#পুনরাবৃত্তি
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
পিছনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে মাইদা, দৃষ্টি তার দুর জঙ্গলে নির্লিপ্ত ভাবে শুয়ে থাকা কবরের বাসিন্দার প্রতি!
ভয়ংকর ঝড় বৃষ্টির সাথে প্রবল বাতাসের গতিবেগ যেন তাকে টলাতে ব্যর্থ! এত বৃষ্টি যে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে আনছে তা অনেকেই বলে! ছোট থেকেই তো শুনে আসছে হেমন্ত কালে এরকম ঝড় বৃষ্টির মানেই হলো ঐ বছর প্রবল শীতের আগমন! এখনও কি হেমন্ত কাল রয়েছে? হ্যা আছে তো এই তো কয়েক টা দিন তারপর ই শুরু শীত কাল! হেমন্ত কে নিজের জন্য জায়গা ছাড়ার হুমকি দিতেই হয়তো বৃষ্টির জলে নিজের হিমেল হাওয়া জুড়ে দিয়েছে !
এই হিমেল হাওয়া নির্ঘাত কিশোরী মনে নতুন দিনের দোলা দেয় আর তাই তো বসন্তের দিনে তা প্রেমের গল্প হয়ে বহিঃপ্রকাশ ঘটায়!ঠিক তেমনি নবদম্পতির মনে থাকে প্রেমের অনুভূতি, সুড়সুড়ি দেয় নতুন কিছু ভালো লাগা; সদ্য যৌবনে পদার্পণ করা কিশোর কিশোরীদের মধ্যে উদ্ভব হয় অনুভূতির বীজ, তৈরি হয় ষড় ঋতুর মতোই রঙিন স্বপ্ন!
আবার নিশ্চুপ নিরব কান্নার ও কারন হয়ে উঠে কারো জন্য! যেমনি কাউকে নতুন স্বপ্নে বিভোর করে ঠিক তেমনি স্বপ্ন ভাঙ্গার দহনে'ও জ্বালায় !
ভেতর ঘরে থেকে ভেসে আসছে নর নারীর সুখ আর্তনাদ! এই ভয়াল ঝড়ে বৃক্ষরাজি'র নিজ স্থান বিচ্যুত হওয়ার তান্ডব ও তাদের এই সুখ আর্তনাদের ভেসে আসা বন্ধ করতে ব্যর্থ! আর তাই তো না চাইতেও নিজ বুকের কম্পন থামাতে ব্যর্থ হয় বারবার মাইদা! চাঁপা তবুও নিরব কান্নার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় অশ্রু ধারা,যা বারন সত্ত্বে নির্গত হয় অবিরত! মন বারবার গেয়ে উঠে এটা তো হওয়ার ই ছিলো! ' যা তুমি অন্যকে দিবে তা তুমি একদিন ঠিকই পাবে; হয়তো আগে কিংবা খনিক পরে! পৃথিবীতে সব কিছুই পুনরাবৃত্তি ঘটে,নিজ গুনে চক্রাকারে ফিরে আসে নিজের স্থানে! পৃথিবী টা তো গোল! তার মিলন যে নিশ্চিত!
ভয়াল রাতের এই ভয়ংকর তান্ডব ও তার ই প্রমান, সেদিন রাতেও তো এরকম ঝড় বৃষ্টি ছিলো যেদিন সে নিজের বিশ্বাসের ভঙ্গ করেছিলো! করেছিল কারো জীবনের পথ রোধ, নিভিয়ে দিয়েছিলো কারো জীবন প্রদীপ! খনিকের সুখের তাড়নায় বিশ্বাস নামক বিশাল শব্দ কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে হেসেছি-লো বিজয়ের হাসি!
আচ্ছা দুর থেকে ঐ কবরবাসী কি আজ হাসছে তাকে দেখে? কি বলছে? এইতো ! সুখ খুঁজেছিলে আমায় বিহীন!পেলে? কোথায় তোমার সেই সুখের প্রদীপ! হুহ্! ভেঙ্গে ছিলে বিশ্বাস, কেড়ে নিলে নিঃশ্বাস! তাতে কি তুমি খুব সুখী! ভুলে কেন যাও কাউকে ঠকিয়ে কেউ সুখী হয় না! কারো বিশ্বাস,অস্তিত্ব বিলিন করলেই তার অভিশাপ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যায় না! তোমায় দিয়েছিলাম বুকে ঠাই,আর তুমি সেই বুকেই পা দিয়ে বলেছিলে চাই না তোমার এই অনুগ্রহ, দরকার নেই এই বুক নামক ঘরের! খুঁজে নিবো তোমায় ছাড়া সুখের নীড় যেথা থাকবো নিজের মতো সাজিয়ে একার পৃথিবী!
আচ্ছা তুমি কি জানতে না ,কারো বিশ্বাস ভঙ্গের যন্ত্রনা কেমন? হয়তো জানতে না ! আর তাই তো স্বয়ং উপর ওয়ালা তোমাকে উপলব্ধি করালো সেই যন্ত্রনার প্রকোপ'তা! যা তুমি দিয়েছিলে আমাকে আমার নিজ লোকের সাথে মিলে!দেখো যার জন্য আজ আমাকে বিলিন করলে আজ সেই তোমাকে তোমার হাতে বিলিন করলো! কারো সুখে কেউ যেমন সুখী অনুভব করে না ঠিক তেমনি কারো দুঃখেও কেউ তেমন সুখ অনুভব করে না! কিন্তু আমি তো তোমাকে আপন ভেবেই জায়গা দিয়েছিলাম মন মসজিদে তার সাথে সংসার নামক পৃথিবীতে,আর তুমি কি করলে? আমার সেই সাজানো পৃথিবী থেকে আমাকেই বিতাড়িত করলে!
আজ দেখো কেমন লাগে যখন অন্য কেউ গোছানো পৃথিবী এলোমেলো করে দেয়?তোমরা তো এত নিষ্ঠুর, তোমাদের শরীরের ক্ষুধা এতই বেশি ছিলো আমার ভেতরে লালিত ছোট জীবন টাকে মাটি চাপা দিয়ে দিলে! কেন! আমি তো তোমাদের বিশ্বাস করেছিলাম! তবে কেন করলে এমনটা?
চিন্তা করো না! কেউ কারো পাপ থেকে ছাড়া পায় না! কারন উপরওয়ালা ছাড় দেন তবে ছেড়ে দেন না!সবাই তার প্রাপ্য পাবে! সে ও পাবে! যে কিনা বিশ্বাসের সংসারে লালসার আগুন জ্বালিয়ে ছিলো!যে কিনা নরম মাংস পিন্ডে এতটাই লোলুপ হয়ে ছিলো যে নিজ হাতে নিজ ভ্রুন কে হত্যা করতে ও কার্পন্য করেনি! তার বিচার ও হবে সঙ্গে তোমার!
মাইদা যেনো কবরবাসী'র কথায় অনুভব করলো নিজ কৃত কর্মের ফল কতটা পিড়া-দায়ক ছিলো! মনে মনে কল্পনা করলো,এমনই এক ঝড় রাতে ঠাই হয়েছিলো ঐ কবরের বাসিন্দার দুয়ারে!যে কিনা পরম আদরে আগলে নিয়েছিলো বুক নামক পবিত্র মসজিদে! পবিত্র! হ্যা পবিত্র ই তো ছিলো সে! আর তাই তো কোন দ্বিধা ছাড়াই নিজ গৃহের সমস্ত দায়িত্ব দিয়েছিলো বিশ্বাসের সাথে! কিন্তু সে হয়তো কল্পনায় ও ছিলো অসীম উদার আর তাই হয়তো কল্পনায় ও কখনো ভাবেনি যাকে সে বিশ্বাস করে নিজ গৃহের দায়িত্ব দিলো সেই একদিন তাকে শুধু গৃহ নয় এই পৃথিবীর সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিবে,করে নিবে আত্মসাৎ!
আচ্ছা সে কি জানতো না! জানতো! আর তাই তো তার চাঁপা আর্তনাদ ভেসে আসতো ঠিক এভাবেই কিন্তু তখন সে ছিলো অবিচল! নিজ স্বার্থে করেছিলো অ-দেখা'র মতো আচরন! বিশ্বাস ভরসার উপর আগুন দিয়ে পুড়েছি'লো সেই রমনীর সুখের বাগান,আর সেই ছাইয়ের উপর গড়েছি'লো মিথ্যা ভালোবাসার সংসার! তাতে হলো কি? সেই তো নিভে যাওয়া ছাই এখন তুষের আগুন হয়ে তার মিথ্যা ভালোবাসার সংসার জ্বালিয়ে দিলো পার্থক্য শুধু সেই রমনী সব বুঝেও চুপ ছিলো, শুধু একটু বাঁচার আশায়; হয়তো তার মাঝেই বেড়ে উঠা ছোট জীবনটাকে এই সুন্দর পৃথিবীর কিছু নিষ্ঠুর স্বার্থপর, বেঈমান মানুষের সাথে পরিচিত করানোর জন্য ! কিন্তু সেই সময়'টাও তারা দেয়নি! এর জন্য ই বিধাতা কিছু বোঝার আগেই তার জন্য একই পদ্ধতি অবলম্বন করলো! পার্থক্য রমনীর দুঃখে কেঁদেছিলো ধাত্রী আর তার দুঃখে কেবল সে একাই!







0 মন্তব্যসমূহ