#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৪০
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
‘ বাবা ’ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনেই অমূল্য সম্পদ,সুন্দর আর দামী দুজন মানুষের মধ্যে অন্যতম একজন। একজন সন্তানের জীবনে বাবা-মা কি তা কেবল যাদের বাবা-মা নেই তারাই বুঝে। জন্মলগ্ন থেকে পরিপূর্ণ বয়সের প্রতিটি পদক্ষেপে মা-বাবার উপস্থিতি জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি। গুরুত্ব অবর্ণনীয়।ঋণ অপরিশোধযোগ্য। পাওনা হিসাবে তাদের জন্য নিজের কলিজা কেটে দিলেও কোনদিন শোধ হবে না। তারা তাদের সবটা দিয়ে আমাদের ভরে রাখে।মায়ের দোয়া,বাবার দোয়া জীবনের সব কাঁটাকে পিষে দেয়।আমরা যারা জীবনে সফল তাদের সফলতার গল্প পড়লেই দেখবেন হেথায় প্রতি পর্বে বাবা মায়ের দোয়া, অক্লান্ত পরিশ্রম, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর অসীম ত্যাগের চিহ্ন।
সেই বাবা মা যখন চলে যায় অজানায় হঠাৎ করেই তখন কেমন হয় সেই সন্তানদের অনুভূতি?বাবার অর্থ নাই থাকুক,এই দুনিয়ায় বাবা থাকাটাই যেখানে ভালো থাকার মূখ্য বিষয় সেখানে বাবাই যদি না থাকে তখন কি নিদারুন যন্ত্রনার মুখোমুখি হতে হয় তা কেবল ঐ সন্তানরাই বুঝে যারা বাবাকে হারিয়েছে। মায়ের এক পলকের দুরত্ব যেই সন্তানের সহ্য জন্য হয় না তারা কিভাবে বাঁচে একটা জীবন মা'কে ছাড়াই।
কখনো কোন মা হারা, বাবা হারার যন্ত্রনা অনুভব করতে যাবেন না হিতে বিপরীত হয়ে তাকে আরো যন্ত্রনা দিয়ে আসবেন কারো এটা কারো কথায় অনুভব করা যায় না অনুভব তো তখনই হয় যখন নিজেই এই ঘটনার মুখোমুখি হয়।
মোল্লা বাড়িতে আজ মাতমের লগ্ন। চারদিকে আতর,গোলাপ জল আর আগরবাতির ঘ্রাণে ম ম করছে।তার সাথে থেমে থেমে শোনা যাচ্ছে কারো বুকফাটা আর্তনাদ আর কারো আহাজারি। মানুষে মানুষে গমগমিয়ে উঠেছে মোল্লা বাড়ির প্রতিটি কোনা।মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, মাগফেরাত কামনা আর তার রেখে যাওয়া আমানতের যথার্থ দেখভালের পরামর্শ নিয়ে হচ্ছে পর্যালোচনা।নিজ
ঘরের খাটের পায়ার পাশে হাত পা ছড়িয়ে বসে আছে আফিয়া।মাঝ রাত থেকে কাঁদতে কাঁদতে এখন আর কাঁদার শক্তিও নাই। দু'চোখ দিয়ে আপন মনেই গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু। গায়ের ওড়নার হদিস নাই। ছেলের খবর জানে না।তার পাশেই অন্যান্য প্রতিবেশীরা বসে দোয়া পাঠ করছে, দুজন বালক বালিকা খাটের উপর বসে কোরআন তেলাওয়াত করছে।পাশের ঘর থেকেই শোনা যাচ্ছে তার মায়ের হাহাকার,প্রিয়জন, একমাত্র সঙ্গি বিয়োগের হাহাকার।মামী, চাচীদের গুনগুন। পুরুষ মহলের নানা হাঁকডাক। কোথায় কখন কি করতে হবে তা নিয়ে নানা পরিকল্পনা।
মাঝ রাত পেরিয়ে প্রায় ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পরপরই নিয়াজ মোর্শেদ মোল্লা ঘুমের ঘোরেই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেন। সারা রাত উনি বেশ ছটফট করেন।
সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যভাগের আগ অবধি আফিয়া আর সুলতানা আযিযাহ দুজনেই উনার পাশে বসে ছিলেন, সন্ধ্যা থেকেই বারবার ছেড়ে ছেড়ে গা কাঁপানো জ্বরে নেতিয়ে পড়ছিলেন তিনি।বেশ কয়েকবার বমি করেন। এমন করে সন্ধ্যা থেকে মাঝ রাত অবধি চলে যায় সময়। মধ্য রাত হতেই আফিয়া নিজের ঘরে গিয়ে ওযু করে পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ে তাহাজ্জুদে বসে পড়ে। সালাহ্ও তাহাজ্জুদ আদায় করে। আফিয়া সালাতের পর কোরআন তেলাওয়াত করে। সালাহ্ সালাত শেষে বাবা মায়ের কাছে গিয়ে বসে বসে একা একাই দোয়া পাঠ করতে থাকে।তাইফ তার মতোই ঘুমিয়ে থাকে।আফিয়া সালাহ্ যেন বুঝেই গিয়েছিল বাবার সময় শেষ।তারা একদম স্তব্ধ হয়েই সব করছিলো।কোন শব্দ তাদের কন্ঠ দিয়ে বের হচ্ছিল না। শুধু মনে মনে পাঠ করেছে আল্লাহর বানী।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই নিয়াজ মোর্শেদের গায়ে জ্বর ছিলো।তিন দিন আগে প্রেসার ফল করে জ্ঞান হারিয়েছিলেন।গত পরশুদিন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।ডাক্তার ভর্তির পরামর্শ দেননি। প্রেসক্রিপশন দিয়ে ছেড়ে দেন। বারবার গা স্পঞ্জ করাতে পরামর্শ দিয়ে দেন।বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকে দুইদিন কিছুটা সুস্থ ছিলেন। এরপর গত সন্ধ্যা রাত হতেই হঠাৎ করে উনি অস্থির হয়ে উঠেন।কেমন জানি ছটফট করছিলেন তিনি।হাত পা ছোড়াছুড়ি শুরু করে, বারবার সবাইকে ডাকতে থাকে।সবাই যেন উনার পাশে বসে থাকে তার জন্য অনুরোধ করে,সাফিয়াকে দেখতে চায়।সাফিয়ার মেয়ে হবে,সে মেয়েকে নিয়ে উনার খেলা হবে না তার জন্যেও আফসোস করতে থাকে।তাইফকে কাঁধে চড়ানোর শখ পূরণ হলো না তার জন্য আল্লাহর দরবারে কাঁদতে থাকে।তাইফকে তার পাশে বসিয়ে বারবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।তাইফ বাবার আদর পাচ্ছে না তার জন্য হাহাকার করতে থাকে।তার মেয়েটা তাদের ভালো করতে গিয়ে নিজের জীবন শেষ করে দিলো বলেও কান্না করতে থাকে। সালাহ্,আফিয়া বারবার বাবাকে থামতে অনুরোধ করেন কিন্তু স্বল্পভাষী নিয়াজ মোর্শেদ হঠাৎ করেই নিজের মনে চেপে রাখা সব কথা মেলে বসেন। সুলতানা আযিযাহ স্বামীকে অনুনয় করতে থাকেন যেন অসুস্থ শরীরের তিনি এত কথা না বলে।উনাকে থামিয়ে দিয়ে নিয়াজ মোর্শেদ উল্টো স্ত্রীর হাত ধরে ভাঙ্গা ভাঙ্গা শব্দে বলেন,
“ আমার জন্য জীবনটা শ্যাষ করছো।তোমার ঋণ কোনদিন শোধ করতে পারবো না।তয় আল্লাহর কাছে বলবো যদি আমাকে জান্নাতে পাঠায় তাইলে আমার সঙ্গি হিসেবে তোমারে না নিয়া যামুনা।
আমি জান্নাতি না অইলেও তোমারে যেন আল্লাহ জান্নাত দেয়।হাশরে আমি তোমার অপেক্ষায় থাকমু।
আমার মাইয়া পোলাগুলা অনেক কষ্ট করছে।ওরা আজীবন যুদ্ধ করছে, বাপ হইয়া ওদের জন্য কিছু করতে পারি নাই।আমি একজন ব্যর্থ বাপ,যে নিজের সন্তানের প্রতি কোন দায়দায়িত্ব পালন তো করতেই পারে নাই উল্টা তাগো জীবনে বোঝা হইয়া রইছে।মাইয়াডার সংসার হইয়াও হইলো না তার জন্যেও কিছু করতে পারি নাই।ছোড মাইয়াডার কপালে সুখ কতদিন রাখছে আল্লাহ জানে।
আল্লাহ আমগো মতো বাপ মা কাউরে না বানায়।আমার মতো অসহায় আর ব্যর্থ বাপ যেন আর কেউ না হয়।"
“ আপনি একটু থামেন; আল্লাহ জানে আপনি ব্যর্থ না কি; এমন উল্টাপাল্টা কথা বইলা পোলা মাইয়াডারে ভয় দেখাইয়েন না। আল্লাহ ভরসা।তিনি সব ঠিক করে দিবো।আপনি এহোন খালি দোয়া দরুদ পড়েন।"
বলেই সুলতানা আযিযাহ স্বামীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। সালাহ্ বাবার হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলে,
“ আব্বা আপনার প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ,কোন দাবী নেই।আপনি আমাদের এই দুনিয়ায় এনে যেই ঋণের বোঝা আমাদের উপরে দিয়েছেন তাই তো জীবন দিয়েও শোধ করতে পারবো না।আমরাই আপনাদের কাছে ঋণী আব্বা। আপনি না।
আল্লাহর দোহাই লাগে আপনি একটু ঘুমান।ভালো লাগবে আপনার!"
“ হ্যা ঘুমামু তো। তোমার বড় বইনে কই!"
“ আব্বু আমি এখানে।কি হয়েছে?"
আফিয়া বাবার ডাকে এগিয়ে যায় তার দিকে।নিয়াজ মোর্শেদ মেয়েকে আরো কাছে ডাকে,আফিয়া বাবার বুকের উপর ঝুকে কানটা তার মুখের কাছাকাছি নেয় ,তিনি মেয়ের মাথায় ভালো হাত দিয়ে কিছু একটা বলতে চেয়েও পারছেন না উল্টা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করে দিলো।আফিয়া বাবাকে হালকা জড়িয়ে নিয়ে বললো,
“ আব্বু কাইদো না। তুমি আমাদের জন্য দোয়া করো তাতেই আমরা ভালো থাকবো। তোমার দোয়াই আমাদের জন্য সবচেয়ে দামী সম্পদ।"
নিয়াজ মোর্শেদ কিছু বলতে পারলেন না। শুধু কাঁদলেন। এরপর ছোট মেয়েকে দেখতে চাইলেন আবার মন বাধাও দিচ্ছে।এই অবস্থায় মেয়েটাকে কোনমতেই তিনি কষ্ট দিতে চান না। তবুও মনে হচ্ছে আর দেখতে পারবেন না।
মাঝ রাতে বড় বোনের ফোনে সাফিয়া একটু ভয় পেয়ে যায়।সাত মাস চলছে তার গর্ভকালীন সময়ের। সুস্থ আছে তবে ঘনঘন প্রেসার কমে যাওয়ার কারণে ডাক্তার ঘুমাতে বলেছে বেশি বেশি। এমনিতে ঘুম আসে না।তাই একটা ঘুমের ওষুধের অর্ধেক খেতে বলেছে।সেটা খেয়েই গভীর ঘুমে ছিলো। ঘুমন্ত অবস্থায় বাবার সাথে কথা বলতে পারেনি তবে নিয়াজ মোর্শেদ ঘুমন্ত মেয়েকে দেখেই তৃপ্তি মেটায়।
এভাবেই রাতের মধ্যভাগ কাটিয়ে দেয় মোল্লা পরিবারের সবাই।
বারবার বমি করার কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, সুলতানা আযিযাহ স্যুপ বানিয়ে খাওয়ান এরপর আফিয়া বাবার হাত পায়ে ম্যাসেজ করে দিলে নিয়াজ মোর্শেদ ঘুমিয়ে পড়েন।কে জানতো এই ঘুমই শেষ ঘুম।
বাবা ঘুমিয়ে পড়ায় আফিয়া, সালাহ্ নিজেদের ঘরে ফিরে যায় এবং তাহাজ্জুদ সহ অন্যান্য ইবাদত,আমল করে। সুলতানা আযিযাহ স্বামীর মাথার পাশে বসে জিকির করে,দোয়া দরুদ পাঠ করে বারবার মাথায় ফু দিতে থাকে।আফিয়া আর সালাহ্ সিদ্ধান্ত নিলো আযান পড়লেই নামাজ আদায় করেই বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে যাবে কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি বাবা আর তাদের জ্বালাবে না।
নামাজ পড়ার জন্য সুলতানা আযিযাহ স্বামীর মাথায় হাত রেখে হালকা আওয়াজে ডাকতে থাকে,নিয়াজ মোর্শেদ সাড়া দেন না। সুলতানা আযিযাহ ভীত হয়ে গায়ে হাত দিয়ে স্বামীকে ডাকতে গিয়েই চমকে উঠেন।গায়ে জ্বর নিয়ে ঘুমানো মানুষটার পুরো শরীর বরফের মতো ঠান্ডা অথচ তার গলা অবধি মোটা কাঁথা দিয়ে ঢাকা।
তিনি আল্লাহ বলে চিৎকার করে উঠলেন। সালাহ্ ফজরের সালাতের জন্য মসজিদের উদ্দেশ্যে ততক্ষণে বেরিয়ে যায়।আফিয়া ওযু করে মাত্রই জায়নামাজে দাঁড়িয়েছে তখনই পাশের ঘর থেকে মায়ের চিৎকার ভেসে আসে।সেই চিৎকারে লাফিয়ে উঠে তাইফ। পরক্ষণেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে। আফিয়া নামাজের নিয়ত পাঠ করে মাত্র সানা পড়ছিলো মায়ের চিৎকারে সানা শেষ করেই একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম' , ‘ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ' বলেই ‘ আলহামদুলিল্লাহীর রাব্বীল আল-আমিন। আর রাহমানির রাহীম....... ’ পুরো সুরা ফাতেহা,পরে সুরা ইখলাস পাঠ করে পরপর চার রাকাত সালাত আদায় করলো।প্রতি সিজদায় ছিলো তার চাপা বুকফাটা আর্তনাদ। সিজদায় পড়তেই তার অন্তর ফেটে যেতে চাইলো কান্নায় কিন্তু তবুও সে শান্ত ভাবেই সালাত আদায় করলো, মোনাজাতে চাইলো বাবার জন্য শান্তি। নিজেদের জন্য ধৈর্য্য, মায়ের জন্য সাহস। লম্বা মোনাজাত সম্পন্ন করে,ধীর পায়ে মায়ের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো। সুলতানা আযিযাহ মৃত স্বামীর বুকের উপর আছড়ে পড়ে কাঁদছে। বারবার উঠার জন্য অনুরোধ করছে।আফিয়ার কদম আর চললো না।সব শক্তি সেখানেই নিঃশেষ হয়ে গেলো।ধপ করে বসে পড়লো বাবা মায়ের দরজার সামনে। সেখানেই গগনবিদারী চিৎকার আর বুক চাপড়ে আর্তনাদ করতে থাকলো।তার আর্তনাদে জেগে উঠলো তাইফ।খালি ঘরে এমন ভয়াবহ কান্নার শব্দে ছোট্ট প্রাণও চিৎকার করে কাঁদতে থাকলো। সালাহ্ নামাজ শেষে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসে।আরো আগেই আসতো কিন্তু নামাজের আগেই হুজুরের কাছে নিজ পিতার অবস্থা বর্ণনা করে দোয়া চাইতে বলে সকল মুসল্লির কাছে তাই তার একটু দেরি হয়। কিন্তু বাড়ির সদরে পা পড়তেই ভেতরের আর্তনাদ তার অন্তরে ঝড় তুলে দেয়।সে দরজা না লাগিয়ে দৌড়ে ভেতরে ঢুকে।তাইফ তখন কাঁদছে বিছানায় দাঁড়িয়ে। সালাহ্ ভাগ্নের কান্নায় আগে তার বোনের ঘরে গিয়ে ভাগ্নেকে কোলে তুলে নিলো।তার যা বোঝার বোঝা হয়ে গেছে।সে চাপা কান্নায় ভেঙে পড়েছে।ভাগ্নেকে বুকে জড়িয়ে মায়ের ঘরে যেতেই বোনকে কাঁদতে দেখে আর নিজেকে সংবরণ করতে পারলো না। পুরুষের যে বুকফাটা আর্তনাদ করতে নেই তা ভুলে বেমালুম বাবার বুকের উপর মাথা রেখে কাঁদতে বসলো। সুলতানা আযিযাহ শাড়ীর আঁচল মেলে আল্লাহর কাছে সন্তানদের জন্য স্বামীকে ফেরত চাইছে,আফিয়ার বারবার আল্লাহর কাছে অনুনয় করছে, নিজেদের ভুলের জন্য মাফ চাইছে সবকিছুর বিনিময়ে বাবাকে ফেরত চাইছে।সবার কান্না দেখে তাইফের কান্নার শব্দ আরো বেড়ে গেলো।
মোল্লা বাড়িতে চলা কান্নার রোলে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেন। যেহেতু সালাহ দরজা লাগায়নি তাই তাদের ঘরে ঢুকতে সমস্যা হলো না।ধীরে ধীরে আকাশ ফর্সা হলো সাথে বাড়লো মানুষের সমাগম।
সালাহ্ ছোট বোন জামাইকে ফোন দিয়ে সব জানালো।রেজওয়ান বললো এখনই রওনা দিচ্ছে।তার আগেই গাড়ি ভাড়া করে নিয়াজ মোর্শেদকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেলো।কারণ নির্ণয় করতে হবে।
সুলতানা আযিযাহ আর তাইফ রইলো প্রতিবেশীদের দায়িত্বে। আত্নীয়-বর্গের সবাইকে জানানো হয়েছে সবাই রওনা দিয়েছে।
ঠিক দুই ঘন্টার মধ্যে নিয়াজ মোর্শেদের লাশ তার বাড়ির উঠানে আনা হয়।ডাক্তারের রিপোর্ট বলছে হার্ট অ্যাটাক।এর আগে গত সপ্তাহে উনি স্ট্রোক করেছিলেন। হাসপাতালে রাখার মতো অবস্থা হয়নি বলে ডাক্তার ভর্তির পরামর্শ দেননি।আর গতকাল রাতেই উনার হার্ট অ্যাটাক হয়।ভোর অবধি আল্লাহর ইচ্ছায় ছিলেন।
দুই ভাই বোন মিলে বাবাকে হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে আনে,ছোট বোন এলে বাবাকে নিয়ে পারি দিবে গ্রামের বাড়ি।দাফন কাজ সেখানেই সম্পন্ন করবে।
চলমান.....
‘ রাব্বী হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা ' পৃথিবীর জীবিত সব বাবা মাকে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন দিন আল্লাহ আর করববাসী সকল বাবা মা'কে জান্নাতের বাসিন্দা হিসেবে কবুল করে নিন, তাদের করব জীবনকে সহজ করে দিন আমার রব।
আমীন।







0 মন্তব্যসমূহ