#সুখ_ফড়িং_সিজন_২
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_০৬
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
সামনেই আগষ্ট মাস, জাতীয় শোক দিবস।যতই অরাজনৈতিক সংগঠন হোক , জাতীয় আর আন্তর্জাতিক দিবস এবং উৎসব মূলক কর্মকাণ্ড সবসময় উৎযাপিত হয়। সাংস্কৃতিক থেকে ক্রীড়াঙ্গন সবক্ষেত্রেই তারা নিজেদের পদচিহ্ন রেখেছে।
আগস্ট মাস উপলক্ষে যুব সংসদের তরফ থেকে ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন চলছে যেটায় অংশগ্রহণ করতে পারবে বিভিন্ন পাড়া ভিত্তিক ক্লাবগুলো। আজকে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়ে দায়িত্ব বিভাজন করে নিবে অতঃপর সেই অনুযায়ী কাজে হবে।
সভাপতির চেয়ারে বসা সম্রাট গা ছেড়ে বসেছে নিজের আসনে।তাকে ঘিরে ক্লাবের বিভিন্ন বয়সের , নবীন থেকে প্রবীন সব গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত।
তাহসান কাব্য সম্রাটের বিপরীতে বসেছে, পাশেই বসেছে সিয়াম।তার পাশে বসেছে বাপ্পী। এভাবেই একে একে সব সদস্যরা।
সেই যুবক মেহরিন আর নিশিকে বাইরে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বসতে বলে ভেতরে চলে আসে। আলোচনা কক্ষের দরজায় টোকা দেয়।
আদর নামের এক যুবক দরজার খিল তুলে উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“ কি হয়েছে?"
“ মিটিং শেষ হয় নাই?"
“ হয়েছে, এখন এমনিতেই কথাবার্তা বলছে।
_ কেন কি হয়েছে?"
“ সম্রাট ভাইকে দরকার।সেদিন যেই মেয়েদের কেইস সলভ করলো তাদের দুজন ভাইয়ের জন্য কিছু নিয়ে এসেছে।"
“ কিছু মানে? ঘুষ!"
“ আরেহ ধুর! হয়তো কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এনেছে। তুই ভাইকে জিজ্ঞেস কর, উনাদের ভেতরে আসতে বলবো কি-না?"
“ ওয়েট!"
“ কি হচ্ছে ওখানে? কিসের ফুসুর ফুসুর চলছে?"
বাপ্পী চিৎকার করে প্রশ্ন করলো।আদর দরজা থেকে মুখ ঘুরিয়ে সবার দিকে একবার তাকিয়ে সম্রাটের দিকে বললো,
“ ভাই,সেদিন যেই আপুদের হেল্প করেছেন উনারা এসেছেন।কিছু বলবে হয়তো!"
সম্রাট ভ্রু কুঁচকালো।মনে মনে ভাবলো,আবার কি হয়েছে?সম্রাটের আগেই সিয়াম বললো,
“ ভেতরে আসতে বল।"
“ না থাক,আমিই আসছি।"
বলেই সম্রাট উঠে দাঁড়ালো। সিয়াম ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,
“ আশ্চর্য ওরাই আসুক। তুই কেন যাচ্ছিস ব্রো?"
তাহসান, নাইমুলসহ বাকীরাও একই ভাবে চেয়ে আছে শুধু বাপ্পী মুখে মুচকি হাঁসি ফুটিয়ে বন্ধুকে পর্যবেক্ষণ করছে। সম্রাট সিয়ামের দিকে চেয়ে উত্তর দিলো,
“ আমরা এত গুলো পুরুষ,এমন বদ্ধ রুমে! মেয়েগুলো নার্ভাস ফিল করে।আমাদেরও বোন আছে,মাথায় রাখতে হবে।"
বলেই সে সিয়ামকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল।সিয়াম সম্রাটের গমন পথে চেয়ে কিছু একটা আন্দাজ করে বাপ্পীর দিকে তাকিয়ে বললো,
“ কিরে? ওর হাবভাব তো সুবিধের না।
ক্লাবে নারীদের প্রবেশ নিষেধ ঠিক আছে তাই বলে আমাদেরও তো এভাবে দৌড়ানোর নজির নেই । তাহলে হঠাৎ করেই সভাপতি সাহেব এত বেশি.."
“ কুল ব্রো,এমন কিছু না। মেয়েগুলো ভালো, তাই হয়তো।"
বাপ্পী সিয়ামের কাঁধে চাপড় মেরে বললো,
“ আল্লাহ মালুম!"
বলেই তাহসান কাব্য হেসে দিলো।ওর সাথে তাল মিলালো নাইমুল সহ বাকীরাও।
“ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।"
নিশি, মেহরিন বসা থেকে দাঁড়িয়ে সালাম দিলো। সম্রাট ওদের থেকে অনেকটা দূরেই দাঁড়িয়ে সালামের প্রত্যুত্তরে বললো,
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,কি অবস্থা আপুরা? কেমন আছো সবাই?"
“ জ্বী আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাইয়া।আপনি?"
“ আলহামদুলিল্লাহ,তা তোমরা দুজন... আরেকজন কোথায় সখি?"
নিশি মেহরিন একে অপরের দিকে তাকিয়ে একসাথেই বললো,
“ ও আজ আসেনি। একটু ব্যস্ত আছে!"
“ওহ আচ্ছা!"
কথাটা বেশ শুকনো গলায় বললো। মেহরিন নিজের হাতের প্যাকেটটা একটু উঁচুতে তুলে ধরে বললো,
“ ভাইয়া কিছু মনে না করলে,এটা নিন প্লিজ।"
“ কি এটা?"
সম্রাটের পিছন থেকে প্রশ্ন করলো সিয়াম। নিজের কৌতুহল দমিয়ে রাখতে না পেরে সেও উঠে এদিকে
আসলো।সম্রাট একটু সরে দাঁড়ালো, সিয়াম সম্রাটের বরাবর দাঁড়িয়ে নিশির দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ কি এটাতে?"
সিয়ামের কথার ধরনই একটু রুক্ষ, ভালো কথা বললেও মনে হয় ধমকাচ্ছে।নিশি সিয়ামের কথার ধরণে ভয় পাচ্ছে,সম্রাট বুঝতে পেরে সিয়ামের কাঁধে হাত রেখে ইশারায় থামতে বললো
অতঃপর নিশিকে বললো,
“ এত কষ্ট করার কোন দরকার ছিলো না বোন।"
“ না না কষ্ট হয়নি ভাইয়া, একদমই কষ্ট হয়নি। তাছাড়াও আপনি আমাদের জন্য যা করেছেন তাতে এটা কিছুই না।"
মেহরিন সৌজন্য সহিত হাসি দিয়ে কথাটা বললো,
নিশি বক্সটা সামনে এগিয়ে ধরল এবং বললো,
“ আপনারা কেক টা নিলে খুব খুশি হবো ভাইয়া!
প্লিজ!"
সিয়াম যতটাই রুক্ষ নিশি ঠিক ততটাই নরম, আদ্র।
সম্রাট হাত বাড়িয়ে বক্সটা নিলো, এবং মিষ্টি করে ধন্যবাদ দিলো। সম্রাটের ধন্যবাদ শেষ হতেই অন্য একটি কন্ঠস্বর শোনা গেল,
“ এভাবে মাঝে মধ্যে কেক মিষ্টি দিয়ে যাইয়েন, ওকে! আমি খুব ভালোবাসি এগুলো খেতে।"
সবাই তাকিয়ে দেখলো নাইমুল দাঁড়িয়ে আছে,মুখটা হাসি হাসি।বোঝাই যাচ্ছে তার কথার উদ্দেশ্য মজা করা।
নিশি মুখ টিপে হাসলো, মেহরিন মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে বললো,
“ জ্বী ভাইয়া দিয়ে যাবো, শুধু পেমেন্ট বিকাশ অথবা নগদ করলেই হবে!"
“ মানে কি? টাকা দিলে দিবে! এটা দিয়েও কি টাকা নিয়ে যাবে?"
“ জ্বী না।এটা হচ্ছে সম্রাট ভাইয়াকে ভালোবেসে দেওয়া,এখন যে দিয়েছে সে নিশ্চয়ই রোজ রোজ ভালোবেসে ফ্রিতে দিবে না! কারণ এটা তো তার ব্যাবসা!"
“ ওহ, তাতে কি। মাঝে মধ্যে না হয় পয়সা খসিয়ে বড় ভাইদের খাওয়ালে।"
“ আচ্ছা সে না হয় খাওয়াবো,যখন চাকরিবাকরির করবো, নিজেদের টাকা হবে তখন।এখন তো বাবা আর ভাইয়ার থেকে নেই।"
“ ওখে যাও দোয়া করে দিলাম। তাড়াতাড়ি বড় হও আর চাকরি বাকরি করে অনেক টাকার মালকিন হও।"
“ আমীন।"
সম্রাট নাইমুলকে থামাতে বিরক্ত চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ হয়েছে?"
“ কি ?"
“ লোভটাকে একটু সামাল দেও,নয়তো খুব শিগগিরই হার্ট এ্যাটাক ফ্যাটাক হয়ে যাবে।"
“ এভাবে বলো না।
_ বেচারা প্রেমিকা ছাড়তে পারবে কিন্তু খাদ্য নয়!"
সিয়াম নাইমুলকে খুচা মেরে কথাটা বললো। নাইমুল দুই বন্ধুর এহেন অপমানে বেজায় দুঃখ পেলো।মুখভার করে ভেতরে চলে যেতে গিয়েও পিছিয়ে নিশি আর মেহরিনকে বললো,
“ আর যদি কখনো আনো তাহলে আমারটা আলাদা এনো।এরা যাতে দেখতে না পায়!"
বলেই চলে গেল।নিশি মেহরিন একে অপরের দিকে তাকালো এবং একসাথেই বললো,
“ জ্বী আচ্ছা ভাইয়া!"
নাইমুলের কথায় সম্রাট সিয়াম একসাথে হেসে দিলো।
“ চলো, ভেতরে চলো।"
“ না ভাইয়া আজ আর যাবো না।আপনি এটা নিন প্লিজ।আর হ্যা অনেক আগে তৈরি করা হয়েছে তো তাই নরম হয়ে যেতে পারে, তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলুন!"
“ ওকে, সাবধানে যেও।"
“ যেকোন দরকারে ভাইদের স্মরণ করো,তবে আমরা খেতে চাইবো না সুতরাং ভয় নাই।"
“ ইটস ওকে।"
সম্রাট সিয়াম দুষ্টুমি করে কথাগুলো বললো।নিশি মেহরিন বিদায় জানিয়ে চলে গেলো।
সম্রাট হাতে করূ বক্সটা নিয়ে ঢুকতে তার দিকে কৌতুহলি দৃষ্টি গুলো উপচে পড়তে থাকলো। সেগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে সম্রাট রাব্বীকে বললো,
“ ছু/রি আর প্লেট নিয়ে আয় তো। তাড়াতাড়ি কর!"
ম্যাঙ্গো ফ্লেভারের সাথে স্ট্রবেরি মিক্সড ফ্লেভার কেক, তাদের ক্লাবের থিম তার উপর মোটা প্রলেপ দিয়ে চকোলেট লেয়ারে ধন্যবাদ লেখা সঙ্গে একটি খুশির ইমোজি। বক্সের মুখ খুলতেই অসম্ভব সুন্দর একটা চোখে পড়লো। সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে সাজানোটখ যা সবার চোখেই গেঁথে গেলো।বাপ্পী উৎসাহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“ কোন শপের এটা?"
সম্রাট বক্সের ঢাকনার তুলে ধরে দেখলো, গোটা গোটা অক্ষরে লেখা, Priyonti's Sweet's and cake " Owner by Parijat Abrar Chowdhury...
‘ পারীজাত ' মস্তিষ্কে গেঁথে যাওয়া নামটা মনেও বোধহয় গেঁথে গেলো।
“ কাটতো খেয়ে দেখি।"
বলেই বাপ্পী উঠে দাঁড়ালো এবং অতি উৎসাহী হয়ে রাব্বীর হাত থেকে ছু/রিটা নিয়ে নিজেই কাটলো। কাটা পিসটা মুখে পুড়তেই তৃপ্তিময় আওয়াজে তুললো। নিজের আঙ্গুল চাটতে চাটতে বললো,
“ মেয়েটা শুধু কথায় না কাজেও আছে।জাসট ইয়ামমম!"
ওর কথায় প্রশংসার ফুলঝুরি ছুটতে থাকলো। সম্রাট বাপ্পীর হাত থেকে ছু/রি নিয়ে উপস্থিত লোক সংখ্যা হিসেব করে কেক কেটে প্লেটে তুলে হবার হাতে হাতে দিলো। এবং শেষ পিসটা নিজের মুখে ঢুকিয়ে চোখ বন্ধ করে অনুভব করতে থাকলো স্বাদটা। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো প্রশান্তির হাসি যেই হাসি চোখ পিটপিট করে দেখলো তার বন্ধুরা।
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
জ্বী আপু আসসালামু আলাইকুম, আপনার কেকটা আমি নিজেই ডেলিভারি দিয়ে আসবো। চিন্তা করবেন না।
_ নো নো, এবার কোন ভুল হবে না ইনশাআল্লাহ।"
*******
“ আপু গতবারের চেয়ে এবার সবকিছুই অনেক দাম বেশি পড়েছে।আর আমি তো আপনাদের অর্ডারের পরিমাণ অনুযায়ী বাজার করি তাই আমার সবসময় নতুন দামেই কিনতে হয়। আসলে এটা তো আমার একদম নতুন ব্যাবসা আর আমাকেও অর্থনৈতিক ভাবে সহযোগিতা করার মতো কেউ নেই,যে একবারে অনেক বাজার করে রাখবো।যাই করি নিজেকেই করতে হয় সুতরাং বুঝতেই পারছেন।আমি চাইলেও আপনাদের থেকে কম নিতে পারছিলাম না।"
*****
“ জ্বী আপু, চেষ্টা করছি। ইনশাআল্লাহ আমার থেকে সবসময় ফ্রেশ খাবার পাবেন।আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।"
*****
“ জ্বী ইনশাআল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম, আল্লাহ হাফেজ।"
পারীজাত নিজের এক কাস্টমারের সাথে কথোপকথন শেষ করে কেকের জন্য মোল নিলো।
কাপল থিমের এক পাউন্ডের কেক হবে।ভ্যানিলা উইথ অরেঞ্জ।
মনটা তার বেশ ফুরফুরে।আজ সকাল থেকে তিনটা অর্ডার পেয়েছেন। অবশ্য গত সপ্তাহে একজন ফুড ব্লগারের বার্থডে কেক করে দিয়েছিল সেটা খেয়ে আপুটা বেশ ভালো রিভিউ দিয়েছিল তার সুবাদেই হয়তো অর্ডার বাড়ছে।
সময় পায়নি।তবে শুনেছে তার পেইজের ফলোয়ার লাইকার বেড়েছে।এমন করে যদি সব গ্রাহক একটু কষ্ট করে রিভিউ দিয়ে দেয় তাহলে হয়তো অনেক কাস্টমার বাড়বে।পারীজাত কথাগুলো ভাবছে আর মোলে তরল গরম চকোলেট ঢেলে দিলো। এরপর কি মনে করেই মোবাইলটা আবারও হাতে তুলে নিলো।রাত এখন বারোটা ঊনচল্লিশ মিনিট।ঘড়ি দেখেই লক খুলে নিজের পেইজে ঢুকলো। নতুন একটি রিভিউ শো হচ্ছে। মাত্র সতেরোটা রিভিউ ছিলো, এখন দেখাচ্ছে আঠারোটা।
পারীজাত রিভিউ অপশনে ঢুকে দেখলো আজ এখন থেকে ঠিক এক ঘন্টা আগে Md Samrat Mahmud Talukdar নামে একটি আইডি থেকে রিভিউটা করা হয়েছে। এবং নতুন ফলোয়ারের সংখ্যায়ও তার নাম রয়েছে।পারীজাত ঠিক দেখছে কি-না কিংবা সঠিক ধারণা করছে কিনা যাচাই করতে ঐ আইডিতে ঢুকলো,হ্যা সেই সম্রাট'ই যাকে সে ধারণা করেছিলো।
অজান্তেই তার ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি ফুটলো যা হয়তো পারীজাত নিজেও টের পেলো না।
চলমান......
সবার ইদি দিয়ে দিলাম, কিন্তু আমি কিছুই পেলাম না।🥲
ইদ মুবারক সবাইকে 🐄 🐂
সম্রাট পারীজাত পাগলদের দেখতে চাই।🌸







0 মন্তব্যসমূহ