#সুখ_প্রান্তর
#শেখ_মরিয়ম_বিবি
#পর্বসংখ্যা_৬৩
কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ‼️
“ শোন কাস্টার্ডে আঙ্গুর একটু বেশি দিও,তাইফটা আঙ্গুর খুব পছন্দ করে!"
তাইফের মামী তাইফের জন্য ফ্রুট কাস্টার্ড বানাচ্ছে।
বাটিতে সব উপকরণ ঢালার সময় সালাহ্ বসার ঘর থেকে চিৎকার করে ডেকে কথাটা বললো।
বুয়েট শিক্ষক মোহাম্মদ সালাহ আরশাদ মোল্লা, জুনিয়র সহকারী অধ্যাপক,গত বছরের শেষ মাসেই তার বুয়েটে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার সৌভাগ্য হয়। যদিও সে মাস্টার্সের ফলাফল এখনও হাতে পায়নি।তবুও তার অতি ভালো স্নাতকোত্তর ডিগ্রির ফলাফলের বদৌলতে এত তাড়াতাড়ি এত ভালো পজিশনে যোগের প্রস্তাব আসে।ডাবল মাস্টার্সের জন্য কানাডা যাবে যাবে করেও যাওয়া হলো না এখনও। অবশ্য এখনও সুযোগ আছে,সে শিক্ষাকালীন ছুটি নিয়ে মাস্টার্স, পিএইচডির জন্য যেতে পারবে।তবে আপাতত ব্যস্ত দিচ্ছে নিজের নতুন অধ্যায়ে।তার সাথে সঙ্গী হিসেবে সঙ্গ দিচ্ছে তার সহধর্মিণী জান্নাতুল দোয়া ।
দোয়া এখন চতুর্থ বর্ষের শেষ দিকে আছে।তার মাস্টার্সের পরই সালাহ্ বিদেশের উদ্দেশ্য পারি জমাবে বলেই সিদ্ধান্ত স্থির করেছে। এদিকে এই সময়ের মধ্যেই নাইফের স্নাতক ডিগ্রির ভর্তি প্রোগ্রাম শেষ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
সালাহর বুয়েট শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি নাইফ।তা মামু শিক্ষক আর সে মামুর ছাত্র হবে, এটা তার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দের।
“ নাইফ কি আজ পড়তে আসবে?"
দোয়া হাত মুছতে মুছতে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। সালাহ সোফায় বসে ল্যাপটপে কিছু একটা করছে।তার দিকে তাকিয়ে খাবার ঘরের টেবিলের উপর হাত রেখে প্রশ্নটা করলো দোয়া।
তারা এখন কোয়াটারে থাকছে। চারটা বেডরুমের বিশাল এক অ্যাপার্টমেন্ট। ড্রয়িং, ডাইনিং আলাদা আলাদা।
সালাহ্ না তাকিয়েই উত্তর দিলো,
“ না!
_ আজ তার ভাই এসেছে তাই সে সবকিছু থেকেই ছুটি নিয়েছে।কলেজেও যায়নি শুনলাম।"
“ তাই নাকি! যাগ এই ফাঁকে অন্তত তারও ছুটি কাটানো হয়ে গেলো।"
“ হ্যা,তাই।"
“ আমার না ওদের বোনের বন্ডিংটা মাশাআল্লাহ সেই লাগে!"
“ আল্লাহর রহমত। আজীবন এভাবেই থাকুক। মানুষের বদনজরে কখনোই যেন নষ্ট না হয়!"
“ ইনশাআল্লাহ হবে না।বড় আপা যথেষ্ট সুশিক্ষা দিয়ে চারটা বাচ্চা মানুষ করছে।"
“ আপার দিনই পার হয় এই বাচ্চাদের নিয়ে।অথচ!"
কথাটা বলেই সালাহ্ থামলো। কিছু একটা গভীর ভাবে ভাবলো অতঃপর নিজ পত্নির দিকে চেয়ে বললো,
“ জানো,বড় আপার কি দারুন প্রতিভা ছিলো। আমাদের ঘরের যত হ্যান্ডি ক্রাফটের ওয়ালমেট দেখো,সব কিন্তু আমার দুই বোনের বানানো! তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম দিতো বড় আপা।
সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর নিজের পড়াশোনা এর মাঝে লেখালেখি করা,আবার যখন তখন হ্যান্ডি ক্রাফট নিয়ে বসা।তবে আপার সবচেয়ে বেশি ভালোলাগার বিষয় ছিলো পেইন্টিং; যেটা এখন আপা একেবারেই করে না। যতগুলো পেইন্ট দেখছো সবগুলো বড় আপার হাতের করা।"
“ তাই নাকি! আপা এখন কেন করছে না?"
“ সময় কোথায়? চারটা বাচ্চা মানুষ, নিজের জীবন রিস্কে ফেলে দুটো সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছে। আমার তো এখনও চোখে ভাসে তাইফের সময় আপার সেই মরন যন্ত্রণা।কি মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করেছিলো আমার আপা!
আল্লাহর রহমতে আমার তুহিটা ইমম্যাচিউর হলেও মা'কে খুব একটা ভোগায় নি।
কিন্তু তারপরেও কি আপা ভালো আছে? ভাইয়া নিয়মিত চেকাপ আর ডাক্তারের উপরে রাখছে, আল্লাহ কেন যে আমার আপাটাটে এত এত কষ্ট দেয় তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই ভালো জানেন।"
“ আল্লাহ নিশ্চয়ই আপার জন্য উত্তম কিছু রেখেছেন।
_তবে কি বলেন তো,আপার মতো এত সুখী জীবনও বা কয়জনের হয়?
_ভাইয়া কত গভীরভাবে আপাকে ভালোবাসে,তুহির জন্মের দিনের কথাই তো এখনও আমার কানে বাজে।"
দোয়ার কথায় সালাহ্ দোয়ার দিকে তাকালো,সেই তাকানোয় কিছু একটা ছিলো,দোয়া স্বামীর দৃঢ় দৃষ্টি থেকে দৃষ্টি নামিয়ে মিনমিন করে বললো,
“ সত্যিই তো বলছি।
_বাচ্চার জীবন রিস্ক জেনেও অবলীলায় বলে দিলো ডাক্তারকে তার মা চাই, বাচ্চা না। তার নিজের স্ত্রীকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক চাই।অথচ সাত মাসের নবজাতক তখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছে।তার মুখটাও তার বাবা-দেখছে না।এতটা ত্যাগ কয়জনে হয়?"
“ হ্যা তা আমি অস্বীকার করতে পারবো না।ভাইয়া আমার আপাকে যতটা গভীর ভাবে ভালোবাসছে তা হয়তো কেউ পারতো না। কিন্তু তাও কিন্তু আমার আপার ক্রেডিট!
_ কারো ভালোবাসা অর্জন করতেও যে কতটা ত্যাগ করতে হয় তা কিন্তু আমার আপা খুব ভালো করেই জানে!"
“ নিঃসন্দেহে!
আমি নিজেও আপার প্রতি মুগ্ধ। যেমনি ভালোবাসে তেমনি শাসন করে।
আমি সত্যি বলছি বড় আপা আমার একটা বড় বোনের শখ পূরণ করে দিয়েছে। তুমি তো জানো না
, আমি আর বড় আপা রোজ ঘন্টা ধরে কথা বলি ফোনে!অথচ ছোট আপার সাথে কথা বলার সময় কথাই খুঁজে পাই না।"
“ তাই নাকি? এত কি কথা হয় দুজনের মাঝে?
আমার বড় আপা অন্তত কারো নামে অযথা নালিশ করবে না, পরচর্চাও ওর পছন্দ না তাহলে?"
“ না না এমন কিছু না।আপা তো নিজের চার জনের কথা বলেই শেষ করতে পারেনা।তাল মধ্যে আমাকে সংসারের খুঁটিনাটি নানা বিষয়ে বোঝায়, ধারনা দেয়। অবশ্য এটা ছোট আপাও করে, আচ্ছা ছোট আপা আজ আসবে না?"
“ আসার তো কথা।ভাইয়া আসতে পারবে না হয়তো তবে আপাকে পাঠিয়ে দিবে।"
“ আমি ফিহাটাকে অনেক মিস করছি।ঐ আ তাইফ এক সাথে হলে যে কি দারুন লাগে,দুটো একদম টম এন্ড জেরি!"
বলেই দোয়া হাসতে লাগলো,তার সাথে তাল মিলালো সালাহ্।
হাসতে হাসতেই ফোনটা তুলে সাফিয়ার নাম্বার বের করে কল দিলো,
“ আসসালামু আলাইকুম ছোট আপা!"
***"
“ আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো,তোমরা কেমন আছো? আমার আম্মা সেজো আম্মা কেমন আছে?"
****
“ কখন রওনা দিবে?"
****
“ ভাইয়া কি একেবারেই আসতে পারবে না?"
***
“ আপা আমি কি গাড়ী পাঠিয়ে দিবো! এতদুর ওকে নিয়ে একা আসতে পারবে না তো তুমি?"
****
“ আচ্ছা ঠিক আছে আসো।ভাইয়াকে পেমেন্ট দিতে নিষেধ করবে।আমিই এখানে এলে দিবো।
আর হ্যা অবশ্যই সময় নিয়ে আসবে,এসেই যাই যাই করবে না!"
***
“ আশ্চর্য আমি তোমাদের একমাত্র ভাই। আমার কি ইচ্ছে করেনা আমার বোনদের নিজের বাড়িতে এনে রাখি, তোমাদের কি ইচ্ছে জাগে না ছোট ভাইয়ের সংসার কেমন হচ্ছে তা অন্তত একটা সপ্তাহ থেকে দেখে যেতে?
দোয়া এখনও ছোট, অনেক কিছুই বুঝে না।তোমরা যদি ওকে হাতে ধরে না শেখাও তাহলে ও শিখবে কি করে? মা কি এখন আগের মতো শক্তপোক্ত আছে? সকাল থেকে প্রেসার লো,তাই নাস্তার পর ওষুধ খাইয়ে দিয়েছি,এখন ঘুমাচ্ছে।"
***
“ কোন বাহানা আপা।এবার তুমি আর বড় আপা আমার বাসায় এসে অন্তত এক সপ্তাহ থাকবে এটা আমার অনুরোধ নয়,দাবী। এবং আমি এর জন্য আজ সরাসরি ভাইয়াদের সাথেই কথা বলবো!"
****
“ সে দেখা যাবে,আগে আসো তুমি!"
কথা শেষ করেই সালাহ্ উঠে দাঁড়ালো। নিজের স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বললো,
“ আমি ছোট ভাইয়ার সাথে আলাপ করবো, তুমি বড় ভাইয়ার সাথে করো। তোমার কথা ফেলতে পারবে না।
_ আর হ্যা আগে রুম দুটো পরিস্কার করে রাখো।"
“ আচ্ছা।ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছো।আমারও খালি ঘর ভালো লাগে না।ওরা সবাই একসাথে আসলে হইচই করবে,ঘরটাও ভরা ভরা লাগবে।
বাচ্চা কাচ্চা ছাড়া ঘর ফাঁকা ফাঁকা লাগে।"
কথাটা বলেই দোয়া সালাহর দিকে তাকালো, কিন্তু সালাহ্ সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেলো কথা এবং কথার মানুষটিকে।দোয়া হতাশ চোখে তাকিয়ে ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো, অতঃপর স্থান পরিত্যাগ করলো।
দোয়ার গমন পথে এক পলক চাইলো সালাহ এবং নিজের ব্যাগপত্তর গুছিয়ে জুতোর ফিতে দেখে নিয়ে চেঁচিয়ে বললো,
“ আম্মুর দিকে খেয়াল রেখো।
আসি আমি। আল্লাহ হাফেজ, আসসালামু আলাইকুম!"
“ ফি আমানিল্লাহ্, আল্লাহ হাফেজ,ওয়া আলাইকুম আসসালাম।"
দোয়াও একইভাবে চেঁচিয়ে বললো। অতঃপর সালাহ্ বেরিয়ে যাওয়ার পর সেও রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাওয়া সুঠামদেহী ঐ সুদর্শন কিন্তু অত্যন্ত একগুঁয়ে লোকটার পিছন পানে চেয়ে রইলো। আজ কতদিন ধরে সে ঐ লোকটার কাছে একটা আবদার করছে অথচ তার একই কথা সময় হোক তখন দেখা যাবে!
অথচ দোয়ার মনে হচ্ছে তেইশ বছর বয়স একেবারেই ঠিকঠাক।মা ও বলছে কিন্তু যার জন্য এত আয়োজন তারই কোন হেলদোল নাই।
“ তাইফ উঠো বাবা; নাইফ তোমার খবর কি?
_ আজ সকালে কোরআন তেলাওয়াতও করোনি। সমস্যা কি তোমার?"
তাইফকে অর্ধেক জড়িয়ে ধরে ঘুমে বিভোর তার বড় ভাই নাইফ।আফিয়া দুই ছেলের উপরই ফেটে পড়েছে।আজ কাল বড়জন বেশ অনিয়ম শুরু করেছে।রোজই তার ঘুম ভাঙাতে আফিয়াকে আসতে হয়। অথচ আগে ছেলে একা একাই উঠে পড়তো। আফিয়া এই জন্য দায়ী করছে ছেলের নতুন বন্ধু-বান্ধবদের আর নাসিফ দায়ী করছে আফিয়ার অতিরিক্ত মাতৃত্বকে।
এদিকে সালাহ্ বারবার বুঝাচ্ছে সবটা বয়স আর সময়ে দায়।এখানে তৃতীয় কারো দোষ নেই।যাই হোক আজ যেহেতু একটা দিন,তাই আফিয়া চায় ছেলে মেয়ে সব তাড়াতাড়ি উঠুক।নাইফ উঠেছেও নামাজ পড়েই আবার ঘুমিয়ে পড়েছে যা সচরাচর সে করে না। ঐদিকে তাইফ বাবার সাথে সালাত আদায় করে অনেক সময় কোরআন তেলাওয়াত করেছে, তারপর আবারও বড় ভাইয়ের কোল ঘেঁষে শুয়ে পড়েছে।বেলা এখন দশটা ছাড়িয়েছে কিন্তু তার তিন ছেলে মেয়েই নাক টেনে ঘুমাচ্ছে যা আফিয়ার একদম হজম হচ্ছে না। ঐদিকে নাসিফ এর জন্য তাকে ইতিমধ্যে ফোন করে অন্তত তিনবার ঝাড়ছে।
ছোট তুহি উঠে নিজের গুটুলি গুটুলি পায়ে পুরো ঘরে হাপুড় দিয়ে বেড়াচ্ছে।বড় বোনের চুল নিয়েও তার দোলনা খেলা হয়েছে। তারপরও নাবীহা উঠেনি।আফিয়া অবশ্য মেয়ের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে দেয়নি।কারণ এখন মেয়েটার বিশেষ দিন চলছে।কাল সন্ধ্যায় পেট ব্যথায় দাঁত কামড়ে কান্না করেছে। অনেক রাত অবধি আফিয়া মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে মালিশ করে ঘুম পাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।
“ বা বা বা!"
হাত দিয়ে বড় ভাইয়ের পায়ের উপর চাপড় মারছে আর ডাকছে তুহি।সে এখন একটা ডায়পার পরা, বাকীটা শরীর খালি।দু হাতে তার দুটো চিকন সোনার বয়লা। পায়ে তার রুপার নূপুর।গলায় একটা চিকন সোনার চেইন।কোমরে বাধা কালো কাইতন সুতার সাথে দুটো রুপার ঘন্টি বাঁধা।যার কারণে সে যেখানেই যাক তার হদিস সহজেই মেলে।তার অঙ্গে শোভা পাওয়া অলঙ্কারের ঝুমঝুম রবে মুখরিত থাকে গাজী মঞ্জিল। সারাদিন হাপুড় দিয়ে, কখনো কখনো কোন আসবাবের সহযোগিতা নিয়ে কিংবা বাবা ভাইয়ের পায়ে পা রেখে সে অবিরত হেঁটে বেড়ায় পুরো বাড়ির প্রতিটি কোনা।আদর আর আহ্লাদে সে হয়ে যাচ্ছে দিনদিনই জেদী।
আফিয়া ছেলেদের ডাকতে ডাকতে বিরক্ত হয়ে ছোট মেয়ের দিকে চোখ কুঁচকে তাকাতেই দেখলো তার কারিশমা।
বড় ভাইদের ডেকে তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় সে তার সদ্য উঠা দুটো দাত দিয়েই ভাইয়ের বুড়ো আঙ্গুলে কামড় দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে।কামড়ে ব্যথা না লাগলেও সুড়সুড়ি লাগলো।নাইফ অর্ধ ঝুলে থাকা পা'টা গুটিয়ে বিছানায় টেনে নিলো।তাতেই গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে উঠলো তুহি।তার মুখের থেকে কেড়ে নেওয়াটা তার একদমই সহ্য হলো না।
তার চিৎকারে বিরক্ত হয়ে আফিয়া কোলে তুলে নিয়ে দিলো ধুম করে একটা বসিয়ে পিঠের উপরে। এদিকে বোনের চিৎকারে সজাগ হয়ে মায়ের করা বোনকে প্রহারে সতর্ক আর হতভম্ব দুটোই হয়ে তাকিয়ে আছে নাইফ,তাইফ।
“ দিনদিনই অসভ্য হচ্ছো! বড় ভাইদের কামড়াও? সকালে বাবাকে কামড় দিয়েছো! তোমার দাঁতে এত ধার হচ্ছে!আজ এই দাতই আমি সব পুতা দিয়ে পিষে ফেলবো!"
এটা হচ্ছে মা'কে মেরে ঝিকে বোঝানো।নাইফ,তাইফ ভালোই বুঝতে পারলো।তারা দ্রুত বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ফটাফট ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর বলছে,
“ আসসালামু আলাইকুম আম্মু, শুভ সকাল।"
আফিয়া রক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে প্রত্যুত্তরে বললো,
“ ওয়া আলাইকুম আসসালাম,দশ মিনিট সময় দুই
ভাইয়ের জন্য।এর মধ্যেই আমি খাবারের সামনে দেখতে চাই।"
চলমান....
আমার লেখা নিয়ে অভিযোগ থাকলে আমাকে বলবেন, আমি বিশ্বাস করি যারা অনেকদিন থেকেই আমার লেখা পড়ছেন তারা আমার স্বভাব সম্পর্কে অল্প হলেও ধারনা রাখেন তাই অনুরোধ করেই বলছি যাই বুঝবেন না আমাকে জিজ্ঞেস করবেন,আমি বুঝিয়ে বলতে বাধ্য কিন্তু তার মানে এই নয় আমি আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা আপনাদের হাতে তুলে দিয়ে নিজেকে তুলোধুনো করার সুযোগ দিবো।
অহেতুক তর্ক আর অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ এক মাত্র নিরক্ষর মুর্খদের কাজ,আমি বিশ্বাস করি এটা তারাই করে যাদের প্রকৃত জ্ঞান অথবা শিক্ষার খামতি আছে।
সবচেয়ে বড় কথা যেকোন কথার একাধিক অর্থ বোঝা অন্যতম মানসিক সমস্যা,এটা যারই আছে দয়া করে নিজেদের চিকিৎসা করাবেন
অনর্থক অন্যকে হেয় করবেন না।







0 মন্তব্যসমূহ