সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৩১

 #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৩১

সুখ প্রান্তর, মরিয়ম বিবি - Morium Bibi


কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


দিন দিনের মতোই কেটে যাচ্ছে।তাকে আটকে রাখতে কেউ পারে না।স্রষ্টার নিয়মেই ধরণীর সব চলমান।নাবীহা এখন আগের চেয়ে সুস্থ। বাচ্চা মেয়ে।সে কি বিছানায় গড়াগড়ি খাবে! কোনরকম হাত, পায়ে শক্তি পেতেই ছুটে বেড়াচ্ছে বাড়ির প্রতিটি ঘরে।

আফিয়ার শারীরিক দূর্বলতাও কিছুটা কমেছে কিন্তু খাওয়া দাওয়া বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।যা সবার চোখে বেশ বাঁধছে। কিন্তু নাসিফ কিছু বলছে না। সামনে রোজা। এখন কাজের অনেক চাপ। ঘরেই সময় দিতে পারছে না। বাইরে যাওয়ার যেই পরিকল্পনা ছিলো তাও পিছিয়ে দিয়েছে। একেবারে রোজার পরেই যাবে। ততদিনে সবাই একটু ফিট হয়ে নিক।

“ ভাবী কি কোন গুড নিউজ আমাদের থেকে

লুকাচ্ছেন নাকি? অসুবিধা নেই, আমাদের বললে আমরা বড়জোর ফুচকা ট্রিট নিবো।এর বেশী কিছু না।"

কথাটা নাইফের একজন সহপাঠীর মা বললো।নাইফকে নেওয়ার জন্য ওর স্কুলের মাঠের পাশে থাকা “ Guardians waiting ” রুমে অপেক্ষা করছে।গরমে চারদিকে কেমন অস্থির অস্থির হয়ে আছে।শরীরটা ভিজে ঘামে জবজবে হয়ে গেছে। বোরকা পিঠের সাথে লেগে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দিছে।তাল মধ্যে ভারী শরীর নিয়ে আফিয়ার অবস্থা আরো যাচ্ছে তাই। দিনদিনই ওজন বাড়ছে আর সবচেয়ে বিচ্ছিরি লাগছে পেটটা।কেমন পুটলি হয়ে গেছে।

{ চলুন জেনে আসি আফিয়ার শারীরিক সমস্যার মুল হোতা কে? 

[ থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিজনিত রোগটি বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এতে সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে যখন হরমোন নিঃসরণ কমে যায়, তখন এমন ঘটনা ঘটে। আমাদের গলার সামনের দিকে কণ্ঠনালির ঠিক নিচে থাইরয়েড গ্রন্থির অবস্থান। সেখান থেকে নিঃসরণ হয় শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণরস বা হরমোন।

এই রোগ হলে ওজন বাড়তে থাকে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, ক্লান্তি-অবসাদ এসে ভর করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, মাথার চুল ঔজ্জ্বল্য হারাতে থাকে, ঝরতে থাকে চুল, মাসিক হয়ে পড়ে অনিয়মিত, কখনও নেমে আসে বন্ধ্যাত্ব।

এ রোগের চিকিৎসা না নিলে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। এ হরমোনের অভাবে হৃদস্পন্দন কমে যায়। রক্তচাপ বেড়ে যায়। হৃদপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এটাকে বলা হয় কার্ডিও মায়োপ্যাথি। এ থেকে হৃৎপিণ্ড বিকল পর্যন্ত হতে পারে। 

হাইপোথাইরয়েডিজম থেকে হতে পারে রক্তশূন্যতা। আয়রনের অভাবে যে ধরনের রক্তশূন্যতা হয়, সেগুলো থেকে এ রোগের রক্তশূন্যতা ভিন্ন ধরনের। এতে রক্তের লোহিত রক্তকণিকার আয়তন বেড়ে যায়। 

এ রোগ থেকে হতে পারে প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্রের বৈকল্য। পা ঝিনঝিন ভাব, জ্বালাপোড়া, সংবেদনশীলতা কমে যাওয়া স্নায়ু বৈকল্যের অন্যতম লক্ষণ। 

হাইপোথাইরয়েডিজম থেকে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। বারবার গর্ভপাতের পেছনে দায়ী হতে পারে হরমোনের ঘাটতি। অকালীন প্রসব, প্রি-একলামশিয়া, জন্মগত ত্রুটি হতে পারে হাইপোথাইরয়েডের কারণে। হাইপোথাইরয়েডিজম আক্রান্ত মায়েদের সন্তান বুদ্ধি বৈকল্যের শিকার হতে পারে। এমনকি জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত হতে পারে শিশু। 

এই রোগে গলগণ্ড হতে পারে। তখন থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়। কণ্ঠ হতে পারে ফ্যাসফ্যাসে। ক্ষেত্রবিশেষে ঢোক গিলতে ও শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়। 

এ রোগের সবচেয়ে ভয়ানক অবস্থা হলো মিক্সিডিমা নামের জটিলতা। এতে মুখ, চোখের নিচের অংশ, জিহবা, চামড়া ফুলে যায়। শরীরের তাপমাত্রা অনেক নিচে নেমে যায়। রক্তে অক্সিজেন কমে যায়। লবণ ঘাটতি দেখা দেয়। মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। খিঁচুনি দেখা দেয়, রোগী হয়ে পড়ে অচেতন। 

হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা নিলে এসব জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হাইপোথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা সারাজীবন নিতে হয়। তবে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েডের মাত্রা জেনে ওষুধের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হয়। 

লেখক : মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, সিএমএইচ, ঢাকা।]

আমার দুশমনরেও আল্লাহ এই রোগ দিয়েন না, নিজের কষ্ট কাউকে বলা যায় না মাবুদ!}

হাইপো থাইরয়েড হরমোনের প্রভাবে জীবন ওষ্ঠাগত আফিয়ার কাছে এসব কথা নিছক হাস্যকর বৈ আর কিছুই নয়। সন্তানের জন্য তার মন আঁকুপাঁকু করলেও তার অধিকার নাই।না

স্রষ্টা দিয়েছে আর তার বান্দা।কথাটা ভাবতেই আফিয়ার কন্ঠনালী ভারী হয়ে উঠলো।কেমন কঠিন কোন বস্তুর ন্যায় ভীষন অস্বস্তি দিলো।

তাও নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর জন্য শুকনো একটা হাসি দিয়ে প্রত্যুত্তরে বললো,

“ এমন কিছু না ভাবী। এমনিতেই ওজন বেড়ে যাচ্ছে।"

“ কিন্তু, আমার কিন্তু তা মনে হচ্ছে না।কেন জানি মনে হচ্ছে আপনি কনসিভ করেছেন।

এ্যাই ভাবী চেইক করছেন?"

কথাটা তিনি আফিয়ার গায়ে হালকা ধাক্কা দিয়ে বললেন।আফিয়া এই আলোচনা আগাতেই চাইছে না 

কিন্তু মহিলামহলে যেই কথা একবার উত্থাপন হয় তা কি আর চুড়ান্ত পরিণতির আগে থামে! এখানেও তাই হলো। আফিয়ার শারীরিক অবস্থা তাদের সাথে বলা হয়নি। আসলেই এগুলো বলা যায়? যত‌ই শক্ত, কঠিন, লৌহ মানবী হোক; কোন নারী কি নিজ মুখে নিজের অক্ষমতার কথা জনে জনে বলে বেড়াতে পারে? পারে না।আফিয়াও পারলো না। সে চুপ থাকাই উত্তম ভেবে নিলো। এবং তাই করলো।ভদ্র মহিলা তার‌ই সুযোগ নিলো।

নাইফদের ছুটির আর‌ও পনেরো মিনিট বাকী।তাই উনি আফিয়াকে প্রস্তাব করলেন,

“ ভাবী চলেন বাইরে থেকে চা খেয়ে আসি!"

“ আরেকটু পরই তো ছেলেরা বেরিয়ে যাবে!"

“ আরে এখনো পনেরো মিনিট বাকী। তাছাড়াও ওরা অতটাও ছোট না।

_ যখন দেখবে মা নেই তখন এখানেই অপেক্ষা করবে। আমাদের বাচ্চারা মাশাআল্লাহ অনেক বুঝদার ভাবী।

_ নেন উঠেন। "

বলেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং আফিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন।আফিয়া উনার সহায়তা নিয়ে উঠলো। তারপরও চা খেতে স্কুলের বাইরে গেলো।

চা পান করতে করতেই ভদ্রমহিলা দৃষ্টি ফেললো রাস্তার ঐপাশে থাকা ফার্মেসির দোকান। শেষ করলো দ্রুত এরপর চা বিল দিলো। এরপর আফিয়ার দিকে চেয়ে বললো,

“ ভাবী আপনি ভেতরে যান। আমি একটু ঐপার থেকে আসছি।আমি না আসা অবধি মাহাদকে দেখে রাখিয়েন।"

“ জ্বী।"

উনি চলে গেলেন।আফিয়া স্কুলের ভেতরে আগের জায়গায় এসে বসতেই ঘন্টা বেজে উঠলো।আফিয়া হাসি মুখে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে

কিন্তু পা ঝিনঝিন করছে। অনুভব করছে হাঁটুতে শক্তি নাই।কেমন অসাড় হয়ে গেছে।এত ওজন লাগছে বলা যাচ্ছে না। হুট করেই ঐ মহিলা মানে মাহাদের মায়ের কথা মনে পড়লো।আফিয়া নিয়মিত চেকাপে আছে, কখনোই এতো দূর্বল লাগেনি। কিন্তু মাস তিনেক ধরে বেশি সমস্যা হচ্ছে।আফিয়ার মনে পড়লো তার তো মাসিক‌ হচ্ছে না প্রায়‌ই চার মাসের মতো। কথাগুলো ভাবতেই কেমন মাথা ঘুরাতে লাগলো।

“ মামাআআআ!"

বলেই নাইফ দূর থেকে দৌড়ে এসে মায়ের কোমর পেঁচিয়ে ধরলো।দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে নিজেকে সামলে নিলো। নাইফের কাঁধে হাত রেখে ভর দিয়ে 

সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললো,

“ চলো বাবা।"

নাইফ মায়ের দিকে চেয়ে বললো,

“ তোমার শরীর অসুস্থ লাগছে মা?"

“ না বাবা, শুধু একটু গরম বেশি লাগছে।

_ চলো! মাহাদ আমাদের সাথেই থাকো, তোমার মা একটু বাইরে গিয়েছে এখন‌ই চলে আসবে!"

আফিয়া ছেলেদের সাথে নিয়ে গেইট পেরিয়ে রাস্তায় আসতেই দেখা হলো মাহাদের মায়ের সাথে। ভদ্র মহিলা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললো,

“ ধন্যবাদ আমার ছেলেটার খেয়াল রাখার জন্য!"

“ আরে ধুর তেমন কিছু না।"

মাহাদের মা নিজের হাত বাড়িয়ে একটা বিস্কুট রঙের কাগজের ঠোঙা আফিয়ার হাতের মুঠোয় পুরে দিয়ে বললো,

“ উত্তরে আশায় র‌ইলাম।"

আফিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে দেখলো নিজের হাতের প্যাকেটা , এরপর জিজ্ঞেস করলো,

“ কি আছে এতে ভাবী?"

“ সে বাসায় গেলেই দেখবেন!

_ আসি আল্লাহ হাফেজ!"

বলেই তিনি নিজের ছেলের হাত ধরে সামনে এগিয়ে গেলো।আফিয়া হতভম্ব হয়ে কেবল দেখলো ঐ মিষ্টি নারীকে আর তার দেওয়া উপহারকে।

◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️◼️

পরপর চারটা কিট পড়ে আছে বাথরুমের বেসিনের উপরে থাকা ছোট্ট তাঁকে।কেমন ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে আছে তারা এই অতি অত্যাধুনিক আর পরিচ্ছন্ন বাথরুমের প্রতিটি টাইলসের উপর।

হাতের মুঠোয় একটা কিট নিয়ে নির্বাক চোখে বসে আছে খাটের উপর পা ঝুলিয়ে।থেমে থেমে শরীর মৃদুমন্দ কাঁপছে। বিশ্বাস হচ্ছে না।হ‌ওয়াও কথাও না।তবুও তা দেখছে তা কিভাবে অবিশ্বাস্য বলে চিৎকার করবে? আদৌও তা সম্ভব! পরপর পাঁচটা কিট কি মিথ্যা হয়? সব গুলোই কি ভুল রিপোর্ট দেখায়? তবে আফিয়াকে কেনা দেখাচ্ছে? মিথ্যা আশ্বাস কেন দিচ্ছে? 

আফিয়া কি করবে? এই খুশিতে কাঁদবে? নাকি আগমনী ভয়ংকর তান্ডবের কথা ভেবে আহাজারি করতে বসবে? আফিয়া এই মুহূর্তে কোন কিছু ভাবতেই পারছে না।তার মাথায় খালি গুরুপাক খাচ্ছে সে গর্ভবতী! তার ভেতরে একটা ছোট্ট প্রাণ।যার আগমন তার জন্য সুখকর নয়। যার উপস্থিতি কাউকেই খুশি করবে না।এমনটা কেন হলো? কেন এই খুশির বার্তা বহু আগেই তারা জীবনে এলো না।তাহলে কি তাকে এই দোটানায় থাকতে হতো? 

“ আসসালামু আলাইকুম!"

ঘরে ঢুকেই সালাম দিলো নাসিফ। আফিয়া নিজের গাল গড়িয়ে পড়া নোনা জল মুছে স্বাভাবিক হলো। তবুও নাসিফের দৃষ্টির অগোচর হলো না বিষয়টি।সে শার্টের হাতার বোতাম খুলতে খুলতে আফিরা দিকে এগিয়ে গেলো। কপালে হাত রেখে গায়ের তামপাত্রা মেপে বললো,

“ বারবার বলছি চলো ডাক্তারের কাছে।শুনছোই না কথা। এভাবে অসুস্থ শরীর নিয়ে ঘরে বসে থাকলেই সমাধান হয়ে যাবে?কি যে করতে চাইছো কিছুই বুঝিনা।"

নাসিফ কথা বলতে বলতেই শার্টের সব গুলো বোতাম খুলে ফেললো। এরপর আফিয়ার থেকে সরে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কোমর থেকে বেল্ট খুলে সেটা চেয়ারের মাথায় রেখে এক টানে শার্টটা খুলে নিজের গা উদাম করলো।আফিয়া নিজের হাতের মুঠোয় থাকা কিটটা লুকিয়ে ফেললো ওড়নার তলে হাত ঢুকিয়ে ওদিকে যে বাথরুমে ফেলে আসছে চারটা তা বেমালুম ভুলে বসে আছে।ভয়ে আড়ষ্ট আফিয়ার গলা দিয়েও কথা বের হচ্ছে না।নাসিফ একাই বলতে থাকলো,

“ কাল সকালে রেডি থাকবে।আমি ফ্রেশ হয়েই এপোয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখবো।

_ আর হ্যা প্রচুর ক্ষুধা লাগছে,খাবার সাজাতে বলো।

_ আগে আমাকে লুঙ্গি গামছা দাও।"

বলেই নাসিফ বাথরুমে ঢুকে গেল।ঠিক মিনিট তিনের মধ্যেই বেরিয়ে এলো। একদম ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠলো মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই।

হাতের মুঠোয় চারটা কিট। সবগুলোই জানান দিচ্ছে নতুন অতিথি আগমনে বার্তা কিন্তু তা তো নাসিফ চায় না।তবে,

“ আফিয়া!"

নাসিফের চিৎকারে আফিয়ার পিলে চমকে উঠলো।

ভয়ে হাতে থাকা চামচটা ডালের বাটিতে পড়ে সেই ডাল ছিটকে পড়লো পুরো টেবিলে।বাদ যায়নি আফিয়ার নতুন লেমন থ্রি পিসটাও।

“ আফিয়া!

_ আফিয়া!" 

আফিয়া চিৎকারে গমগম করে উঠলো পুরো গাজী বাড়ি।আফিয়া কেমন চোরের মতো লুকিয়ে রাখার মতোই মুখ লুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে খাবার ঘরের টেবিলের সামনে পর্দার আড়ালে। কিন্তু নাসিফের গগন কাঁপানো চিৎকারে ততক্ষণে নাযির আহমাদ ও সালমা ফাওযিয়া সহ বাকীরাও ততক্ষণে আ

খাবার ঘরে এসে পৌঁছেছে।নাসিফ টেবিলের সামনে নির্বাক চাহনির আফিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হাত দুটো উপরে তুলে আফিয়ার সামনে মুঠ খুলে কিট গুলো দেখিয়ে বললো,

“ কি এগুলো? কার এগুলো?

_ Don't dare to telling me it's your?"

‌আফিয়া শুকনো ঢোক গিললো। অতঃপর কাঁপা কাঁপা চোখে নাসিফের দিকে তাকালো, লজ্জিত,অপরাধী ভঙ্গিতে দৃষ্টি নামিয়ে ফেললো। পুরো ঘরে এখন মানুষ। শ্বাশুড়ি, শ্বশুর,কাজের দুজন খালা, বাচ্চারা। তাদের সামনে কিভাবে কি বলে শান্ত করবে নাসিফকে। কিন্তু এত কিছুর তোয়াক্কা না করেই নাসিফ ডান হাত দিয়ে আফিয়ার গাল চেপে ধরে বাম হাতে আফিয়ার বাহু খামচে ধরে চোখে চোখ রাখলো,আফিয়া দেখলো নাসিফের চোখের শ্বেত অংশেও লালাভ রঙের আগমন।যেন এখন‌ই এই চোখ দিয়ে রক্তের স্রোত বইয়ে দিবে। দাঁতে দাঁত পিষে কিড়মিড় করে জিজ্ঞেস করলো,

“ কবে ঘটিয়েছো এটা? ইচ্ছা করে করেছো তাই না? আমার বাচ্চাদের অধিকারে ভাগ বসাতে বারণ করি নি? তাহলে? কার সাহসে এটা করেছো? কে দিয়েছে এত বড় সিদ্ধান্ত একা নেওয়ার দুঃসাহস তোমাকে?

_ How dare you to do this? Answer me?

Listen if you're thinking that I will be happy and Cheers you then you did a big mistake .... I will never accept it and I never get any financial services for this unwanted child, mostly I will never give you any legal identity for this unwanted and not certified baby! Never ever?

--  আর হ্যা যদি তুমি এই বাচ্চাটা রাখার কথাও ভাবো তাহলে ভুলে যাওয়া শর্ত মনে করিয়ে দিচ্ছি, কাগজের পাতায় গোটা গোটা অক্ষরে লেখা আছে! দরকার পড়লে ভালো করে পড়ে নিও। দুঃসাহসী কাজটা যখন করেই ফেলেছো তবে তার জন্য প্রাপ্তিটাও বুঝে নাও।"

নাসিফ কথা শেষ করেই আফিয়াকে ছেড়ে দিলো।উহুম ছেড়ে দেওয়া বলে না একে। একরকম ধাক্কা দিয়ে ফেললো।যার পরিণতিতে আফিয়া গিয়ে পড়লো টেবিলের পাশের চেয়ারে ধাক্কা খেয়ে  জমিনে। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারালো।

চলমান......

কি হচ্ছে এগুলা!😷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ