সুখ প্রান্তর অতিথি আগমন । সারপ্রাইজ_পর্ব_০৩

 #সুখ_প্রান্তর_অতিথি_আগমন

#শেখ_মরিয়ম_বিবি

#পর্বসংখ্যা_৩



[নকলবাজি থেকে সতর্ক করা হল। ভালো লাগলে শেয়ার ও মেনশন করবেন প্লিজ।]



মধ্যরাত....


দুই পাশে নাসিফ ও আফিয়া , মাঝখানে তাইফ। বাবার পেটে মাথা ঠেকিয়ে পা রেখেছে মায়ের পেটের উপর। এটা তার ঘুমের মধ্যেও কুস্তি খেলার নমুনা। আফিয়া কাত থেকে সোজা হতে যেতেই তাইফের পায়ের আঘাত লাগল তার পেটে। ঘুমের ঘোরে বিভোর আফিয়া মৃদু স্বরে আহ্ করে উঠল। তাতেই নাসিফের ঘুম ছুটে গেল। সে তড়াক করে চোখ মেলে আধ শোয়া অবস্থায় তাইফ ও আফিয়ার দিকে তাকাল। আফিয়া চোখ খিচে পেটের উপর হাত বুলাচ্ছে। পাঁচ মাসেই পেট বেশ উঁচু হয়েছে তার। শরীরের ওজন অনেক বেড়ে গিয়েছে। নড়চড় করতে একটু কষ্ট‌ই হয়। তার মধ্যে পায়ের পাতায় পানি জমে, ব্যথা তো আছেই।

নাসিফ আড়াআড়ি শোয়া শিশু পুত্রকে দেখে সোজা হয়ে বসল। বাম হাতে চোখ ঢলে ছেলেকে টেনে নিজের দিকে শুইয়ে দিয়ে সে মাঝখানে গিয়ে বসল


_ এ্যাই, কি সমস্যা হচ্ছে? পেটে কি খুব লাগল? আফিয়া, এ্যাই নাইফের আম্মা!


নাসিফ আফিয়ার গালে ঠোট ঠেকিয়ে পেটের উপর হাত রেখে আলতো করে ছুঁয়ে দিতে দিতে এভাবেই আফিয়াকে ডাকছে। এমনিতেই থাইপোথাইরয়েডের পেসেন্ট তার মধ্যে অনেক রকম ঔষধ খায় বলে আফিয়ার ঘুম‌ও গাড় হচ্ছে কয়েকদিন ধরে। এছাড়াও সারাদিনের ছোটাছুটি, রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লেও পায়ের ব্যথায় ঘুমাতে পারে না। নাসিফ যখন মালিশ করে দেয় তারপর একটু সময় ঘুমায়। ঘুমের ঘাটতির কারণে মাথা ঘুরে ঘনঘন। তাই ডাক্তার কম পাওয়ারের ঘুমের ঔষধ দিয়েছে একান্ত দরকারে খেতে। কিন্তু এত ঔষধ খেতে হয় যে সব গুলো ভেতরে গিয়ে আফিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।


নাসিফের মৃদু কণ্ঠস্বরের আওয়াজে আফিয়ার ঘুম না ভাঙ্গলেও নাসিফের ঘন আধ কাঁচাপাকা দাঁড়ি, গোঁফের খোঁচা আর রুক্ষ ঠোঁটের খসখসে ছোঁয়ায় ঠিক‌ই ঘুম ছুটে গেল। চট করে চোখ মেলে চমকে যাওয়ার মতো করে বার কয়েক এদিক ওদিক তাকিয়ে নাসিফের দিকে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করল,


_ আযান দিয়ে দিয়েছে? আপনি ঘুমান নাই? ছেলে ক‌ই?


নাসিফ, আফিয়ার ভীতসন্ত্রস্ত মুখশ্রী দেখে ওর কপালে হাত রাখল। এসির পাওয়ার একেবারেই কম করে রাখা, গায়ের উপর পাতলা নকশিকাঁথা মেলে দেওয়া, তারপরও আফিয়ার গা বরফ হয়ে আছে। নাসিফ তড়িঘড়ি করে ভালো করে আফিয়ার আশেপাশে কাঁথা গুঁজে দিয়ে বাতাস ঢোকার পথ রূদ্ধ করে দিল। নিজেও গা ঘেঁষে আরো মিশে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,


_ আযান দেয়নি, আমি ঘুমিয়েছি, ছেলে ঐপাশে আছে।


আফিয়া ঘাড় ফিরিয়ে নাসিফের পিছনে উঁকি দিয়ে দেখল তার যোদ্ধা ছেলে কোলবালিশ আঁকড়ে ঘুমাচ্ছে। সে স্মিত হেসে স্বামীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,


_ গায়ে পা তুলে দিয়েছিল না!


_ আমার মনে হল তোমার অসুবিধা হচ্ছে, তাই স্যারকে ওপাশে রাখলাম। ঘুমাক ঐখানে। আমি এখানেই থাকব।


বলেই সে আফিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, পেঁচিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে শুয়ে পড়ল। আফিয়া নাসিফের কান্ডে চোখ গোল গোল করে বলল,


_ কি করতাছেন? ছেলে উঠে যাবে, পরে একটা যাতা পরিস্থিতি....


_ হবে না। তুমি ঘুমাও তো।


বলেই নাসিফ আফিয়ার মুখটা নিজের লোমশ বুকের সাথে চেপে ধরল। লোমশ বুকের উষ্ণতায় আফিয়ার নাকে সুড়সুড়ি দিতে লাগল। ও মুখ উঁচিয়ে আধ চোখ বুজা নাসিফের দিকে এক পলক তাকিয়ে পরমুহূর্তেই নাসিফের বুকে ঠোঁট ছোঁয়ায়। নাসিফ দাঁত কিড়মিড় করে তাকিয়ে বলল,


_ জ্বালাবা না। ঘুমাতে দিয়েছি, ঘুমাও। আমাকে উত্যক্ত করবা না, খবরদার।


_ করব!


বলেই আফিয়া আবারও চুমু দিল, পুরো বুক জুড়ে এক‌ই কাজ করতে থাকল। আঙ্গুল দিয়ে নাসিফের নাভেল লাইন জুড়ে সুড়সুড়ি দিতে থাকল। নাসিফ দাঁত খিচে আফিয়ার জ্বালাতন সহ্য করছে। আফিয়ার গর্ভ ধারণের সংবাদ পাওয়ার পর থেকে সে নিজে থেকেই দুরত্ব বজায় রেখে চলছে। আফিয়ার সঙ্গে একাকী সময় খুব কম কাটায়। একাকী থাকলেও ব্যস্ত থাকে আফিয়ার সেবাযত্ন করা নিয়ে। অথচ এই নারী এখন তাকে উত্তেজিত করার কত কৌশল অবলম্বন করছে! এ কি বুঝে নাসিফের কত কষ্ট হয়? এভাবে করলে কীভাবে চলবে! এ যদি তাও সুস্থ মানুষ হতো। এমনিতেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভোগে, তার মধ্যে এখন সে গর্ভবতী! এই অবস্থায় দেহ চাইলেও নাসিফের মন সায় দেয় না। সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কিন্তু এখন এই নারীর ছলনা কীভাবে সামলাবে?

আফিয়া নাসিফের বুকের দ্রুত গতির শ্বাস-প্রশ্বাসের বলিরেখায় বুঝে নিল নাসিফের ভেতরের অবস্থা। অস্থির করতে পেরে তার ভালোই লাগছে। সে আরো একটু সাহস করল। তার দুষ্টু হাতখানা আরো একটু নিচে নামিয়ে নাসিফের উরুতে রাখল। এক‌‌ই কায়দায় সুড়সুড়ি দিতে দিতে নাসিফের নিপলে কামড় দিল। ব্যস!

নাসিফের ধৈর্য্যের বাঁধ খসে পড়ল। বুকের সাথে চেপে ধরা নারীটিকে বালিশের উপর রেখে তার উপর অর্ধ শোয়া হয়ে ফিসফিস করে বলল,


_ তুমি শুরু করেছ, উনিশ বিশ কিছু ঘটলে তার দায়ভার‌ও তোমার!


_ এ্যাই না প্লিজ!


কোন প্লিজে কাজ হল না। নাসিফ আফিয়ার ঠোঁট জোড়া দখলে দিল। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের তৃষ্ণা একসাথে মেটানোর প্রয়াসে লাগামহীন ভাবে আফিয়ার ঠোঁটে চুমু দিতে থাকল। দুষ্টু আফিয়া ফাঁদে পড়ে চড়ুইয়ের মতো ছটফট করছে। নাসিফের হাতের লাগাম‌ও নিয়ন্ত্রণ হারাল। সে বহুদিন খরার পর হঠাৎ বর্ষণে জমিন যেভাবে প্রাণ ফিরে পায়, সেভাবেই যেন তার মাঝে প্রাণের সঞ্চার ঘটল। ঠোঁট থেকে চিবুক, চিবুক ছুঁয়ে কণ্ঠনালী, কণ্ঠনালী থেকে বক্ষবিভাজনের গহীন খাঁদ অতঃপর আফিয়ার উঁচু পেট। গভীর আশ্লেষে ছুঁয়ে দিতে দিতে নাভীর কাছে এসে প্রলম্বিত চ‌ওড়া শ্বাস ফেলল। তার ভেতরে বয়ে চলা ঝড়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করল। অতঃপর চট করে বসে পড়ে আফিয়ার দিকে না ফিরেই বলল,


_ ঘুমাও, আমি তাহাজ্জুদ আদায় করে নেই।


এই মুহূর্তে আফিয়ার নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। সে লোকটাকে বিরক্ত না করলে এত উতলা হত না মানুষটা। নিজেকে সামলে রেখেছিল, অথচ আফিয়া

কি করল!


ও নাসিফের হাত টেনে ধরে বলল,


_ কোথাও যেতে হবে না। আমি ঠিক আছি।


_ ঘুমাও!


_ বললাম না আমি ঠিক আছি।


আফিয়া ঝারি দিয়ে বলল। নাসিফ বিস্মিত চোখে ওর দিকে তাকাল। অতঃপর আবারও ওর দিকে ঝুঁকে কাত হয়ে আধ শোয়া অবস্থায় ফিসফিস করে বলল,


_ আমি রাগ করিনি।


_ আমিও এভাবে ছেড়ে যেতে দিব না।


আফিয়ার কথায় নাসিফ মুচকি হাসল। অতঃপর ঘাড় ঘুরিয়ে পাশেই যোদ্ধা তাইফ ওয়াসীত্ব গাজিকে দেখল। আবারও আফিয়ার দিকে ফিরে কিছু একটা ভেবে বিছানা থেকে নিচে নেমে ছেলেকে পাঁজাকোলা করে কোলে তুলে নিয়ে আফিয়াকে বলল,


_ একে তার ভাইয়ের কাছে দিয়ে আসি।


আফিয়া চোখের পাতা নাড়িয়ে সম্মতি দিল।


নাইফের ঘরের দরজা খোলাই থাকে। এটা নাসিফ, আফিয়ার কড়া নির্দেশ। নাইফ, নাবীহা কারো ঘরের দরজায় খিল লাগানোর অনুমতি এখনো মিলেনি। আলাদা ঘর থাকলেই যে আলাদা জগত করতে হবে এটা ভাবতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে দু'জন। পা দিয়ে দরজা মেলে নাইফের ঘরে ঢুকল নাসিফ। নাইফ কোল বালিশ পায়ের তলে রেখে, মাথার বালিশ নিচে ফেলে দিয়ে মাথা খালি বিছানায় রেখে উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে। নাসিফ মাথা দুদিকে নাড়াল। তার একটা ছেলের‌ও শোয়ার ধরন সুস্থ না‌। কতদিন শিখিয়েছে পুরুষের উপুড় হয়ে শুতে হয় না‌ । কে শোনে কার কথা! তার মধ্যে দু'জন‌ই ঘুমের মধ্যে ফুটবল খেলে।

নাইফ যেন টের না পায় তাই খুব সন্তর্পণে নাইফের ডান পাশে তাইফকে শুইয়ে দিয়ে নিচ থেকে বালিশ তুলে নাইফের মাথার নিচে দিয়ে দিল। নাইফ যেন জেগে না উঠে এমনভাবে সবটা করল। বড় ছেলে উঠে গেলে আর এই সময়ে ছোট ছেলেকে এখানে রেখে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করলে নাসিফ কী বলবে? ছেলে বড় হয়েছে। আর এত বড় ছেলের সামনে এই বয়সে এসব নিয়ে কথা উঠলে, লজ্জা পাবে না! নাবালক বয়সী হলেও বুদ্ধি, জ্ঞানে তো নাবালক নয়। যথেষ্ট বুঝদার ও জ্ঞানী। এত বড় ছেলের সামনে যদি এই বয়সে এসব কারণে লজ্জার সামনে পড়ে, তবে বাবা হিসেবে সে ছেলের সামনে দাঁড়াবে কীভাবে!


নাইফ টের‌ও পেল না। নাসিফ একেবারেই নিঃশব্দে ছোট ছেলেকে শুইয়ে দিয়ে, বড় ছেলের বালিশ ঠিক করে দু'জনকে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দিয়ে দরজা চেপে ছেলেদের ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। আফিয়া তখন কাত হয়ে শুয়ে দরজার দিকে চেয়ে অপেক্ষায় রয়েছে। নাসিফ ঘরে ঢুকে দরজার খিল এঁটে একটানে গায়ের ধূসর টি শার্টটা খুলে ফেলল। বিছানার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল,


_ যখন মনে হবে রূড হচ্ছি, থামিয়ে দিবে।


নাসিফ জেন্টলম্যান, এটা সবসময় সব কাজেই প্রমাণিত। সুতরাং তার রূড হবার চান্স নেই। আফিয়া মৃদূ হেসে তার দুহাত বাড়িয়ে দিল। নাসিফ বাতির সুইচে চাপ দিয়ে আফিয়ার বাড়িয়ে রাখা হাতের বেষ্টনীতে নিজেকে আবদ্ধ করে আফিয়ার উপর চড়ে বসল। দু'জনের গায়ের উপর টেনে নিল সেই পাতলা কাঁথা খানা। দু'জনের শীতল শরীর ধীরে ধীরে উষ্ণ হয়ে উঠল কঠোর ক্রিয়ায়।


আযান পড়ে গেছে। নাসিফ পাশেই রাখা ট্রাউজার হাতে নিয়ে কাঁথা গায়ে ঝরানো অবস্থায় আফিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,


_ পানি গরম করে নেই, তারপর তুমি ওঠো।


_ হুম।


আফিয়া নিজের বস্ত্রহীন দেহখানার উপর কাঁথাটাকে ভালো করে মুড়িয়ে নিয়ে নাসিফের কথার উত্তর অল্প শব্দে দিল।

নাসিফ ততক্ষণে বিছানা ছেড়েছে। বয়স হলেও পুরুষালি চাহিদায় বিন্দুমাত্র খাদ পড়েনি। যৌবনের প্রথম পর্বে আফিয়া ছিল না। তবে যখন থেকে আছে আফিয়ার মনে হচ্ছে নাসিফের পৌরুষালি সব গুণ দিনদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা দৈহিক কাম শক্তি‌ই হোক কিংবা আর্থিক শ্রম শক্তি।

পরিশ্রম করতে সব ক্ষেত্রেই লোকটা পটু। তার সঙ্গে দৈহিক সৌন্দর্য‌্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে নজর কাড়া ভাবে। হালকা মেদ জমলেও দানবীয় শরীরের সঙ্গে তা যেন একদম মানানসই। দাঁড়ি গোঁফে বেশ ভালোই পাকন ধরেছে অথচ তাতেও কি আকর্ষণীয় সুদর্শন লাগে‌‌। আফিয়ার ভয় হয়। পাছে না কোন শাকচুন্নীর নজর লেগে যায় তার এই সুদর্শন মধ্যবয়সী স্বামীর উপর। তাই তো সে কোনভাবেই লোকটার ভেতর ক্ষুধা জমতে দেয় না। তার যত কষ্ট‌ই হোক, সে স্ত্রীর দায়িত্ব পালনে শতভাগ চেষ্টা করবে। তাছাড়াও লোকটার তো অধিকার রয়েছে তার উপর। তার যতদিন দেহে সক্ষমতা আছে ততদিন সে এই লোকের সব চাহিদার একমাত্র উপাদান হবে।


_ আসো, আফু!


_ আসি!


আফিয়া ধীরে ধীরে উঠে বসল। তার নাইটি নিচে পড়ে রয়েছে। তুলল না। কাঁথা পেঁচিয়েই বিছানার কিনারায় এসে নিচের দিকে ঝুলে থাকা ওড়নাটা তুলে নিয়ে সেটা দিয়েই গা আধ ঢাকা দিয়ে ফ্লোরে পা রাখল। যদিও তার পায়ে শীতল ফ্লোর নয়, ভারি কার্পেটের নরম তুলতুলে ছোঁয়া লাগল।

পুরো বাড়ি নাসিফ কার্পেট দিয়ে মুড়ে দিয়েছে তাইফকে নিয়ে ফিরে আসার পরেই। কারণ তাদের ছোট শাহজাদার অতিমাত্রার জেদ আর হুটহাট টুপটাপ পড়ে যাওয়ার ব্যামো রয়েছে।


আফিয়াকে এগিয়ে নিতে নাসিফ বাথরুম থেকে বের হল। ওড়না ঝরানো অর্ধনগ্ন আফিয়াকে দেখে নাসিফ দুষ্টু হাসল। আফিয়া সেই হাসিতে তাল না মিলিয়ে নাসিফকে মূদু ধাক্কা দিয়ে দরজা থেকে সরিয়ে নিজেই ভেতরে পা রাখল।


_ সাবধানে, নিচে তাকিয়ে।


আফিয়া টুলে বসে পানির তাপমাত্রা বুঝে নিয়ে ওযু করল। নাসিফ দরজা চেপে আফিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে ওর চুলের খোঁপা খুলে চুলগুলো মেলে দিয়ে তাতে শ্যাম্পু করে দিল খুব আলগোছে। নিজেই পুরো গা হালকা ছোঁয়ায় ঘষে দিল। আফিয়া চুপচাপ বসেই র‌ইল। একসাথে গোসলে আসা মানেই আফিয়ার সব কাজ নাসিফ করবে। শুরু থেকেই এটা হয়ে এসেছে। দু'জন একসঙ্গে গোসল করার বেলায় সবসময় নাসিফ আফিয়ার চুলে শ্যাম্পু করে দিবে, গা সাবান দিয়ে ঘষে দিবে, পায়ের নখ, গোড়ালি ভালো করে ঢলে দিবে। এমনকি আফিয়ার ঋতুচক্রের সময়ের কাপড়চোপড়‌ও নাসিফ ধোয়। সেগুলো আফিয়া ধুতে না পারলেও কখনো কাজের লোক দিয়ে নাসিফ ধুতে দেয় না। স্ত্রীর জন্য এসব করে নাসিফ যেন অন্যরকম সুখ পায়। আফিয়াও অভ্যস্ত হয়ে গেছে।


গোসল সেরে যখন বাথরোব জরিয়ে বাথরুমের দরজায় হাত রাখল তখনি তাদের ঘরের দরজায় চাপড় পড়ল। ভেসে এলো বড় ছেলের কণ্ঠস্বর।


_ বাবা, মসজিদে যাবা না? নামাজের ওয়াক্ত চলে যাচ্ছে।


_ হ্যাঁ হ্যাঁ, আসছি। তুমি এগোও বাবা।


নাসিফ তড়িঘড়ি করে দরজা খুলে ছেলের ডাকে সাড়া দিয়ে উত্তর দিল।


আফিয়া বাথরোব পরে বাথরুম থেকে বের হয়ে তাড়াতাড়ি ওয়ারড্রব হাতড়ে পোশাক বের করে নিল। বড় ছেলে উঠে পড়েছে। এইতো এখনি সবাই উঠে যাবে। সব এসে দরজার উপর হামলে পড়বে। তার আগেই তার নিজের পোশাক পরিবর্তন করা জরুরি। আফিয়াকে তাড়াহুড়ো করতে দেখে নাসিফ পাজামা পরতে পরতে বলল,


_ আস্তে আস্তে করো। এত তাড়াহুড়ো কিসের জন্য করছো?


_ ওমা, নামাজ পড়ব না!


_ হ্যাঁ, তা তো পড়বেই‌। কিন্তু তাতে এত তাড়াহুড়োর দরকার নেই। তুমি গর্ভবতী, আল্লাহ পাক জানেন। তোমার জন্য একটু ছাড় আছে।


সে পাজামার ফিতে গিঁট দিয়ে বিছানার চাদর সরিয়ে ফেলল। সেটা ঝুড়িতে রেখে আফিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,


_ তোমার, আমার রাতের পোশাক‌ও রেখে দিয়েছি। নতুন চাঁদের বিছিয়ে দেই! কোনটা মেলব, বলো।


_ ছাই রঙাটা ম্যালেন।


_ আচ্ছা।


বলেই নাসিফ ওয়ার্ড্রবের বড় ড্রয়ার খুলে বেছে বেছে সেই চাদরখানা বের করল। সুন্দর করে বিছিয়ে দিয়ে আফিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,


_ নামাজ পড়ে একটু ঘুমিও। আমি নামাজ পড়ে এসে ছোট ছেলেকে ফ্রেশ করিয়ে দিব নে।


_ আচ্ছা, আগে আপনি নামাজ পড়ে আসুন।


_ এই তো যাচ্ছি।


বলেই নাসিফ পাঞ্জাবির গলাটা মাথায় ঢুকিয়ে চোখের পলকে সেটা গায়ে জড়িয়ে নিল। আঙ্গুল দিয়ে ভেজা, কাঁচাপাকা চুলগুলো সেট করে তার উপর আফিয়ার হাতে বোনা কুশিকাটার টুপিখানা চাপিয়ে দিল। ওয়ারড্রবের উপরে রাখা রিং তসবিহখানা আঙ্গুলে ঢুকিয়ে বিড়বিড় করে দোয়া পড়ল, এরপর আফিয়ার মাথায় হাত রেখে আফিয়ার গায়ে ফু দিয়ে মাথায় চুলের উপর হাত বুলিয়ে বলল,


_ আসি।


_ ফি আমানিল্লাহ্!


নাসিফ, বাবা ও বড় ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যেতেই তার ছোট ছেলে নিজের হারমোনিয়ামের সুর ছেড়ে পরিবেশ দূষণ করা শুরু করে দিল। বাবা মায়ের ঘরের দরজার সামনে চিৎপটাং হয়ে শুয়ে পড়ে কাঁদতে থাকল। কার,ণ তাকে কে মায়ের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেল! আফিয়া ঘরে জায়নামাজের উপর সিজদায় পড়ে আছে। পাশের ঘরে ঘুমন্ত নাবীহা সজাগ হয়ে চোখমুখ কুঁচকে, চোখ ঢলতে ঢলতে ঘুমঘুম চোখে বাবা মায়ের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে নিচু কণ্ঠে ডাক দিল,


_ ভাই, বুবুন আসো। শিসি করবে?


_ তুমি নামাজে যাও।


আফিয়া সালাম ফিরিয়েই মেয়েকে আদেশ করল। মায়ের হয়ে গেছে বুঝতে পেরে নাবীহা একবার ছোট ভাইয়ের দিকে তাকাল তারপর ঢুলতে ঢুলতে নিজের চলে গেল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ