#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_১৯
‼️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ‼️
“ নাইফ তো ঘুমাচ্ছে,ওকে কি ঘুম থেকে তুলেই নিয়ে যাবেন?"
ঘরে এসে নিজের জন্য কাপড় পরিবর্তন করার জন্য বাথরুমে যাওয়ার পথে নাসিফকে জিজ্ঞেস করলো আফিয়া।নাসিফ হাত মুখ ধুয়ে মেয়েকে খাওয়াচ্ছে।সে এক নজর আফিয়ার দিকে চেয়ে বললো,
“ দেখছি কি করা যায়।"
নাসিফ মেয়েকে খাইয়ে সেই প্লেট নিয়ে রান্নাঘরে গেল।তার আগেই টেবিল চোখের সামনে পড়ায় সেখানেই প্লেট রেখে দিলো।বেসিনে গিয়ে হাত ধুয়ে ছেলেকে ডাকতে গিয়ে বেশ হ্যাপা পোহাতে হচ্ছে,
“ বাবু,নাইফ উঠো বাবা।বাইরে যাবো আমরা চলো!"
র
নাইফ মোড়ামুড়ি করে আবার ঘুমিয়ে পড়েছে।নাসিফ ছেলের গভীর ঘুম ভাঙ্গাতে বেশ দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছে।
আফিয়া নাবীহার চুলে জুটি করে দিচ্ছে।নাবীহাটে তৈরি করতে আফিয়ার বেশ লাগে,গলুমলু আদুরে একটা বাচ্চা, সবসময় হাঁটু সমান ফ্রক আর হাত কাটা নিমা জামা পড়ানো হয় তাকে। দেখতে কি ভীষন আদর আদর লাগে।সব রঙই তার গায়ে মানায়। আফিয়ার সবসময়ই মেয়ে বাচ্চা ভীষন প্রিয়। আল্লাহ হয়তো তার জন্যই তাকে এমন একটা পুতুলের মা বানিয়ে দিয়েছে।আফিয়া আল্লাহর এই সিদ্ধান্তে ভীষন খুশি।সে সিজদায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছে এই কারণে।আর মনে প্রাণে ওয়াদা করেছে বাচ্চাদের সত্যিকারের মা হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা সে করবে।
“ তুলতুল!"
জুটির পাশে ছোট দুটো ক্লিপ লাগিয়ে দিয়ে নাবীহাকে ডাকলো।নাবীহা ব্যস্ত তার হাতে থাকা ছোট্ট একটি পুতুল নিয়ে। মেয়েকে কোলে বসিয়ে গালে চুমু খেয়ে গালে আঙ্গুল দিয়ে নিজের দিকে ঘুরিয়ে হাসি মুখে তাকিয়ে শুধালো আফিয়া,
“ আমি তোমার কি হই?"
নাবীহা কয়েকবার চোখের পলক ফেললো,পিটপিট করে চাইলো। তারপর ছোট করে বললো,
“ মা!"
“ আরেকবার বলো!"
“ মা!"
“ আরেকটি বার বলো, প্লিজ!"
“ মা!"
আফিয়ার চোখ ছলছল করে উঠলো। একটা বাচ্চা! শুধুমাত্র একটি বাচ্চা হবে না বলে তাকে কত লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল, বহুদিনের লালিত স্বপ্নও তার ভেঙে গিয়েছিল, বিষাদে ডেকে গিয়েছিল তার সুন্দর আকাশ।অথচ আল্লাহ আজ তার কোলে দুটো বাচ্চা দিয়েছে, দিয়েছে মা ডাকের মতো মধুর ডাক শোনার সৌভাগ্য।ঠিক এই কারণেই সে বারবার হয় কৃতজ্ঞ আল্লাহর প্রতি।তার সাথে ভালোবাসায় মেখে যায় এই বাচ্চা দুটোর সাথে।কালও সাহরীর সময় নাইফ তার হাতেই খাবে বলে বায়না ধরেছিল,তখন কি ভীষন আনন্দ হয়েছিল তার সে তা কাউকে মুখে বলে বোঝাতে পারবে না।
আফিয়ার সত্যি কখনো বাচ্চা হবে কিনা আফিয়া জানে না কিন্তু যদি রহমানের দয়ায় সেই সুখও কখনো তার আঁচলে ধরা দেয় তখনও আফিয়া ঠিক এতটাই ভালোবাসবে নাইফ তুলতলকে যতটা এখন ভাসছে। কখনোই ওদেরকে নিজ কোল, মাতৃত্ব ছাড়া করবে না।কেন করবে? মাতৃত্বের সুখ তো ওরাই প্রথম দিলো।ওরাই তো ওর প্রথম সন্তান,প্রথম অনুভূতি!
তুলতুলের গালে গাল মিশিয়ে মুখে ভালোবাসার আওয়াজ করে বললো,
“ মায়ের বাচ্চা, মায়ের কাছেই থাকবে সবসময়, ওখে!"
“ ওখে!"
তুলতুল খিলখিলিয়ে এ
হেসে উঠলো!
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
নিয়াজ মোর্শেদের পায়ের কাছে পড়ে আছে সুলতানা আযিযাহর মুঠোফোনটা যা অবিরত হঠাৎ করেই ভুবন কাঁপানো শব্দ করে বেজে উঠলো,স্বামীর পায়ের পাশেই বালিশ পেতে মাত্রই চোখ বুজেছিলো সুলতানা আযিযাহ। মুঠোফোনের শব্দে লাফ দিয়ে উঠে,নিয়াজ মোর্শেদও চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিলো।সাফিয়াও চমকে উঠে ঘুম থেকে উঠে পড়ে। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে বলে,
“ এইটা ফোন নাকি অন্য কিছু। ভয়ংকর শব্দ করে!"
মেয়ের কথায় নিরুত্তাপ সুলতানা আযিযাহ বিশেষ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বললেন,
“ জামাই মনে হয় বাইরে যাইবো।যাও গিয়ে দেখো পোলাপাইন দুইটারে একটু রেডি করতে ওরে সাহায্য করো!আর কত ঘুমাবা।"
সাফিয়া ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
“ কোথায় যাবে এই ভরদুপুরে,এত কড়কড়া রোদের মধ্যে?"
“ হুনলাম তো ঈদের জামাত কেনাকাটা করতে যাইবো।"
“ এহোন! মাথা নষ্ট হইয়া গেছে! কি গরম আর রোদ বাইরে এই অবস্থায় বাচ্চা নিয়া কিভাবে কি?"
বলেই সাফিয়া উঠে দাঁড়ালো। নিজের পড়নের ঢিলে টি শার্ট আর প্লাজো টেনেটুনে সোজা করলো। বালিশের পাশ থেকে ফেলে রাখা ওড়না তুলে মাথা সহ গায়ে ছড়িয়ে নিলো। এরপর হেলতে দুলতে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। এদিকে সুলতানা আযিযাহ ফোন রিসিভ করে শব্দ বহিরগত করে স্বামীর হাতে দিলেন ,তিনি নিজের সচল হাতে ফোনটা ধরে কানের সামনে চেপে ধরতেই ও পার থেকে ভরাট আর ভারী গলার একজন পুরুষের সালাম ভেসে আসলো,যার প্রত্যুত্তরে নিয়াজ মোর্শেদ হাসি গলায় বললেন,
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম ভাইজান! ক্যামন আছেন ভাইজান?"
“ আলহামদুলিল্লাহ,হ্যা নিয়াজ কেমন আছো তুমি?"
“ জ্বী ভাইজান আলহামদুলিল্লাহ! বাড়ির সবাই কেমন আছে?"
“ সবাই আলহামদুলিল্লাহ, তোমার খবর বলো? কিভাবে কি করলে বিয়ের বন্দোবস্ত! আমি তো জানোই এই সময়ে কত ব্যস্ত থাকি।তাই চেয়েও পারলাম না উপস্থিত থাকতে! তোমার পাশে যে একটু গিয়ে দাঁড়িয়ে সাহায্য করবো তাও হলো না।এমন একটি সময় কি বলবো; তবে যাই হোক জামাই আর আফিয়া মামুনির জন্য অবশ্যই আমার কাছে বিশেষ উপহার রয়েছে।"
” ছিহ ছিহ ভাইজান কিসব বলেন! আপনি যা আমাদের জন্য এই অবধি করেছেন তাতেই তো আমরা আজীবন আপনার কৃতজ্ঞ থেকেও ঋণ শোধ করতে পারবো না। তাছাড়াও আপনি এই সময়ে ব্যস্ত থাকেন তাতো নতুন নয়।আমরা জানি আপনার ব্যস্ততা সুতরাং তা নিয়ে আমাদের কারোই কোন অভিযোগ নেই আপনার প্রতি।আর কোন উপহার টুপোহার লাগবো না।আপনি তাদের জন্য দোয়া রাখিয়েন তাতেই আমরা খুশি। একবার এসে দেখে যাইয়েন ভাইজান যদি সম্ভব হয়,জামাই তো এহানেই আছে কাইল অবধি।"
“ হ্যা হ্যা আমি তাই বলছিলাম,তোমাকে এই জন্যই ফোন দিয়েছিলাম।আমি কাল তো ব্যস্ত থাকবো এরপর আবার ঈদের ছুটিতে একটু ইতালি যাবো।ঐ আমার বড় ছেলের তো বাচ্চা হয়েছে,তোমাকে বলা হয়নি বোধহয়।গত পরশু আল্লাহ আমার বংশের প্রথম উত্তরাধিকার দিয়েছে, ইনশাআল্লাহ তাকে দেখতেই তোমার ভাবীজান,তোমার ছোট ভাতিজী আর আমি যাচ্ছি। আগেই যেতে চাইছি কিন্তু টিকেট মেলেনি।তাই ,যাক গে সে আমার সুখের কথা। এখন তোমার সুখের দিন আগে তাই শুনি। বলছিলাম আজ আমি তোমার ভাবীকে নিয়ে তোমার বাসায় ইফতার করতে চাই,যদি তোমার আপত্তি না থাকে তো!"
ভদ্রলোকের কথায় নিয়াজ মোর্শেদ জিব কাটে, অনুনয়ের স্বরে বললেন,
“ ইয়া আল্লাহ ভাইজান এগুলা কি বলেন! আপনার বাড়িতে আপনি আসবেন, এইহানে আমি কে কিছু বলার! তাছাড়াও আপনার মতো মানুষ নিজের সহধর্মিণীকে নিয়ে,ভাবীর মতো মানুষকে নিয়ে আমার মতো ছা পোষার সাথে ইফতার করবেন এতো আমার পরম সৌভাগ্য। আমার পুরো পরিবারের সৌভাগ্য। আল্লাহ চাইছে বলেই এই দিন আসলো।আর আমি কি না! আপনি ভাই ছোট আম্মারে নিয়াও আসেন।আমরা সবাই খুব খুশি হবো। আপনার ভাতিজীরাও বেজায় খুশি অইবো।"
নিয়াজ মোর্শেদের এমন অনুনয় করে কথা বলাটা ভদ্রলোকের বেশ লাগে।বয়সেও বড়, অবস্থানেও বড়।তবুও তিনি অহংবোধের কারণে এমন ভাবে না।তিনি মনে করেন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মাঝে এমন অনুনয় আর নম্রতা থাকা একান্ত জরুরি।তিনি বিশেষত্ব ভাবে নিয়াজ মোর্শেদকে পছন্দ করেন নিয়াজ মোর্শেদের এই আচরণকে।তিনি দৃঢ় কন্ঠে বললেন,
“ তোমার ভাতিজী আসবে কিনা জানি না তবে আমি আর তোমার ভাবী আসছি।
এই শোন বেশি কোন হাঙ্গামা করবে না খবরদার।
মনে রাখবা তোমার ভাবী আর আমি দুইজনেই কিন্তু হার্ট এবং ডায়াবেটিসের রোগী।তাই একদম ঘরোয়া আয়োজন করবে ঠিক আছে?"
এর আগেই যতবার তিনি এসেছেন নিয়াজ মোর্শেদ একদম সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে তাদের আপ্যায়নে। সুতরাং তিনি জানেন আজ ইফতারির আয়োজনে মোল্লা পরিবারের সব সদস্যরা নিজেদের সবটা ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করবে।তাই এই সতর্ক বার্তা।
এরপর টুকটাক আলাপে ফোনালাপ শেষ করলেন।যেহেতু শব্দ বাইরেই আসছিলো তাই সুলতানা আযিযাহ সবকিছুই শুনেছে।তার সাথে সাথেই উনার সব ক্লান্তি আর ঘুম উবে গেছে।তড়াক করে নিচে নামলেন।ইফতারি আয়োজন মানে বিশাল ব্যাপার।এখন বেলা বারোটা বেজে আরো বেশি। মেয়েদের জানাতে হবে। একটু পর সালাহ্ও চলে আসবে। কিন্তু?
কিছু ভাবনা মাথায় আসতেই তিনি থেমে গেলেন।স্বামীর দিকে চেয়ে বললেন,
“ মেয়ে আর জামাই তো বাইরে যাইতাছে।এহোন কেমনে কি! উনারা তো ওগোই দ্যাখতে আইবো।"
নিয়াজ মোর্শেদ স্ত্রীর দিকে চেয়ে বললেন,
“ যাইয়া কও জানি ইফতারির আগেই ঘরে আসে!"
“ হ ,তাই কইতে অইবো!"
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
“ আসসালামু আলাইকুম আম্মা!"
****
“ হ্যা সব আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের খবর বলেন?"
***
“ না, আমি মানে আমরা একটু বের হবো এখন।"
**
“ ঈদের জন্য কিছু কেনা একান্ত জরুরি না? আর তো সময় নেই।তাই ভাবলাম আজই শেষ করে ফেলি।নয়তো পরে প্যাচ লেগে যাবে!"
**
“ না ও রেডি হচ্ছে।নাইফকে বোধহয় নেওয়া হবে না।"
***
“ সে এখনো ঘুমাচ্ছে। অনেক সময় ধরে ডাকছি।"
**
“দেখি আরেকবার চেষ্টা করে!"
**
“ জ্বী আচ্ছা, আল্লাহ হাফেজ। আসসসালামু আলাইকুম!"
***
মায়ের সাথে ফোনালাপ শেষ করে পিছু ঘুরতেই সাফিয়ার মুখোমুখি হলো। পরিপাটি ভাবে হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে আছে।নাসিফ শালীকে দেখে হেসে সালাম দিলো,
“ আসসালামু আলাইকুম,ঘুম ভাঙ্গলো আপনার?"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,জ্বী আলহামদুলিল্লাহ।আপনারা নাকি এখন বাইরে যাইবেন?"
“ হ্যা শুধু আমরাই না।আপনিও এখন যাচ্ছেন আমাদের সাথে যেহেতু ঘুম থেকে উঠেই পড়েছেন!"
“ এই রোদের মধ্যে, অসম্ভব। আমাকে এখন পি/টা/লেও যাবো না!"
“ কেন?"
“ কি গরম দেখছেন,তার মধ্যে বোরকা পড়ে মার্কেট ঘোরাঘুরি আল্লাহ গো!"
“ তো,আমরা এসি গাড়িতে যাবো,এসি মার্কেটে থাকবো। সমস্যা হবে না।"
“ তা ঠিক কিন্তু তাই বলে..."
“ আরেহ চিন্তা নিও না। সমস্যা হবে না।"
শালী দুলাভাইয়ের কথার মাঝেই বেল বেজে উঠল,সাফিয়া নাসিফকে পাশ কাটিয়ে গিয়ে দরজা খুললো। সালাহ এসেছে। ঘামে জবজবে হয়ে আছে তার সাদা টি শার্ট। কাঁধের ব্যাগটা এখন হাতের মুঠোয়।সেটা নিয়ে ধীর কদমে ঘরে ঢুকে মুখোমুখি হয় ছোট বোন আর বড় বোন জামাইয়ের।নাসিফ আর উচ্চারণ করতেই সালাহর শব্দ বের হলো,
“ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।"
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,ক্লাস করে আসলে?"
“ জ্বী, আল্লাহ বাচাইছে ঈদের ছুটি দিয়ে দিছে!"
সালাহর কথায় হালকা হাসা ছাড়া আর কোন উত্তর এলো না।সে গিয়ে মশারী এক কোনা সরিয়ে নিজের বিছানায় পা ঝুলিয়ে বসলো।নাইফকে ঘুমাতে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
“ আর উঠেনি!"
“ বোধহয় না।রাতে তোমাকে খুব বিরক্ত করেছে তাই না?"
“ না না একদমই না! ও তো ভালো বাচচূ।যা বলি তাই শুনে।এমন বাচ্চাদের আমার বেশ লাগে!"
“ সচরাচর আমার নাইফ, নাবীহা কারো সাথে এত মিশে না। কিন্তু তোমাদের সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই দেখছি খুব মিশে গেছে। অবশ্য এর পুরো ক্রেডিট তোমাদের!"
এই কথাটা বলে নাসিফ এগিয়ে এসে সালাহর কাধে হাত রাখলো, এরপর মৃদু হেঁসে বললো,
“ আমার বাচ্চাটা মাত্র একদিনে তোমার ভক্ত হয়ে গেছে।আসলে আগে কখনো এমন কারো সান্নিধ্য পাইনি তো তাই হয়তো তোমাকে পাওয়ার পর সে আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে।কখনো ওকে হার্ট করো না ভাই। যদি তোমার সাথে ভুলভাল কিছু করে আমাকে বলো আমি শুধরে দিবো ইনশাআল্লাহ্!"
সালাহ বোন জামাইয়ের হাতের উপর হাত রেখে ভরসা দিয়ে বললো,
“ আপনি চিন্তা করবেন না ভাইয়া।ওরা আমার কাছে ততটাই আপন হয়ে থাকবে যতটা আপন আমার বোনের গর্ভের বাচ্চারা থাকতো। ইনশাআল্লাহ আমি সবসময়ই ওদের ভালো বুদ্ধি দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করবো।"
“ তোমাদের পরিবারের সবাইকে দেখলে মনে হয় দ্বিতীয় বিয়ে করাটা আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো না।"
এই কথার বিপরীতে আর কি কথা বলবে! হালকা হাসলো কেবল।
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸
“ আইজকা বাইরে না গ্যালে অয় না।না যাও আইজ!"
“ কেন?"
“ তোমার সানোয়ার চাচা আইবো কইতাছে।ভাবীরে নিয়া আজকে আমগো লগে ইফতারি করবো! তাইলে এহোন...
মা'কে থামিয়ে আফিয়া জিজ্ঞেস করলো,
“ আজকেই?"
“ হ!"
“ কালকে আসতে বলতা!"
জিভ কেটে মেয়েকে চোখ রাঙালেন আর বললেন
“ আমি বলছি আজকেই আসতে! তাছাড়াও তিনি সম্মানিত মানুষ,নিজেই সাইধা বলছে আজকে আমগো লগে স্ত্রীকে নিয়ে ইফতারি করবো।এহোন আম তারে কমু আইজকা আইসেন না।তাই না! এই বুদ্ধি তোমার মাথায়!"
শেষের কথাটা তিরষ্কার করেই বলেছেন, আফিয়া মায়ের তিরষ্কারে চুপসে গেছে। সুলতানা আযিযাহ আবারও বললেন,
“ জামাই তো মনে অয় তৈরি অইয়া বইয়া আছে,তাইলে কেমনে কি কমু? তোমার আব্বা তো কইতাছে তারেই কইতে এই কথা।"
“ আমি পারবো না তুমি কও!"
" আমি কমু! ব্যাক্কল কুনহারকার। জামাইয়ের লগে গিয়া আমি কথা কমু?"
“ সমস্যা কি; একজন কইলেই অইলো তাছাড়া তুমি কইলে ঐটা বেশি দাম পাইবো।আমি .."
“ বুদ্ধি কি এক রাতেই খালে ভাসাইয়া দিয়া আইছো? আমি যাইয়া জামাইরে কমু জামাই মেহমান আইবো যাইয়েন না কোথাও! "
“ আজব সমস্যা কোথায় তাতে?"
“ একটা চড় দিবো সব সমস্যা তোমার চোখের সামনে ভাসবো।
জামাইরে সাথে নিয়া তোমার বাপের কাছে গিয়া বহো।"
“ আইচ্ছা আসতেছি!"
“ তাড়াতাড়ি আসো। অনেক কাম আছে।"
এই কথা বলেই সুলতানা আযিযাহ বেরিয়ে গেলেন।নাবীহা মাকে একবার দেখছে আর নানীকে একবার দেখছে। আফিয়া মুখটা শুকনো করে বসে পড়লো বিছানায়।নাবীহা মায়ের কাছে এসে গলা জড়িয়ে রেখে ঝুলে ঝুলে বললো,
“ মা পঁচা!! বকা দেয়!"
মেয়ের এমন পাকামো কথায় আফিয়া হেসে দিলো।
সামনে টেনে এনে নাক টেনে বললো,
“ ওরে আমার আম্মারে না মা পঁচা না।বকাও দেয় না।মা অনেক ভালো!"
নাবীহা বিস্মিত চোখে তাকিয়ে রইলো।সে তো দেখেছে নানী তার মা'কে বকা দিলো কিন্তু মা বলছে ভালো মা।তাহলে কি ঐটা বকা ছিলো না।
সুলতানা আযিযাহ বেরিয়ে যাওয়ার মিনিট দুই পরেই আফিয়া বের হয়ে দেখলো নাসিফ,সাফিঢ়াউ,সালাহ বসার ঘরে বসে গল্প করছে। সেখানে গিয়ে আমতা করতে থাকলো।ছোট ভাই বোনের সামনে স্বামীকে আলাদা ডাকা কেমন দেখায় তাও বললো,
“ নাইফের আব্বু শুনছেন?"
নাসিফ চমকে উঠলো এই ডাকে ।এমন করে কেউ ডাকেনি। সর্বপ্রথম এই ডাকটা কেউ তাকে দিলো।নাসিফের চমকিত চাহনি নজর এড়ায়নি কারো।আফিয়া একটু লজ্জাই পেল।আফিয়া বলার আগেই নাসিফ বললো,
“ তুমি এখনও রেডি হওনি কেন?বের হবে কখন?"
“ আগে আপনি এদিকে আসেন তারপর বলছি!"
“ কিছু হয়েছে?"
“ আব্বু ডাকছিলো,কিছু বলবে আপনাকে।"
“ আমাকে? এখনই?"
“ হ্যা, জরুরী!"
“ ওখে চলো!"
বলেই উঠে দাঁড়ালো। নাসিফ সকালে উঠেই শ্বশুরের সাথে দেখা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েও যায়নি কারণ এত সময় তো ঐ ঘরে সাফিয়া ঘুমিয়ে ছিলো। তাছাড়াও তারা তাড়াহুড়ো করছিলো বেরিয়ে যাওয়ার জন্য তাই এখনও দেখা করতে পারেনি তবে এখন যখন ডাকছে দেখা তো করাই উচিত।
চলমান.......
একটু বোরিং ফিল হচ্ছে? আপনাদের কি খারাপ লাগছে?
জানাবেন অবশ্যই...







0 মন্তব্যসমূহ