#বিবেক!
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে খুব তাড়াহুড়ো করে ওয়াশ রুমে ঢুকলাম ,সাবান দিয়ে উদাম শরীরকে পরিষ্কার করার জন্য ঘষামাজা দিতেই জ্বলে উঠলো দেহ-খানি; ছ্যাত করে যেন কলিজা'য় মোচড় দিলো!
কোন রকম তাড়াতাড়ি করে নিজেকে পরিষ্কার করে বের হলাম ওয়াশ রুম থেকে! কেবলই মনে হচ্ছে পিছু নিয়েছে কেউ! এখন থেকে নয় সেই তখন থেকে যখন থেকে নিজের বিবেককে বিক্রি করেছি মাত্র কয়েকটা টাকা আর পজিশনের মূল্যে!
ঘরময় পায়চারী করছি; অস্থিরতা শুধু শরীরে নয় মনের গহীনে, আনাচে কানাচে!তার মাঝেই বেড়ে যাচ্ছে ভয়! হ্যা ভয়! কেন অনুভূতি হচ্ছে তখন থেকেই পিছু নিয়েছে কেউ; কিন্তু কই? কাউকে তো দেখা যাচ্ছে না! দৃশ্যমান কেউ তো নয়! তবে কি এটাই আমার বিবেক! যে বারবার জানান দিচ্ছে আমার অপরাধ বোধের কথা?
ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম! আশ্চর্য;ভাবলাম এমনিতে ঘুম আসবে না তাই কড়া ক্ষমতা সম্পন্ন একটা ঘুমের ওষুধ খেলাম কিন্তু তাও কাজ হলো না! ঘুমের মাঝে ও ভেসে উঠলো সেই নিস্প্রভ আঁখি জোড়া যাতে ছিলো সাহায্যের জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা,ছিলো হাজার রকমের অনুরোধের বানী!
এর মধ্যেই কখন যে সকাল হলো বুঝতেই পারলাম না; আজানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে! তাড়াতাড়ি করে উঠে ওযু করে দাঁড়িয়ে পড়লাম রবের সাহায্য পেতে আদৌও রব করবে তো সাহায্য! আচ্ছা যেখানে নিজের বিবেক পিছু ছাড়ছে না সেখানে রব কি ক্ষমা করবে? করতেও পারে; তিনি তো পরম-ক্ষমাশীল সুতরাং আমার এই অপরাধের ক্ষমাও তিনি করতে পারেন!
ফোন দিলাম প্রিয়তমার নাম্বারে,কি ব্যাপার বন্ধ বলছে কেন? আজব এই মেয়ে ফোন কেন বন্ধ রাখছে?কাল থেকে ফোন বন্ধ রাখছে!যাই হোক তার সাথে কথা বলা জরুরী!ফোন দিলাম তার ছোট বোনের নাম্বারে!
ফোন রিসিভ হওয়ার পর ঐ প্রান্ত থেকে যা শুনলাম তাতে মাথায় বাজ পড়ার মতোই অবস্থা হলো আর সেটা হলো আমার প্রাণের প্রিয় মানুষটা গতকাল সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ! সারা রাত তার পরিবার সব জায়গায় খোঁজ নিয়েছে এমনকি আমাকেও ফোন দিয়েছিলো কিন্তু আমি রিসিভ করি নি তাই জানিনা সেই ব্যাপারে!
যাই হোক কাল সে বেরিয়ে ছিলো আমার অফিসের উদ্দেশ্যে! আমি একজন রাজনৈতিক নেতার অধীনে কর্মরত আছি!ড্রাইভার হিসেবে আছি!ড্রাইভার এবং সহকারী একসাথে দুটোই; হিসেবে থাকার দরুন তার ক্লাবেই বেশি সময় কাটে আমার!
কাল রাতে ক্লাবে ছোটখাটো পার্টি ছিলো! আর ইদানিং ক্লাবে পার্টি মানেই হলো নেশা আর মেয়ে মানুষ!আমি এগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা ই করি সবসময়! তবে কাল যেন কি হয়েছিলো? নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নি! কিভাবে করবো? চোখের সামনে অমন কিছু থাকলে আদৌও কোন সত্যি'কারের পুরুষের পক্ষে সম্ভব নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা?
কাল ক্লাবে পার্টির আয়োজনের দায়িত্ব ছিলো আমার উপরেই,তাই ফোনটা সাইলেন্ট মুডে'ই রেখেছিলাম! তাই তো কেউ ফোন দিলেও আমি শুনতে পাই নি! সে যাই হোক যার জন্য এত মেহনত,যাকে আপন করে পাওয়ার জন্য এত কসরত,এত কিছু সে কোথায় গেল! অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি আমি এখনও তার চেহারা পুরোপুরি দেখিনি! যতবার দেখেছি শুধু চোখ আর পর্দার আড়ালে থাকা মুখের অবয়ব দেখেছি! তাহলে এখন খুঁজবো কি করে? ওহ্! মনে পড়ছে! আমি তো আমার মা বাবার কাছেই তার ছবি পাবো! উফস তাদের যদি এই কথা বলি যে যাকে নিয়ে দু'দিন পর ঘর বাধঁবো এখনও তার চেহারাই দেখিনি তাহলে কি একটা অবস্থা হবে!সবাই নিশ্চয়ই হাসবে? না এখন এই মুহূর্তে আপাতত কারো কাছে নিজেকে হাসির পাত্র করার ইচ্ছা নেই! তাছাড়া তাদের কাছে ছবি চাইলে হাজার টা কারন দর্শাতে হবে; তখন না জানি কি কেলেংকারি বাঁধে!
আমার ইচ্ছা ছিলো বিয়ের রাতে বাসর ঘরেই প্রথম বউয়ের মুখ দেখবো তাই তো এত মাস হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে একবার সরাসরি দেখিনি; সেও যতবার আমার সাথে দেখা করতে এসেছে ততবারই নিজেকে পর্দার আড়ালে রেখেছে!
চিন্তা ভাবনায় প্রহর কাটছে পাশাপাশি তাকে খোঁজার পরিকল্পনা এর মধ্যেই ছোট শালিকা ছবি পাঠালো,মেসেজ টোন শুনে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকে ছবি দেখে থমকে গেলাম! কি দেখছি? কাকে দেখছি? এটা কি আসলেই সম্ভব? কিভাবে? এটাই কি তবে আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত?
মনে পড়লো গত রাতের কথা! পার্টির সময় নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা পুরুষদের নারী-সঙ্গ দরকার হয় তখন সেখানে বেশ কিছু মেয়ে আসে! বলা যায় তাদের ভাড়া করে নিয়ে আসা হয়! তবে কাল ছিলো ব্যতিক্রম কিছু!
যখন আমার বস অতিরিক্ত মাতাল হয়ে পড়ে তখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে! কাল ও এমন কিছু হয়েছিল! তাকে সময় দেওয়া মেয়েটা কাল কারন বশত আসতে পারে নি এতে করে বস প্রচন্ড ক্ষেপে যায় এবং তার চ্যালাপ্যালাদের নির্দেশ করে যেখান থেকেই হোক তাকে মেয়ে যদিও উনি অশ্রাব্য ভাষায় (মা*গী) বলেছিলো এনে দিতে! যেভাবেই হোক! ঐ মুহুর্তে উনার ফরমায়েশ পালন করা একরকম ফরজ মনে করে ঐ চ্যালা ছেলেগুলো!তাই করলো আজও!
এবং তার কিছু সময় পরেই একটা আবৃত মেয়েকে নিয়ে হাজির করা হয় তার সামনে এবং যা হওয়ার তাই হয়; আমি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রথমে মেয়েটা'র চিৎকার চেঁচামেচি শুনতে পেলেও পরে আর কোন শব্দ শোনা যায় নি! বুঝতে পেরেছিলাম মুখে কাপড় দিয়ে শক্ত বাঁধন দেওয়া হয়েছে! এটা নতুন নয়! প্রায়ই হয় এই ঘটনা!তবে বাইরে বসে আমি নিজে'ও কাল ঘটালাম আরেক কান্ড!চ্যালা-গুলোর কথার তালে তালে কয়েক চুমুক তারপর গ্লাস ঢেলে দিলাম পেটে এবং সর্বোপরি অন্যসব আইটেম টেস্ট করলাম এবং কেমন যেন ঘোরে চলে গেলাম! বস কাজ শেষ করে বের হতেই তার সামনে আমাকে অমন অবস্থায় দেখলেন, প্রথমে মুচকি হাসি দিলো এবং ইশারায় বুঝালো চাইলে আজ ওটাও ট্রাই করতে পারি!
নেশাগ্রস্ত আমি দরজার ফাঁক দিয়ে নগ্ন নারী শরীর দেখে শিউরে উঠলাম, কেমন জানি পুরুষত্ব জেগে উঠলো!আবছা অন্ধকার ঘরের মধ্যে ঢুকেই হামলে পড়লাম কোমল নগ্ন শরীরের স্বাদ নিতে! মেয়েটা যেন নেতিয়ে'ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে! বারবার আমাকে আঘাত করছে, কিছু বলার তীব্র প্রচেষ্টা চালাচ্ছে! কিন্তু তাতে আমার মস্তিষ্ক বিন্দুমাত্র ও সজাগ হলো না! নিজের তৃপ্তি মিটিয়ে যখন ক্লান্ত তখন ঢুলুঢুলু চোখে তাকালাম ঐ বিধ্বস্ত মুখপানে ততক্ষণে মেয়েটি প্রায় শেষ! একাধিক পুরুষের এত শক্তির প্রদর্শন নিতে পারেনি!তবে চোখ দুটো কিছু বলছিলো! বুঝতে পারিনি; কিছু বোঝার আগেই চ্যালা'দের মধ্যে থেকে একজন আমাকে টেনে তুলে নিজেও হামলে পড়লো মেয়েটার উপর!
আমি ঢুলতে ঢুলতে দরজা অবধি গিয়ে আরেকবার পিছনে ফিরলাম, অন্ধকার তবে ঢিপ-ঢিপ করে জ্বলা মৃদু আলোয় আশ্চর্য হয়ে দেখলাম নিস্তেজ ঐ চাহনি যা কিনা আমাতে'ই নিবদ্ধ!
আমার সময় মেয়েটা বারবার আমাকে আঘাত করেছে,মুখ দিয়ে শব্দ করেছে মানে কিছু বলার চেষ্টা করেছে কিন্তু আমি কিছুই শুনতে পাই নি আসলে শুনতেই চাইনি! পরবর্তী লাইনে থাকা চ্যালা'দের নির্দেশনায় বেরিয়ে এলাম!
সকালে যখন ক্লাব থেকে বের হবো তখন দেখলাম সে চ্যালা ছেলেগুলো একটা মেয়েকে বস্তাবন্দি করছে; এটা নতুন নয়! তবুও কেন জানি খারাপ লাগছে! দৌড়ে কাছে গেলাম! আমাকে দেখেই ছেলে গুলো খিল্লি উড়ানো শুরু করছে! কারন কাল রাতের বিষয় গুলো সবটাই ছিলো নতুন! তাই আমিও লজ্জা রাঙ্গা হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম পাশে, মেয়েটার মাথা যখন বস্তা বন্দি হচ্ছে তখনও চোখজোড়া খোলা এবং এখনও সেই চোখ আমাতে'ই নিবদ্ধ! ঝাক্কি দিয়ে উঠলো শরীর! কেন জানি প্রচন্ড চেনা চেনা মনে হচ্ছে! বসের কাছে কথাটা বলতেই উনি হেঁসে উড়িয়ে দিলেন!
মেয়েটার লাশ ঠিকা'র দায়িত্ব আমার উপরেই পড়লো,এটাও নতুন নয়! আমিই করি বরাবর এটা এবং তার বিনিময়ে পাই মোটা একটা সংখ্যা! আর এই সংখ্যা দিয়েই সাজাবো আমি আমার ভালোবাসার সংসার!
কিন্তু এখন?
সমাপ্ত!







0 মন্তব্যসমূহ