#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১৩
‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️
“ ভাবী,ভাইয়া!"
দরজায় কড়া নেড়ে বাইরে থেকে ডাক দিলো নাফিসা।নাসিফ ঘরে আছে তাই সরাসরি ঢুকে নাই। বোনের কন্ঠস্বরে নাসিফ স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো কিন্তু পারলো না উল্টো তার হাঁসফাঁস বেড়ে গেছে। আফিয়া নিজেই দরজার সামনে গিয়ে পর্দা সরিয়ে নাফিসার দিকে তাকাতেই নাফিসা কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই আফিয়ার মুখ দেখে থমকে গেল।কিছু একটা আন্দাজ করতেই আফিয়ার মুখটা নিজের দুহাতে আগলে ধরে বললো,
“ কি হয়েছে ভাবী! এমন দেখাচ্ছে কেন তোমাকে!"
আফিয়া নাফিসার দু হাতের উপর নিজের হাত রেখে বললো,
“ আমি ঠিক আছি আপু, আমার কিছু হয়নি। তোমার ভাই!"
“ কি হয়েছে ভাইয়ের।কিছু বলছে তোমাকে?"
নিজের কথা শেষ না করেই ভেতরে ঢুকলো,নাসিফ দুহাতের তালুতে মুখ গুঁজে হাত দু'টো হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসে আছে। শক্তপোক্ত ভাইয়ের এমন বিধ্বংসী অবস্থা বহুদিন পর দেখলো নাফিসা। নিশ্চয়ই আমিরা ভাবীর কথা মনে পড়েছে কিন্তু; হঠাৎ করেই নাফিসার বুকটা মোচড় দিলো আফিয়ার ওমন করুন চাহনি দেখে।ভাই কি নতুন ‘ ভাবীকে কিছু বলছে!' সবার আগে এই চিন্তাটাই মাথায় আসলো।আফিয়া এখনও দরজার পর্দার আড়ালে ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছে।নাফিসা আফিয়ার কাছে গেল,
“ ভাবী তুমি আমার সাথে আসো তো; তোমাকে আমার ঘরটা দেখাই!"
আফিয়ার মাথায় এখনো তোয়ালে মোড়ানো।তার উপর দিয়েই ওড়না দিয়ে ঘোমটা পড়ে পুরো গা ঢাকা। এই অবস্থায় যাতে অন্য কারো চোখে না পড়ে
তাই নিজের ঘরে নিয়ে বসালো।আজকে নাফিসার ঘরে নাফিসার সাথে থাকবে আফিয়ার মামাতো বোন মিষ্টি আর খালাতো বোন মান্নাত,আফিয়ার অবিবাহিত ছোট বোন হিসেবে ওরাই আছে আপাতত যদিও সিমিনও ছোট কিন্তু সিমিন আগামীকাল গ্রামের বাড়িতে চলে যাবে ইদের ছুটি কাটাতে তাই সে আর এখানে আসেনি।
“ তুমি নিজের বোনদের সাথে আলাপ করো আমি আসছি।"
আফিয়ারও মনে হচ্ছে তার একটু সময় দরকার।নয়তো সবটা সামলে নিতে পারবে না।
ঘুমে কাতর হয়ে আছে মিষ্টি,মান্নাত কাত হয়ে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ফোন টিপছে।এ বাড়িতে আসার পর তাদের বেশ আপ্যায়ন করা হয়েছে। এরপর যখন এই রুমে আনা হলো নাফিসা আর তার ভাবী বেশ আদর করেই বললো ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিতে।যেহেতু রোজার মাস সেহেতু তাদের আবার উঠতে হবে।তবে মিষ্টির কষ্ট হবে না কারণ সে আল্লাহর তরফ থেকে ছুটিতে আছে তাই সে বিভোর হয়ে ঘুম দিয়েছে।
আফিয়াকে এমন অবস্থায় এই ঘরে দেখে মান্নাত একটু চমকালো।সে উঠে বসলো, চোখটা কচলে নিয়ে কোন রকম টানটান করে দেখলো সবটা। এরপর আফিয়ার কাছে গিয়ে কাঁধে হাত রেখে জিজ্ঞেস করলো,
“ তুমি এখন এখানে? কিছু কি হয়েছে আপু?"
চঞ্চল ছটফট তবে বেকুব বোনের এমন তৎপরতা দেখে হালকা হাসলো আফিয়া।মাথা দুলিয়ে নত হয়েই ইশারায় উত্তর করলো যার মানে হলো
‘ না,কিছু হয়নি।’ মান্নাত আবারও কাছ ঘেঁষে নিচু গলায় বললো,
“ দুলাভাই কিছু বলছে?"
আফিয়া বোনের দিকে তাকালো।বোনেরা কত সহজেই সবকিছু বুঝে যায়।মান্নাতের সাথে আফিয়ার বয়সের পার্থক্য বেশ,সদ্য দ্বিতীয় বর্ষের চুড়ান্ত পাশ আর আফিয়া বহু আগেই পড়ালেখার পাঠ চুকিয়েছে।তবুও কেন জানি মান্নাতের টানটা আফিয়ার প্রতি একটু বেশিই! এই টানটা কেন সাফিয়ার হলো না!সাফিয়া ছোট থেকেই আফিয়ার পিছু লেগে থাকতো। পাঁচ বছরের ছোট বড় হওয়া সত্ত্বেও সাফিয়া কখনোই আফিয়ার প্রতি অনুগত ছিলো না আর না ছিলো তার ব্যবহারে মাধুর্য্যতা। বয়সে বড় বোনকে ছোট করে কথা বলাতেই তার শান্তি মিলতো,সে তাই করতো।আফিয়া আগে আগে তর্ক করলেও এখন আর করে না।তাকে তার হালেই ছেড়ে দিয়েছে,সবার কর্ম ফল অবশ্যই একদিন পাবে এটাই এখন আফিয়ার একমাত্র অস্ত যা ভেবে সে শান্তি পায়।
“ আপু! কি হয়েছে,কাদতেছো কেন?"
আফিয়ার অজান্তেই চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়লো অশ্রু।সে তো আসার সময়ও কাঁদেনি কিন্তু এখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারছে না।মান্নাত ব্যতিব্যস্ত হয়ে হুরমুরিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আফিয়ার সামনে এসে মাটিতে হাঁটু ভেঙ্গে বসে আফিয়ার গালটা নিজের দু হাতের তালুতে নিয়ে নিলো।তীব্র কষ্ট আফিয়ার চোখ দুটো লালাভ হয়ে উঠেছে।মান্নাতের বারবার উচ্চ কথা বলায় ঘুম ভেঙ্গে গেল মিষ্টির। ঘুমঘুম চোখে মাথা উঁচিয়ে দেখার চেষ্টা করলো অবস্থা,আফিয়াকে কাঁদতে দেখে আর মান্নাতকে ছটফট করতে দেখে মিষ্টির ঘুম পালিয়ে গেল,সেও তড়াক করে উঠে এসে বোনের পাশে বসলো,
“ আপু কি হয়েছে তোমার? কেউ কি কিছু বলছে? কেন কাদতেছো?"
মিষ্টির ছটফটানি মান্নাতের চেয়েও বেশি। আফিয়া বোনদের এমন আকুলতা দেখে নিজেকে সামলে নিতে চেষ্টা করলো,হাত দিয়ে মুখটা মুখে নিলো,নাক টেনে গায়ের ওড়না দিয়ে পুরো মুখটা ভালো করে মুছে বললো,
“ কিছু হয়নি পাগলিরা। এমনিতেই কেন জানি ভীষন কান্না আসছিলো।তাই একটু কেঁদে নিলাম। তাছাড়াও তোরাই তো বললি তখন,আমি বিদায়ের সময় একটুও না কেঁদে কেমনে পারলাম! এখন আমার যখন কান্না আসবে তখনই তো কাঁদবো তাই না!তাই এখন কান্না আসছে দেখেই কেঁদে নিলাম,এবার কিন্তু সবাইকে বলবি গিয়ে যে আমি কেঁদেছি ভীষন কেঁদেছি!"
বড় বোনের এমন আবোলতাবোল বকুনিতে দু'জন হতভম্ব হয়ে গেছে।একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে তারপর একা সাথেই বললো,
“ এ জন্য কাদছিলা? আমি তো ভাবলাম বাসর ঘরে নিশ্চয়ই দুলাভাই কিছু করছে যার জন্য ভয় পাইছো! আরে আমিও কি বোকা,বাসর ঘর তো হয়ই কিছুমিছু করার জন্য!"
শেষের লাইনটা বলে দুজনেই মাথায় হাত দিয়ে বসেছে। এদিকে বোনদের লাগামহীন কথায় আফিয়া হা করে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এদেরকে আফিয়া বাচ্চা মনে করে অথচ এরা একেকটা হাড্ডি পাকা হয়ে গেছে।
〰️🔥〰️🔥〰️🔥〰️🔥〰️🔥〰️🔥〰️🔥〰️
“ এমন কেন করলে ভাই? প্রথম দিনেই বেচারিকে কাঁদালে! কত আতংকিত হয়ে আছে মুখটা!"
বোনের কথায় অপরাধী চোখে তাকালো নাসিফ। তার ব্যবহারে যে আফিয়া ভয় পেয়েছে তা সে বোঝে তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছে।কোন স্ত্রীই প্রথম রাতেই স্বামীর এমন রুপে খুশি হয় না। তাদের ভেতর ভয়ে ছেয়ে যায়।নাসিফ নিজের চুল টেনে মাথাটাকে চেপে ধরলো, বিরবির করে বললো,
“ কেন আসো তুমি! যখন এক সাথে একটা জীবন কাটাতেই চাইলে না।আর আসবে না।আমি নতুন করে বাঁচতে চাই। নতুন মানুষকে নিয়ে বাঁচতে চাই।তোমাকে আমাদের দরকার নেই,না আমার না আমার বাচ্চাদের।"
“ ভাই কেউ আসে না।এটা তোমার হ্যালুসিয়েশন।দয়া করে নিজেকে সামলাও।ঐ ঘরে যেই মানুষটিকে রেখে এসেছি সে তোমার সান্নিধ্যের অপেক্ষায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছে।সে সব ছেড়েছুড়ে তোমাকে নিয়ে বাঁচতে এ বাড়িতে এসেছে,তুমি যদি তাকে গ্রহন না করে অতীত নিয়েই পড়ে থাকো তাহলে কিভাবে সে তোমার সন্তানদের দায়িত্ব নিবে? তুমি যদি তাকে সুখ দিতে না পারো তবে তোমার ইচ্ছে, তোমার দেওয়া দায়িত্ব সে কিভাবে সুন্দর ভাবে পালন করবে।তাকে তুমি ভালো রাখলে সে বাড়ির প্রতিটি সদস্যকে ভালো রাখবে!"
নাফিসা হাঁটু ভেঙ্গে বসলো ভাইয়ের পায়ের সামনে।নাসিফের মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিজের হাত দুটো নাসিফের দুই গালে রেখে গলায় দরদ ঢেলে বললো,
“ ভাই, নিজেকে সামলাও। তোমার নিজেকে সামলানো জরুরি,তুমি এমন করলে বাবুদের কি হবে? তাছাড়াও তোমার জীবনের সাথে এখন আফিয়া ভাবীর জীবন জুড়ে গেছে। এটা কোন গল্প নয়, বাস্তব।ভাবীর জন্যেও তোমার অনেক দায়িত্ব কর্তব্য আছে। তোমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ এখন সে।তার দিকে মনোযোগ দাও,দেখবে আমিরা ভাবীর স্মৃতি থেকে ঠিক উতরে যাবে।তুমি যদি চাও ভাবী তোমার বাচ্চাদের আপন করুক, তবে তোমাকেই তার সূচনা ঘটাতে হবে।ভাবীকে মনপ্রাণ দিয়ে ভালোবাসো, অনুভব করাও তার জীবনে তোমার গুরুত্ব,তার সাথে তাকেও তোমাদের সাথে মিশিয়ে নাও,দেখবে সে কখনো মনেই করবে না যে এই বাচ্চার মা সে নয়।ভাই আমি বলছি ভাবী কিন্তু ভালো মানুষ তবে, দিনশেষে ভালো মানুষও খারাপ হয় যখন স্বার্থের শেষ চুড়ায় গিয়েও সে নিজেকে নিঃস্ব দেখে। তুমি এমন করে তার মনে বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দিও না।তাকেও আপন করো, তোমাদেরকেও তাকে আপন করতে বাধ্য করো।ভালোবেসে, সম্মান দিয়ে, উপলব্ধি করাও তার গুরুত্ব তোমার জীবনে।দয়া করে সবটা স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নাও।তুমি জানো না তোমার এই রুপ দেখে সে কতটা কষ্ট পেয়েছে।হয়তো লজ্জায় কাঁদতে পারছে না কিন্তু তার চোখ দুটো দেখলেই যে কেউ আঁতকে উঠবে!
ভাই!"
একটু থেমে নাফিসা ডাকলো।নাসিফ নিজের গাল থেকে বোনের হাত সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো, পাঞ্জাবির কলার ঠিক করতে করতে বললো,
“ আমি ঠিক আছি,ফ্রেশ হলে আরো ঠিক হয়ে যাবো।তুই যা। তোর ভাবীকে এ ঘরে পাঠিয়ে দে।না থাক এখন তোদের কাছেই রাখ গল্প কর, আমি ফ্রেশ হয়ে এলে দিয়ে যাস।একা একা বোর হচ্ছে বেচারি!"
নাফিসাকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়েই আলমারি থেকে নিজের জন্য একটা ট্রাউজার আর টি শার্ট নিয়ে নিলো। এরপর বোনের দিকে চেয়ে বললো,
“ আমাদের জন্য দু কাপ কফি দিস তো! এক কাজ কর আগে ওকে জিজ্ঞেস করে নে কি পছন্দ করে!"
নাফিসা কেবল দেখছে তার ভাইটাকে।এই তো একটু সময় আগেই কেমন পাগলামি করছিলো অথচ এখন কেমন স্বাভাবিক। কিভাবে পারে!আমিরা মারা গেছে অনেক দিন,প্রথম দু তিনদিন এমন পাগলামি করেছিলো এরপর স্বাভাবিক ছিলো কিন্তু আজ হঠাৎ এমন করার কারণ কি? নিশ্চয়ই ভাবীকে দেখে আমিরার এ বাড়িতে আসা তাদের সংসার জীবনের স্মৃতিগুলো মনে পড়ে গিয়েছিল যার কারণে এমন পাগলামি শুরু করেছিল।
নাসিফ বাথরুমে ঢুকে পড়লো।নাফিসা নিজের ঘরের দিকে গেলো।সেখানে এখন আরো দুজন যোগ দিয়েছে।নাফিসাই তাদের পাঠিয়েছিলো এদিকে সামলাতে।ইনশিরাহ কিছুটা আন্দাজ করেই আফিয়ার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে,
“ ভাবী তোমার কি নিজের বাড়ির কথা মনে পড়ছে? ফোন দিবো উনাদের?”
“না আমি ঠিক আছি এখন!"
“ বাই দা ওয়ে তোমরা ভাবীর কে কেমন বোন হও; আই মিন পরিচিত হওয়ার তো সময়ই পেলাম না! আমি তো জানতাম ভাবীর একটাই বোন কিন্তু এখন তো...
কথাটা বললো মান্নাত আর মিষ্টির দিকে চেয়ে,মান্নাত উত্তর করলো,
“ আমি আপুর খালাতো বোন,আর ও হচ্ছে মামাতো বোন মানে আমাদের দুজনের মামার মেয়ে ও, নাম মিষ্টি!"
“ হ্যা দেখতেও তো মাশাআল্লাহ ভীষন মিষ্টি;তা কোন ক্লাসে পড়ো তুমি এখন আপু?"
ইনশিরাহ জিজ্ঞেস করলো মিষ্টিকে, মিষ্টি উত্তর দিলো,
“ এবার একাদশ শ্রেণীতে আপু।"
“ তাই নাকি,কোন বিষয়ে করছো?"
“ বানিজ্য!"
“ এটাতো অনেক কঠিন,তুমি পারো ম্যানেজ করতে!"
একটু ঢং করেই বললো ইনশিরাহ, মিষ্টি হেসে বললো,
“ তেমন কিছু না আপু,পড়লে সবই সহজ!"
“ হ্যা তা হতে পারে।আমি আবার পড়া চোর ছিলাম তো তাই যাই পড়তে বলতো ভয় পেতাম অবশেষে সবচেয়ে পঁচা মানে সাইন্স নিয়েছিলাম!"
“ আ্যা; আপু আপনি সাইন্স নিয়ে পড়াশোনা করে বলছেন কমার্স কঠিন!তাহলে সাইন্স কি আপু!"
“ আর বলিও না আমি না...
“ ভাবী চলো তোমাকে বাবা মায়ের ঘর চিনিয়ে দেই!"
নাফিসা ঘরে ঢুকেই আফিয়ার উদ্দেশ্য বললো,আফিয়া এতক্ষণে মাথার তোয়ালে খুলে ফেলছে।এখন স্বাভাবিক হয়েই বসে আছে। ওদের কথোপকথন শুনছিলো।
নাফিসা হাত ধরেই উঠালো আফিয়াকে।আফিয়া নাফিসার দিকে তাকালো। মেয়েটা বেশ দায়িত্বশীল।কত দৌড়ঝাঁপ করছে।সে আসার পর থেকেই তার পেছনে পড়ে আছে।আফিয়া মনে মনে ভাবলো ভাবী হিসেবে সে ভাগ্যবতী হবে কারণ তার এমন একটি ননদ আছে।
“ চলো,এখন তো ঘুমাবে না। কেউ'ই ঘুমাবে না অবশ্য।তাই ভাবলাম তোমাকে সবার ঘর ঘুরিয়ে দেখাই।আম্মা একটু ব্যস্ত।কাল তোমাদের বাসা থেকে যারা আসবেন তাদের আপ্যায়নের জন্য সব রেডি করছে।তাই তোমার শ্বাশুড়ির দায়িত্ব এখন আমাকেই পালন করতে হবে!"
নাফিসা নিজের কথা বলে শেষ করে আফিয়ার পানে চেয়ে হাসলো,আফিয়া ওর হাসির সাথে তাল মেলাতে হালকা করে ঠোঁট মেললো, এরপর নাফিসার হাত ধরে বললো,
“ তোমার ভাইয়া এখন ঠিক আছে?"
ভাবীর মুখের দিকে চেয়ে বোঝার চেষ্টা করলো নাফিসা তার ভেতরে কি চলছে। হা করে ছোট একটি শ্বাস ছেড়ে বললো,
“ হ্যা ঠিক আছে।এখন ফ্রেশ হচ্ছে!"
“ তাহলে আমাকে ঘরে দিয়ে এসো প্লিজ।আমি একটু নিজের ঘরটা দেখতে চাই,ভালো করে! নিজের মানুষটার পাশে থাকতে চাই!"
কথাটা বলছি আফিয়া চোখ নামিয়ে ফেললো।আফিয়ার এই কথাটা কেন জানি নাফিসার খুব ভালো লাগলো, মাত্র'ই ঘন্টা দুই হলো এসেছে,এর মধ্যেই আমার ঘর আমার মানুষ বলছে!তার মানে কত তাড়াতাড়ি মানুষটা সবাইকে,সবকিছুকে আপন করে নিচ্ছে! নাফিসা ভাবীর হাত ধরে বললো,
“ নিশ্চয়ই, চলো!"
আফিয়াকে ঘরে নিয়ে আসলো,নাসিফ এখনও বাথরুমে। আফিয়া চারদিকে চেয়ে আরো একবার পরখ করে নিলো। আশ্চর্যের বিষয় আমিরার একটা ছবিও কোথাও নেই।আফিয়া জিজ্ঞেস করলো,
“ আচ্ছা একটা কথা জিজ্ঞেস করি যদি কিছু মনে না করো?"
“ নিশ্চয়ই ভাবী,মনে করার কি আছে!"
“ তোমার আগের ভাবীর কোন ছবি নাই কেন ঘরে?"
“ কারণ মৃত মানুষের ছবি রাখা উচিত নয়,কোন মানুষের ছবিই থাকা উচিত নয় তার মধ্যেও বিশেষ করে মৃত মানুষের।তাই ভাই তাদের বিয়ের ছবিটাও সরিয়ে ফেলেছে!"
“ ওহ্,তাহলে নাইফ নাবীহা ওদের মা'কে!"
“ ভাইয়ের মোবাইলে আছে সম্ভবত একটা নাকি দুটো, আমার মোবাইলেও আছে দুটো ছবি! সেগুলোই দেখে মাঝে মধ্যে,এই যা।
_ভাবী তোমাকে একটা কথা বলি.!
“ হ্যা বলো!"
“ ভাইয়ের আজকের ব্যবহারে কিছু মনে করো না।এমন কখনো করে নাই। আমার মনে হচ্ছে অনেক দিন পর নিজের ঘরে নিজের সংসারে হঠাৎ করে কোন নারীর আগমনে আমিরা ভাবীর কথা মনে পড়েছিল,তার হ্যালুসিয়েশন করেই এমন পাগলামি করছিলো! তুমি প্লিজ মনে কিছু করো না। কষ্ট নিও না।দেখবে এখনই একদম ঠিকঠাক হয়ে গেছে।"
নাফিসা বেশ উত্তেজিত হয়ে কথাগুলো বলছিলো।আফিয়া নাফিসার হাত ধরে থামিয়ে দিয়ে বললো,
“ শান্ত হও,আমি কিছুই মনে করি নি। তাছাড়াও আমি বুঝতে পেরেছি তোমার ভাইয়ের বর্তমান অবস্থা।তোমাকে এত দুশ্চিন্তা করতে হবে না।"
“ তুমি আমাকে নিশ্চিত করলে ভাবী। আমি জানি
তুমি পারবে ভাইকে সামলে নিতে!"
“ ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করবো!"
“ ওহ , তুমি বসো।ভাই তোমাদের জন্য কফি করতে বলেছিলো। আচ্ছা তুমি কি কফি খাবে?"
“ কফি না।আমার জন্য চা দিলে ভালো হয়। আমার এখন এক কাপ মসলা চা হলে বেশ উপকার হবে।যদি কিছু মনে না করো!"
“ এখনই যাচ্ছি আর চা ,কফি দুটোই নিয়ে আসছি!"
চলমান......
মন্তব্য করতে ভুলবেন না কেউ!







0 মন্তব্যসমূহ