উদ্দেশ্যে বলছি,উনি ওদের খালা,আর আমাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কিন্তু মায়ের স্থান মায়ের অবর্তমানে খালা নিতে পারে! বিয়ে করে নিলে এটা আরো উত্তম।আর আপনি যথেষ্ট ধর্ম কর্ম মেনে চলেন সুতরাং আমি তো কোন কারণ দেখি না!"
“ ঐ মহিলার তালাক কেন হয়েছে শোনোনি?"
“ শুনেছিলাম তো।ঐ সতিনে সতিনে মেলেনি,তাই তালাক দিয়ে দিলো।এখন দ্বিতীয় বউকে তো আর দিবে না,সে তো তার সন্তানের মা।আর বড়জন তো কোন কাজের না তাদের ভাষ্যমতে সো তাকেই বিতাড়িত করবে এটাই তো হচ্ছে, সচরাচর; তাই না,সো এখানে..
“ বিষ খাইয়ে ছিলো!"
“ মানে?"
আফিয়া চমকে গেল হঠাৎ এমন কথায়। বিস্ফোরিত চোখে চেয়ে নিজের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে,নাসিফ তেতো মুখে বললো,
“ হ্যা। সতিনের বাচ্চাকে কে আর আপন করে বলো? যতই হোক বন্ধ্যা কিংবা অক্ষম! হিংসে করতে তো আর দোষ নেই।তাই হিংসে করেই বিষ খাইয়ে ছিলো।"
“ কাকে? ঐ ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের?"
“ নাহ্।দুটো অবধি সয়েছিলো।জমজ দুই বাচ্চা নিয়ে ঐ ভদ্র মহিলা যখন ঘরে এসে উঠলো তখনও দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে নিয়েছিল কিন্তু বিপত্তি বাধলো তখন যখন শুনলো ভদ্র মহিলা আবারো গর্ভবতী এবং তার পেটে চার মাসের এক বাচ্চা আছে। এবং এর জন্যই ঐ স্ত্রী বাড়ি এসে উঠেছে সেই বিষয়টি কোনমতেই তার হজম হলো না।তাই সে সবচেয়ে জঘন্য একটি কাজ করে বসলো।সাড়ে চার মাসের গর্ভবতী নারীকে বিষ খাইয়ে দিলো। আল্লাহর রহমতে মহিলা বেঁচে ফিরলেও বাচ্চাটা পারেনি। এরপরেই ভদ্রলোক সিদ্ধান্ত নিলেন বিবাহ বিচ্ছেদের।যদিও উনার পরিবার আইনি জটিলতায় যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু আমিরা খালার আকুতিতে তা আর করেনি। শুধু তালাক দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন।"
“ কিসব বলছেন? এগুলো সত্যি!"
“ তো তোমার কি মনে হচ্ছে আমি তোমার সাথে গল্প করছি এই সময়ে!"
“ তাই বলে এত বড় দুঃসাহস! একটুও কি অন্তর কাঁপে নাই!"
“ এমন ভয়ানক মহিলাদের কিছুই কাঁপে না।"
“ ইয়া আল্লাহ আমার তো শুনেই কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে! একটা অপরিণত শিশুর সাথে এমন জঘন্য ছিহ!"
“ এখন ছিহ্ করছো কেন? তোমার কি মনে হয় আমি এমন মহিলাকে ঘরে এনে আমার বাচ্চাদের জীবন রিস্কে ফেলতাম!"
“ অসম্ভব,এটা তো কেউই করবে না!"
“ কিন্তু উনারা তাও চাইছিলেন। উনারা মনেপ্রাণে চাইছিলেন এমন ভয়ানক মহিলাকে বিয়ে করে আমি যেন তার দায়িত্ব নেই,আমার বাচ্চাদের দায়িত্ব দেই। উনাদের দাবী হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।এটাতে রাজী হইনি।তাই বলেছেন তাদের নাতী নাতনির যেন কোন ক্ষতি কখনোই আমার দ্বারা না হয়।আর আমি যেন দ্বিতীয় বিয়ে না করি। দ্বিতীয় বিয়ে করলে তারা আমার বাচ্চাদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেবে!যদি তাও সম্ভব না হয় তবে কখনোই আমার বাচ্চাদের সাথে আমার দ্বিতীয় পরিবারের সম্পর্ক রাখতে দিবে না।বুঝেছো তুমি উনারা কেমন মানুষ? কেন এতদিনেও তোমাকে দেখতে আসেনি! তবে এতদিন আসেনি তাতে আমার চিন্তা নেই, কিন্তু আজ কেন আসছে তা নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত ।যদি মনের ভুলেও আমার বাচ্চাদের মনে কোন নোংরামো ছড়ায় তবে আমি ভুলেই যাবো যে উনারা আমার কিছু হয়! উনাদের সাথে আদৌও আমার কোন সম্পর্ক আছে,অথবা ছিলো! আমিরার মা বাবা বলেই যে তাদের সব অন্যায় আবদার মেনে নিবো তা ভাবলে উনারা চুড়ান্ত ভুল করবে!"
“ উনারা কি আজ বাচ্চাদের শিখিয়ে দিবে আমার সাথে না মিশতে! নাকি নিয়ে যাবে!"
“ এমন কিছুই উনারা করবেন না।করার সাহসও পাবে না। তাছাড়াও বাচ্চারা তোমাকে যথেষ্ট ভালোবাসে, ওদের অস্থিমজ্জায় ঢুকে গেছে যে তুমিই ওদের মা।আর বাচ্চাদের মনে মস্তিষ্কে যা একবার ঢুকে যায় তা সহজে কেউ বের করতে পারে না সুতরাং তুমি নিশ্চিত থাকো। ইনশাআল্লাহ আমি তোমার পাশে আছি। আল্লাহর উপর ভরসা রাখো আর নিজের স্বামীকে বিশ্বাস করো।
_এখন চলো"
নাসিফ কথা শেষ করেই আফিয়ার হাত ধরে টেনে এনে আলমিরার সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর নিজেই আলমিরা খুলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী একটি সুন্দর জামদানি শাড়ী বের করে আফিয়ার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে ,
“ এটা পড়ো।"
“ উনাদের সামনে শাড়ী পড়ে যাবো? "
“ হ্যা যাবে। সমস্যা হবে না।নাইফের নানু ভেতর ঘরে ঢুকে না। তিনি আব্বার সাথে বসার ঘরেই কথা বলে সবসময়।আমিরা চলে যাওয়ার পর তো একেবারেই ভেতরে আসে না।"
“ মেয়ের কথা মনে পড়ে যায়।"
“ হ্যা! যাই হোক তুমি রেডি হও! আমি বাইরে থেকে আসছি।"
বলেই নাসিফ চলে গেলো।আফিয়া ভাবতে থাকলো আজকে তার উপরে কি কি প্রবাহিত হবে!
চলমান.....
দুঃখিত দেরি করে দেওয়ার জন্য।
হ্যাপি রিডিং ডিয়ার রিডার্স।।।







0 মন্তব্যসমূহ