#ব্যভিচার-যিনাহ
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
ভয়ানক ঝড় বৃষ্টির পর সূর্যের ঝলসে যাওয়া উত্তাপে যখন ধরনী অতিষ্ঠ রোদ বৃষ্টির এই আঘাত প্রতিঘাতে ঠিক তখনই যেন খুশির বার্তা নিয়ে এলো নতুন অতিথির আগমনী হয়ে!
আমি মারইয়াম জান্নাত, স্থানীয় নাম করা একটি আলিয়া মাদ্রাসায় পড়ছি! বয়স মাত্র পনেরো পার করে ষোল তে উর্ত্তীণ হলাম; আপনাদের ভাষ্যমতে বলতে পারেন ষোড়সী! আর ষোড়সী মানেই কৈশোরের প্রথম ধাপে! আর কৈশোর মানেই পৃথিবী কে নতুন করে জানা! আমিও ঠিক তেমনি করে সব জানছি! বলতে গেলে আমার জানার ইচ্ছা বা কৌতুহল দুটোই বেশি ,বেশি বলতে খুব'ই বেশি! এই যেমন ইদানিং ভার্চুয়াল দুনিয়ার যত খবরাখবর সব জানতে ইচ্ছে করে! আর তাই তো হুটহাট চলে তাই বান্ধবীর বাসায়!
আজকে অবশ্য যাচ্ছি অন্য একটি কারনে আর সেটা হলো অনেক দিন পর বান্ধবীর বড় ভাই তার গর্ভবতী বউকে নিয়ে এসেছে! তারা শহরে থাকে কাজের সুবিধার্থে তবে যেহেতু ভাবীর মানে বান্ধবীর ভাবীর এই সময় বিশেষ যত্ন দরকার সেহেতু তার দেখ-ভালের জন্য এখন এখানে রেখে যাবে! এছাড়াও তো আরো একটি ঘটনা আছে যেটা কেবল আমি ই জানি!
সারারাত প্রচন্ড ঝড় হয়েছে, বৃষ্টি ও তবে আপাতত রোদের প্রকোপে মাথার তালু ঝলসে যাচ্ছে, না জানি ভেতরের মগজ কেমন আছে? কিন্তু সমস্যা হলো রাতের বৃষ্টিতে রাস্তার শক্ত মাটিও গলে নরম হয়ে গেছে যার দরুন কর্দমাক্ত পথ! আর আমি তাই ডিঙ্গিয়ে ডিঙ্গিয়ে হাঁটার চেষ্টা করছি!
মারইয়াম জান্নাত:- আসসালামু আলাইকুম! কেমন আছেন আপনারা?
আয়েশা নুর:-ওয়ালাইকুম আসসালাম! আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালো তুমি কেমন আছো জান্নাত!
মারইয়াম জান্নাত:- জ্বী ভাবী আলহামদুলিল্লাহ!
কুশলাদি'র পর্ব শেষ করে বান্ধবী মাইমুনার সাথে তার ঘরে চলে এলাম, আসার পথে অবশ্য বান্ধবীর ভাইয়ের ঘরে উঁকি দিতে ভুলিনি! দেখলাম ভাইয়া ওহ ক্ষমাপ্রার্থী আসলে উনি উপুড় হয়ে শুয়ে আছে
যার দরুন লুঙ্গি টা বেশ উপরে উঠে গেছে, মুখটা একপাশ হয়ে থাকার কারন ঠোঁট দুটো হালকা ফাঁক হয়ে ফুলে আছে ঠিক যেমন লাভের শেইপ, আর তার সাথে রয়েছে লোমশ বুক যদিও পুরোটা দেখা যাচ্ছে না তবুও যতটুকু দেখা যায় ততটুকুই!
সারাদিন বেশ প্রখর রোদে শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম থাকলেও সন্ধ্যার দিকে আবারও আকাশে মেঘের ঘনঘটা! তার সাথে মেঘ জমেছে আমার মনে,যার কারনে এলাম তারই কোন দেখা পেলাম না!
সারাটা দুপুর থেকে বিকেল বান্ধবীর সাথে আর ভাবীর সাথে কথা বলেই গেলো! মাঝে মাঝে খালাম্মার সাথেও টুকটাক কথা হয়েছে! কিন্তু বিকেলের পরে খালাম্মা ব্যস্ত হয়ে পড়ে তার পোয়াতি বউকে নিয়ে আর তার সাথে বান্ধবী ও ! তখনই পেলাম আমার কাজ হাসিলের সময়! বান্ধবীর বাসায় আসলে তার ফোনটা আমার কাছেই থাকে যেহেতু আমার নিজস্ব ফোন নেই! আমার পরিবার অতিরিক্ত ধার্মিক হওয়ার দরুন আমার আব্বাজান তার ছেলে মেয়েদের হাতে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মোবাইল দিতে অনাগ্রহী তার ধারনা ফোন পেলে আমরা ঈমান খুইয়ে মুনাফিক,বে-দ্বীনে পরিনত হবো! আর উনি চান উনার সব সন্তান কে নিয়ে একসাথে বেহেস্তে বসবাস করতে! আর তাই তো! যাই হোক আপাতত আমার কাজ করি, আব্বাজান ব্যাকডেটেড মানুষ চিন্তাও তেমনি কিন্তু আমাদের তো আধুনিক দুনিয়ার সব জানতে হবে এর জন্য এই বান্ধবী মাইমুনা'র বাসায় এত কষ্ট করে আসতে হয় এতে অবশ্য আমার ও অনেক ভালো লাগে কারণ এক ডিলে দুই পাখি মারা যায় !
মাইমুনার'দের বাড়ির সবাই মোটামুটি ধার্মিক,মাইমুনা আমার সাথে মাদ্রাসায় পড়লেও ওর বড় ভাই পড়েছে সাধারণ স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে! তবে ভাবী ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ছিলো অবশ্য ভাবী তাদের খালাতো বোন!
মাইমুনা'র ভাইয়া বেশ বড় কোম্পানিতে চাকরি করে যার দরুন বেশ মোটা স্যালারী পায়,তাই দুহাতে খরচ করতে দ্বিধাবোধ কাজ করে না! বোন যখন যা চায় তাই উজার করে দেয় না হলে কেউ মাত্র ষোল বছরে পা দেওয়া বোনকে আইফোন কিনে দেয় তাও আবার একদম লেটেস্ট ভার্সন,,এই অজপাড়া গাঁয়ে,যেখানে ঠিকমতো বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেট থাকে না সেখানে হয়তো ঐ ই কেবল এত দামী ফোন ব্যবহার করে!
বান্ধবীর ফোনটা প্রায়ই মাদ্রাসায় নিয়ে যায় যদিও ফোন মাদ্রাসায় নেওয়া নিষিদ্ধ তবুও শুধু আমার কথা রাখতেই নেয় প্রিয় বান্ধবী বলে কথা!
বান্ধবীর ফোনেই আমার একটি ফেইক ফেসবুক আইডি ওপেন করা হয়েছে,"জান্নাতি হুর" নামে! এবং তার মধ্যে রয়েছে একজন বিশেষ মানুষ! বান্ধবীর ফোনে তার ফেসবুক একাউন্টে বিভিন্ন জিনিস দেখার সময় একটা আইডি মন কাড়ে! উহুম! আইডি না সেই আইডির মালিক! বলা যায় তার প্রতিটি ছবি,ছবি তোলার ধরন, বিশেষ মানুষের প্রতি যত্ন কিংবা তার আকর্ষণীয় শারীরিক গঠন,অত্যন্ত বৈভবের জীবনযাপন সবকিছুই আমার মন কেড়েছে; ঘুম উজার করে দিয়েছে! আর তাই তো ফেইক একাউন্ট খুলে তার সাথে যোগাযোগ করি এবং এক সময় তার আকর্ষণ পেতে সফল হই ! তার সাথে যোগাযোগ করার জন্যেই তো এতদুর এত কষ্ট করে আসি! আইডি খোলা কিংবা কারো সাথে বন্ধুত্ব করার বিষয়টা বান্ধবী জানে প্রিয় বান্ধবী বলে কথা তার থেকে কিছু লুকানো যায়? কিন্তু সঠিক তথ্য জানে না !
যাই হোক আইডিতে লগইন করে তাকে মেসেঞ্জারে কল দিলাম, কয়েকটি রিং হওয়ার সাথে সাথেই সে কল রিসিভ করলো; তার কন্ঠ শুনে ঠান্ডা হলো মন কিন্তু অভিমান ও হলো! অভিযোগ ছুড়ে দিলাম তার প্রতি! সে অভিমান ভাঙ্গতে চেষ্টা করলো,ব্যর্থ হলো এবং তার বিনিময়ে কি চাই তাও জানতে চাইলো আমি আমার আবদার তুলে ধরলাম! প্রথমে সে ভয় পেয়ে অস্বীকার করলো কিন্তু আমার মতো ষোড়সী'র আবদার কি আর ফেলে দেওয়া যায়? সে ও পারলো না! আর্জি কবুল হলো! আমি কল কেটে লগ আউট হলাম তার আগে অবশ্য কল লিস্ট থেকে সেই একাউন্ট মুছতে ভুললাম না!
ফোনটা বান্ধবীর ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রেখে ধীর পায়ে হেঁটে এলাম পাকের ঘরে, খালাম্মা রান্না করছেন,ভাবীকে তার পাশে বসিয়ে টুকটাক কথা বলছেন আর ভাবী হাদিস পড়ে শোনাচ্ছে! বান্ধবী আপাতত ব্যস্ত ঘরের কিছু কাজ গোছাতে! আমি নিশ্চিত অন্তত আধ ঘন্টা আগে এরা কেউই নিজেদের জায়গা পরিবর্তন করবে না! আমিও নিশ্চিন্তে আমার কাজ শেষ করতে পারবো! মুচকি হেসে যেভাবে এসেছিলাম সেভাবেই গেলাম!
মাইমুনা :- কি রে কই গেছিলি তুই?
বান্ধবীর অতর্কিত প্রশ্নে ঘাবড়ে গেলাম!
ভেবেছিলাম আধ ঘন্টায় হয়ে যাবে কিন্তু আধ ঘন্টা অতিক্রম হয়ে হয়তো এক ঘন্টা ও হয়ে গেছে তাতেও মন শান্ত হয়নি;তাই তাড়াহুড়ো করে আসতে গিয়ে বান্ধবীর সাথেই ধাক্কা খেলাম এর মধ্যেই বান্ধবীর এমন প্রশ্নে বেশ আতংকিত হয়ে পড়লাম; মনে মনে আওড়ালাম;
মারইয়াম জান্নাত:- কিছু দেখে ফেলেনি তো? দেখুক গিয়ে তাতে আমার কি?
মাইমুনা:- তুই এত ঘেমেছিস কেন? যেন অনেক কসরত করেছিস? কোথায় ছিলি? তোকে তো পুরো ঘরে খুঁজলাম, পেলাম না তো!
বান্ধবীর একের পর এক প্রশ্নে বিরক্ত হলেও ভয়ে কিছু বলতে পারছি না! তবুও কিছু বলার চেষ্টা করতে শুনতে পেলাম;
বান্ধবীর ভাই( মাহিদ মুজাহিদ) কি হয়েছে?
মাইমুনা ভাইকে দেখে একটু অবাক হলো,আমিও তাড়াতাড়ি নিজের কাপড় ঠিকঠাক করে আগাগোড়া ঢাকতে ব্যস্ত হলাম, আমার দিকে তাকিয়ে মাইমুনা বিব্রত হলো,ভাইকে বললো,,
মাইমুনা :- ভাইজান আপনি জানেন না আজএ ঘরে বেগানা নারী আছে! তারপরেও কেন এভাবে এসেছেন,যান শ্রীঘ্রই নিজের ঘরে যান! তুই ও আয়! ছিঃ ছিঃ ছিঃ কি বিচ্ছিরি একটি বিষয় হয়ে গেলো?
মাহিদ মুজাহিদ বোনের কথায় নিজের শরীরে নজর বুলালো,গায়ে সেন্টু গেন্জি সাথে লুঙ্গি তাও কেন বোন?কথাটা ভেবেই একবার নজর দিলো আমার উপর তারপর ঠোঁট কামড়ে হাসিকে নিয়ন্ত্রণ করে চলে গেল! খাওয়া দাওয়া শেষ করে আব্বাজানে'র সাথেই বাড়ি ফিরেছি সময় আগেই! ঘরে লাগোয়া বাথরুমে ঢুকে সমস্ত বস্ত্র উচ্ছেদ করে নিজের উপর চোখ বুলালাম! বেশ কয়েক জায়গায় লাল হয়ে আছে,যদিও হালকা ব্যথা অনুভব হচ্ছে তবুও মুখে তৃপ্তির হাসি রয়েছে! বহু দিনের আকাঙ্ক্ষা পূরন হয়েছে বলে কথা!
মাঝ রাতে;;
গভীর ঘুমে ছিলাম, হঠাৎ করেই ভেতরে বেশ ছটফট হচ্ছে, মনে হচ্ছে আমাকে কেউ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আমি তো যেতে চাই না আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে থাকতে চাই;
মারইয়াম জান্নাত:- ইয়া আল্লাহ এইসব কি দেখলাম!! আল্লাহ মাফ করে দেন! আর কখনোই এমন গুনাহের কাজ করবো না! কথাগুলো ভাবছি আর আল্লাহর কাছে মাফ চাইছি আর কল্পনা করছি আজ নিজের দ্বারা হওয়া গুনাহের কথা! কাঁপা কাঁপা শরীরে তাড়াতাড়ি উঠে কাপড় পরিবর্তন করে ওযু করে দাঁড়িয়ে গেলাম তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে,,সিজদায় পড়ে কাঁদতে লাগলাম!
মোনাজাতে মনে পড়ে গেল সেই হাদিসের বানী; ""তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হইও না। এটা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : আয়াত ৩২), এখানে ব্যভিচারের শাস্তির দুটি হাদিস তুলে ধরা হলো-আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়কে একশ’ ঘা করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করবে এদের প্রতি দয়া যেন তোমাদের অভিভূত না করে। যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাক। ঈমানদারদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।’ (সুরা নুর : আয়াত ২)হাদিসে এসেছে- একবার বনি আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে বলল, আমি ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছি। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাস করলেন, তুমি এ কথা আর কাউকে বলেছ? সে উত্তর দিল না। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি আল্লাহর কাছে মাফ চাও এবং গোপনীয়তা রক্ষা কর। আল্লাহ তোমার দোষ গোপন রাখবেন এবং তোমার তাওবা কবুল করবেন। এ কথায় আশ্বস্ত না হয়ে সে হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু নিকট গেলেন এবং পূর্বের মতো বললেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে আবু রাদিয়াল্লাহু আনহুর মতো বললেন। কিন্তু সে কিছুতেই আশ্বস্ত হতে পারল না। অগত্যা সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল আমার দ্বারা ব্যভিচার সংঘটিত হয়েছে। রাসুল মুখ ফিরিয়ে নিলেন। যখন সে তার কথা ওপর জিদ ধরে রইল, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরিবারের লোকদের ডাকলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, এ কি পাগল? এখনও কি পাগলামি করছে? তারা উত্তর দিল না, হে আল্লাহর রাসুল!, সে সম্পূর্ণ সুস্থ।রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বিবাহত না অবিবাহিত? সে উত্তর দিল, আমি বিবাহিত। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড (রজম) দিলেন।’ (মুয়াত্তা)এক মহিলা সাহাবি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি জিনা (ব্যভিচার) করেছি। জিনার কারণে গর্ভবর্তী হয়েছি। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি চলে যাও। সন্তান হলে এবং তার দুধ পান করানোর সময় অতিবাহিত হলে এসো। যখন তার সন্তানের দুধ পানের মেয়াদ শেষ হলো, তখন সে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে উপস্থিত হলো। তিনি বললেন, তোমার এ সন্তানকে কারো দায়িত্বে দিয়ে দাও। যখন সে সন্তানকে অন্য একজনের দায়িত্বে রেখে এলো। তখন তাকে পাথর নিক্ষেপে হত্যার নির্দেশ দেয়া হলো। তার জন্য বুক সমান গভীর এক গর্ত খুঁড়া হলো এবং তাকে সেখানে দাঁড় করিয়ে পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা হলো। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাজার নামাজ পড়ালেন।হজরত ওমর আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার জানাজা নামাজ পড়ালেন? এতো ব্যভিচারিনী। তিনি বললেন, এ মহিলা এমন তাওবা করেছে তা যদি পৃথিবীবাসীর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয় তবে তা সবার জন্য যথেষ্ট হবে। এর চেয়ে বড় আর কি হতে পারে যে, সে (আল্লাহর ভয়ে) নিজের জীবন দিয়ে দিল। (মুয়াত্তা) নাসাঈ’র হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে পাথর নিক্ষেপ করতে আসলেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সজোরে একটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। তখন তিনি গাধার ওপর সওয়ার ছিলেন।হাদিসের শিক্ষা ,
০১. যাকে পাথরে নিক্ষেপে হত্যা করা হবে তাকে বেত্রাঘাত বা কষাঘাত করা যাবে না।
০২. পাগলের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী- সে কি পাগলামী করছে?
০৩. কোনো অপরাধ করে গোপনে আল্লাহর নিকট তাওবা করলে তিনি মাফ করে দেন। যেমন পরামর্শ দিয়েছিলেন হজরত আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু।
০৪. জিনা বা ব্যভিচারের স্বীকৃতি একবার করলেই তাকে শাস্তি দেয়া যাবে। বার বার না করলেও চলবে।জিনা বা ব্যভিচার ইসলামসহ পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থে ঘৃণিত ও জঘন্য অপরাধ। সুতরাং ব্যভিচারমুক্ত সমাজ গড়তে আল্লাহর ভয় ও তাঁর বিধিবিধান পালন অত্যাবশ্যক। আল্লাহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে জিনা বা ব্যভিচার থেকে হিফাজত করুন। আমিন
আল্লাহ মহান রাব্বুল আলামীন,দয়ার অপার সাগর তিনি,সাগর সমান গুনাহ মাফ করে দেন তওবা করলে আমাকেও নিশ্চিত করবেন!!
আমরা রোজ একরকম গুনাহ করি,চোখ, মুখ,নাক কিংবা অদৃশ্য অনুভূতি দিয়ে কিন্তু কখনো কি ক্ষমা চাওয়া হয়েছে?এই নশ্বর দুনিয়ায় অবিনশ্বর দুনিয়ার কামাই করতে এসে কতরকম গুনাহ যে করছি তার হয়তো ইয়ত্তা নেই! আমাদের কি মারইয়াম জান্নাতের মতো সত্যের বোধ উদয় হবে না? আমি তো আল্লাহর দরবারে মাফ চাচ্ছি,, পেটের ক্ষুধায় রোজ রাস্তায় নামি আল্লাহ যেন এই অবস্থায় ও আমার ঈমান আমলের হেফাজত করেন! আমীন।।।
আমি হাদিস গুলো জাগো নিউজের গুগল সার্চ থেকে নিয়েছি ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!







0 মন্তব্যসমূহ