#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৪
‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️
“ আসসালামু আলাইকুম,আমি সাইফুল্লাহ ঘটক বলছি; আপনি কে?"
এক নাগাড়ে সবটা বললেন সাইফুল্লাহ।নাযির আহমাদ একটু সময় নিয়ে উত্তর দিলেন,
“ ওয়ালাইকুম আসসালাম, আমি নাযির আহমাদ গাজী বলছি!"
“ জ্বী, কোন গাজী?"
চেঁচিয়ে শুধালেন সাইফুল্লাহ, গাজী সাহেব ফোনটা
কান থেকে একটু সরিয়ে ধরলেন এরপর নিজের ভুল শুধরে বললেন,
“ ঐ যে কুড়ার ঘাট আজিজিয়া মসজিদে বসে কথা বলেছিলেন গত সোমবার সন্ধ্যায়,পাত্রীর ব্যাপারে।আমি সেই লোক বলছি,পাত্রের পিতা!”
“ ওহ আইচ্ছা আইচ্ছা আপনে সেই ভাইজান বলছেন, বুঝছি এইবার!"
“ চিনতে পারছেন?"
“ জ্বী চিনতি পারছি!তা ভাইজান কেমন আছেন বলেন? এই অধম কিভাবে আপনার কামে আইতে পারি।পোলা কি রাজী অইছে?"
“ হ্যা এই বিষয়েই কথা বলতে চাইছিলাম, আপনি যদি একবার আমার বাসায় আসতেন তাহলে আমার কর্তৃও কথা বলতো আপনার সাথে!"
“ আসমু না ক্যানো?অবশ্যই আসমু! আপনে ঠিকানা দেন!"
“ আপনে আজিজিয়া মসজিদের ইমাম আবু ইউসুফ বরকতুল্লাহ ফতেহের কাছে গেলে উনি নিজেই আপনাকে নিয়ে আমার বাসায় আসবেন।"
“ আইচ্ছা আইচ্ছা ঠিক আছে তাইলে আমি হুজুরের কাছেই আগে যামু!"
“ হ্যা তাই করবেন,তা কবে আসবেন?"
“ আপনে কইলে এহোনই আইতে পারি। এমনিতেই ভালা কাম তাড়াতাড়ি হওয়াই উত্তম,তাই না!"
“ উমমমম, আপনি সন্ধ্যায় আসেন,ইফতারি করেন আমাদের সাথে,ছেলেও বাসায় থাকবো তখন। সামনাসামনি কথা হোক!"
“ আইচ্ছা ভাইজান, আল্লাহ চাইলে সন্ধ্যার সময়ই আসুম।"
“ হ্যা,তাই! তাহলে রাখছি,সন্ধ্যায় দেখা হবে, আল্লাহ হাফেজ!"
“ জ্বী আল্লাহ ভরসা,আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম!"
“ ওয়ালাইকুম আসসালাম!"
নাযির আহমাদ গাজীর সাথে কথা শেষ করে সাইফুল্লাহ মোবাইল ঘেঁটে একটি নাম্বার বের করে ফোন দিলো,
“ আসসালামু আলাইকুম, ভাবী সাব!"
“ ওয়ালাইকুম আসসালাম ভাইসাব,কেমন আছেন?"
“ এই তো আল্লাহর রহমতে আল্লাহ রাখছে, আলহামদুলিল্লাহ। আপনেগেও খবর কি? ভাই কি ঠিকঠাক আছে?"
“ আছে, আল্লাহ যে জান রাখছে তাই অনেক। আলহামদুলিল্লাহ!"
“ হ, সবই আল্লাহর ইচ্ছা।নাইলে সুস্থ সবল মানুষটা হাঁইটা গ্যালো কামে আর আইলো এ্যাম্বুলেন্সে শুইয়া
,হ্যাহহ!"
বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো সাইফুল্লাহ।সুলতানা আযিযাহ নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
“ ভাইসাব কি কিছু কইতে স্মরণ করছিলেন?"
“ হ,ভাবী এইবার মনে অয় আপনেরে একটি খুশির খবর দিতে পারমু বলে ধারনা করতেছি।"
“ মানে?"
“ মানে অইলো আমার আফিয়া মা জননীর লইগা আসলেই একটা দারুন প্রস্তাব পাইতে যাইতেছি মনে অয়!"
“ তাই নাকি, কিন্তু কিভাবে?"
“ হ,গত সোমবার কুড়ারঘাট মসজিদে গেছিলাম ইফতারির দাওয়াতে অংশ নিতে, ঐখানে যারা দাওয়াত দিছিলো তাগো পোলার বিয়া নিয়া আলোচনা করতাছিলো,আমি সামনে গিয়া আমার মাই জননীর লইগা প্রস্তাব রাখছিলাম,তারাই আজ তাগো বাসায় যাইতে কইছে।আমি আবার ভাবলাম হেদিকে যাওয়ার আগে একবার আপনেরে জানাই।
এবার কন ঠিক করছি কিনা?"
“ আপনেগো মাইয়া আপনেরা বিয়া দিবেন,আমি তো দুই মাইয়াই আপনের হাতে তুইলা দিছিলাম, একজনরে ঠিকঠাক হাতে তুলে দিতে পারছেন যহোন আরেকজনরেও পারবেন বলে বিশ্বাস রাখি।
এইহানে আমার মতো মুরুক্ষ মহিলার আর কি কওয়ার আছে।"
“ না সবই ঠিক আছে, কিন্তু তবুও মাইয়াডা তো আপনারই। আপনার সব জানা উচিত!"
“ আচ্ছা কন কি জানা দরকার?"
এরপর সাইফুল্লাহ নাসিফের সম্পর্কে সব খুলে বললো।সব শোনার পর সুলতানা আযিযাহ বেশ ভাবনায় পড়লেন।
“ হ্যা সব ঠিক আছে কিন্তু পোলাতো বিপত্নীক তাও আবার দুইটা বাচ্চা আছে; এমন পোলার সাথে?"
“ সমস্যা কি? পোলার টেকা পয়সার অভাব আছে? আপনের মাইয়ারে রাজরানী বানাইয়া রাখবো।আর পোলাপাইন তো এহোনও ছোড,যদি আদর যত্নে বড় করে তাইলে এই পোলাপাইনই তার নিজের বলে পরিচিত অইবো। আপনের মাইয়া তো বাচ্চাদের ভালোবাসে ,এই বাচ্চাদেরও না হয় নিজের মনে করেই ভালোবাসলো। অসহায় মা ছাড়া বাচ্চাদের ভালোবাসলে তো আল্লাহও খুশি অইবো।তার লগে স্বামীর সাথে সুখের সংসার থাকবো উপহার হিসেবে।আর কি চাই! আর একটা কথা আপনে গো দিনও কিন্তু আল্লাহ ঘুরাইয়া দিতে পারে এই উছিলায়।সব কিছু মিলাইয়া ভাইবা দ্যাখেন,আমারে জানান,আপনে হ কইলে আমি সন্ধ্যায় তাগো সাথে বসুম।"
“ আমারে একটু সময় দ্যান,আমি ওর বাপের লগে আলোচনা কইরা দেখি!”
“ আইচ্ছা কন!"
“ আসসালামু আলাইকুম ভাইসাব,ভালো থাইকেন!"
ঘটকের সাথে কথা শেষ করে একটু ভাবলো।নাসিফদের সম্পর্কে যা শুনলো তা নিয়ে চিন্তা করলো। অর্থনৈতিক অবস্থার দিক থেকে নাসিফদের অবস্থান এ শহরের উচ্চ বিত্ত শ্রেনীর। সেখানে তারা ছা পোষা। কিভাবে কি করবে? যদি সম্পর্ক হয় তখন কত রকমের নিয়মনীতি থাকবে যার কোনটাই পালনের সক্ষমতা আল্লাহ তাদের দেন নি। আবার যদি বিয়ের পর মেয়ের সাথে ভালো ব্যবহার না করে তখনও উনারা কিছুই বলতে বা করতে পারবে না। আবার প্রস্তাবটা ফেলে দিতেও সাহসে কুলাচ্ছে না।
তিনি স্বামীর পাশে বসে স্বামীর পায়ে তেল মালিশ করছিলো, হুজুরের পড়া তেল।সেটা রেখেই এত সময় ফোনে কথা বললো।ফোনটা পাশে রেখে তেল মালিশ করা ধরতেই নিয়াজ মোর্শেদ পা নাড়ালো,সুলতানা আযিযাহ চোখ তুলে তাকালেন,নিয়াজ মোর্শেদ ইশারা করলেন,যা সহজেই বুঝতে পারলেন সুলতানা আযিযাহ।আজ চার পাঁচ দিন ধরে ভীষণ ঠান্ডা লেগেছে নিয়াজ মোর্শেদের ,তাই কথা বলতে কষ্ট হয়। চেষ্টা করলেও এক দমই শব্দ বের হচ্ছে না। ডাক্তার বলে গিয়েছে আপাতত কিছুদিন কথা বলা থেকে বিরত থাকতে।তাই ইশারায় সব চলছে।
“ সাইফুল ঘটক ফোন দিছে,ভালো একটা পোলা পাইছে।"
ইশারায় নিয়াজ মোর্শেদ জানতে চাইলেন ছেলের কথা, সুলতানা আযিযাহ সাইফুল ঘটক যেভাবে বলছেন তাই ঠিক ঠিক বললেন।নিয়াজ মোর্শেদ আর কোন কথা বললেন না।নিস্তেজ চোখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো।জানালার গ্রিল বেয়ে দুটো লাউয়ের ঢগা উপরের দিকে উঠে গেছে, তাদের নব্য গজানো কচি পাতাগুলো বাতাসের দোলে ফরফর আওয়াজ তুলছে।নিয়াজ মোর্শেদের চাহনিতে কি ছিলো জানা নেই তবে তার চাহনিতে সুলতানা আযিযাহর চোখ ভরে এলো,ঝড়ঝড় করে তা গড়িয়ে পড়লো।সুলতানা আযিযাহর অশ্রু যখন নিয়াজ মোর্শেদের কদম ছুঁলো তার সাথে সাথেই পুরুষালি নিষ্ঠুর পাথর অক্ষু দিয়ে গড়িয়ে পড়লো গরম নোনা জল।সুতি পুরানো ফ্যাকাশে খয়েরী রঙের আঁচল টেনে মুখে গুজে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো সুলতানা আযিযাহ।নিয়াজ মোর্শেদ এখনো সেদিকেই চেয়ে আছে। অসহায়, পরনির্ভরশীল একজন পুরুষ তিনি,ব্যর্থ বাবা তিনি,যিনি কিনা আগলে রাখার সময় নিজেই এক সতেরো বছর বয়সী মেয়ের উপর নির্ভর হয়ে গেলো।শখ পূরণের বয়সে মেয়েটা সংসারের ঘানি টানতে লাগলো।শখ,আহ্লাদ,প্রয়োজন সব কেমন হাওয়ায় মিশিয়ে দিলো মেয়েটা। নিঃস্বার্থভাবে করতে করতে কখন যে নিজের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করলো টেরই পেলো না! এখনও তাদের প্রয়োজন মেটাতে নিজেকে বাজি ধরার প্রত্যয়ে স্থির হয়ে আছে।তিনি কি করবেন? নিজেইতো এক কদম চলতে পারে না।
বাথরুমেও যেতে হয় অন্যের উপর নির্ভর হয়ে,
সেখানে! যদি তিনি সুস্থ থাকতেন তবে কি তার এত সুন্দর আর ভালো মেয়েটাকে এভাবে যার তার হাতে তুলে দিতেন? যতই মেয়ের মাঝে খুঁত থাকতো তিনি বুকের মাঝে মেয়েকে লুকিয়ে রেখে বলতেন, “আমার মেয়ের জন্য আমি রাজকুমার আনবো যার কাছে বাচ্চা নয় আমার মেয়েই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।” অথবা বলতেন “আমি টাকা দিয়ে জামাই কিনবো যে বাচ্চার জন্য আমার মেয়েকে ছাড়বে না।" তবুও তিনি বিবাহিত দুই তিন বাচ্চার বাবার সাথে মেয়েকে বিয়ে দিতেন না কিন্তু এখন তো তিনি নিজেও অপারগ। ব্যর্থ বাবা,বোঝা একটা প্রানী। মেয়েকে বিদায় করতে পারলেই যেন বাঁচে।অথচ তারাই মেয়ের উপর নির্ভরশীল!
〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️〰️
“ঘটক সাহেবকে এগিয়ে দাও সবকিছু!
হ্যা ইমাম সাহেব বলেন এখন আপনার মতামত বলেন,কবে যাওয়া যায়!"
নাযির আহমাদ গাজী, নিজের বাড়ির গৃহকর্মী রুকাইয়াহকে উদ্দেশ্য করে আদেশ দিলেন ঘটক সাহেবের দিকে প্লেট এগিয়ে দিতে। এরপর ইমাম সাহেবকে উদ্দেশ্য করে শুধালেন উক্ত প্রশ্ন,ইমাম সাহেব পিরিচ থেকে আঙ্গুর তুলে মুখ পুড়লেন, চুকচুক আওয়াজ তুলে সেটাকে দন্ত তলে পিষে আঙ্গুল দিয়ে বিচি বের করে একটু দূরে ছুঁড়ে ফেললেন।গাজী সাহেব গভীর মনোযোগী ছাত্রের মতোই তার দিকে চেয়ে আছেন।এত কিছুর মাঝেও নির্লিপ্ত ভাবে পেয়াজু মুখে তুলছে নাসিফ আর তার গা ঘেঁষে বসা তারই বন্ধু আরিফ জুবায়ের অতি আগ্রহের সহিত এদিক পানে তাকিয়ে আছে।
“ আমি বলবো শুভ কাজ যত তাড়াতাড়ি হয় ততই কল্যান।রমজান মাস ছিলো, আল্লাহর ঘর মসজিদে বসেই আমরা এই খবরটা পাইলাম তার মানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিশ্চয়ই উত্তম কোন পরিকল্পনা আছে।তিনি নিশ্চয়ই চান এখানে ভালো কিছু ঘটুক।তাই বলবো সব দেখে শুনে ঠিকঠাক লাগলে,এই রমজানেই কাজ সারেন!"
ইমামের কথা ঘটকের বেশ লাগলো।সে চিকেন চপে কামড় দিতে গিয়েও হাত নামিয়ে ফেললো, তীব্র উচ্ছাস নিয়ে বললো,
“ অতি উত্তম, অতি উত্তম উপদেশ দিয়েছেন ইমাম সাহেব। রমজানে বিয়ে মানেই আল্লাহর বিশেষ রহমত থাকবে তাদের উপরে। আপনেরা বললে আমি মাইয়ার পরিবারের সাথে এই বিষয়ে কথা কইতে পারি!"
” থামেনা থামেন,একটু শান্ত হোন। ছেলে বিয়ে দিবো।জবাই না। দ্বিতীয় হোক আর চতুর্থ; বিয়ে তো বিয়েই! দেখে শুনে জাতের মেয়ে আনতে চাই।কারণ আমার ছেলের বউ হয়ে যেই এ ঘরে আসবে সে আমার বংশের ভবিষ্যত কর্ণধার হবে। আমার বংশের মানমর্যাদা গৌরব সব তাকে ঘিরে থাকবে।আমি যাকে তাকে এনে তো ছেলের জীবনও বিপদে ফেলতে পারি না আর নিজের বংশের , বাপা দাদাদের তৈরি এত বছরের সম্মানকেও জলাঞ্জলি দিতে পারি না।তাই আমি একটু সময় নিতে চাই।আগে সব দেখবো, বুঝবো এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে ভাববো!"
“ তা তো অবশ্যই, আপনি ভাবেন,দ্যাহেন,যতদিন লাগে ভালো করে দেইখা শুইনা বিবেচনা কইরা তারপর চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত ন্যান।আমি কোন তাড়া দিতে চাই না, যাতে ভবিষ্যতে আমাকে দুইডা কটু কথা না কইতে পারেন আপনি!"
“ হ্যা, আমিও তাই ভাবছি।আপনি নিশ্চিত থাকেন,আপনাকে বেকার খাটাবো না।"
“ আল্লাহ; ছিহ ছিহ কি কন এগুলা গাজী সাহেব!"
বলেই ঘটক নিজের কানে চিমটি কাটলো।গাজী সাহেব ছেলের নিরস ভাব দেখে হতাশার দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।নাসিফ রাজী হয়েছে তবে সেটা মন থেকে কি-না তা কেবল আল্লাহ মাবুদ'ই ভালো জানেন।তাই তিনি আগে নিজের ছেলেকে বুঝতে চান,অযথা কারো মেয়েকে এনে মেয়েটার জীবনটা নষ্ট করতে চান না। এমনিতেই ঐ মেয়েটা বড় অসহায়,জটিল তার জীবনটা আর জটিল করতে চাচ্ছেন না।
“ তাইলে আইজকা উঠি গাজী ভাইজান,আমারে আবার খোলামোড়ার দিকে যাইতে অইবো একটু!"
“ আরো কাজ ধরছেন নাকি?"
“ হ্যা,প্যাট চলে যা দিয়া তা তো করতেই অইবো!"
“ তারা কি করে? মানে পাত্র পাত্রী?"
“ ছেলে নিউমার্কেটের ব্যাবসায়ী, মেয়ে মাত্র মেট্রিক দিলো।"
“ বাচ্চা মেয়ে,এত তাড়াতাড়ি বিয়ে!"
“ নাক কান কাঁটার আগে বিদায় দেওয়া ভালো না?"
বুদ্ধিমান লোকের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।তাই উপস্থিত সবাই ঠিকই বুঝলো ঘটকের কথার অর্থ।তিনি উঠে দাঁড়িয়ে সালাম জানিয়ে বিদায় নিতে যেতেই গাজী সাহেব বললেন,
“ মেয়ের বাবা মা যার সাথেই যোগাযোগ করা যায় তার নাম্বার কি দেওয়া যাবে সাইফুল্লাহ ভাইসাব?"
ঘটক একটু ভাবলো, এরপর বললো,
“ হ হ দেওন যাইবো না ক্যা , অবশ্যই যাইবো।লন নাম্বার লন।"
মোবাইল ঘেটে নাম্বার বের করলেন ,নাযির আহমাদ গাজী ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“ নাসিফ নাম্বারটা তুলো তো ফোনে!"
নাসিফকে বললেও আগ্রহ দেখিয়ে এগিয়ে এলো আরিফ জুবায়ের,সে নিজের ফোনে নাম্বারটা টুকে নিলো। নাম্বার তোলা শেষ করেই নাযির আহমাদ ঘটককে উদ্দেশ্য করে বললেন,
“ রাতের খাবার খেয়ে তারপর যাবেন।"
সাইফুল দোনামোনা করে বললেন,
“ কিন্তু আমার খোলামোড়া যাওয়াটা জরুরী!"
“ সে যাবেন ক্ষনে,ফোন দিয়ে জানিয়ে দিন, আপনি আজ এখানেই খাচ্ছেন রাতে।"
কথা শেষ করে সবাই মনোযোগ সহকারে ইফতারি করতে থাকলেন,যেহেতু বাইরের পুরুষ ভেতরে ঢুকেছে তাই ঘরের নারীরা নিজেদের মতো ঘরেই ইফতারি করছে। অন্দরে বসে ইফতারিতে অংশগ্রহণ করা নাফিসা নিজ জননীর উদ্দেশ্য বললেন,
“ আম্মা,ভাইয়াকে যে বিয়ে দেওয়ার জন্য আব্বা আর আপনি এত উঠেপড়ে লেগেছেন যদি সত্যি ভাইয়ের ভয়ই সত্যি হয়?তখন?"
সালমা ফাওযিয়া মেয়ের পানে চেয়ে,নাতনির দিকে তাকালেন খনিকের জন্য এরপর আবার মেয়ের দিকে চাইলেন অতঃপর বললেন,
“ সময়ই সব নিয়ন্ত্রন করে, সেখানে আমাদের করনীয় কিছুই নেই! তবে এতটুকু মনে রাখবে তোমার ভাইয়ের জীবনে যেই আসুক, তার ব্যবহার যেমনই হোক এই দুই অবুঝের দায়িত্ব আমাদের উপরেই।
আর খারাপ হতে পারে বলে আমি তো মা হয়ে আমার ছেলেকে একটা জীবন একাকী কাটিয়ে দেওয়ার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিতে দিতে পারি না।এখন সুস্থ সবল আছে তাই সব নিজেই করতে পারছে কিন্তু একটা সময়ে গিয়ে তা আর সম্ভব হয় না।মনে রাখবে একজন নারীর প্রয়োজন তার মৃত্যুর আগ অবধি এই পৃথিবীতে থাকে, কিন্তু একজন পুরুষের প্রয়োজন তার বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে।নারীর প্রয়োজনেই নারীকে কদর করে শেষ বয়সে এসেও কিন্তু পুরুষের কদর করার জন্য কেবলই তার সঙ্গিনী থাকে। তাই শেষ বয়সে নারীর সঙ্গি ছাড়া চললেও পুরুষের সঙ্গিনী ছাড়া চলে না।"
“ আম্মা ভাইয়া কি মন থেকে মানতে পারবে নতুন ভাবীকে।আমিরা ভাবীকে ভাই কত ভালোবাসতো তাতো আমরা সবাই দেখেছি।সেই স্মৃতি থেকে এখনও ভাই বের হতে পারছে না তাহলে নতুন ভাবীকে কিভাবে..
“ নারীরা সব পারে,স্ত্রী হলে তাদের সেই ক্ষমতা আরো দ্বিগুন হারে বাড়ে। সুতরাং দেখা যাক যে আসবে সে কতখানি পারে আমার ছেলেকে নিজের বশে নিতে , যদি না পারে সেটা একান্তই তার ব্যর্থতা।"
নাফিসা বুদ্ধিমতী মায়ের কন্যা, তবুও তার সবসময় ভাইয়ের চিন্তায় তাল মেলাতে হচ্ছে পাছে তার অতি আদরের তুলতুল আর চ্যাম্পকে কষ্ট না পেতে হয়।
চলবে?
ভালো লাগুক আর মন্দ লাগুক জানিয়ে যেতে ভুলবেন না দয়া করে 😒
হ্যাপি রিডিং ডিয়ার রিডার্স 😚







0 মন্তব্যসমূহ