#উদোর_পিন্ডি_বুধোর_ঘাড়ে
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
-আশ্চর্যের বিষয়! প্রতি সপ্তাহে অন্তত চারদিন কোন না কোন অঙ্গ চুরি হচ্ছে! এসব হচ্ছে টা কি?
সিনিয়রের ধমকে অনেকেই কেঁপে উঠলো! কিন্তু প্রত্যুত্তর না করে মাথা নুইয়ে রেখে তাদের অক্ষমতার জানান দিলো!
- বুঝতে পেরেছি সিনিয়র অফিসারদের সাহায্য নিতে হবে!তবে হ্যা আমি যদি ক্ষুনাক্ষরে'ও জানতে পারি এই রকম নোংরা ঘটনার সাথে হসপিটালের কোন ষ্টাফ অথবা ডাক্তার নার্স জড়িত তাহলে বলে দিচ্ছি তার অবস্থা খুবই করুণ হবে!
হাসপাতালে পা দিয়েই বুঝতে পারলাম আজকে পরিস্থিতি খুব একটা স্বাভাবিক নয়; তাতে আমার কি? আমি খুবই ছোট একজন মানুষ তারচেয়ে ও ছোট আমার পজিশন! এই হাসপাতালে আছি প্রায় বছর এক হবে! ছোটখাটো পজিশনে আছি! তবে সম্মানের দিক দিয়ে অনেক বড়! ইদানিং হাসপাতালের প্রধান সমস্যা হলো বিভিন্ন দিনে বিভিন্ন অঙ্গ মানে মৃত মানুষের অঙ্গ এই ধরেন কিডনি,চোখ,কলিজা কিংবা হার্ট চুরি হয়ে যাচ্ছে! প্রথম দিকে বিষয়টা কারো দৃষ্টি গোচর না হলেও বেশ কয়েকদিন হবে হয়তো মাস এক ধরে সবারই নজরে পড়েছে! তার কারণ ও আছে! এক মৃত লাশের জন্য তার পরিবার একদম হইহল্লা শুরু করেছিলো আর তখনই হলো সারে সর্বনাশ!
আজ হাসপাতালে আসার পথেই কতৃপক্ষের বার্তা আসে মুঠোফোনে আর তাতেই ছিলো আমার উদ্দেশ্যে কিছু নির্দেশনা যার কিছুটা ঝাড়লাম উপরের লাইনে!
সপ্তাহ এক খাটাখাটুনির পর আজ সন্ধান মিললো সেই চোরের!
বেশ তোরজোর চলছে তাকে শাস্তি দেওয়ার,আমি ও নিশ্চিত মনে চললাম সেই উদ্দেশ্যে!
ডোম'দের বেজায় প্যাদানি দেয়া হয়েছে! কারন ধারনা এই চুরির মূল হোতা এই ডোমে'রাই! মৃত লাশের কাছাকাছি ওরা'ই থাকে তাই হয়তো! এছাড়া আমাদের সমাজ তো নরম পেলেই খড়ম ভাঙ্গতে প্রস্তত হয়! হাসপাতালে সবচেয়ে নরম মানে দুঃস্থ পজিশনে থাকে একমাত্র ডোমে'রাই! সুতরাং এক্ষেত্রে ও ঐ প্রবাদ মিথ্যা হওয়ার সুযোগ নেই!
লাশ কাটা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে সবাই আশ্চর্য হতবাক! একজন অতি মাত্রায় পাগল যাকে কিনা বিগত কয়েক বছর যাবত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দেখা যায় তার হাতে একটা মানুষের কলিজা এবং সেটা সে অবলীলায় মুখে ধরে আছে!
আমি পিছনে দাঁড়িয়ে শুধু হাসছিলাম আর মনে মনে ভাবছি,"কাহার দায় কাহার উপর বর্তায়"!
সমাপ্তি 😐







0 মন্তব্যসমূহ