#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৫
‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️
রাত দশটা বাইশ,
তারাবীহতে দাঁড়িয়েছে আফিয়া, তার পাশেই তার মা। মায়ের পাশে সাফিয়া। সবাই সবার মতো সালাতে মশগুল হয়ে আল্লাহর দরবারে নিজেদের আর্জি পেশ করছে। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে।
আজ বহুদিন পর সেই মানুষটির চেহারা আফিয়ার চোখে ভাসছে,না চাইতেও বারবার নামাজের মাঝে দৃশ্যটি ফুটে উঠেছে, অন্তর কাঁপছে ,দেহ থেমে থেমে কাঁদছে,আফিয়া সিজদায় বিরবির করে রবের কাছে অনুরোধ করছে
“ ইয়া আল্লাহ,ইয়া রাব্বুল আলামীন আপনি মহান, সর্বশ্রেষ্ঠ পরম মহাক্রমাশীল,দয়ালু,রহমানুর রাহীম,আপনি আমার উপর নিরাশ হইয়েন না। আপনি নিরাশ হলে আমি ধ্বংস হয়ে যাবো। আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে! ইয়া আল্লাহ,ইয়া মাবুদ আপনি আমাকে আরও ধৈর্য্য ধারনের ক্ষমতা দেন, আমাকে ধৈর্য্যশীলদের মধ্যে সামিল করুন, অনুচিত আর অনাকাঙ্ক্ষিত গুনাহের থেকে বিতাড়িত রাখুন,ইয়া পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহ আপনি আমাকে জিনাহ থেকে দূরে রাখুন। আমাকে মুমিনাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করুন, জান্নাতে মা ফাতেমার দলে থাকার সৌভাগ্য দিন,ইয়া রহমানুর রাহীম দুষ্ট জীনদের আছড় থেকে আমাকে পানাহ দিন।আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি, আমাকে আশ্রয় দিন রব,আমাকে কবুল করুন দ্বীনদার নারীদের দলে। আপনার প্রিয় বান্দাদের দলে।আপনি এক ও অদ্বিতীয় মহান, সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু। আপনার কোন অংশিদার নেই,না কেউ আপনার সমকক্ষ হতে পারে!আমি স্বীকার করে নিচ্ছি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আপনার প্রেরিত রাসুল এবং শেষ নবী।আমি আপনার প্রিয় পয়গম্বরের প্রিয় উম্মতের দলে সামিল হতে আপনার দ্বারে আকুতি জানাচ্ছি আপনি আমার আকুতি কবুল করুন মহান সৃষ্টিকর্তা,আমাকে নিজের প্রিয় আর উত্তম বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নিন।আমীন।"
ফুঁপিয়ে কান্নার দমকে দমকে বারবার কেঁপে উঠছে আফিয়ার শরীর।সিজদাহ থেকে সিক্ত বদনে উঠে পরপর কয়েক রাকাত সালাত শেষে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে নিজের ইবাদতে আপাতত বিরতি টানে। পাশে থাকা তার জননী তখনও গভীরভাবে মোনাজাতে আছে,তার গাল গড়িয়েও পড়ছে অশ্রু,তিনি মেয়ের সব কথাই শুনেছে, পাশাপাশি জায়নামাজে থাকায় বিরবির করে বলা সব কথাই শুনতে পেরেছে।তার কারণও বুঝতে পেরেছে। মেয়ের কষ্টের কারণ খুব ভালো করেই জানা তার। কিন্তু করারও বা কি আছে? এই দুঃখকে ভুলাতেই তো মেয়েটাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে চাইছে।
“ তোমারে একটা কথা কই আম্মা,রাগ করিও না। তোমার ভালোর জন্যই বলতেছি!"
সিজদায় বসে আঙ্গুলের কড়া গুনে ছোট ছোট আমল করছিলো আফিয়া। সুলতানা আযিযাহ নিজের নামাজ শেষে তসবিহ হাতে তুলে নিলো,সাফিয়া কোরআন খুলে বসেছে। আফিয়া বোনের দিকে তাকিয়ে দেখলো সে এখন সুরাতুল আল আনাবিয়া শুরু করছে,যার প্রথম লাইনই লেখা “ ইকতারাবা লিন্না-ছি-হিছা-বুহুম ওয়া হুম ফী গাফলাতীম মু'রিদুন " অর্থাৎ “মানুষের হিসেব গ্রহনের কাল ক্রমশঃ ঘনিয়ে আসছে কিন্তু তারা গাফিলতিতে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে।" কি ভয়াবহ কথা! আমাদের অন্তিম মুহূর্তেও আমরা রবের চাইতে বেশি গুরুত্ব অন্য কিছুকে দিচ্ছি,অথচ আমাদের বিচার কার্যের কাল নিকটে।
সুলতানা আযিযাহ তসবিতে ডান হাতের আঙ্গুল থামিয়ে রেখে বড় মেয়ের হাতের উপর নিজের বাম হাত রাখলো।মায়ের স্নিগ্ধ হাতের ছোঁয়ায় আফিয়া নিজের দৃষ্টি ঘুরিয়ে মায়ের উপর অর্পিত করলো,মা কিছু বলবে বুঝতেই জিজ্ঞেস করলো,
“ কি বলবা আম্মু!"
“ তোমার ভালোর জন্যই আমি বলতেছি,যাতে কখনো তোমার নিজেকে নিঃস্ব মনে না হয়। তোমার হয়তো মনে হইতে পারে তোমার মা কেন তোমার জন্য বিবাহিত পুরুষ খুঁজে; তোমারে আল্লাহ যেই সমস্যা দিছে, এই সমস্যার জন্য হয়তো তোমাকে আমি গাঙ্গে ফেলে দিতাছি। তোমার ভাবনা সত্য। মিথ্যা বলবো না।আমি গাঙ্গেই ফেলতাছি তোমারে যাতে তুমি সাঁতার কাইটা হলেও ভালো কুলে গিয়া ঠ্যাকো।যেই কুলে তোমারে তোমার খুঁত নিয়া কথা শোনানোর লোক থাকবো না।যখন তোমার কোলে,ঘর ভর্তি বাচ্চা কাচ্চা থাকবো তখন নতুন কেউ তোমারে কইবো না তুই বাজা।যা আগে কইতো
তাগো মুখেও তালা লাগবো,যদিও বা তহোন কিছু কয় তাইলে তা কইবো তোমার মহত্ত্ব নিয়া।তুমি জন্ম না দিয়াও বাচ্চার মা অইছো,তাগো মুখে মা ডাক শুনছো ।এই গুলা নিয়া।হোন মা,যতই আমরা কই বিয়া করুম না, বাচ্চা লাগবো না দিনশেষে সবারই এগুলার দরকার আছে!আমি চাই না তুমি শ্যাষ বয়সে গিয়া একাকীত্বের রোগে ভুগো।"
“ আমি জানি আমার ভালোর জন্যই বলছো!"
পাশ থেকে সাফিয়া বলে উঠলো,
“ তোমার বাচ্চাকাচ্চা হইবো না দেইখাই তো আম্মু তোমার জন্য বাচ্চাওয়ালা পাত্র খুজতেছে।যতই বলি সত্যি তো সত্যিই থাকে,কোন অবিবাহিত পুরুষই এমন একটা মেয়েকে বিয়ে করবে না যার কোনদিন বাচ্চাকাচ্চা হবে না। সেক্ষেত্রে সেই মেয়ের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় কোন এমন পুরুষকে নিজের জন্য পছন্দ করা যার বউ নাই,অথবা তালাক দিয়ে দিছে বউকে,তার বাচ্চা আছে আর সেই বাচ্চার জন্য মা দরকার।এতে করে মেয়েটারও বিয়ে হইলো,স্বামী সংসার হইলো আর ঐ বাচ্চাগুলাও মা পাইলো।পেটে ধরবা না তো কি হইছে তুমি তাদের নিজের বাচ্চা মনে করবা তাইলেই দেখবা সব সহজ! এমনিতেও আমি তোমাগো জামাইয়ের থেকে শুনছি দুলাভাই বউ পাগলা ,তার মাও ছেলের বউদের অনেক যত্ন করে।আমি নিশ্চিত তোমারেও অনেক ভালোবাসবো। বাচ্চা নিয়াও কথা বলবো না।বলবো কেন? তাগো তো উত্তরাধিকার আছেই তাই না, মা? আমার মনে হয় কি আপা তোমার রাজী হয়ে যাওয়া উচিত। দুলাভাই বেশ রসিক মানুষ, তোমার কথা সবসময় জিগায়।আমারে বলে তুমি নাকি লজ্জায় তার ফোন রিসিভ করো না।!
“ ফোন দিছিলো?"
জানতে চাইলেন সুলতানা আযিযাহ। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে উত্তর দিলো আফিয়া,
“ দিছিলো,আমি ধরি নাই!"
“ ধরতি, কি কয় হুনতি!"
“ মা!তার কথাও শোনার ইচ্ছা নাই, তার রসকসে মজারও ইচ্ছা নাই!"
“ তুমি এমন ভাব করতেছো মনে হয় কচিখুকি! কিছুই বুঝো না।সব বুইঝাও না বুঝের মতো আচরণ করতেছো কেন? আজাইরা!মা তোমারে বুঝাইতে বুঝাইতে ক্লান্ত হইয়া যাইতাছে,আর আমি মায়ের তোমারে বুঝানো দেখতে দেখতে ক্লান্ত হইয়া যাইতাছি, ঐদিকে আব্বা কানতে কানতে আরো অসুস্থ হইয়া যাইতাছে অথচ তুমি বিয়া করলেই সব সমস্যার সমাধান হইয়া। এত ভাব দেখাইতো কিসের জন্য? এহোন বয়স আছে বিয়ার,বছর দুই আরো গ্যালে এই বিয়াইত্তা তালাক প্রাপ্ত,বউ ছাড়া ব্যাডারাও জিগাইবো না।
তহোন পাইবা সত্তর বছরের বুইড়া,ঐ যে বড়লোকেরা মায়ের মরণের পরে বাপের দেখভালের জন্য ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছরের বেডিগো খুঁজে বের করে বিয়া পড়ায় না সেইরকম পাইলেও পাইতো পারো।
তোমার কপালে যদি জুয়ান,আবিয়াইত্তাই থাকতো তাইলে এতদিনে জুটে যাইতো।মা তো কম চেষ্টা করতেছে না!আর খাইরুল ভাইয়েও ছাইড়া যাইতো না।এত বছরের সম্পর্ক ছাইড়া গ্যাছে এই কারণেই তাইলে তোমার তো এমনিতেই বোঝা উচিত এই সমস্যা জাইনা কেউ বিয়া করবো না তাও আবার আবিয়াইত্তা। সুতরাং তুমি চাও আর না চাও আল্লাহ তোমার কপালে এইডাই লিখছে! তুমি তো আল্লাহরে অনেক মানো তাইলে এইডা ক্যান মানতেছো না! তোমার এইসব ন্যাকামি দেখতে দেখতে আমি জাস্ট বিরক্ত হয়ে পড়ছি।ধুর!"
নিজের লম্বা বক্তৃতা শেষে ফট করে উঠে দাড়ালো সাফিয়া।কোমড় ভেঙে রেহাল সহ কোরআন শরীফ উঠিয়ে বুকের ওপর চেপে ধরে গটগটিয়ে হেঁটে গেল নিজেদের ঘরের দিকে।
ছোট বোনের এমন তিক্ত কথায় নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করলো না আফিয়া।মা হয়েও চুপ রইলেন সুলতানা আযিযাহ। পরিবেশ কেমন থমথমে হয়ে আছে। নিস্তব্ধতা ভেঙে কেবল ফ্যানের গটরগটর শোনা যাচ্ছে।
গাজী বাড়িতে উপস্থিত ঘটক সাইফুল্লাহ রাতের খাবারে অংশগ্রহণ করেই অবশেষে বিদায় নিতে পারলেন, অবশ্য যাওয়ার সময় পাত্রীর একখানা ছবি দিয়ে যেতে হয়েছে।
গাজী পরিবারের প্রধান কর্তা নাযির আহমাদ গাজী এবং সালমা ফাওযিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়ে সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার।তাই কিভাবে কি করা যায় তাই আলোচনা করছে দুজনে মিলে। ঐদিকে নাসিফ ওয়াসীত্ব গাজী নিজ গৃহে মৃত স্ত্রীর ছবি আঁকড়ে আপন মনে নানা জল্পনা কল্পনা করছে,তার পাশেই পড়ে থাকা মোবাইলে পাত্রীর ছবি ভাসছে।একটু আগেই দিয়ে গেছে নাফিসা।
নাসিফ নিজের মৃত স্ত্রীর ছবিটা রেখে হাত বাড়িয়ে মুঠোফোনটি তুলে ধরলো,
কালো বোরকা হিজাবের মাঝে শ্যাম বর্ণের গোলগাল একটা মুখ, কাজল ছাড়া অক্ষিপল্লবের নিম্নাঃভাগে মেঘের বসবাস, দু চোখের নিচে পড়ে থাকা আধারিরা জানান দেয় তার জীবনের জটিলতার ছাপ। একদম সাদামাটা একটি ছবি তাও কোথাও একটা তীব্র অনুভূতি হলো বোধহয়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও তুলে নেওয়া ছবিটা আরেকটু কাছে এগিয়ে নিলো।বেশ মনোযোগ দিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকলো ছবির রমনীকে।বড় বড় ডাগর আঁখি পাতায় থাকা কালো দগদগে তিল,বড় বড় পাপড়ির আচ্ছাদনে ডেকে আছে অর্ধেক পত্র,কমলার কোয়ার ন্যায় ছোট্ট ঠোঁট,তার নিচে জোড়া তিল নেই তাতে কোন প্রসাধনী , চকচকে ত্বকে দুটো ছোট গোলাকার দাগ দেখা যাচ্ছে, সম্ভবত গুটি বসন্তের চিহ্ন বাকীটা একদম পরিষ্কার,একটা চিমটির দাগও কোথাও নেই।চৌখা লম্বা নাক। সবকিছু, সবকিছু বেধ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকলো নাসিফ, অগোচরেই আপনমনে বেরিয়ে এলো একটা লাইন,
“ নির্ঘাত বেহেস্ত থেকে নেমে আসা শ্যামপরী,একে কেউ কি করে রিজেক্ট করতে পারে?"
🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤🖤
তিনদিন পর,
নয়'ই রমজান,সকাল এগারোটার পর,কালো বোরকা পরিহিতা দুই নারীকে দেখা যাচ্ছে বড়গ্রাম বড় মসজিদের আশেপাশে, তারা একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে তাকিয়ে আছে,হাতে একটা ছবি।এই ছবিকে দেখিয়ে আশেপাশে দোকানে দাঁড়িয়ে টুকটাক জিজ্ঞাসা করছে,
“ এই বাড়িতে একটা মাইয়া থাকে,নাম মনে অয় আফিয়া,হ্যার ব্যবহার কেমন? বাইচ্চা গাইচ্চার লগে ভালো ব্যবহার করে?"
চাওয়ালী দোকানি চাচী অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে দেখলো বোরকা পরিহিতা রমনী দুটোকে।বাড়িতে দুটো মেয়ে আছে তা জানে। কিন্তু কোনটা কেমন তা জানে না, সম্ভবও নয়। সবচেয়ে বড় কথা তিনি এই ছবি দেখেও চিনতে পারছে না।দোকানি এই দোকান দিয়েছে বছর তিন হলেও এই বাড়ির মেয়েদের মুখ দেখেনি।যখনই বের হতে দেখেছে সবসময়ই দুটোর মধ্যে একটাকে আগাগোড়া কালো পর্দায় ঢাকা দেখেছে তো আরেকটি বোরকা পড়ে মুখে কালো মাস্ক পড়া থাকে। রোজ সকালে একটি বের হতে দেখে যে ফেরে রাতের অগ্রভাগে,তখনও মুখে মাস্ক বোরকা গায়ে।মোট কথা তিনি এখনও মেয়ে দুটোর মুখ দেখেনি। তবে একটা ছেলে আছে যে সবসময় উনার দোকান থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে। বন্ধুদের নিয়ে চাটা পান করে। ছেলেটাকে দেখতে একদম রাজকুমারের মতো লাগে,কি দারুন সভ্য, ভদ্র।
ছেলেটা যখন এমন তার মানে নিশ্চয়ই বোনেরাও এমনি হবে, দোকানি নিজ আন্দাজ থেকেই বলে দিলেন,
“ ভালো, মাশাআল্লাহ, সবসময় পর্দায় থাকে।বাইরের মাইনষের সাথেও আড্ডাসাড্ডা দিতে দেহিনা। হুনছি বড় মাইয়াডা চাকরি করে, তয় এহোনও বিয়া অয় নাই। কিন্তু ছোডডার কয়দিন আগেই বিয়া অইয়া গ্যাছে।উঠাইয়া ন্যায় নাই মনে অয়।”
“ আদব কায়দা ক্যামন?"
চাচী চোখ কুঁচকে বললেন,
“ ভালোই,তয় আমনেরা ক্যারা? এত কতা জিগাইতাছেন ক্যান?"
রমনী দুজন একে অপরের দিকে তাকালো, এরপর একজন গলা নামিয়ে ঝুঁকে এসে বললো,
“ পাত্রী দরকার তাই,একটু খোঁজখবর নিতে অয়,বুঝে না একটা বিয়া সারাজীবনের বিষয়!"
“ এমনে খবর নিলে অইবো? কত মানুষ আছে মাইনসের ভালা চায় না।তারা যদি খারাপ কিছু কয় তাইলে কি মাইয়াডা খারাপ অইয়া যাইবো?"
তারা আবার চোখাচোখি করলো,চাচীর কথার যথার্থ মূল্য আছে। তবুও! চাচী আবার বললেন,
“ আমারে ছবিডা আরেকবার দ্যাহান দেহি।"
মহিলা দুজন ছবিটা সামনে তুলে ধরলো।চাচী মনোযোগ দিয়ে দেখলো এরপর বললো,
“ এইডা মনে অয় বড় মাইয়াডা,চেহারা তো কোনদিন দেহি নাই তয় মাস্কের উপর দিয়া চোখ দেখছি, মারাত্মক সুন্দার।হুনছি এই মাইয়াই পুরা সংসারটা টানে!"
চাচী না দেখেও প্রশংসা করছে তাই ঐ দুই নারীর বেশ একটা ভালো লাগলো না।তবে আর তথ্য নেওয়ারও দরকার পড়লো না।যতটা আশপাশে থেকে বুঝলো এদের ঘরের বাইরের মানুষের সাথে উঠাবসা কম,মানে হয়তো ঘরেই থাকতে পছন্দ বেশি করে।তাই তারা চাচীকে ধন্যবাদ দিয়ে বললো,
“ ধন্যবাদ চাচী,আমরা তাইলে আসি!ভালো থাইকেন।"
তারা বিদায় নিয়ে চলে গেল।চাচী নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন এমনিতেই অনেক সময় নষ্ট করেছেন।
চলবে??
জানাতে ভুলবেন না কেমন ছিলো আজকের পর্বটা!
হ্যাপি রিডিং ডিয়ার রিডার্স ❤️







0 মন্তব্যসমূহ