#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৪১
১৭ মাসের তাইফ তার বশির খালুর কোলে চড়েই কান্না করছে।রাত থেকে থেমে থেমে বাচ্চাটা চিৎকার করে কাঁদছে।মায়ের সান্নিধ্য কেবল একবারই জুটেছে। এরপর আর মাকে কাছে পায়নি।
সাত মাসের ভারী পেট নিয়ে সাফিয়া জমিনে গড়াগড়ি খেয়ে কাঁদছিলো। কিছুক্ষণ আগেই সে সেন্স হারায়।তাকে নিয়েই এখন সবাই ব্যস্ত হয়ে আছে।
সালাহ্ তার মামা,চাচা,দুলাভাই আর বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে বাবার কাফনের কাজের সব
ব্যবস্থা সারছে। লোকমুখের কথা, শুক্রবার মৃত্যু আল্লাহর রহমত।নিয়াজ মোর্শেদের কপালেও বোধহয় আল্লাহর এই রহমত ছিলো।তাই বৃহস্পতিবার রাত কাটিয়ে শুক্রবার প্রথম প্রহরেই বিদায় নিয়েছেন।
সাফিয়াকে নিয়ে আসতে আসতে সকাল দশটা পেরিয়ে যায় রেজওয়ানের।সারা রাস্তায় তাকে বলা হয়েছিল তার বাবা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাই তাকে দেখতে চায়। ওষুধের কারণে তখনও আফিয়ার ঘুম ভাঙ্গছিলো না।সে গাড়ীতেও ঝিমাচ্ছিলো। কিন্তু বাড়ির গলিতে ঢুকতেই তার কান সজাগ হয়ে যায়।সে তড়িৎ গতিতে রেজওয়ানের দিকে ফিরে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ এত মানুষ কেন এই বিরানভূমিতে?"
“ চলো বাড়ি গেলেই তো দেখবে!"
“ বাড়ি গেলে দেখবো মানে? কি হয়েছে বাড়িতে? আমার আব্বা ঠিক আছে?"
সাফিয়ার কথা শেষ হতেই গাড়ী বাড়ির দরজায় এসে থামে।ভেতর থেকে মানুষের সমাগমে আর বুঝতে বাকী থাকে না সে তার জীবনের দামি কিছু হারিয়ে ফেলেছে।এই ভারী শরীর নিয়েই দৌড়ে ভেতরে ঢুকে।তাকে দেখে মানুষ আরো বেশি আফসোস করতে থাকে। আগাগোড়া কালো লেবাসে জড়ানো মেয়েটাকে সবাই শান্তনা দিতে থাকে কিন্তু তার কারো শান্তনা দরকার পড়ে না।সে নিজের ঘরের দোরে পা দিয়েই চিৎকার করে ডাক দিলো,
“ আব্বু?আম্মু!"
মায়ের আর্তনাদ আরো বেড়ে যায়। আফিয়া তখন মা বাবার ঘরের খাটের পায়ার সঙ্গে হেলান দিয়ে বসে নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিলো।ছোট বোনের চিৎকারে তার কান্নার বেগ আরো বেড়ে যায়। সুলতানা আযিযাহ হাত পা ছড়িয়ে নিজের ভাইয়ের বউয়ের গায়ে ভর দিয়ে চোখ বন্ধ করে কাঁদছে।ছোট মেয়ের উপস্থিতিতে তার কান্নার গতিও বৃদ্ধি পায়।সাফিয়া মা বাবার ঘরে ঢুকেই মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে,
“ আমার আব্বু কই আম্মু? আমার আব্বুকে কই রেখে আসছে।"
রেজওয়ান ঘরে ঢুকেনি।মহিলারা সব ঘরের ভেতরে তাই সে বাড়ির পিছনের বারান্দা পেরিয়ে পিছনের দিকে গেলো যেখানে লাশ রাখা হয়েছে। ঘরের মধ্যে তিন মা মেয়ের মাতম চলছে।
গোসল সম্পন্ন করে প্রথম জানাজা এখানেই পড়াবে এরপর নিয়ে যাবে গ্রামের বাড়িতে। সেভাবেই প্রস্ততি চলছে।এর মধ্যেই বড় লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ী ভাড়া করা হয়েছে,একটা বড় মাইক্রো ভাড়া করা হয়েছে।
জানাজার জন্য লাশ নিয়ে মসজিদে যাবে সবাই ধরাধরি করছিলো। রেজওয়ান খাটিয়ার এক পাশে অন্য পাশে সালাহ্।তারা যখন খাটিয়ায় হাত রাখলো ঠিক তখনই পায়ের দিকের এক পাশে হাত রাখলো নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী। সালাহ্ দেখলো চোখ মেলে,বহুদিন পর, অনেকগুলো মাস পরে।কিন্তু এখন কিছু বলার জন্য তার কন্ঠে জোর নেই। রেজওয়ান দেখেই শুকনো একটা হাসি দিয়ে সালাম দিলো,
“ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।"
“ওয়া আলাইকুম আসসালাম"
আর কোন বাক্য তাদের মধ্যে বিনিময় হলো না।
তার উপস্থিতি মরা বাড়িতে গুনগুন রব সৃষ্টি করে দিলো।সবাই ফিসফিস করতে থাকলো।কিছু কিছু মুরব্বি এলো।নানা ভাবে তাকে জিজ্ঞেস করলো কেন তার এত দেরি হয়েছে আসতে।যেহেতু তারা ভেতরের খবর জানে না তাই ।কেউ কেউ বুদ্ধি পরামর্শ দিচ্ছে যাতে নাসিফ এখন অভিভাবক হয়ে এই তিনজন এতিমের দায়িত্ব পালন করে।বশির আহমেদ বেরিয়ে এসেছে।সে গিয়েছিল আফিয়ার কাছে তাইফকে রাখতে। কাঁদতে কাঁদতে বাচ্চাটা এভাবে ঘুমিয়ে পড়েছে। যেহেতু এখন সব পুরুষ সদস্যরা জানাজায় যাবে তাই বাচ্চাটাকে রাখতে তারা বাধ্য হলো।বশির এসেই নাসিফকে দেখে কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেলো। এখন এই মুহূর্তে মরা বাড়িতে কিছু বললো না তবে তার ভেতরে বেশ ক্ষোভ জমা হয়েছে যা সে সময় পেলে অবশ্যই উগড়ে দিবে।সে নিজেকে শান্ত রেখে অপরপাশের পায়া ধরলো।তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালো সালাহর বড় চাচার ছেলে সামীম মোল্লা।সালাহর পাশে আরো একজন দাঁড়ালো। ওর খালাতো ভাই মাঈন। এভাবেই পরপর মোট আটজন ধরলো তাদেরকেও সহযোগিতা করতে আরো দুই একজন নিজেদের হাত রাখলো খাটিয়ার বেরিতে। সালাহ্ নাযির আহমাদকে দেখে কেবল শুকনো একটা হাসি দিয়ে আদবের সহিত সালাম দিলো। সালাহর কদমে কদম মিলিয়ে হাঁটছে নাইফ ওয়াসীত্ব গাজী। মামার করুন মুখটা দেখে তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে।নাইফ একবার ভাগ্নেকে দেখলো।এই ছেলেটাকে তার বাবা ভীষন ভালোবাসতো। মরার আগেও তার বড় আপাকে বলে গেছে যাতে কখনোই এই বাচ্চা দুটোকে সৎ মনে না করে। ওদের সাথে কখনোই সৎ মায়ের যেই বীভৎস আচরণ তা না করে।
তাইফের জন্ম উপলক্ষে এ বাড়িতে ওদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাওয়াতে বাবা ভীষন কষ্ট পেয়েছিলো। কিন্তু আবার সেই তাইফের জন্মদিন উপলক্ষেই আবারও তাদের এই বাড়িতে আসার অনুমতি পাওয়া যায়।এই তো গত শুক্রবারেই তো এসেছিলো মায়ের সাথে সময় কাটাতে,আজও আসতো এলোও কিন্তু....
সালাহ্ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।তার বন্ধুরা পিছনে থেকে শান্তনা দিলো।
সালমা ফাওযিয়া সরাসরি আফিয়ার মায়ের কাছে যায়। সুলতানা আযিযাহ তখনও চোখ বুজে কাঁদছিলেন।বড় মেয়ের শ্বাশুড়ির আগমনে সবাই একটু নড়েচড়ে বসলো। এতক্ষণ অবশ্য বাইরের মহিলাগন তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে বেশ সমালোচনা করছিলো তাই হঠাৎ উপস্থিতিতে সবাই একটু চুপসে গেলো।
“ আসসালামু আলাইকুম আপা।"
মুন্নী মামী সালাম দিলো।সালাম দিলো আফিয়ার খালাও। আফিয়ার চাচী সুলতানা আযিযাহকে ধাক্কা দিয়ে চোখ খুলে দেখতে বললেন।
বেয়াইনকে দেখে সুলতানা আযিযাহ একটু শান্ত হলেন।সালমা ফাওযিয়া সুলতানা আযিযাহর সন্নিকটে বসে তার হাতটা ধরে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে শান্তনা দিতে থাকলেন,
“ আপা কি বলবো? আমার এত লজ্জা লাগছে ! বলার জন্য মুখ নাই।এত অসুস্থ ছিলো আমরা জানতেই পারলাম না। অবশ্য জানানোর মতো কাজ করিনি তাই জানান নাই সেই অভিযোগ করতেও পারবো না।
_ আমি শুধু আল্লাহর কাছে বলবো আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য্য দিক।ছেলেটার মুখের দিকে চেয়ে নিজেকে শান্ত করুন। আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে।ধরে রাখার ক্ষমতা আমাদের কই!"
সুলতানা আযিযাহ আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন,সালমা ফাওযিয়া নিজের বুকের মাঝে টেনে নিয়ে শান্তনা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করেন।এর মধ্যেই কেউ একজন চিৎকার করে বলতে শোনা গেলো,
“ এ্যাই কে কে যাবা। তাড়াতাড়ি তৈরি হও!
_জানাজা পড়িয়ে লাশ আর এখানে আনবে না।ঐখান থেকেই রওনা দিবে।"
আফিয়া ইতিপূর্বেই নিজ ঘরে ফিরে গেছে।
নাসিফের আগমনে সৃষ্ট গুঞ্জন আফিয়ার কান অবধি পৌঁছায় তার কাছে আগেই।তাতেই সে বুঝতে পারলো তার শ্বাশুড়িও অবশ্যই এসেছে।উনার মুখোমুখি হতে চায় না বলেই নিজের ঘরে গিয়ে সোজা বাথরুমে ঢুকলো।ঘরে এখনও অনেক মানুষ
সবাই সবার মতো কথা বলছে,দোয়া পাঠ করছে।আফিয়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে কাপড় বদলে নিলো।সব মানুষের ভীড়েই বিছানায় এলোমেলো শুকনো মুখে শুইয়ে থাকা অবুঝ শিশুর মুখের দিকে তাকাতেই কেমন করে বিগত ১ বছর ১১ মাসের লম্বা সময়টা কেটেছে তা সব চোখের সামনে ভেসে উঠলো।তার সাথে একের পর এক তিক্ত অভিজ্ঞতা। আফিয়ার চোখ ভরে উঠলো।তা গড়িয়ে পড়তেই তার কোমর চেপে কারো ফুপানো শব্দ ভেসে এলো। নিজের চোখ নিচে নামিয়ে দেখলো আর কেউ না।তারই কলিজার আরেকটি অংশ।তার একমাত্র মেয়ে।
নাবীহা ফুঁপিয়ে কাঁদছে, মৃত্যু সম্পর্কে খুব একটা বুঝ এখনও তার হয়নি।
তবে সবার কথায় সে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে তার নানা ভাই আর নাই।নানা ভাই তাদের ছেড়ে আল্লাহর কাছে চলে গেছে।কেন গেছে? গত সপ্তাহে যখন অসুস্থ ছিলো তখন তো নানা ভাইকে বলেছিলো বড় হয়ে নানা ভাইকে সে রান্না করে খাওয়াবে।নানা ভাই নানীপার তরকারি খেতে পারে না। অনেক ঝাল হয় তাই।তাইতো নানা ভাই তার কাছে রান্না করা খাবার খেতে চেয়েছিল তাহলে এখন কেন?
মেয়ের কান্না দেখে আফিয়া নিজের কান্না ভুলে গেলো।সে হাঁটু ভেঙ্গে বসে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বললো,
“ আমার আম্মা কাঁদছে কেন? কি হয়েছে বাচ্চাটার?"
“ নানা ভাই কোথায়? সবাই কেন বলছে নানা ভাই আল্লাহর কাছে চলে গেছে? আর আসবে না!"
“ আসবে মা।তুমি চাইলেই আসবে তবে এখন না
যখন তুমি অনেক বড় হবে তখন। তুমি এখন নানা ভাইয়ের জন্য প্রে করো।যেন আল্লাহ নানা ভাইকে অনেক ভালো রাখে।"
মেয়েকে বুঝ দিলেও তার মনতো মানে না।সেও কান্নায় ভেঙে পড়ে তা দেখে প্রতিবেশী খালার এগিয়ে এসে আফিয়ার মাথায় হাত রেখে বললো,
“ এ্যাই মাইয়া আর কাদিস না। নিজে মেয়েকে থামাবে কি উল্টা এখনো কানতেছিস?
_ বাইর হবি না
পোলাডারে খাওয়াই ল।
__তারপর তাড়াতাড়ি রেডগ হ। পুরুষ লোক আইলে আর দাড়াইবো না।"
আফিয়া নিজেকে সামলে নিয়ে মেয়ের চোখ মুছে দিয়ে বললো।উপরে উঠে ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসো।মা আসছি!
নাবীহা তাই করলো,সে আদবের সহিত ছোট ভাইয়ের পাশে গিয়ে বসলো।হাত দিয়ে ভাইয়ের মাথায় আদর দিতেই তার ভাই নড়েচড়ে উঠলো এবং সঙ্গে সঙ্গে ভ্যা করে গগনবিদারী চিৎকার করলো,
“ আম্মু ভাই কাঁদে!"
নাবীহা ভাইয়ের চিৎকার দেখে মাকে ডাক দিলো কিন্তু ততক্ষণে আফিয়া উপস্থিত।সে নিজের জন্য ব্যাগ গুছাচ্ছিলো। রাতে খাইয়েছে এরপর থেকেই ছেলেটা একেবারেই না খাওয়া। অনেক চেষ্টা করেও কেউ কিছু মুখে দেওয়াতে পারেনি। অথচ সে সবসময় যে কারো হাতেই খায়।হয়তো তার মনেও মানুষ হারানোর যন্ত্রনা অনুভব হচ্ছে। আফিয়া বিছানায় উঠে ছেলেকে কোলে বসিয়ে নিজের কামিজের এক কোনা তুলে খাওয়াতে আরম্ভ করলো।ঠিক তার মিনিট দুইয়ের মধ্যেই ঘরের দোরে উপস্থিত হলো নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী।তাকে দেখে সব মহিলারা একে একে বেরিয়ে যেতে লাগলো।নাসিফ অনেক সময় ভাবলো সে ভেতরে যাবে কি-না? যাওয়া উচিত কি-না! গত পাঁচ মাসে নিজের ইগোকে ঠেলে বেশ কয়েকবার আফিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেয়ে করলেও ব্যর্থ হয়েছে। আফিয়ার নাগাল পায়নি
তার অজান্তেই সে আফিয়াকে বহুদূরে ঠেলে দিয়েছে। দোনামোনা ভাবনার মাঝেই বহুদিন পর সেই পরিচিত নারীর ঘ্রাণ নিতে তারই ঘরে প্রবেশ করলো নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী।আফিয়া দরজার দিকে পিঠ রেখেই ছেলেকে খাওয়াচ্ছিলো।নাবীহা মায়ের স্তন পানে ব্যস্ত ভাইকে বিরক্ত করতে ব্যস্ত ছিলো। কিন্তু ঘরে বাবার কদম পড়তেই সে মৃদু স্বরে বলে উঠলো,
“ বাবা!"
মেয়ের ডাকে নাসিফ হালকা হাসলো।আফিয়া মেয়ের কথায় বুঝতে পারলো নাসিফ ঘরে ঢুকেছে।সে বড় বড় চোখ করে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
বিস্ময় আর অবাকতা তার চাহনিতে। কিন্তু নাবীহার পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয় সে তার ভাইয়ের দিকে চেয়ে ভাইকে বলছে,
“ ভাই দেখো বাবা এসেছে।আর কেঁদো না তোমাকে চকলেট কিনে দিবে।"
আফিয়ার ভেতরে হঠাৎ করেই কেমন কাঁপুনি শুরু হয়ে গেলো।সে বুঝতে পারছে না এই মুহূর্তে তার কেমন ব্যবহার করা উচিত! কিভাবে তার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত? ঠিক কিভাবে নাসিফের সাথে ব্যবহার করা উচিত? সে হুট করেই ছেলেকে নিজের ওড়না দিয়ে আপাদমস্তক ঢেকে ফেললো। নিজের মাথার ঘোমটাও লম্বা করে ফেললো।যাতে নাসিফের চোখে চোখ না পড়ে।নাসিফ আফিয়ার পুরো বিষয়টি খেয়াল করলো।তাই আর সামনে এগুলো না।সে আফিয়ার পিঠের দিকে চেয়েই বললো,
“ সবাই তৈরি রওনা দিবে একটু পরেই। তুমি কি ওদের সাথে যাবে না আমি গাড়ি বের করতে বলবো? "
আফিয়ার তরফ থেকে কোন উত্তর নাই।নাসিফ অনেক সময় উত্তরের আশায় রইলো কিন্তু উত্তর এলো না। পরিশেষে হতাশ হয়ে নিজ থেকে সেধেই বললো,
“ বাচ্চাদের নিয়ে এত দূর,অত মানুষের মাঝে গেলে সাফিয়ার অস্বস্তি লাগতে পারে।তাই বলছি তোমরা দুইবোন আম্মুকে নিয়ে আমাদের গাড়িতেই যাও। বাকী সবাই না হয় মাইক্রোতেই যাক। নাইফ সম্ভবত তার মামার সাথেই যাবে এ্যাম্বুলেন্সে করে। যদিও আমি বারণ করেছি, কারণ বাচ্চা মানুষ লাশবাহী গাড়িতে পরে না আবার ভয়টয় পায়! তাছাড়াও আমাদের গাড়িতে যথেষ্ট স্পেস আছে, তোমরা তিনজন আমার পুরুষ দুইজন, বাচ্চা দুটো রিল্যাক্সে যেতে পারবা। বাচ্চাদেরও সমস্যা হবে না।তৈরি হয়ে বাইরে আসো।আমি গাড়ি বের করছি।"
“ আমিও যাবো বাবা!"
নাসিফ নিজের কথা শেষ করেই বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই নাবীহার আবদার।নাসিফ মেয়ের মা'কে একপলক দেখে মেয়েকে বললো,
“ হ্যা যাবে। মায়ের সাথে তৈরি হয়ে আসো।"







0 মন্তব্যসমূহ