সুখ_প্রান্তর | পর্বসংখ্যা_৪৪

  #সুখ_প্রান্তর 

#শেখ_মরিয়ম_বিবি 

#পর্বসংখ্যা_৪৪

সুখ প্রান্তর মরিয়ম বিবি


কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️ 


আফিয়া উঠে বাগানের ভেতর থাকা সেই গোরস্থানে ঢুকলো, পারিবারিক গোরস্থান। নতুন কবরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।গহীন অরণ্যের মাঝেও পাতার ফাঁকফোকর গলিয়ে ফুরফুরে বাতাসে শরীর শীতল হয়ে যায় কিন্তু তাকেও ছাপিয়ে অন্তরে গেঁথে যায় ভয় , কুটুকুটে অন্ধকার,গা ছমছমে ভাব,আর কবরের দিনকালের আমি কথা।তার মধ্যে থেমে থেমে পেঁচা, বাদুড়ের ডাক শোনা যাচ্ছে।হয়তো কোথাও শিয়াল‌ও আছে।তাদের দৌড় ঝাপের আওয়াজ কানে আসছে। কুকুরের হাঁকডাক‌ও ভেসে বেড়াচ্ছে জঙ্গলে থেকে, জঙ্গলে কুকুরের হাঁকডাক অর্থ‌ই হলো হয়তো শিয়ালের উৎপাত নয়তো চোর ডাকাতের আগমন।


আফিয়া হাঁটু ভেঙ্গে নিজের বাবার কবরের পাশে বসলো।হাত দিয়ে এক মুঠো মাটি তুললো। কাঁচা মাটির গন্ধ! কেমন যেন অন্তরের গহীন অবধি নাড়িয়ে দেয়।

বৃষ্টির পর সিক্ত কাঁদা মাটির গন্ধ আর মানুষের মাংস মেশা মাটির গন্ধ কি এক! না!তাতে আপনজনের ঘ্রাণ মিশে থাকে, তাদের মমতা,মায়া,স্নেহ আর ভালোবাসা মাখা।

বৃষ্টির পর ভিজে নরম হ‌ওয়া সিক্ত মাটি মানুষের মনে প্রেম জাগায় আর এমন স্থানের মাটি মানুষের মনে মরণের ভয় জাগায়। হাহাকার জাগিয়ে তোলে।


নাসিফ আফিয়ার পরপরই উঠে দাঁড়ালো, এবং আফিয়ার পিছুপিছু সেখানে তবে কিছুটা দুরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ালো। আফিয়া মুঠো ভর্তি মাটি তুলে তা আবার সুন্দর করে কবরের উপর লেপ্টে দিলো। বিরবির করে দোয়া পড়লো। এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চারদিকে চোখ বুলিয়ে জঙ্গলের ভেতরে গভীর দৃষ্টিতে তাকালো‌। অনেক সময় দাঁড়িয়ে র‌ইলো নিরব হয়ে তবে তার চোখ থেমে নেই।সে নিজের কাজ করছে।


আফিয়া চোখ মুছে পিছু ফিরতেই নাসিফকে দেখে চমকে উঠলো।দু কদম পিছিয়ে গিয়ে ভয়ার্ত চোখে একবার নাসিফকে দেখে নিজের বুকে থুতু ছিটিয়ে দিলো। সে এখানে নাসিফের উপস্থিতি আশা করেনি।নাসিফ নিটল চোখে দেখছে ক্ষনিকে ক্ষনিকে রূপ বদলানো এই নারীকে।


“ এভাবে ভুতের মতো এখানে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? আশ্চর্য!"


“ যাতে সত্যিকারের ভুতে তোমাকে ধরতে না পারে তাই!"


“ মশকরা করেন! সত্যিকারের ভুত হয় কখনো? আমাকে কি নাবীহা পেয়েছেন যা খুশি বলবেন আর আমি মেনে নিবো।"


“ I wish তুমি নাবীহা হতে।তাহলে অন্তত অনেক কিছু খুব সহজেই বোঝানো যেতো।"


“ তাতো অবশ্যই। কিন্তু আফসোস আপনার জন্য তা হচ্ছে না।"


বলেই আফিয়া নাসিফকে পাশ কাটিয়ে হেঁটে চলে যাওয়ার চেষ্টা করতেই নাসিফ খপ করে আফিয়ার ডান হাতটা ধরে ফেললো।আফিয়া চমকে তাকালো নিজের হাতের দিকে।নাসিফের শক্ত পুরুষালী হাতের মুঠোয় আটকে আছে তার কোমল গোলগোল হাতের কব্জি।সে নিজের চোখ উঁচিয়ে নাসিফের দিকে চাইলো,নাসিফের চোখে পড়লো‌।নাসিফের চোখে কাতরতা,অনুনয়,যন্ত্রনা, অসহায়ত্ব! কিভাবে যেন আফিয়া নাসিফকে পড়তে পারলো,শিখে ফেলেছে! কিন্তু তাতেও তার মন নরম হলো না।সে ঝটকা দিয়ে হাতটা টেনে নিলো।নাসিফ অবাক চোখে দেখছে এই লৌহ মানবীকে।আফিয়া নিজের হাত গুটিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে দাঁত কামড়ে নাসিফকে বললো,


“ অসভ্যতামি করবেন না। বাড়ি ভর্তি মানুষ।আমি কোন জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাই না।"


বলেই সে হনহনিয়ে চলে গেলো।আর নাসিফ তার যাওয়ার পানে চেয়ে র‌ইলো করুন চোখে।


যেহেতু আফিয়ার তিন বাচ্চা সহ স্বামী স্ত্রী নিয়ে পাঁচজন তাই ওদেরকে একটা ঘর‌ই দিলো কিন্তু সাফিয়া সহ সুলতানা আযিযাহর জন্য অন্যান্য মহিলাদের সাথেই শোয়ার ব্যবস্থা করা হলো।আর ঠিক এভাবেই পুরুষ মানুষের শোয়ার আয়োজন হলো।


রাতের খাওয়ার পর্বে আগে পুরুষেরা খেলো।নাইফকে অনেক ডাকার পর উঠলেও তাকে খাইয়ে দিতে হয়েছে তার মায়ের।নাবীহাকেও ঘুমের ঘোরেই খাইয়ে দিয়েছে। অতঃপর নিজে খেতে গেলো। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো শোয়ার সময়।


নাসিফ খেয়ে এসেই শুয়ে পড়েছে।তাও বড় ছেলের পাশে।মেয়ের সাথে সে শোয় না।মেয়ে বড় হচ্ছে তাই চেষ্টা করছে এখন থেকে মেয়েকে বোঝাতে।যদিও মা থাকলে তাদের আর কিছু চাই না।তবুও।তাইফ ঘুম থেকে উঠে পড়েছিল তাই তাকে তার নানীর কাছে রেখে আফিয়া খেতে বসেছিলো। কিন্তু এখন?


ঘুমন্ত ছেলেকে কাঁধে নিয়ে আফিয়া তীক্ষ্ম চোখে ঘুমের ভান ধরা ঐ অত্যন্ত ধুরন্ধর লোকটাকে দেখছে।যে এখন মরার মতো পড়ে ঘুমাচ্ছে বলে নাটক করছে।আফিয়া নিজের ভেতরের বিতৃষ্ণাকে হজম করে নিলো।ছেলেকে বড় ছেলের পাশে শুয়ে দিয়ে নিজেও শুয়ে পড়লো।আফিয়া শুয়ে পড়ে চোখ বুঝতেই নাসিফ চোখ মেললো। ঠিক তখনই চোখ মেললো আফিয়া। আবারও দুজনের দৃষ্টি মিলে গেলো। তবে নাসিফের দৃষ্টিতে একদম শান্ত ভাব আর আফিয়ার....


তাইফকে আফিয়া নিজের দিকে ঘুরিয়ে রেখেছে। উদ্দেশ্য ছেলের মুখ দেখতে দিবে না।আজ এত কিছুর মাঝেও আফিয়া ছেলেকে নাসিফের থেকে ঠিক‌ই দূরে রেখেছে।নাসিফ একবারের জন্যও সুযোগ পায়নি ।অথচ সে দেখেছে তাইফ কিভাবে হেলেদুলে হেঁটে সবার কাছে যায়।তার সামনেই তাইফ কিভাবে অন্যকে বাবা ডাকে।এইতো দুপুরে‌র পরেই যখন নিয়াজ মোর্শেদের লাশ নিয়ে দাফনের জন্য সবাই বের হচ্ছে ঠিক তখনই তাইফ নিজের ছোট ছোট পায়ে হেঁটে হেঁটে রেজ‌ওয়ানের কাছে যায়।গিয়ে রেজ‌ওয়ানের পাঞ্জাবি খামচে ধরে, ইশারায় রেজ‌ওয়ানকে ঝুঁকতে বলে। রেজওয়ান ঝুকতেই তাইফ ফুলো ফুলো গাল দুটো আর‌ও ফুলিয়ে বলে,


“ বাবাই বাউ‌ ব্যতা!"(বাবা বাবু ব্যথা)


রেজওয়ান তাইফের কথা শুনে হেসে দেয়।সে তাইফকে কোলে তুলে গালে,চোখে,কপালে চুমু দিয়ে বললো,


“ বাবু মামনিকে ব্যথা দেয়?"


তাইফ মাথা ঝাকালো।হ্যা বাবু মামনিকে ব্যথা দেয়। রেজওয়ান তাইফের গালে টিপ দিয়ে আবারও কপালে চুমু দিয়ে বললো,


“ আচ্ছা বাবু যখন আসবে তুমি তখন তাকে বকা দিয়ে দিও।"


“ আত্তা!"


বলেই সে রেজ‌ওয়ানের গলা জড়িয়ে রাখলো। রেজওয়ান পরম আদরের পুরোটা সময় তাইফকে কোলে নিয়ে রেখেছে।এমনকি সে সব কাজ‌ই করেছে তাইফকে কোলে রেখে।


অথচ নাসিফের কাছে যাওয়া তো দূরের কথা তাকে তো চেনেই না তার ছেলে।বাবার সামনে সন্তান অন্য কাউকে বাবা ডাকছে! এটা যে কত কষ্টের তা কি কাউকে বোঝানো যায়? 


নাসিফ জানে এটা তার কর্মফল তাই সে চাইলেও কাউকে অভিযোগ করতে পারবে না আর করা উচিত। তবে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে দোষ নেই।তাই সে অন্তঃপুরে নিজেকে একটু একটু করে দগ্ধ করেছে।আফিয়ার অবহেলা, সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা।সব‌ই নিজের শাস্তির স্বরূপ মেনে নিচ্ছে।


রাত পেরিয়ে গেছে যেটা পার করতে আফিয়াকে ভীষন কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।নাসিফের সাথে এক ঘরে,এক বিছানায় থেকেও নাসিফকে অসম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে, এড়িয়ে চলা, থাকাটা যে কি কষ্টের তা কেবল সেই স্ত্রীরাই বুঝবে যারা এভাবে থেকেছে।

আফিয়া তখন‌ই চোখ বন্ধ করে ফেলেছ যখন নাসিফের দৃষ্টিতে আকুল আবেদন ছিলো,ছিলো অনুতাপের ছাপ।সে ঐ চোখে চোখ মিলিয়ে আর কোন ভুল করতে চায় না।ঐ লোকের সাথে কোন সমঝোতা কোন সম্পর্ক তার নেই। রাখতে চায় না। শুধু দুটো রাতের বিষয় এরপর যার যার পথে সে সে ঠিক বিগত দুই বছরের মতো।


নাসিফ মাঝ রাত অবধি অন্ধকারেই আফিয়াকে দেখার বৃথা প্রয়াসে কাটিয়েছে। অবশেষে কখন যেন তার অক্ষুদ্বয়‌ও বুজে যায়।


সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার পরপর‌ই আবারও আলোচনায় বসলো সবাই এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো সাদা ভাত, আলু দিয়ে গরুর মাংস, মুরগীর ঝাল তরকারি আর ক্ষীর হবে।খাওয়ার পর পান থাকবে।

আফিয়া এ যাবৎকালের সব সঞ্চয় আর সালাহ্ নিজের সঞ্চয়,সাফিয়ার হয়ে রেজ‌ওয়ান , তিন ভাইবোন মিলেই বাবার খরচের সবটা সামলে নিলো।

সেদিন রাতেই মাঝারী আকারের একটা গরু কিনে আনলো, মুরগী‌ও একটা ফার্ম থেকে পাইকারি কিনলো। এভাবেই সব যোগাড় করা হয়ে গেলো এবং কাজও সম্পন্ন হলো। মসজিদে নামাজের পর‌ই দাওয়াতের ঘোষনা দেওয়া হয়েছিলো। দুপুর বেলা উঠানে পাটি বিছিয়ে কলা পাতার থালায় খাবারের আয়োজন করা হয়।

এত সব আয়োজনে হাতে হাতে কাজ সব বাড়ির পুরুষেরাই করেছে। বিশেষ করে দুই জামাইয়ের কাজ সবার মন কেড়েছে।আফিয়াও যেন একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে কোথাও একটা তীব্র ভালো লাগায় মিশে গেলো। যদিও অর্থনৈতিক ভাবে নাসিফ বারবার চেষ্টা করেছে সহযোগিতা করার কিন্তু আফিয়ার কঠোর সিদ্ধান্তের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছে।


তিনদিনের আয়োজনের পরপর‌ই সবাই বাড়ি ফিরে আসলো। সেদিন‌ও নাসিফের প্রস্তাব সম্পূর্ণ নাকোচ করে মাইক্রোতেই সবার সাথেই আফিয়া বাড়ি ফিরে। সঙ্গে বাচ্চারাও।


চার মাস পর......


“ আমু!

_ ভাইয়া! বুবু!"


তাইফ রং পেন্সিল দিয়ে সাদা কাগজে ইচ্ছা মতো আঁকিবুঁকি করছে আর বলছে উক্ত শব্দগুলো।সে এখন মোটামুটি সবাইকেই ডাকতে পারে তবে কিছু কিছু শব্দ অস্পষ্ট।এর মধ্যে স্পষ্ট শোনা যায় মামা,বাবা,ভাইয়া,বুবু আর পাখি! আম্মু উচ্চারণ করতে তার কষ্ট হয় অনেক তাতে আফিয়ার বেশ রাগ হচ্ছে।যার সাথে কোন লেনদেন নেই তাকে ঠিক‌ই ডাকতে পারে।অথচ জীবন দিয়ে আগলে রাখলো সে তার বেলায়‌ই ষোলকলা শূন্য!


“ কি করছো তাইফ এগুলো?"


ছেলের হাতের রং তার সাদা ডাবল এ পেপারের উপর দেখে আঁতকে উঠে আফিয়া।এই কাগজ সে রেখে গিয়েছিল স্কুলের বাচ্চাদের প্রশ্ন তৈরির জন্য। স্কুলের সিল মারা এতে।অথচ এই বাচ্চা কি করে ফেললো।


আফিয়া মাটিতে বসে ছেলের দিকে অগ্নি চোখে তাকাতেই নতুন দাঁতের ঝলমলে হাসিতে তা পানিতে পরিণত হয়ে যায়।রাগ নিভে আফিয়ার ঠোঁটের কোনেও হাসি ফুটে উঠে। ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে গালে ঠোঁট চেপে ধরে বললো,


“ আমার আব্বাজান।আপনি বড় হয়ে চিত্রশিল্পী হবেন? কিন্তু আম্মা তো চাই আপনি বড় হয়ে হাফেজ হোন। আম্মার কত দিনের শখ এটা। আল্লাহ আমাকে দীর্ঘজীবী করুক যাতে আমি আপনাকে হাফেজ হিসাবে দেখে যেতে পারি।"


“ আমু!"


“ হ্যা আমু, কি‌ চাই আমুর কাছে! হুম!"


আফিয়া দুষ্টুমি করে ছেলের পেটে মাথা দিয়ে সুড়সুড়ি দিতে থাকলো।তাইফ তাতে হেসেই খুন।মা ছেলের দুষ্টুমি জারি র‌ইলো এর মধ্যেই কলিং বেল বেজে উঠলো।


আফিয়া ছেলেকে কোলে নিয়ে দরজা খুলে দিতে গেলো। 

শুক্রবার আজ নাইফ,নাবীহা আসবে।দরজা খুলেই তাদেরকেই দেখতে পেলো।আর মায়ের মন সন্তানের 

দর্শনে প্রফুল্ল হয়ে উঠে।আফিয়ার‌ও তাই হয়েছে।সে বাচ্চাদের বুকে টেনে নিলো। নাইফ কাঁধের ব্যাগটা দরজা ফেলেই মায়ের কোল থেকে ভাইকে টেনে নিলো।নাবীহা বড় ভাইয়ের দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললো,


“ এটা এখানে কেন ফেললে ভাইয়া? 

আম্মুর কষ্ট হয় না গুছাতে?"


বলে সে নিজেই ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিলো।আফিয়া মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বুকে টেনে নিয়ে বললো,


“ থাক মা।

_ ভাইয়াদের  এত বুদ্ধি হয় না যত বুদ্ধি আল্লাহ বোনদের দেয়।দেখো না তোমার মামুও কেমন সব অগোছালো করে রাখে।"


সাত ছুঁই ছুঁই নাবীহা এখন অনেক কিছু্ই বুঝে।তাই মায়ের কথাটাও বুঝে নিয়ে বললো,


“ কিন্তু আম্মু তাতে তো কষ্ট হয়।ভাইয়ারা কেন বুঝে না।"


“ আচ্ছা বুঝবে যখন অনেক বড় হবে তখন!"


“ সত্যিই!"


“ হুম!"


“ এই ব্যাগে কি এনেছো?"


“ এটাতে বাবা ভাইয়ের জন্য অনেকগুলো চকোলেট দিয়েছে!আর ...


“ আর কি ? "


“ টয়!"


ইদানিং এগুলোই করছে নাসিফ।বিগত কয়েক মাস ধরে। ছোট ছেলের সাথে তার সরাসরি সাক্ষাৎ নিষেধ। অবশ্য যদি বিষয়টি স্বাভাবিক হতো তবে এই নিষেধাজ্ঞাকে থোরাই কেয়ার করতো‌। কিন্তু আফিয়া মুখের উপরে অপমান করায় লজ্জায় আর আসে না। তাই যখন‌ই বড় বাচ্চারা আসে তাদের কাছে তার জন্য কিছু না কিছু পাঠিয়ে দেয়।যদিও প্রথমবার আফিয়া ফিরিয়ে দিয়েছিলো। কিন্তু তাতে তার‌ই ঝামেলায় পড়তে হয়েছিল।বড় বাচ্চারা প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে তাকে একদম নাজেহাল বানিয়ে ছেড়েছে।তাই এখন আর ফিরিয়ে দেয় না।যদিও রাখতে ইচ্ছে করে না কিন্তু কোথাও একটা সুক্ষ্ম টাষ তো অবশ্যই আছে যার কারণে সামনে অপমান করলেও অগোচরে করতে পারে না।


আফিয়া মেয়ের হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে মেয়েকে বললো,


“ ভেতরে গিয়ে ড্রেস পাল্টাও। এরপর হাত মুখ ধোও। আম্মু মজা দিবো!"


“ ওখে আম্মু!"


নাবীহা মায়ের ঘরে চলে যায়। অবশ্য তার আগেই নানীর সাথে একচোট খুনসুটি সেড়ে নেয়।


আফিয়া পাকেরঘরে গিয়ে মুঠোফোনটা তুলে নাসিফকে ফোন দেয়।দুটো রিং হতেই কলটা রিসিভ হয়,


“ আসসালামু আলাইকুম।"


“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম। আপনাকে না আমি বারবার বলেছি এখানে কিছু পাঠাবেন না? তারপরও কেন?"


“ তোমার জন্য তো পাঠাইনি।আমি আমার ছেলের জন্ম পাঠিয়েছি!"


“ কিসের ছেলে? কার ছেলে? কোথাকার ছেলে?"


“ আফিয়া! আস্তে কথা বলো। বাচ্চারা ওখানে!"


“ তো! এখন মনে হয় বাচ্চারা এখানে?আগে কখনোই মনে পড়তো না!"


চিৎকার করেই জিজ্ঞেস করলো আফিয়া।নাসিফ নিজের হাতের ফাইলটা টেবিলের উপর ধাপ করে ফেলে শক্ত কন্ঠে বললো,


“ বারবার এক‌ই কথা কেন বলো? আমি ভুল করেছি, মানছি? ক্ষমাও চাইছি! তারপরও কেন? "


আফিয়া নিজের রাগকে সংবরণ করে নিচু আওয়াজে বললো,


“ আপনাকে আমি এগুলো কিছুই করতে বলিনি শুধু বলেছি আমার, এবং আমার ছেলের থেকে দূরে থাকুন!"


“ আমার নয় আমাদের হবে।

_ রাগে অন্ধ হয়ে যেই ভুল কাজ আমি করেছি শান্ত মস্তিষ্কে ঠিক এক‌ই কাজ তুমি করছো!

_ সবচেয়ে বড় কথা আমার সময়ে আমি অন্তত একদিকে সঠিক ছিলাম কিন্তু তুমি? তুমি কি করছো? শুধুমাত্র আমার দোষটাকে জিইয়ে রাখতে ছেলেটার মুখটা অবধি দেখতে দাও না।দুঊ বছরে পড়েছে অথচ একবারও আমি নিজের.... ছেলেটাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি।হ্যা আমি মানছি,প্রথম ভুল, রং আমার‌ই ছিলো। কিন্তু আমি সেটাকে শুধরে নিতে চাই,চা‌ইছি! পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষের ভুলের ক্ষমা হয় কিন্তু আমার নয়! কেন? "


“ আচ্ছা সত্যিই! শুধরে নিতে চাচ্ছেন? তাহলে এক কাজ করুন,যেই বাচ্চাটাকে আপনি এবোরশন করে মারতে চেয়েছিলেন জাস্ট কল্পনা করুন সে আর দুনিয়াতে নাই। এরপর দেখি তাকে কিভাবে আপনি ফিরিয়ে আনতে পারেন? যদি পারেন তবে আমাকে বলবেন আমি সেদিন মানবো এই বাচ্চাটার উপর আপনার‌ও অধিকার আছে!"


কথাটা শেষ করেই আফিয়া ফোনটা কেটে দিলো।ফোনটা সিংকের উপর আঁছড়ে রাখলো।রাগ, দুঃখে তার সর্বাঙ্গ বিষিয়ে যাচ্ছে।


চলমান....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ